সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নয়াগ্রামের সুপ্রাচীন দুর্গাপূজা, মা এখানে রক্ত মুখী!

বলা হয়, মা তাঁর নিজের পুজোর ব্যবস্থা নিজেই করে নেন, এমনকি কোন্ বিশেষ ব্যক্তিটির কাঁধে তিনি তাঁর পুজো আয়োজনের গুরুভার অর্পণ করবেন সেটিও তাঁর নিজস্ব ইচ্ছাধীন, তাই আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে বর্ধমানের আখনা গ্রাম থেকে জনৈক বীরকিশোর নারায়ণ ঘোষ সুদূর মেদিনীপুরের ওড়িশা সংলগ্ন অঞ্চল নয়াগ্রামের আগরআড়ায় এসে হাজির হলেন সপরিবারে, এবং প্রায় তিনশো একরেরও বেশী জমির সুবিশাল জমিদারি স্থাপন করলেন, যদিও তাঁর এখানে আসার পেছনে সঙ্গত কোনো কারণের প্রশ্নে বর্তমান বংশধরদের মধ্যে কেউই সেভাবে কিছু জানাতে পারেননি। আগরআড়া গ্রামের ঘোষ বাড়ির দুর্গা পুজায় হাঁড়িকাঠ (অড়গলি) ও খাঁড়া। আগরাড়া আসতে, এগরা-সোলপাট্টা গামী রাজ্য সড়কে পড়া নয়াগ্রাম বাজার স্টপেজ থেকে এক কিমির মতো উত্তর দিকে গ্রাম্য পিচের রাস্তায় ঢুকতে হয়। পরিচর্যার অভাবে এবড়োখেবড়ো রাস্তার দুপাশে গাছগাছালি, জলভরা পুকুর, ছোট ছোট ইঁটের ঘাট, মাটির দোতলা ঘর, এসব দেখতে দেখতেই দিব্যি পৌঁছে যাওয়া যায় আগরআড়া ঘোষ বাড়ির বহু প্রাচীন দুর্গা দালানের সামনে। কোলকাতা থেকে দূরত্বের কারণে তথাকথিত মূলধারার মিডিয়ায় সেভাবে প্রচারের আলো পায় না এই ধরনের ...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

রূপোয় মোড়া রোদ!

নন্দন কানন হতে স্বর্গের আলো উপচে পড়তেই, চিলেকোঠার বাইরে দুদিকের দুই খোলা ছাদের সে কী আত্মহারা দশা; ধূসর পালকের অনবরত বকম্ বকম্ করে যাওয়া দেশী পায়রাগুলোকে যে কী আনন্দে অমন নেচে নেচে চারিদিক ঘুরে বেড়ানোর দেদার ছাড়পত্র দিয়ে দেয়, কে জানে!  দোতলার শ্যাওলা ধরা কার্নিশ ছেড়ে, কবুতরগুলোর এখন ছাদের কিনারায় রোদের সাথে বসবাস। নীল আকাশ,  উপুড় করা তার দু পার খোলা বুক, তাতে আদুরে ফেনার মত মেঘের দল - বৃষ্টির স্নান সেরে, স্বর্গের পরীদের মত উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাদের শুভ্র বসনের মুক্ত আঁচল। মাঠে ধবল গরুর পালের মত চরে বেড়ায় রোদ, পাশে বটগাছের নীচে রাখালের দীঘল চোখের ন্যায় ঘন কৃষ্ণ ছায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সে দিকে। আসলে এ  মায়া, জোছনা রঙা রোদের মায়া, একটা নেশার মত - যে নেশায় আচ্ছন্ন হতে স্বয়ং মা দুর্গা নেমে আসেন সুদূর কৈলাস হতে।  উঠোনে ঢাকনা খোলা বয়ামে আঁচারের রোদ খাওয়া চলে, সঙ্গে আমচুর, ফুলবড়ি, পাকা তেঁতুল আরো কত কী। নারকেল গাছের সোনালী পাতা বেয়ে দিব্যি ছাদের আরসায় নেমে আসে কাঠবিড়ালি, রোদের জলসায় সবার আমন্ত্রণ যে।  সুপারি ডোঙ্গায়   চেপে সদর বাহার থেকে তেমাথার মোড়, পথে কাম...

গান্ধীজীর বাংলা শেখা!

গান্ধীজীর বাংলা শেখার তাগিদ প্রথমত রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করেই স্ফুরিত হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা আর শুধু রবীন্দ্র কাব্য গীতি রসাস্বাদনের ঐকান্তিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে নি।  ছড়িয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক পরিসরে, বিশেষ করে বাংলার প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্য তাঁকে আরও একনিষ্ঠ করে তুলেছিল বাংলা বর্ণ শিক্ষার প্রতি।  গান্ধীজীর বাংলা শেখার প্রতি গভীর আগ্রহের কথা প্রথম জানা যায় ১৯১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে লেখা তাঁর একটি চিঠি থেকে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন শুরু হয়েছে, গান্ধীজী তাঁর দীর্ঘ ২১ বছরের (এপ্রিল, ১৮৯৩ থেকে জুলাই, ১৯১৪) দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাস চুকিয়ে ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছেন। উদ্দেশ্য যুদ্ধ চলাকালীন আহত সৈনিকদের পাশে দাঁড়ানো, এর জন্যে তিনি সেখানে অ্যাম্বুলেন্স কর্পস নামে একটি বিশেষ সেবাবাহিনী গঠন করেছিলেন। যদিও লন্ডনে বেশীদিন সুস্থ থাকতে পারেননি গান্ধীজী; দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ চলা কালীন দীর্ঘ উপবাসের ক্লেশ এবং নিষ্ঠাবান নিরামিষভোজী হওয়ার কারণে শরীর আগের থেকেই তাঁর ন্যুব্জ ছিল; তার ওপরে লন্ডনের আর্দ্র শীতল হাওয়ায় অতিরিক্ত কায়িক শ্রম তাঁকে দ্রু...

