চিলেকোঠার বাইরে দুদিকের দুই খোলা ছাদের সে কী আহ্লাদ; ধূসর পালকের অনবরত বকম্ বকম্ করে যাওয়া দেশী পায়রাগুলোকে যে কী আনন্দে নিজেদের বুকে অমন করে ঘুরে বেড়ানোর ছাড়পত্র দিয়ে দেয়, কে জানে! দোতলার শ্যাওলা ধরা কার্নিশ ছেড়ে এখন কবুতরগুলোর ছাদের কিনারায় রোদের সাথে বসবাস। নীল আকাশের খোলা বুক, তাতে আদুরে ফেনার মত মেঘের দল - বৃষ্টির স্নান সেরে স্বর্গের পরীদের মত উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাদের শুভ্র বসনের মুক্ত আঁচল। মাঠে ধবল গরুর পালের মত চরে বেড়ায় রোদ, পাশে বটগাছের নীচে রাখালের দীঘল চোখের ন্যায় ঘন কৃষ্ণ ছায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সে দিকে। এ সব মায়া, রজতমুখ রোদের মায়া, একটা নেশার মত - যে নেশায় আচ্ছন্ন হতে স্বয়ং মা দুর্গা নেমে আসেন সুদূর কৈলাস হতে। উঠোনে ঢাকনা খোলা বয়ামে আঁচারের রোদ খাওয়া চলে, সঙ্গে আমচুর, ফুলবড়ি, পাকা তেঁতুল আরো কত কী। নারকেল গাছের সোনালী পাতা বেয়ে দিব্যি ছাদের আরসায় নেমে আসে কাঠবিড়ালি, রোদের জলসায় সবার আমন্ত্রণ যে। সুপারি ডোঙ্গায় চেপে সদর বাহার থেকে তেমাথার মোড়, পথে কামিনী গাছের তলায় ঝরে পড়া ফুল - ডোঙ্গার নীচে ঘষটাতে ঘষটাতে থেঁতলে গুটিয়ে যায়, তবু ছেয়ে থাকা আম...
গান্ধীজীর বাংলা শেখার তাগিদ প্রথমত রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করেই স্ফুরিত হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা আর শুধু রবীন্দ্র কাব্য গীতি রসাস্বাদনের ঐকান্তিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে নি। ছড়িয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক পরিসরে, বিশেষ করে বাংলার প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্য তাঁকে আরও একনিষ্ঠ করে তুলেছিল বাংলা বর্ণ শিক্ষার প্রতি। গান্ধীজীর বাংলা শেখার প্রতি গভীর আগ্রহের কথা প্রথম জানা যায় ১৯১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে লেখা তাঁর একটি চিঠি থেকে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন শুরু হয়েছে, গান্ধীজী তাঁর দীর্ঘ ২১ বছরের (এপ্রিল, ১৮৯৩ থেকে জুলাই, ১৯১৪) দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাস চুকিয়ে ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছেন। উদ্দেশ্য যুদ্ধ চলাকালীন আহত সৈনিকদের পাশে দাঁড়ানো, এর জন্যে তিনি সেখানে অ্যাম্বুলেন্স কর্পস নামে একটি বিশেষ সেবাবাহিনী গঠন করেছিলেন। যদিও লন্ডনে বেশীদিন সুস্থ থাকতে পারেননি গান্ধীজী; দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ চলা কালীন দীর্ঘ উপবাসের ক্লেশ এবং নিষ্ঠাবান নিরামিষভোজী হওয়ার কারণে শরীর আগের থেকেই তাঁর ন্যুব্জ ছিল; তার ওপরে লন্ডনের আর্দ্র শীতল হাওয়ায় অতিরিক্ত কায়িক শ্রম তাঁকে দ্রু...