এখন মাস্টারস্ট্রোকের বড় চল হয়েছে বাজারে , তবে এই মাস্টারস্ট্রোক কিন্ত মাস্টারমশাইয়ের কথিত বেত্রাঘাত বা চপেটাঘাত নয়। আবার অভিধানে অন্তর্ভুক্তির সময়ে শব্দটি যে অর্থে ব্যবহৃত হতো , চিত্রশিল্পীর সুদূর-প্রভাবী তুলির টান বোঝাতে , সে অর্থেও নয়। কারণ বর্তমানে এর অর্থগত অনেক প্রসারণ ঘটেছে , তবে আক্ষরিক বিচারে শব্দবন্ধটি যে দুটি শব্দের মিশ্রণে গঠিত সেই মাস্টার এবং স্ট্রোক শব্দ দুটি সম্প্রতি তাদের নিজ নিজ শব্দগত অর্থের গুরুত্ব বোঝাতে ভীষণ তৎপর হয়ে উঠেছে। অন্তত আমাদের দেশে। যেখানে এই স্ট্রোক বা ঘা হলো নিরীহ ভৃত্যদের ওপর তাদের প্রভু বা মনিবের মার। আবার এটা এমন মার যে ভৃত্যরাও খুশি না হয়ে থাকতে পারে না ; দুহাত তুলে ধেই ধেই করে নৃত্য করতে করতে চারিদিকে মনিবের জয়গান গেয়ে বেড়ায়। চায়ের ঠেক থেকে স্কুলের কমন রুম - আহা এমন মাস্টারস্ট্রোক , সত্যিই কোনো জবাব নেই! দীর্ঘ ঔপনিবেশতন্ত্রের অধীনে থাকার যে মোসাহেবী অর্জন তা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও একদম ক্ষয়িষ্ণু হয়নি। বরং নিপাট ভৃত্যের মতো নতুন নতুন মনিবের খোঁজ পাওয়াটাই তার কাছে একমাত্র অভিষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিন্তাবিদ দার্শনিকেরা এটা বুঝেই...
আট থেকে আশি , সক্কলে সন্ন্যাসী। চড়ক মেলাকে উপলক্ষ করে এমন গণহারে সন্ন্যাস নেওয়ার চল ভূ - ভারতে আর কোনো জনপদে আছে কিনা বলা মুশকিল। শুরু হয় চৈত্রের পয়লা থেকে , নীল ষষ্ঠীর আগের দিনে এসে গ্রামের আর কেউ বাকি থাকেন না সন্ন্যাসী হতে। ছেলে মেয়ে জোয়ান বুড়ো সক্কলে যে যেমন পারেন – কেউ হেঁটে , সাইকেলে , কেউ বা বাইকে কিংবা টোটোতে বা ভ্যানে করে এসে উপস্থিত হন স্থানীয় শিব মন্দিরে। সবার কাছে থাকে এক একটা করে নতুন গামছা। ছেলেরা কোমরে গাঁট মেরে পরে , মেয়েরা কাঁধে ভাঁজ করে না হয় চাদরের মত জড়িয়ে রাখে। মন্দিরের ভেতরে , উঠোন জুড়ে চড়াচড়ি করে মানুষজন দাঁড়িয়ে থাকে। ভিড় সামলে যার যার হাতে নয় ধাগার যজ্ঞপোবীত তুলে দিতে রীতিমত হিমসিম খেয়ে যান পুরোহিত ; কারণ তারও আগে থাকে মন্ত্র পড়ার পালা। যার যার গোত্র ত্যাগ করে শিব গোত্রে প্রবেশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় সন্ন্যাস নেওয়ার পর্ব। পরের দিন নীল পুজো , তাই আর সন্ন্যাস নেওয়া যাবে না ; ফলে আগের দিন যাকে বলে একেবারে হাট বসে যায় নবোদ্গত ...