আকাশ থেকে পেড়ে আনা তুলোর মত নরম মেঘের টুকরোগুলোর গায়ে যেন আলতা পরিয়ে তাদের তুলট সুতোর মাথায় ঝুটি করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ; কিন্তু এ হেন অলৌকিক সৌন্দর্যের অধিকারী কব্জি-ডোর গুলি যে কী আনন্দে গুচ্ছে গুচ্ছে প্রায় পিঠোপিঠি হয়ে পড়ে থাকতো ছোট্ট একখানা মলিন নায়লনের ব্যাগের মধ্য , ভাবলে সত্যিই পুলক লাগে। শীর্ণ হাতে ধরা সেই ব্যাগ নিয়ে যিনি শ্রাবণ পূর্ণিমার ভোরে সকলের বাড়ি বাড়ি এসে হাজির হতেন তিনি অরুন্ধতী দেবী , শ্যাম বর্ণা , কপালে বয়সোজনিত বলিরেখার ঢল , নাকের নীচে একটা মস্ত বড় কালো তিল , সরু ঠোঁটের কোণে সর্বদা বিদূষী গাম্ভীর্য লেগে থাকাটা বেশ শ্রদ্ধা জাগাতো। পৃথুলা চেহারায় তাঁর আলুথালু অরক্ষিত বুক , গায়ে জড়ানো সরু কালো পাড়ের সাদা থান , তবু সম্ভ্রম তাঁর অমূল্য ভূষণ। ধীর পায়ে তিনি দুয়ারে এসে উপস্থিত হতেন , আনন্দের তখন আর সীমা পরিসীমা থাকতো না। ছবিটি দারুয়ার (কাঁথি) উত্তর বিলের, সকালের রঙে রাঙা। অন্য দিনে তাঁর হাতে কঞ্চির ছড়ি থাকে , আজ সে জায়গায় রাখির ব্যাগ। আজকে আর অ আ ক খ ডেকে ডেকে খামোখা স্লেটে খড়ি ঘষে মস্কো দেওয়ার কোনো চাপ নেই , শিশুরা তাই আহ্লাদে গদগদ হয়ে প...
কোলকাতার বৃষ্টির একটা আলাদা চার্ম রয়েছে , বাতাসে ভাসমান ধোঁয়া ধুলো সব বৃষ্টির ফোঁটায় অধঃক্ষিপ্ত হয়ে মাটিতে নেমে আসে , তাতে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স এর (AQI) মান যেমন শুদ্ধ হয় তেমনি আকাশের ধোঁয়াশা ভাব কেটে চারিদিকের নজারা একেবারে সাফসুতরো আয়নার মতো হয়ে যায় । চারপাশের ঘরবাড়ি সৌধ ফুটপাত গাছপালা ইত্যাদিকে তখন মনে হয় যেন সদ্য স্নান সেরে আসা তীর্থযাত্রী ; লাইন বেঁধে একে একে সব দাঁড়িয়ে পড়েছে তাদের ক্লান্তিহীন ঝরঝরে মুখগুলিকে দেখাতে ; শহুরে ধুলোকালির প্রসাধন মুক্ত , পুরোদস্তুর সতেজ এবং সজীব হয়ে । কোলকাতা ম্যাডক্স স্কোয়ার। কিন্তু ঐ পর্যন্তই , কংক্রিটের আস্তরণে মোড়া কোলকাতার মাটির সঙ্গে এই বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই । হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে পত্তন হওয়া এই শহর শেষ কবে বৃষ্টির উন্মুক্ত পতনকে আপন বুকে জায়গা করে দিয়েছে তার কোনো হিসাব নেই । কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কোলকাতার মাটি ঠিক কোন্ প্রকৃতির এই ভেবে তাঁর গভীর বিস্ময়ের কথা ব্যক্ত করে গেছেন তাঁ...