এইতো কয়েকদিন আগের কথা, ঢাকুরিয়া মধুসূদন মঞ্চের সামনে - সিঁড়ি ভেঙে, ফুট ব্রিজে উঠছি, দেখি মুখের কাছে এক কোনায়, সুন্দর একটা বটের চারা; সাকুল্যে গোটা ছয়েক পাতা হবে, নরম, সবুজ; মৃদু হাওয়ায় আলতো আলতো আন্দোলিত হচ্ছে, কেমন যেন আদুরে আদুরে ভাব। খানিক দূরে দুটো ভাত শালিক, ব্রিজের রেলিং এর ওপর ঝিম মেরে বসে আছে। তা বসুক গে, তখন তো বুঝিনি। কারণ শিশু বটগাছে এখনো ফল ধরতে অনেক বাকি। একবার ফল ধরলে না হয় টিয়া, বসন্তবৌরি বা কোকিল ইত্যাদি পাখির সঙ্গে সঙ্গে এই ভাত শালিকেরাও নানা জায়গা হতে উড়ে এসে জুড়ে বসতো। আসলে লাল, লাল বটফল গুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয় হয়, তেমনি - পাখিদের কাছে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকরও বেশ। তাই সারাবছরই এই ফাইকাস বেঙ্গালেনসিস (৫০ টির বেশী এখনো টিকে থাকা বট প্রজাতির মধ্যে একটির বিজ্ঞানসম্মত নাম এটি, যার মধ্যে বেঙ্গল কথাটি রয়েছে) মানে বটগাছের ডালা পালায় এদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। মহাকলরবে একেবারে ভরে ওঠে বটতলা! যাক গে, স্বভাব মতো, মোবাইল বের করে যথারীতি ছবি নেবো বলে ক্যামেরা অন করেছি, কিন্তু যেই না মোবাইলটাকে বটগাছের মাথার কাছে নিয়ে গিয়ে খানিক ঝুঁকে দাঁড়িয়েছি, ব্যাস্। অমনি সেই শা...
বইমেলা তখন ময়দান থেকে সেন্ট্রাল পার্কে উঠে আসেনি, এক সন্ধ্যায় গেছি, দেখি এক আলোচনা মঞ্চে তখন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বক্তব্য রাখছেন। বাংলা ভাষার বানান বিভ্রান্তি নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত ছিলেন, ১৯৯১ এ তাঁর সম্পাদনায় বাংলা বানান বিধি নিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য বইও বেরিয়েছে ‘বাংলাঃ কি লিখবেন কেন লিখবেন’ নামে। তা যে কারণে বক্তৃতাটি আমার স্মৃতিতে আজও অটুট সেটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ এবং সরস পর্যবেক্ষণের কারণে। কী বলেছিলেন তিনি? বলেছিলেন, “একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি বা পত্রিকা গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন বানান লিখছেন এটি বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে একটি সাধারন বিড়ম্বনা, কিন্তু অসুবিধা হয় যখন একই ব্যক্তি একই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন বানান লিখছেন।" ২১ শে ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের দিনে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষের মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার গুরুত্ব যথেষ্ট । শুধু বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ভাষা হিসেবে নয়, মাতৃভাষা রক্ষায় প্রাণদানের ইতিহাসও বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষাতে নেই। তাই বাংলা ভাষার একটি সর্বজন গ্রাহ্য বানান বিধি থাকা অবশ্য প্রয়োজন, অন্তত এই নিয়ে কারোর কোনো দ্বিমত ...