"আমার জীবনই আমার বাণী"!

গান্ধীজী এখানে উপবেশন মুদ্রায়, নিমীলিত চোখ, উন্নত সুষুম্না; আস্কন্দবাহুতল বেষ্টিত সুভদ্র শ্বেত উত্তরীয় - অনাবৃত বক্ষদেশ কে উল্লম্ব ভাবে উন্মুক্ত ক'রে দুই প্রান্তে বিভক্ত। পুঞ্জিত করতল, ভদ্রাসনে আলম্বিত পাদপদ্ম সন্ধিস্থলে প্রিয় সম্ভাষণে সমর্পিত। ১৫৭ তম জন্মদিন (১৮৬৯, ২রা অক্টোবর) উপলক্ষে আজ সুশোভন পুষ্প পুঞ্জ নিবদ্ধ তাঁর যুগল হস্ত বন্ধে। গলায় সুগন্ধ স্ফীত মাল্য ভূষণ। নানা বর্ণীল পুষ্প পত্র সম্ভারে সুসজ্জিত তাঁর কৃষ্ণ বেদী পৃষ্ঠ। সম্মুখ বেদী গাত্রে, হস্তাক্ষর মুদ্রায় খোদাই করা সেই চির অকপট, চির সত্য গান্ধী বার্তা - আমার জীবনই আমার বাণী। গান্ধী ভবন সম্মুখে, বেদী পৃষ্ঠে উপবিষ্ট গান্ধী মূর্তি! মূর্তির পশ্চাৎ পটে দৃশ্যমান একতল যে বাড়ি - যাকে এককালে হায়দরি মঞ্জিল বলা হত, এখন তা গান্ধী ভবন নামে পরিচিত; ১৯৪৭ এর ১৩ ই আগস্টের সন্ধ্যায়, এক বিশেষ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে গান্ধীজী এই বাড়িতেই এসে আশ্রয় গ্রহণ করেন, ছিলেন টানা ২৫ দিন। ৭ই সেপ্টেম্বর তিনি এখান থেকে দিল্লি ফিরে যান। প্রসঙ্গত এটাই ছিল তাঁর শেষ বাংলায় আসা, এর আগে ৬৩ বার তিনি বাংলা সফরে এসেছেন। বেলেঘাটার মিঞা বাগান অঞ্চলে অবস্থিত ...

রান্না পূজা ও পান্তা পদ প্রাশন!

নব শাপলা পত্রে সুসজ্জিত উনিশ ব্যঞ্জন, মাঝে গুচ্ছ কামিনী ফুলের মতো সুডৌল পান্তা ভাতের সুভদ্র স্তুপ, আঙুলের আদরে সুশোভন ও সুমার্জিত। আলু, ঢেঁড়শ, কাঁকরোল, বেগুন, পটলের পাঁচ ফ্রাই, কচু শাক, লাউ চিংড়ি, চালতার টক, ডাটি কচু ইলিশের ঝাল সহ তেলে পিঠে, নারকেলের পুর দেওয়া সাতপুলি, পায়েস - পর পর এমন নয় খানা সুগোল, সুমসৃণ শাপলা পাতার থালায় একে একে সেজে ওঠা ভোগ ব্যঞ্জনের সুনন্দ বাহার; স্পাইসি আর সুমিষ্ট সুরভির মধুর ককটেলে মদির বাতাস যেন ভোজন-উত্তর তৃপ্ত সর্পের মতো হেঁশেলের অন্দর হতে কিছুতেই নির্গত হতে চায় না। ভাদ্র সংক্রান্তির ভোর, যন্ত্রের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনার দিন, কিন্তু সূর্য উঠতেই সেদিন বাংলার গ্রামে গঞ্জে সর্প দেবী মনসা সহ অষ্টনাগের উদ্দেশ্য ভোগদানের মহা পর্ব শুরু হয়ে যায়। সাধারণ লোকবিশ্বাস অনুসারে, শিব ঠাকুরের মানসকন্যার নাকি গরম আহারে চরম অসূয়া, তাই ঠান্ডা পান্তা ভোগ দেওয়াই তাঁকে রীতি। এর জন্যে আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় রন্ধন প্রক্রিয়া, চলে রাত ভর। গোবর জলে লেপা পোছা উনানে, ধুপ ঘুরিয়ে, মনসা স্তুতি গেয়ে শুরু হয় রান্না চড়ানোর পর্ব, অধুনা গ্যাস ওভেনের ওপর গঙ্গা জল ছিট...