নব শাপলা পত্রে সুসজ্জিত উনিশ ব্যঞ্জন, মাঝে গুচ্ছ কামিনী ফুলের মতো সুডৌল পান্তা ভাতের সুভদ্র স্তুপ, আঙুলের আদরে সুশোভন ও সুমার্জিত। আলু, ঢেঁড়শ, কাঁকরোল, বেগুন, পটলের পাঁচ ফ্রাই, কচু শাক, লাউ চিংড়ি, চালতার টক, ডাটি কচু ইলিশের ঝাল সহ তেলে পিঠে, নারকেলের পুর দেওয়া সাতপুলি, পায়েস - পর পর এমন নয় খানা সুগোল, সুমসৃণ শাপলা পাতার থালায় একে একে সেজে ওঠা ভোগ ব্যঞ্জনের সুনন্দ বাহার; স্পাইসি আর সুমিষ্ট সুরভির মধুর ককটেলে মদির বাতাস যেন ভোজন-উত্তর তৃপ্ত সর্পের মতো হেঁশেলের অন্দর হতে কিছুতেই নির্গত হতে চায় না। ভাদ্র সংক্রান্তির ভোর, যন্ত্রের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনার দিন, কিন্তু সূর্য উঠতেই সেদিন বাংলার গ্রামে গঞ্জে সর্প দেবী মনসা সহ অষ্টনাগের উদ্দেশ্য ভোগদানের মহা পর্ব শুরু হয়ে যায়। সাধারণ লোকবিশ্বাস অনুসারে, শিব ঠাকুরের মানসকন্যার নাকি গরম আহারে চরম অসূয়া, তাই ঠান্ডা পান্তা ভোগ দেওয়াই তাঁকে রীতি। এর জন্যে আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় রন্ধন প্রক্রিয়া, চলে রাত ভর। গোবর জলে লেপা পোছা উনানে, ধুপ ঘুরিয়ে, মনসা স্তুতি গেয়ে শুরু হয় রান্না চড়ানোর পর্ব, অধুনা গ্যাস ওভেনের ওপর গঙ্গা জল ছিট...
‘জয়া আর শারমিন’ বিপর্যয়ের দিনে নৈকট্যে আসা দুই মহিলার সম্পর্ককে ঘিরে বিরহমধুর যাপনপ্রবাহের ছবি; কোভিড সময়ের ঘরবন্দী দুই সমবয়সী মহিলার একজন গৃহকর্ত্রী, আর অন্যজন তার পরিচারিকা, জয়া আর শারমিন সামাজিক অবস্থানের বিচারে দুই মেরুতে থাকলেও লকডাউন চলাকালীন তাদের পরস্পরের বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প, তাতে নানা ওঠাপড়া থাকে, কিন্তু শুধু উপয়ান্তরহীনতার বাধ্যবাধকতায় তা বাঁধা থাকে না; বরং এক মায়াময় আকর্ষণের সুতো তাদেরকে ঘিরে রাখে শেষ অবধি, যে কারণে শুধুমাত্র ক্লিনিক্যাল দূরত্ব রক্ষার কারণে যখন বিচ্ছেদের আকস্মিক অবতারণা ঘটে তখন তা অনুভবের স্রোতকে প্রখর বেদনাতুর করে তোলে। বাংলাদেশের পিপলু আর খান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘জয়া আর শারমিন’এ এমনই হৃদয়স্পর্শী প্রাঞ্জল চিত্র রুপায়ণ দেখে মুগ্ধ হলেন কোলকাতার সাধারন দর্শক থেকে সমালোচক এবং বিচারকেরা। ৮ থেকে ১৩ই সেপ্টেম্বর অব্দি চলা পঞ্চম কোলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে সম্প্রতি এই ছবিটি দেখানো হয় কোলকাতার নন্দন ৩ প্রেক্ষাগৃহে। এটি ছাড়াও ইরান, শ্রীলঙ্কা, ভারত সহ মোট ছয়টি দেশ থেকে আরও ৯ টি বাছাই করা ছবি প্রদর্শিত হয় পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছায়াছবি বিভাগে, যাদের মধ্যে...