সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

হোলি লিলি!

রঙ লেগেছে মুখে আর ফুল ফুটছে বুকে। রঙের আর কি, কোনো বিদ্বেষ নেই। সাফসুতরো মুখ দেখলেই খানিক আদর করার সুখ। তবে নিটোল এবং অরগ্যানিক। এ আই দিয়ে বিশ্লেষিত নয়। জৈব অ্যাড্রিনালিন দ্বারা সংশ্লেষিত। তাই ছুটে পালানোর বাহানা খোঁজে বৈরাগী; প্লিজ এখানে আবার পৌরাণিক অ্যাঙ্গেল ঢুঁড়বেন না যেন, তাহলেই কিন্তু রাধা বেঁকে বসবে। নিভৃতে, চিলেকোঠার কোনে কে জানত একদা রঙের এত বাহাদুরি দেখা যাবে। কোথায় মাড় না ভাঙা ধনেখালির কৌমার্য, একটু আড়াল পেতেই একেবারে উন্মুক্ত পারিজাত পাপড়ির পরাগ। আড় ভেঙে, নিমেষে শয্যাত্যাগের বেডশিট। ভ্রমর পায়ে রঙ তো লাগবেই। দোলের দিন খোল বাজবে এ নিয়ে ডিবেট করার কিছু নেই। কিন্তু বুকের মাঝে এমন ভূতপায়ের নাচন হবে কে জানত। কলা গাছের নির্মোক খুলে পড়ার মত নির্লজ্জ অন্তর, নির্বাক। রঙ গড়িয়ে যায়; নাম না জানা বদ্বীপ ছুঁয়ে দুর্গম মোহনার হ্যাংলামোপনায়। ছবিটি এঁকেছে দেবার্পণ, লেখক দেবাশিস জানার ছেলে। হালকা হালকা হাওয়ায়, আমের বকুল খানিক ঝরে পড়লেও ক্ষতি নাই; রঙ হাতে তো রাশ হাতে। সজনে ফুল কুড়ানোর সময় এখন; শরীর খারাপ বলে, পড়ার ঘরে একা একা টেক্সট করার ছল – না রে পাগলা, আজ পারবো না! তবে? আজ বরং শিমুলকে - বৃ...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

শিশু বট ও মা শালিকের কথা!

এইতো কয়েকদিন আগের কথা, ঢাকুরিয়া মধুসূদন মঞ্চের সামনে - সিঁড়ি ভেঙে, ফুট ব্রিজে উঠছি, দেখি মুখের কাছে এক কোনায়, সুন্দর একটা বটের চারা; সাকুল্যে গোটা ছয়েক পাতা হবে, নরম, সবুজ; মৃদু হাওয়ায় আলতো আলতো আন্দোলিত হচ্ছে, কেমন যেন আদুরে আদুরে ভাব। খানিক দূরে দুটো ভাত শালিক, ব্রিজের রেলিং এর ওপর ঝিম মেরে বসে আছে। তা বসুক গে, তখন তো বুঝিনি। কারণ শিশু বটগাছে এখনো ফল ধরতে অনেক বাকি। একবার ফল ধরলে না হয় টিয়া, বসন্তবৌরি বা কোকিল ইত্যাদি পাখির সঙ্গে সঙ্গে এই ভাত শালিকেরাও নানা জায়গা হতে উড়ে এসে জুড়ে বসতো। আসলে লাল, লাল বটফল গুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয় হয়, তেমনি - পাখিদের কাছে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকরও বেশ। তাই সারাবছরই এই ফাইকাস বেঙ্গালেনসিস (৫০ টির বেশী এখনো টিকে থাকা বট প্রজাতির মধ্যে একটির বিজ্ঞানসম্মত নাম এটি, যার মধ্যে বেঙ্গল কথাটি রয়েছে) মানে বটগাছের ডালা পালায় এদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। মহাকলরবে একেবারে ভরে ওঠে বটতলা! যাক গে, স্বভাব মতো, মোবাইল বের করে যথারীতি ছবি নেবো বলে ক্যামেরা অন করেছি, কিন্তু যেই না মোবাইলটাকে বটগাছের মাথার কাছে নিয়ে গিয়ে খানিক ঝুঁকে দাঁড়িয়েছি, ব্যাস্। অমনি সেই শা...

বাংলা ভাষার 'ব র ড ড়' দশা প্রাপ্তি!!

