সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পথ ভুলে ......!

আসলে ভুলটা হয়েছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে। শিয়ালদাহ সাউথ শাখায় বেশ কয়েকদিন ধরে বিকেল ৩ টে ২ এর বারুইপুর লোকাল - ১৮ নং প্লাটফর্ম থেকে ছাড়ছিল, সেদিনও যথারীতি  ১৮ নম্বরে রাখা গাড়িতেই তাই উঠে বসেছি, নিত্য যাত্রী বলে কথা। ইতিমধ্যে জানালার ধারে ইপ্সিত জায়গায় বসতে পেরে হালকা করে গা এলিয়েও দিয়েছি সিটের গায়ে। তখনও ট্রেন ছাড়তে ৭ মিনিট মত বাকি। আধ ঘণ্টার যাত্রা পথ, তাই সত্বর নামার চিন্তা নেই। মে মাসের প্রচণ্ড গরম, ট্রেনের টুই দ্বিধাহীন ভাবে তেতে লাল, এমত অবস্থায় সিটের মাথায় চলা ফ্যানগুলো আর ঠাণ্ডা হাওয়া পাবে কোত্থেকে, গরম হাওয়াকেই তাই নির্বিচারে পরিবেশন করে যাচ্ছে যাত্রীদের মাথায় । মাঝে মাঝে পূব দিক থেকে ঈষৎ ঠাণ্ডা হাওয়া ফুরফুর করে জানলা দিয়ে ঢুকলে কী যে গদগদ ভাব লাগছে, মনে হচ্ছে আহা, এই তো এলে এখনি প্লিজ বিদায় বল না । ইতিমধ্যে পাশে একজন মাঝবয়সী লোক বসে মশলামুড়ি খাচ্ছেন, কাঁচা লংকা ফ্যাচর ফ্যাচর করে চিবিয়ে একেবারে কান মাত করে ফেলছেন। একবার ট্রেনে উঠলেই নাকি বেশীরভাগ মানুষের ভ্যাগাস নার্ভ সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্লাটফর্মের মাঝখান দিয়ে তাই এত সার বেঁধে খাওয়ার দোকান! শিব ঠাকুরের ডমরুর মত দেখতে প...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

প্রসাদে প্রকাশ, দেবাশিস জানার তিনটি লেখা!

বাংলায় অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য পত্রিকা প্রসাদ- এ প্রথ ম লেখা পাঠানোর কথা ভেবেছিলাম, পত্রিকার পক্ষ থেকে দেওয়া ফেসবুকে একটি লেখা পাঠানোর আবেদন দেখে। লেখা চাওয়া হয়েছিল ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সংখ্যার জন্যে। বিষয় ছিল ‘একান্নবর্তী পরিবার’। সেই শুরু। প্রথমত ভয় ছিল, লেখা বিবেচিত হবে কি না। কারণ বহু খ্যাতনামা ও প্রথিতযশা লেখকের নাম জড়িয়ে আছে এই পত্রিকার সঙ্গে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বহু কালজয়ী লেখারও প্রথম প্রকাশস্থল হিসেবে এই পত্রিকার নাম যুক্ত। যেমন মহাশ্বেতা দেবীর ‘হাজার চুরাশির মা’ ইত্যাদি । তাই পত্রিকা বেরনো অব্দি অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, হয়তোবা লেখক সূচীতে নিজের নামটিকে শেষমেশ চাক্ষুষ করতে পারবো । না, আশাহত হতে হয়নি সত্যিই; নির্দিষ্ট দিনে পত্রিকা প্রকাশিত হতে দেখলাম পত্রিকায় আমার লেখা স্থান পেয়েছে । প্রসাদ - এর মত বড় পত্রিকায় লেখা প্রকাশের সফর সেই শুরু। শ্লাঘার বিষয়, সেই যাত্রা তারপরেও অব্যাহত থেকেছে। কারণ ইতিমধ্যে ছোটদের প্রসাদ এ লেখা বেরিয়েছে এবং সর্ব শেষ বৈশাখী প্রসাদ –এর পাতাতেও প্রকাশিত হয়েছে অনুগল্পের ফরম্যাটে লেখা খুদে একটি স্মৃতিকথা । প্রসঙ্গত বলে নিই এযাবৎ বেরনো তি...

ইভেন্টে ঢাকা রবি!

