প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য পত্রিকা প্রসাদ - এ প্রথম লেখা পাঠানোর কথা ভেবেছিলাম, ফেসবুকে প্রসাদ পত্রিকার পক্ষ থেকে লেখা পাঠানোর আবেদন জানিয়ে একটি পোস্ট দেখে। সেটি ছিল প্রসাদ, ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সংখ্যার জন্যে। বিষয় ছিল ‘একান্নবর্তী পরিবার’। সেই শুরু। প্রথমত ভয় ছিল, লেখা বিবেচিত হবে কি না। কারণ বহু খ্যাতনামা ও প্রথিতযশা লেখকের নাম জড়িয়ে আছে এই পত্রিকার সঙ্গে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বহু কালজয়ী লেখা পূর্বে প্রকাশিতও হয়েছে এই পত্রিকায়। যেমন মহাশ্বেতা দেবীর ‘হাজার চুরাশির মা’ ইত্যাদি । তাই পত্রিকা বেরনো অব্দি অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, হয়তোবা লেখক সূচীতে নিজের নামটিকে শেষমেশ চাক্ষুষ করতে পারবো । হ্যাঁ, শেষমেশ আশাহত হতে হয়নি, নির্দিষ্ট দিনে পত্রিকা প্রকাশিত হতে দেখলাম পত্রিকায় আমার লেখা স্থান পেয়েছে । প্রসাদ এর মত বড় পত্রিকায় লেখা প্রকাশের সফর সেই শুরু। ইতিমধ্যে ছোটদের প্রসাদ এ লেখা বেরিয়েছে এবং সর্ব শেষ বৈশাখী প্রসাদ –এর পাতাতেও প্রকাশিত হয়েছে অনুগল্পের ফরম্যাটে লেখা একটি ছোট স্মৃতিকথা । প্রসঙ্গত বলে নিই এযাবৎ বেরনো তিনটি লেখাই স্মৃতিকথা ভিত্তিক এবং সর্বাধিক শব্দসীম...
সকাল ৯টা ২০’র শিয়ালদহ গামী বারুইপুর লোকাল; এমনিতে ২৫শে বৈশাখ, সরকারি ছুটির দিন। ট্রেনে খানিক কম ভিড় হওয়াই দস্তুর, কিন্তু না তেমনটা হয় নি। বরং অন্য কাজের দিনগুলোর থেকেও তা কিঞ্চিৎ বেশী বলেই মনে হলো। তবে যাত্রারত মানুষদের চোখে মুখে যে দৈনন্দিন ক্লেশের ছবি দেখা যায় অন্যদিন গুলোতে আজ সেটি নেই, বদলে উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ছাপই বেশী। তার মধ্যে আবার তীব্র গর্জন করে জয় শ্রী রাম ধ্বনি উঠছে থেকে থেকে, যার তুমুল হরষিত কম্পন পুরো কামরাকে আন্দোলিত করে তুলছে। উপস্থিত অনেক সাধারন যাত্রীরাও গলা মেলাচ্ছেন তার সঙ্গে, মনে হচ্ছে সে বিপুল কোলাহল মুখরতায় কেউ যেন আর বাকি নেই একাত্ম হতে। শুধু এক অন্ধ ভিখারি, যিনি রোজ গলায় একটা চৌকো সাউণ্ড বক্স ঝুলিয়ে ট্রেনে ভিক্ষা করেন তিনি আজ ভীষণ রকমের ব্যাতিক্রমী। বিশেষ করে এই বিপুল কল কোরাসের প্রেক্ষিতে একেবারেই উল্টো গামী। কারণ তার বক্স থেকে আজ শুধুই রবীন্দ্রনাথের গান বাজছে– কী আনন্দ কী আনন্দ কী আনন্দ। দিবারাত্রি নাচে মুক্তি নাচে বন্ধ। ভিড় ঠেলে ঠেলে ধীর পায়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন, ডান হাতে ভিক্ষার বাটিটি শক্ত করে ধরা। অন্যদিন হলে একটা আবহ তৈরি হত। কিন্তু আজ মুড অন্যরকম। ত...