বইমেলা তখন ময়দান থেকে সেন্ট্রাল পার্কে উঠে আসেনি, এক সন্ধ্যায় গেছি, দেখি এক আলোচনা মঞ্চে তখন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বক্তব্য রাখছেন। বাংলা ভাষার বানান বিভ্রান্তি নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত ছিলেন, ১৯৯১ এ তাঁর সম্পাদনায় বাংলা বানান বিধি নিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য বইও বেরিয়েছে ‘বাংলাঃ কি লিখবেন কেন লিখবেন’ নামে। তা যে কারণে বক্তৃতাটি আমার স্মৃতিতে আজও অটুট সেটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ এবং সরস পর্যবেক্ষণের কারণে। কী বলেছিলেন তিনি?  বলেছিলেন, “একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি বা পত্রিকা গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন বানান লিখছেন এটি বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে একটি সাধারন বিড়ম্বনা, কিন্তু অসুবিধা হয় যখন একই ব্যক্তি একই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন বানান লিখছেন।"  ২১ শে ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের দিনে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষের মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার গুরুত্ব যথেষ্ট । শুধু বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ভাষা হিসেবে নয়, মাতৃভাষা রক্ষায় প্রাণদানের ইতিহাসও বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষাতে নেই। তাই বাংলা ভাষার একটি সর্বজন গ্রাহ্য বানান বিধি থাকা অবশ্য প্রয়োজন, অন্তত এই নিয়ে কারোর কোনো দ্বিমত ...

মণিপুরের চড়ুইবান্ধব!

অনেকটা খেজুর গাছে ঝোলানো কলসির মতো দেখতে, কিন্তু মাটির নয়, সবুজ লতা শুকিয়ে তাকে দড়ির মতো করে পাকিয়ে বানানো চুপড়ি এগুলি। গায়ে আবার চৌকো মতো ফোকড় করা থাকে; যেখান দিয়ে চড়ুই পাখি সহজে ঢুকতে, বেরুতে পারবে। সাধারণত চড়ুই, যাদের বাড়ির চিলেকোঠায়, ঘুলঘুলিতে বা কড়িকাঠের ফাঁকে, অতি সাধারণ খড় খাচি দিয়ে বাসা বানাতে দেখা যায় তাদের জন্যে এই নতুন বাসা নির্মাণের খরচ অবশ্য পড়ছে মাত্র পাঁচ টাকা। প্রসঙ্গত ডিম পাড়ার সময়, চড়ুইয়ের বাসার খুব প্রয়োজন। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর - এই কয়েকমাস চড়ুইয়ের প্রজননের সময়। এই সময়ে আবার ভরা বৃষ্টি কাল চলে, তাই নীড় বাঁধা চাইই। কিন্তু শুধু বাঁধতে চাইলেই তো হবে না, ঝড় বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া বা উড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে; এছাড়াও বর্তমানে বাড়ি ঘরের যে স্থান সংকুলান তাতে চড়ুই পাখি বা তার বাসার কথা ভাবা প্রায় অসম্ভব; নিছক কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। ফলে চড়ুই সংখ্যা দিনদিন কমছে। তাই চড়ুই রক্ষায় কৃত্রিম এই বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা। কিন্তু শুধু নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হননি মণিপুরের আনিশ আহমেদ, এইসময় মণিপুরের কাকটা গ্রাম বা তার আশেপাশের এলাকায় গেলে তাঁকে রীতি...

অন্য আলোয় অরিজিৎ সিং!

আচ্ছা একজন চেন স্মোকার যখন ইম্পর্টেন্ট কোনো আলোচনা ছেড়ে , থেকে থেকে  উঠে চলে যান ; তখন বোধগম্য হয় , তিনি তার প্রিয় ' ডক স্টেশনে ' পৌঁছতে চান! যেভাবে কবি বারবার তাঁর নিভৃতচারণে ফিরে যেতে চান ; যেভাবে গায়ক অরিজিৎ সিং ফিরে যেতে চান তাঁর চির ইপ্সিত ব্যাকুল-নিবাস , জিয়াগঞ্জে! জিয়াগঞ্জ আজ আর শুধু কোনো জনপদের নাম নয় ; ভাগীরথীর পাড় ঘেঁষা , মুর্শিদাবাদ জেলার কোনো একটি গঞ্জের নাম নয় শুধু এটি ; বরং বিক্ষিপ্ত মনের অবচেতনে বাস করা সেই শান্তির ঠিকানা , যেখানে বারবার মানুষ ফিরে যেতে চান ; আমার আমিকে ফিরে পাওয়ার সেই সব স্টেশনের অন্তিম প্রতিভূ আজ জিয়াগঞ্জ। সম্প্রতি বলিউড ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে , অরিজিৎ এর সর্বশেষ ইনস্টাগ্রাম (২৭ শে জানুয়ারি , ২০২৬) ঘোষণা , জিয়াগঞ্জ কে যেন সেই স্ট্যাটাসই প্রদান করেছে। একটা কথা আছে , পড়ন্ত বেলায় নয় ; সবসময় মধ্যগগনে থেকেই বিদায় নেওয়ার কথা ঘোষণা করতে হয়। যেটা বলে , সন্ন্যাসীর রাজা হওয়া নয়; বরং  রাজার সন্ন্যাসী হওয়াটাই বেশী তাৎপর্যপূর্ণ এবং বেশী হৃদয়স্থায়ী। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই কিন্তু অরিজিৎ সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন ; একদিকে যেমন ত...