আমাদের চোখে আমরা আমাদেরকেই নিরন্তর খুঁজে চলি, একা দোকা কিংবা ভিড়ের মাঝে থাকা মানুষগুলোকে ঘিরেই আমাদের দৃষ্টি আবর্তিত হয় সবসময়; হয়তো বা নিজেদের প্রতিরূপ খোঁজার নেশাতেই এর বাইরে আমাদের অন্য কিছু চোখে পড়ে না। কিন্তু মানুষের অস্তিত্বকে ঘিরে থাকা গাছপালা, জলা জঙ্গল, পশু পাখি এদের এই নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। আমাদের সদা আত্মমুখী দৃশ্য প্রবাহে তাদের নীরব উপস্থিতি দিয়ে তারা প্রমান করে দেয়, তারা হোল সেই অতিথি যারা উপেক্ষিত হয়েও আমাদের কখনো ছেড়ে যায় না। তবে সেই উপেক্ষাও যে কখনো কখনো আকর্ষণে রূপান্তরিত হয়ে যায় সে কথাও স্বীকার করতে হবে। কোন এক দুপুরবেলায় তেমনই এক ঝিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে ওদের প্রতি আমার নিবিড় আকর্ষণের কথা অনুভব করেছিলাম। সে এক কুহকী আবেশ। বলাই বাহুল্য, সেই অদম্য মোহপাশ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারিনি, যার ফল এই লেখা। প্রথমে ভেবেছিলাম গদ্যের আঙ্গিকে লিখবো, কিন্তু লেখা শুরু হতেই দেখি ক্রমশ তা ছান্দিক মাত্রায় সম্পৃক্ত হয়ে যেতে চাইছে। আমি সেই স্বতঃস্ফূর্ততাকে মেনে নিয়ে ছন্দের স্রোতেই ভাসিয়ে দেই কলমের গতিকে। এবং শেষে তা এক পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। ঝিল পাড়ের বেলা, এক বিশেষ সময়ের হয়েও তার চারপাশের বাস...
চিঠির আলোয় স্বামীজীকে ফিরে দেখার এই (দ্বিতীয়) পর্বে স্বামীজীর এক গভীর দিব্য বিশ্বাসের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। স্বামী রামকৃষ্ণানন্দকে লেখা চিঠিতে তিনি এই সম্পর্কে যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, তা বেশ চিত্তাকর্ষক। কারণ প্রচলিত যুগ ধারনার ক্ষেত্রে তাঁর এই দাবী সম্পূর্ণ এক নতুন যুগ বিন্যাসের অবতারণা করে শুধু নয়, জন্ম দেয় নতুন বিস্ময়ের। গুরুভাই রামকৃষ্ণানন্দের উদ্দেশ্যে যে পঞ্চদশ দফার উপদেশাবলী জারি করেন তিনি এই চিঠিতে তারই একটি অংশ হিসেবে সেটাকে তিনি পেশ করেন । সেই হিসেবে ৭ নং পয়েন্টে তাঁর বিধৃত ভাষ্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলাই বাহুল্য, স্বামীজী তাঁর আধ্যাত্ম জ্ঞানের একটি গভীর দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন সেখানে এবং সেটি নিয়ে তাঁর মনে যে কোনরূপ কোনো সন্দেহ নেই সেই বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, “রামকৃষ্ণাবতারের জন্মদিন হইতেই সত্যযুগোৎপত্তি হইয়াছে” । অর্থাৎ শ্রীশ্রী ঠাকুরের জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই সত্যযুগের সূচনা হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য তাঁর বলার ধরনে কোনরকমের কোনো সংশয় প্রকাশ পায়নি। বরং তাতে তাঁর বাকশক্তির স্বভাবসিদ্ধ সত্যতা ও ওজস্বিতা ফুটে বেরিয়েছে। ...