পত্রালোকে স্বামীজীর দ্বিতীয় পর্বে স্বামীজীর এক গভীর দিব্য বিশ্বাসের প্রসঙ্গ উঠে আসে যেটি বেশ আকর্ষণীয়। কারণ তা প্রচলিত যুগ ধারনায় শুধু যে অভিনব ভাবনার উন্মেষ ঘটায় তাই নয়, জন্ম দেয় নতুন বিস্ময়ের। গুরুভাই রামকৃষ্ণানন্দের উদ্দেশ্যে যে পঞ্চদশ দফার উপদেশাবলী জারি করেন তিনি এই চিঠিতে তারই একটি অংশ হিসেবে সেটাকে তিনি পেশ করেন । সেই হিসেবে ৭ নং পয়েন্টে তাঁর বিধৃত ভাষ্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলাই বাহুল্য, স্বামীজী তাঁর আধ্যাত্ম জ্ঞানের একটি গভীর দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন সেখানে এবং সেটি নিয়ে তাঁর মনে যে কোনরূপ কোনো সন্দেহ নেই সেই বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “রামকৃষ্ণাবতারের জন্মদিন হইতেই সত্যযুগোৎপত্তি হইয়াছে” । অর্থাৎ শ্রীশ্রী ঠাকুরের জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই সত্যযুগের সূচনা হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য তাঁর বলার ধরনে কোনরকমের কোনো সংশয় প্রকাশ পায়নি। বরং তাতে তাঁর বাকশক্তির স্বভাবসিদ্ধ সত্যতা ও ওজস্বিতা ফুটে বেরিয়েছে। প্রসঙ্গত স্বামীজী যে সত্যযুগের সুচনার কথা বলছেন আদতে সেটি একটি ভেদাভেদ হীন সমাজ গঠনের শুরুয়াত যা ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের আগমন পর্বের সঙ্গে সূচিত হয়ে...
স্বামী বিবেকানন্দের অনেক উক্তি যা কালের কষ্টি পাথরে প্রায় প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে, সেরকম মুখে মুখে ফেরা স্বামীজীর কিছু সর্বজন গ্রাহ্য বানীর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি বাণী হোল – চালাকির দ্বারা কোনো মহৎ কাজ হয় না। যথার্থতা ও প্রামান্যতার প্রশ্নে আজও যাদের মান্যতা নিয়ে কোনরকমের কোনো তর্ক নেই জনমানসে । প্রসঙ্গত বিবেকানন্দ এই কথাটি গুরুভাই রামকৃষ্ণানন্দকে লেখা একটি চিঠিতে সর্বপ্রথম লেখেন। কোনো সভা বা সেমিনারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় করা উক্তি নয় এটি । কিংবা কোনো প্রবন্ধের অনুচ্ছেদ অলঙ্কৃত করতে ও এমনটা লিখেছিলেন বলে জানা যায় না। উল্লেখ্য স্বামীজী আমেরিকা থেকে চিঠিটি লেখেন ১৮৯৫ সালে, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে । আজকের নিবন্ধে, উক্ত চিঠির আলোকে স্বামীজীর চরিত্রের কোনো অপরিচিত দিক ফুটে উঠল কিনা মুলত তাকে কেন্দ্র করেই জারি থাকবে সমগ্র অন্বেষণ। পত্রদাতা স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে প্রাপক রামকৃষ্ণানন্দ মহারাজ সহ আরও অন্য যে সকল ব্যক্তির নাম স্বামীজী ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়নটিও একই সাথে বোঝার চেষ্টা করবো। অনুল্লেখিত থাকবে না সেসময়কার সমাজ এ...