২০২৬, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রবল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যে। যুদ্ধে একদিকে থাকে ইরান অন্যদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংযুক্ত শক্তি। সারা বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব পড়ে, আক্রমন ও প্রতি আক্রমনের ঝাঁঝে জীবন ও সম্পদ হানির কোনো সীমা পরিসীমা থাকে না। কথায় আছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলু খাগড়ার প্রাণ যায়; সেখানে শান্তিকামী মানুষের মন আবার, দেশ ও দেশেরও সীমানার উপরে উঠে সকল দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কষ্টেই ব্যথা অনুভব করে। মানবিক সংবেদনশীলতায় যুদ্ধের করাল রূপ যে ধ্বংসের ছবি নিয়ে হাজির হয় তাতে প্রকৃতির চিরাচরিত সৌন্দর্য উপকরণ গুলো তা যতই দৃশ্যগত মাধুর্য নিয়ে আসুক না কেন তা আসলে মৃত্যুপুরীর বুকে জোছনার মতই নিরর্থক; প্রাণহীন চেতনায় প্রেরণা জাগানোর ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। খানিকটা এই ভাবনা বৃত্তের মধ্যে আবর্তিত হতে হতেই, যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার (২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ঠিক ১২ দিনের মাথায় এই কবিতার জন্ম। কবিতাটির নাম 'পাতালবাসে প্রেম', লেখার পর প্রাথমিক ভাবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি শান্ত এবং সুশীল শ্লেষ হানতে পেরেছিলাম বলে বেশ আত্মতৃপ্তি পেয়েছিলাম এবং বলাই বাহুল্য তাকে ফেসবুকের পাতা...
আসলে ভুলটা হয়েছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে। শিয়ালদাহ সাউথ শাখায় বেশ কয়েকদিন ধরে বিকেল ৩ টে ২ এর বারুইপুর লোকাল - ১৮ নং প্লাটফর্ম থেকে ছাড়ছিল, সেদিনও যথারীতি ১৮ নম্বরে রাখা গাড়িতেই সোজা উঠে বসেছি, নিত্য যাত্রী বলে কথা। ইতিমধ্যে জানালার ধারে ইপ্সিত জায়গায় বসতে পেরে হালকা করে গা এলিয়েও দিয়েছি সিটের পিঠে। তখনও ট্রেন ছাড়তে ৭ মিনিট মত বাকি। আধ ঘণ্টার যাত্রা পথ, তাই সত্বর নামার চিন্তা নেই। মে মাসের প্রচণ্ড গরম, ট্রেনের টুই দ্বিধাহীন ভাবে তেতে লাল, এমত অবস্থায় সিটের মাথায় চলা ফ্যানগুলো আর ঠাণ্ডা হাওয়া পাবে কোত্থেকে, গরম হাওয়াকেই তাই নির্বিচারে পরিবেশন করে যাচ্ছে যাত্রীদের মাথায় । মাঝে মাঝে পূব দিক থেকে ঈষৎ ঠাণ্ডা হাওয়া ফুরফুর করে জানলা দিয়ে ঢুকলে কী যে গদগদ ভাব লাগছে, মনে হচ্ছে আহা, এই তো এলে - এখনি প্লিজ বিদায় বল না । ইতিমধ্যে পাশে একজন মাঝবয়সী লোক বসে মশলামুড়ি খাচ্ছেন, কাঁচা লংকা ফ্যাচর ফ্যাচর করে চিবিয়ে একেবারে কান মাত করে ফেলছেন। একবার ট্রেনে উঠলেই নাকি বেশীরভাগ মানুষের ভ্যাগাস নার্ভ সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্লাটফর্মের মাঝখান দিয়ে তাই এত সার বেঁধে খাওয়ার দোকান! শিব ঠাকুরের ডমরুর মত দেখতে পেঁ...