সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় বেরিয়েছিল খবরটা; রামকিঙ্কর বেইজের ছবি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য ছড়ানো খবর ছিল এটি।। পড়ার পরে, হঠাৎ অনেক দিন পর হরবাবুর কথা মনে পড়ে গেল আমার! প্রসঙ্গত হরবাবুর স্মৃতি আর প্রকাশিত খবরটির মধ্যে একটি ভাবনাগত সম্পর্ক রয়েছে, যে কথা বলার জন্যেই এই লেখার অবতারণা। ধাপে ধাপে খববের বিষয়ে আসার আগে হরবাবু সম্পর্কে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা জেনে নিলে ভালো হয়। রামকিঙ্কর বেইজ কেমিস্ট্রির টিচার হরপ্রসাদ বাবুর শিল্প সাহিত্য নিয়ে ছিল প্রবল আগ্রহ, স্কুলের হোস্টেলে যে ঘরে থাকতেন প্রায়দিন সন্ধ্যায় এসরাজ নিয়ে বসতেন। বিছানায় উঁচু হয়ে বই পড়ে থাকতো, দেশ বিদেশের সাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পীদের জীবন নিয়ে নানান গল্প করতেন ক্লাসে। যদিও কেমিস্ট্রির সিলেবাস তাতে অসম্পূর্ণ থাকতো না কখনো, বরং সরসতার মিশেলে তাঁর পড়ানোর কৌশল সকল ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভীষণ প্রিয় ছিল। সহজে কেউ অমনোযোগী হতো না। তাতে পড়া এগোত ভালো। একদিন প্যারিসনিবাসী ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগ তাড়িত হয়ে পড়লেন। জীবদ্দশায় প্রতিভার দাম না পাওয়া গগ যে কী ভীষণ দুর্দশার মধ্যে কাটিয়েছেন সারাজীবন, অথচ কেউই তখন ত...
বাড়ির বাইরে গুচ্ছের হোগলা গাছ , তাতে লাঠির মতো , হলুদ হলুদ ফুল রেণু মাখা মঞ্জরী দন্ড গজিয়ে ওঠা শুরু হয়েছে বেশ। চৈত্রের নির্মেঘ আকাশ কেমন যেন নিস্পন্দ, নিথর; দিনভর তপ্ত রবির তেজে ঝলসানো , ম্রিয়মাণ! শীতল ঝড়ের ছন্দ বুঝি কোন্ আড়ালে বসে প্রহর গুণছে মুক্তির অপেক্ষায়। এমত সমযে তাই প্রলয়ের অন্তর কথা স্পষ্ট হয় মনের পর্দায়। "গোমড়া মুখের আকাশ/ চাইছে আমায় বড় একান্ত।" কবি প্রলয় বসু। প্রলয়ের ' মধুক্ষরণ ' রূপ কী শুধুই প্রকৃতির ক্লেশ নাশিনী , নাকি জাগতিক জীর্ণতার স্থবিরতা বিনাশী এক রূপক ? কবি প্রলয় বসু বোধহয় এক তীরে দুই পাখি বধ করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত (২০২৬ , কোলকাতা বইমেলা) কবির চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ' আবার ছন্দপথিক ' এ কবি তার সাক্ষর রেখেছেন। ' কালবৈশাখী ' এবং ' প্রলয়ের রাত ' কবিতা দুটিতে ঝড়ের প্রলয়ঙ্করী রূপ কে তিনি যেমন দহনমুক্তির একান্ত কারক হিসেবে বন্দনা করেছেন , তেমনি ' উড়ে যায় বুঝি জীবনের সকল কপাট ' লাইনে ঝড়কে জীবনের গতিরোধ কারী সকল বদ্ধ শৃঙ্খল ভঙ্গের কারিগর হিসেবেও প্রতীত করেছেন। কবি প্রলয় বসুর কবিতায় আধুনিক...