একটা শ্রুতিনাটকের কথা মনে পড়ে গেল । কিশোরবেলায় শোনা , ইতিমধ্যে বহু বছর পেরিয়েও গিয়েছে ; কিন্তু এখনও সেই নাটকের মূল গল্পটি অটল থেকে গেছে স্মৃতিতে । আকাশবাণীর কোলকাতা ক ’ থেকে প্রতি শুক্রবার রাত আটটার সময় একটা নাট্যানুষ্ঠান সম্প্রচারিত হত , ভীষণ জনপ্রিয় ছিল ; গত নয়ের দশকের সময় তখন , এখনকার মত রিল রসে ডুবে থাকার সময় ছিল না সেটা ; নিদেনপক্ষে টিভির পর্দায় সন্ধ্যার সোপ কিংবা খবরের চ্যানেলে গলা ফাটানো ঝগড়া দেখে সময় গুজরান করা যাবে সেরকম সম্ভাবনাও সে অর্থে সে সময় ছিল না । তাই বেতার যন্ত্রের ওপর ভরসা, বিশেষ করে শুক্রবার সন্ধ্যায় এমন সব দুর্দান্ত নাটক পরিবেশিত হত সেখানে যে রাত আটটা কখন বাজবে সেই ভেবে তর সইত না । এমনকি পড়ার ঘরে টাঙানো দেওয়াল ঘড়িটাকেও মনে হত বড্ড স্লো যাচ্ছে । তা এরকম এক শুক্রবারীয় নাট্য বাসরে একটি অসাধারণ শ্রুতিনাটক শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার যার কথা এখনও ভুলতে পারিনি। এতটাই তীব্র অভিঘাত ছিল এটির যে তা যে কোনো শ্রোতার মনেই গভীর দাগ কেটে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এ কথা ঠিক এত দিন বাদে নাটকটির কাহিনীকার কে ছিলেন বা তার বেতার নাট্যরূপ কে দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে ...
কোনটা গোল, কোনটা ডিম্বাকৃতি, কোনটা আবার ঈষৎ আয়তাকার; প্রচুর আয়না এরকম পাশাপাশি সেঁটে পুনরায় তাকে একটা বড়, গোলাকার আয়নার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। লাভ কি হচ্ছে, ক্লোজ সার্কিট টিভি দেখেছেন আপনারা, এক স্ক্রিনে অনেক জায়গার ছবি দেখা যায় তাতে। এক্ষেত্রে এই অভূতপূর্ব আয়নার সজ্জা আপনাকে ক্লোজ সার্কিট টিভির সার্ভিস দেবে। কোন্ আয়নায় হয়তো কেবলের কালো তারে বসা কাকের করুন দৃষ্টি দেখতে পাচ্ছেন তো কোনোটায় হাবুদের ঘরের বারান্দায়, আরসার ওপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটাকে। কোনটায় হয়তো দেখতে পেলেন রোদে কাপড় মেলতে এসেছেন রাশভারী স্বভাবের মন্টু দা। ভালো করে দেখলে উনার বেজার মুখচ্ছবিটাও বেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। কোনটায় হয়তো হাওয়ায় দুলে ওঠা ছাতিম কে দেখতে পেলেন। সবটাই চলমান। সামনে অপরিসর রাস্তা ও তার সামনের বাড়ি ঘর গেরস্থালি সব কিছুই দেখতে পাবেন যখন যেমন তখন তেমন; তার জন্য এদিক ওদিক ছুটে যেতে হবে না, এক জায়গায় বসে, এক কাঁচের পর্দায় সবটাই দেখতে পাবেন বিনা খরচে। অন অফ করার কোনো বালাই নেই। স্বাভাবিক আলো থাকলেই হলো।। এমনকি আয়নার ক্লোজ সার্কিট পর্দায় যে চিত্র গ্রাহক ছবিটি তুলছে...