সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2025 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কুলফিওয়ালা!

কুলফিওয়ালা , একটু সন্ধি বিচ্ছেদ করে দেখি কি পাই - কুল যদি ঠান্ডা হয় তবে ফি - এই কথাটির অর্থ হলো প্রতি সময় ; তাহলে কুল - ফি - ওয়ালা হলো প্রতি সময় যিনি ঠান্ডা বিলিয়ে বেড়ান । তবে এটি সম্পূর্ণ ভাবে আমার ব্যাখ্যা। একটু মজার ছলে বলা , যদিও সাধারণ ভাবে কুলফিওয়ালা বলতে আমরা যাদেরকে বুঝি, সেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কুলফি মালাই বিক্রি করা লোকগুলো তো প্রকৃত অর্থে   ঠান্ডাই বিলি করে বেড়ান। যদিও কুলফি এই কথাটি একটি ফারসি শব্দ; যার অর্থ হলো ঢাকা কাপ। আর সেই ঢাকা কাপ বা কুলফি ভর্তি ক ' রে - জ্বাল দেওয়া দুধ আর চিনির মিশ্রণ কে মালাই হিসেবে পরিবেশন করার ভাবনা কিন্তু প্রথম শুরু হয় সেই ষোড়শ শতাব্দীতে। দিল্লিতে তখন মোঘল শাসনকাল। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, ষোড়শ শতকে তিন জন মোঘল বংশীয় দিল্লির ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন। বাবর, হুমায়ূন এবং আকবর। এঁদের নিজ নিজ সাম্রাজ্য কাল বিচার করে অনুমান করা যায়, সম্ভবত সম্রাট আকবরের আমলেই (১৫৫৬ – ১৬০৫) শুরু হয়েছিল এই কুলফি তৈরির চল।   কারণ ১৫৯০ সালে প্রকাশিত, স...

বড়দিনের অঞ্জলি!

বড়দিনের অঞ্জলি হয়, ঘন্টা বাজে, ফাদারকে চার্চের পুরোহিত বলা হয়; পরনে থাকে আপাদকন্ঠ ঢাকা দুধ শুভ্র জোব্বা; পরিভাষায় যাকে অ্যালব বলা হয়। গলায় সাদা স্কার্ফ বা স্টোল, বুকের ওপর রুদ্রাক্ষের মালার মতো ঝোলে ক্রুশ চিহ্নের লকেট সম্বলিত লম্বা হার। মন্দিরের গর্ভগৃহের মতোই নাটমন্দির, থুড়ি চার্চের লম্বা আয়তাকার হল পেরিয়ে দেখা যায় সেই উপাসনার লক্ষ্যবস্তু, আলোকমালায় সাজানো পবিত্র ক্রুশ সিম্বলকে। পেছনের দেওয়াল জুড়ে দাঁড় করানো থাকে সেই পূর্ণাবয়ব আকৃতি, দেখে সম্ভ্রম জাগে মনে। সামনের লাল পর্দা টেনে মুক্ত করলেই তবে তার দর্শন হয়। মুখে, ডায়াসের ওপরে রাখা থাকে - কাঠের বড় একটি পোডিয়াম। দুপাশে ফুল গুচ্ছ গোঁজা বড় বড় দুটো ফুলদানি, পেতলের পিলসুজ তাতে অবশ্য প্রদীপ নয় মোমবাতি জ্বলছে। ফাদার প্রভাত মন্ডল, পোডিয়ামের খুব সুন্দর একটা বাংলা বললেন, ফুলপিঠ। মানিকপুরের চার্চের মধ্যে পোডিয়ামের সামনে! বাঙালির কাছে, বড়দিন মানে কেক, শুভেচ্ছা জানানো, বেড়াতে যাওয়ার হিড়িক বা পার্ক স্ট্রিটের উদ্ভ্রান্ত ভিড় শুধু নয়, একশো ভাগ বাঙালিয়ানায় ভরা অন্যতম প্রধান একটি উৎসব এখন এটি। বাঙালির বারো মাসের তোরো পার্বণে...

মা আসবেন গজেতে!

চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের ওপর যদি কোনোকালে পঞ্জিকা লেখার ভার বর্তাত তাহলে কি হত সেটা একবার ভেবে দেখুন । নির্ঘাত , দেবীর বছরকার বাংলা ভ্রমনের নির্ধারিত চতুরযান ব্যবস্থা টি কে, পুরোপুরি তুলে দিতেন তিনি ; উল্টে ছেলেপুলে নিয়ে , দেবীকে হেঁটে হেঁটেই মর্ত্যধামে আসতে বাধ্য করতেন । কারণ শিল্পী মানুষ , মা হেঁটে হেঁটে ঠাকুর দালানে এসে পৌঁছচ্ছেন , তারপরে কপালের ঘাম মুছতে, মুঠো বন্দি আঁচলকে উঁচিয়ে ধরছেন মুখের সামনে , এই ভাবনাটাই তো যথেষ্ট বৈপ্লবিক । কে জানে , পদব্রজে দুর্গাকে তখন কিভাবে চিত্রপটে ফুটিয়ে তুলতেন তিনি । রঙ তুলি আর কল্পনার ত্রিগুণবন্দীতে , সিংহবাহিনী  দুর্গা তখন গজগামিনী অম্বিকা   হয়ে দেখা দিতেন কিনা ভক্তদের সামনে , কে জানে! তবে ফিদা হুসেনের নাম শুনে যারা ইতিমধ্যে কপালে ভাঁজ ফেলেছেন,  তাঁদের অভয় দিয়ে বলি তেমন কোনো সম্ভাবনার আশা কেবলমাত্র সাহিত্যের আঙিনাতেই সীমাবদ্ধ। অনেক সময় ভুমিকাতে এই ধরনের উল্লেখ, পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের পক্ষে সহায়ক হয়।  আমাদের আজকের নিবন্ধের ভরকেন্দ্র, বছরকার দেবীর...