সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

প্রিয় রাখি!

আকাশ থেকে পেড়ে আনা তুলোর মত নরম মেঘের টুকরোগুলোর গায়ে যেন আলতা পরিয়ে তাদের তুলট সুতোর মাথায় ঝুটি করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ; কিন্তু  এ হেন অলৌকিক সৌন্দর্যের অধিকারী কব্জি-ডোর গুলি যে কী আনন্দে গুচ্ছে গুচ্ছে প্রায় পিঠোপিঠি হয়ে পড়ে থাকতো ছোট্ট একখানা মলিন নায়লনের ব্যাগের মধ্য , ভাবলে সত্যিই পুলক লাগে। শীর্ণ হাতে ধরা সেই ব্যাগ নিয়ে যিনি শ্রাবণ পূর্ণিমার ভোরে সকলের বাড়ি বাড়ি এসে হাজির হতেন তিনি অরুন্ধতী দেবী , শ্যাম বর্ণা , কপালে বয়সোজনিত বলিরেখার ঢল , নাকের নীচে একটা মস্ত বড় কালো তিল , সরু ঠোঁটের কোণে সর্বদা বিদূষী গাম্ভীর্য লেগে থাকাটা বেশ শ্রদ্ধা জাগাতো। পৃথুলা চেহারায় তাঁর আলুথালু অরক্ষিত বুক , গায়ে জড়ানো সরু কালো পাড়ের সাদা থান , তবু সম্ভ্রম তাঁর অমূল্য ভূষণ। ধীর পায়ে তিনি দুয়ারে এসে উপস্থিত হতেন , আনন্দের তখন আর সীমা পরিসীমা থাকতো না। ছবিটি দারুয়ার (কাঁথি) উত্তর বিলের, সকালের রঙে রাঙা। অন্য দিনে তাঁর হাতে কঞ্চির ছড়ি থাকে , আজ সে জায়গায় রাখির ব্যাগ। আজকে আর অ আ ক খ ডেকে ডেকে খামোখা স্লেটে খড়ি ঘষে মস্কো দেওয়ার কোনো চাপ নেই , শিশুরা তাই আহ্লাদে গদগদ হয়ে প...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

যত্ত বৃষ্টি কোলকাতায়!

কোলকাতার বৃষ্টির একটা আলাদা চার্ম রয়েছে , বাতাসে ভাসমান ধোঁয়া ধুলো সব বৃষ্টির ফোঁটায় অধঃক্ষিপ্ত হয়ে মাটিতে নেমে আসে , তাতে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স এর (AQI) মান যেমন শুদ্ধ হয় তেমনি আকাশের ধোঁয়াশা ভাব কেটে চারিদিকের নজারা একেবারে সাফসুতরো আয়নার মতো হয়ে যায় । চারপাশের ঘরবাড়ি সৌধ ফুটপাত গাছপালা ইত্যাদিকে  তখন মনে হয় যেন সদ্য স্নান সেরে আসা তীর্থযাত্রী ; লাইন বেঁধে একে একে সব দাঁড়িয়ে পড়েছে তাদের ক্লান্তিহীন ঝরঝরে মুখগুলিকে দেখাতে ; শহুরে ধুলোকালির প্রসাধন মুক্ত , পুরোদস্তুর সতেজ এবং সজীব হয়ে ।   কোলকাতা ম্যাডক্স স্কোয়ার।   কিন্তু ঐ পর্যন্তই , কংক্রিটের আস্তরণে মোড়া কোলকাতার মাটির সঙ্গে এই বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই । হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে পত্তন হওয়া এই শহর শেষ কবে বৃষ্টির উন্মুক্ত পতনকে আপন বুকে জায়গা করে দিয়েছে তার কোনো হিসাব নেই । কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কোলকাতার মাটি ঠিক কোন্ প্রকৃতির এই ভেবে তাঁর গভীর বিস্ময়ের কথা ব্যক্ত করে গেছেন তাঁ...

"গেল রে দিন বয়ে!"

মেঘের মুখে পারদ আভা , কোথাও তা তাল গাত্রের মত কৃষ্ণকায় , কোথাও আবার স্তিমিত রোদের ক্লান্তি মাখা । বৃষ্টিবতী ঋতু শ্রাবণের মেঘাক্ত আকাশ , উপুড় করা উপবৃত্তাকার ফুল সাজির মত পুষ্প সম বারিবিন্দু ঝরায় , কখনো মন্দ্র কখনো তুঙ্গ নাচনে । রবিহীনতার রৌদ্রহীন দশা করুণ অভিমানে তাকে মৃত্তিকার কাছে সুগচ্ছিত রাখে ; পথ থেকে পথান্তরে ঝরে পড়া সে অভিসার চিহ্ন চিতার লীনতাপ নিয়ে উবে যেতে ছুটে যায় অন্তিম দহনের পথে । কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি , চিৎপুর রোড , কলুটোলা স্ট্রিট হয়ে কলেজ স্ট্রিট , তারপরে কর্নওয়ালিস স্ট্রিট এবং সবশেষে নিমতলা মহাশ্মশানের অগ্নিপথে মহা উড়ান । শায়িত রবি , কুসুমাবৃত ; জরিদার বেনারসির পরিধান , তার পরে বেল জুঁই কাঁড়ি কাঁড়ি । সঙ্গে পূর্ণ বিকশিত সিতপদ্ম এবং নৈশগন্ধার নিবিড় সমাবেশ । পায়ের কাছে কাঁঠালচাঁপা ফুলের শ্রদ্ধা নিষ্ঠ সমর্পণ , পুত্র রথীন্দ্রনাথের স্ত্রী প্রতিমা দেবী সেই নিবেদনের নেপথ্যে । কণ্ঠ থেকে আপাদলম্বিত রজনীগন্ধার মাল্য ভূষণ । বৃষ্টিপাতের ম...