সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জগন্নাথের রথযাত্রা ও লক্ষ্মীর বিরোধ!

ঝিপ ঝিপ করে বৃষ্টি পড়ছে আর তার মাঝেই জগন্নাথ দেব ও দাদা বলরাম তাদের আদরের বোন সুভদ্রাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন মাসী গুন্ডিচার বাড়ির উদ্দেশ্যে!   গ্রামে গঞ্জে এখন চাষাবাদের মরসুম ; লা ঙল দেওয়া , ধান রোপণ করা ইত্যাদি এখন সবার আগে , এর মধ্যে হলধর বলরামের মাসির বাড়ি ঘুরতে যাওয়াটা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে বিলকুল প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কথা ঠিক , এখন দিন বদলেছে , চাষের কাজে বলদ কিংবা হাল প্রভৃতি বস্তু গুলো এখন ওই অভিধানের পাতাতেই টিকে আছে। বাস্তবে এদের অস্তিত্ব ওই ঢেঁকি কিংবা ঢেঁকি ছাঁটা চালের মতই অর্থহীন।   রথারূঢ় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা তবে একটা গল্প আছে , ভগবান কৃষ্ণের পরলোকগতির সঙ্গে সঙ্গে দ্বাপর যুগের অবসান এবং তৎপরবর্তী কালে কলির সূচনা হয় বলে কথিত , সেখানে জগন্নাথ দেবের উদ্ভব যেহেতু ভগবান কৃষ্ণের অদাহ্য দেহাবশেষ তথা পবিত্র দারু ব্রহ্ম থেকে হয়েছে বলে শাস্ত্রকারেরা বলে গেছেন তাই জগন্নাথ দেব যে একান্তই কলির দেবতা সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর এখানেই এক অবধার...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

বোবা শব্দের মুখর হওয়া!

মেয়েটির কাছে শব্দেরা ছিল বোবা, বধিরতার আঁধারে চোবানো। কারণ মেয়েটি ছিল কর্ণহীন, বাইরে দৃশ্যমান বেসিনাকৃতি কানের পাতা (Pinna) অংশটি তার ছিল না জন্মাবধি। ছিল না তার সঙ্গে যুক্ত কর্ণ নালিকা বা ইয়ার ক্যানেলও। যার ফল বহিঃকর্ণের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং তার সঙ্গে মধ্য কর্ণের টিম্প্যানিক মেমব্রেন বা ইয়ার ড্রামের না থাকা –দুইয়ে মিলে শব্দেরা কোনভাবে পৌছতে পারছিল না অন্তঃকর্ণ বা ককলিয়াতে। ফলশ্রুতি শব্দের পৃথিবীতে নীরবতার নির্বাসনে কাটানোর ভবিতব্য ছিল তার বরাদ্দ। কিন্তু করুণাময় ঈশ্বর হয়তো অন্য কিছু লিখেছিলেন মেয়েটির কপালে। তাই সাত বছর বয়সে এসে শেষ পর্যন্ত তার সামনে বন্ধ শব্দের দেরাজ খোলার একটা সম্ভাবনা দেখা দিল। কারণ প্রতিবেশী বাংলাদেশের এই সাত বছরের বধির মেয়েটিকে তার রুদ্ধ শ্রবন ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে শেষমেশ তার বিচ্ছিন্ন কর্ণ কুহরে সেতুবন্ধনের কাজটি করা শুরু করে দিল কোলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে প্রকাশ, প্রখ্যাত কর্ণ বিশারদ তথা শল্য চিকিৎসক ডক্টর NVK মোহন এক অভিনব পন্থায় এই বিচ্ছিন্নতা মেরামত করার চেষ্টা করেছেন। কারণ আশ্চর্যজনক ভাবে মেয়েটির অন্তঃকর্ণ বা ককলিয়াটি কিন্তু অবি...

বোলতা ও নারায়ণ দেবনাথ!

আজকে শাম তুমারে নাম! কিন্তু শুধু শাম-ই বা কেন, প্রিয় মানুষের নামে পথ ঘাট, বাজার, লাইব্রেরি থেকে মহাকাশ স্টেশন সবকিছুই যখন হতে পারে তখন কাফকা বা উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নামে (বিশেষ প্রজাতি) ডালিয়া বা  গোলাপের নামকরন হলে আর বেশী কী। ইষ্ট দেবতার নামে ছেলে মেয়ের নাম দেওয়ার চল তো বহু পুরনো, বহু দিন আগে একটা জায়গায় পড়েছিলাম বিহারের কোনো এক বাসিন্দা তিনি নাকি এতটাই ভক্ত ছিলেন কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের যে আদর করে ছেলের নাম রেখেছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সিং। উদ্যানবিদ হাজি কলিমোল্লা খান, উত্তর প্রদেশের মানুষ; রকমারি হাইব্রিড আম ফলানোয় একেবারে দিকপাল। কিন্তু শুধু নতুন নতুন আম বানালেই তো হবে না, তাদের নামও তো দিতে হবে। হাজি কলিমোল্লা সাহেব এ ক্ষেত্রে কিছু জীবন্ত কিংবদন্তীর নাম বেছে একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে দেশের বড় বড় ভি ভি আই পিরাও নামকরণের চক্করে পড়ে আম হয়ে গিয়েছেন। যেমন শচিন আম, নরেন্দ্র মোদী আম বা সোনিয়া গান্ধী আম ইত্যাদি। নারায়ণ দেবনাথ। শুধু আমই বা কেন, সম্প্রতি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উদ্ভিদ গবেষকের নজরে পড়ে একটি নতুন প্রজাতির সপুষ্পক গুল্ম জাতীয় গাছ; আ...

ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র ও কাঁথি, সম্পর্কের ইতিকথা ও বর্তমান স্থিতি!

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাঁথির যোগসূত্র বহুকথিত , তিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে তখনকার প্রশাসনিক ক্ষেত্র নেগুয়া অঞ্চলের ম্যাজিস্ট্রেট তথা ট্যাক্স কালেক্টর হয়ে কাঁথিতে আসেন , তারিখটি ছিল ১৮৬০ এর ২১শে জানুয়ারি। ছিলেন মাত্র ন ' মাসের বেশী কিছু সময়। ২৯৩ দিনের মাথায় , ১৮৬০ এরই ৮ই নভেম্বর তারিখে তিনি কাঁথি থেকে বদলি হয়ে ফিরে যান। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তাঁর দু দুটি উপন্যাসের পটভূমি ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু চরিত্র প্রাপ্তির উৎস হিসেবে কাঁথিকে তাঁর বিপুল সাহিত্য ভান্ডারের এক চির চর্চিত স্থান হিসেবে পরিচিতি দিয়ে গেছেন। অবশ্যই এদের মধ্যে প্রথম উপন্যাসটির নাম - কপালকুণ্ডলা ; যার মূল পটভূমি কাঁথি শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের রসুলপুর নদী ও তার সাগর মিলন স্থল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জনপদ দারিয়াপুরের বালিয়াড়ি ও কাজুবাদামের জঙ্গলে ঘেরা জনবিরল অরণ্য স্থান অন্যতম , যেখানে উপন্যাসের মূল চরিত্র কপালকুণ্ডলা , কাপালিক সহ পথ হারিয়ে ফেলা নবকুমারকে ঘিরে সমগ্...