সকাল ৯টা ২০’র শিয়ালদহ গামী বারুইপুর লোকাল; এমনিতে ২৫শে বৈশাখ, সরকারি ছুটির দিন। ট্রেনে খানিক কম ভিড় হওয়াই দস্তুর, কিন্তু না তেমনটা হয় নি। বরং অন্য কাজের দিনগুলোর থেকেও তা কিঞ্চিৎ বেশী বলেই মনে হলো। তবে যাত্রারত মানুষদের চোখে মুখে যে দৈনন্দিন ক্লেশের ছবি দেখা যায় অন্যদিন গুলোতে আজ সেটি নেই, বদলে উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ছাপই বেশী। তার মধ্যে আবার তীব্র গর্জন করে জয় শ্রী রাম ধ্বনি উঠছে থেকে থেকে, যার তুমুল হরষিত কম্পন পুরো কামরাকে আন্দোলিত করে তুলছে। উপস্থিত অনেক সাধারন যাত্রীরাও গলা মেলাচ্ছেন তার সঙ্গে, মনে হচ্ছে সে বিপুল কোলাহল মুখরতায় কেউ যেন আর বাকি নেই একাত্ম হতে। শুধু এক অন্ধ ভিখারি, যিনি রোজ গলায় একটা চৌকো সাউণ্ড বক্স ঝুলিয়ে ট্রেনে ভিক্ষা করেন তিনি আজ ভীষণ রকমের ব্যাতিক্রমী। বিশেষ করে এই বিপুল কল কোরাসের প্রেক্ষিতে একেবারেই উল্টো গামী। কারণ তার বক্স থেকে আজ শুধুই রবীন্দ্রনাথের গান বাজছে– কী আনন্দ কী আনন্দ কী আনন্দ। দিবারাত্রি নাচে মুক্তি নাচে বন্ধ। ভিড় ঠেলে ঠেলে ধীর পায়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন, ডান হাতে ভিক্ষার বাটিটি শক্ত করে ধরা। অন্যদিন হলে একটা আবহ তৈরি হত। কিন্তু আজ মুড অন্যরকম। ত...

ম্যাজিক ফিগার!

ম্যাজিক ফিগার কথাটির মধ্যে কিন্তু কোনো জাদু টাদু কিছু নেই বরং বেশ একটা আত্মম্ভরিতার ব্যাপার আছে। সেটা হোল পারিস যদি একবার ছুঁয়ে দেখা। পারলে ঠিক আছে, ছেয়ে যাবি; নইলে সিধা রসাতলে পৌঁছে যাবি। বাঙালি যখন ফিগার কথাটা বলে তখন তা কোনো সুন্দর দেহ সৌষ্ঠবের কথা ভেবেই বলে, সেখানে সেই ফিগার আবার যদি ম্যাজিক ফিগার হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই, পুরো – 'ঝুমকা গিরা রে, বারেলি কি বাজার মে’ টাইপ মওকা। একবার প্রচেষ্টার পারা নিজেদের অনুকূলে তুলতে পারলেই, ছোঁ মন্তর পাঁচ বচ্ছর। বাকি কাণ্ড কিস্কিন্দা কাণ্ড। তাই ম্যাজিক ফিগার শুধুমাত্র এক কাষ্ঠবৎ সংখ্যা মাত্রই নয়; একটি অবদমিত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এটি, যাকে বিশেষায়িত করতেই সম্ভবত জাদু কথাটির সংযোজন করতে হয়েছে। অনেকটা ঢ্যাঙ্গা কদম গাছের মাথায় জড়িয়ে যাওয়া কাটা ঘুড়ির মত ঝুলে থাকে ম্যাজিক ফিগার, নীচে আমটি আমি খাব পেড়ের মতন আকুল অভিলাষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দেঁতো দাঁতালের দল, কিছু মূঢ় মুনিষের কাঁধ পেলেই তাতে ভর করে শুরু হয়ে যায় সেই জাদু সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলার লড়াই। আবার শুধু ছুঁয়ে ফেলাতেই তো আর মন ভরে না; পাড়ায়, রকে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ইউ টিউবের পর্দায় সর্বত্র চলে সে...

মাস্টারস্ট্রোক!

এখন মাস্টারস্ট্রোকের বড় চল হয়েছে বাজারে , তবে এই মাস্টারস্ট্রোক কিন্ত মাস্টারমশাইয়ের কথিত বেত্রাঘাত বা চপেটাঘাত নয়। আবার অভিধানে অন্তর্ভুক্তির সময়ে শব্দটি যে অর্থে ব্যবহৃত হতো , চিত্রশিল্পীর প্রভাবী তুলির টান বোঝাতে , সে অর্থেও নয়। কারণ বর্তমানে এর অর্থগত অনেক প্রসারণ ঘটেছে , তবে আক্ষরিক বিচারে শব্দবন্ধটি যে দুটি শব্দের মিশ্রণে গঠিত সেই মাস্টার এবং স্ট্রোক শব্দ দুটি সম্প্রতি তাদের নিজ নিজ শব্দগত অর্থের গুরুত্ব বোঝাতে ভীষণ তৎপর হয়ে উঠেছে। অন্তত আমাদের দেশে। যেখানে এই স্ট্রোক বা ঘা হলো নিরীহ ভৃত্যদের ওপর তাদের প্রভু বা মনিবের মার। আবার এটা এমন মার যে ভৃত্যরাও খুশি না হয়ে থাকতে পারে না ; দুহাত তুলে ধেই ধেই করে নৃত্য করতে করতে চারিদিকে মনিবের জয়গান গেয়ে বেড়ায়। চায়ের ঠেক থেকে স্কুলের কমন রুম - আহা এমন মাস্টারস্ট্রোক , সত্যিই কোনো জবাব নেই! দীর্ঘ ঔপনিবেশতন্ত্রের অধীনে থাকার যে মোসাহেবী অর্জন তা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও একদম ক্ষয়িষ্ণু হয়নি। বরং নিপাট ভৃত্যের মতো নতুন নতুন মনিবের খোঁজ পাওয়াটাই তার কাছে একমাত্র অভিষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিন্তাবিদ দার্শনিকেরা এটা বুঝেই প্রজা...