সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কোলকাতার ওজোন আশ্চর্য!

বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ছিন্ন হলে যেমন সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মি চলে আসার ভয়  রয়েছে, তেমনি শ্বাসপ্রশ্বাসের বাতাসে ওজোনের পরিমান বেড়ে গেলেও বিপদ কম নয় । তার মানে আকাশে ওজোন না থাকলে যেমন ক্ষতি, ভূপৃষ্ঠে আবার সেটা থাকলে বিপত্তি। কিন্তু যার থাকা না থাকা নিয়ে এত সমস্যা, তার আসল চরিত্রটা কী, সেটা প্রথমে বুঝে নেওয়া দরকার। গোদা বাংলায় বলতে গেলে, সাধারন তাপে এটি একটি ফ্যাকাশে নীল রঙের গ্যাসীয় পদার্থ। রাসায়নিক ভাবে আবার আমাদের প্রাণবায়ু অক্সিজেনের খুব কাছাকাছি, নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে অক্সিজেনের থেকেও এক কাঠি বাড়া। কারণ বাতাসের অক্সিজেনে যেখানে দুটি অক্সিজেন পরমানু (O2)রয়েছে সেখানে ওজোনে (O3) রয়েছে তিনটি । তবে তা সত্ত্বেও, শ্বাসবায়ুর সঙ্গে যদি অতিমাত্রায় ওজোন শরীরের মধ্যে ঢুকে পড়ে তবে তা শ্বাসনালীর প্রদাহজনিত নানা সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। সাধারন কাশি থেকে শ্বাসকষ্ট এমনকি হাঁপানির মত দীর্ঘস্থায়ী অসুখেরও তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে অনায়াসে।  যে কারণে শিশু বা বৃদ্ধদের কাছে বিশেষ করে ফুসফুস সংক্রান্ত অসুখে যারা ভোগেন তাদের জন্যে ওজোনের বিপদ সবথেকে বেশী। এ হেন ওজোন কিন্তু আকাশ থেকে টপকে প...

নয়াগ্রামের সুপ্রাচীন দুর্গাপূজা, মা এখানে রক্ত মুখী!

বলা হয়, মা তাঁর নিজের পুজোর ব্যবস্থা নিজেই করে নেন, এমনকি যে বিশেষ ব্যক্তিটির কাঁধে তিনি তাঁর পুজো আয়োজনের গুরুভার অর্পণ করবেন সেটিও তাঁর পূর্ব নির্ধারিত, তাই আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে বর্ধমানের আখনা গ্রাম থেকে জনৈক বীরকিশোর নারায়ণ ঘোষ সুদূর মেদিনীপুরের ওড়িশা সংলগ্ন অঞ্চল নয়াগ্রামের আগরআড়ায় এসে হাজির হলেন সপরিবারে, এবং প্রায় তিনশো একরেরও বেশী জমির সুবিশাল জমিদারি স্থাপন করলেন, যদিও তাঁর এখানে আসার পেছনে সঙ্গত কোনো কারণের প্রশ্নে বর্তমান বংশধরদের মধ্যে কেউই সেভাবে কিছু জানাতে পারেননি। আগরআড়া গ্রামের ঘোষ বাড়ির দুর্গা পুজায় হাঁড়িকাঠ (অড়গলি) ও খাঁড়া। আগরাড়া আসতে, এগরা-সোলপাট্টা গামী রাজ্য সড়কে পড়া নয়াগ্রাম বাজার স্টপেজ থেকে এক কিমির মতো উত্তর দিকে গ্রাম্য পিচের রাস্তায় ঢুকতে হয়। পরিচর্যার অভাবে এবড়োখেবড়ো রাস্তার দুপাশে গাছগাছালি, জলভরা পুকুর, ছোট ছোট ইঁটের ঘাট, মাটির দোতলা ঘর, এসব দেখতে দেখতেই দিব্যি পৌঁছে যাওয়া যায় আগরআড়া ঘোষ বাড়ির বহু প্রাচীন দুর্গা দালানের সামনে। কোলকাতা থেকে দূরত্বের কারণে তথাকথিত মূলধারার মিডিয়ায় সেভাবে প্রচারের আলো পায় না এই ধরনের গ্...

রূপোয় মোড়া রোদ!

নন্দন কানন হতে স্বর্গের আলো উপচে পড়তেই, চিলেকোঠার বাইরে দুদিকের দুই খোলা ছাদের সে কী আত্মহারা দশা; ধূসর পালকের অনবরত বকম্ বকম্ করে যাওয়া দেশী পায়রাগুলোকে যে কী আনন্দে অমন নেচে নেচে চারিদিক ঘুরে বেড়ানোর দেদার ছাড়পত্র দিয়ে দেয়, কে জানে!  দোতলার শ্যাওলা ধরা কার্নিশ ছেড়ে - কবুতরগুলোর এখন, ছাদের কিনারায় রোদের সাথে বসবাস। নীল আকাশ,  উপুড় করা তার দু পার খোলা বুক, তাতে আদুরে ফেনার মত মেঘের দল - বৃষ্টির স্নান সেরে, স্বর্গের পরীদের মত উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাদের শুভ্র বসনের মুক্ত আঁচল। মাঠে ধবল গরুর পালের মত চরে বেড়ায় রোদ, পাশে বটগাছের নীচে রাখালের দীঘল চোখের ন্যায় ঘন কৃষ্ণ ছায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সে দিকে। আসলে এ  মায়া, জোছনা রঙা রোদের মায়া, একটা নেশার মত - যে নেশায় আচ্ছন্ন হতে স্বয়ং মা দুর্গা নেমে আসেন সুদূর কৈলাস হতে।  উঠোনে ঢাকনা খোলা বয়ামে আঁচারের রোদ খাওয়া চলে, সঙ্গে আমচুর, ফুলবড়ি, পাকা তেঁতুল আরো কত কী। নারকেল গাছের সোনালী পাতা বেয়ে দিব্যি ছাদের আরসায় নেমে আসে কাঠবিড়ালি, রোদের জলসায় সবার আমন্ত্রণ যে।  সুপারি ডোঙ্গায়   চেপে সদর বাহার থেকে তেমাথার মোড়, পথে ক...

গান্ধীজীর বাংলা শেখা!

গান্ধীজীর বাংলা শেখার তাগিদ প্রথমত রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করেই স্ফুরিত হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা আর শুধু রবীন্দ্র কাব্য গীতি রসাস্বাদনের ঐকান্তিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে নি।  ছড়িয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক পরিসরে, বিশেষ করে বাংলার প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্য তাঁকে আরও একনিষ্ঠ করে তুলেছিল বাংলা বর্ণ শিক্ষার প্রতি।  গান্ধীজীর বাংলা শেখার প্রতি গভীর আগ্রহের কথা প্রথম জানা যায় ১৯১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে লেখা তাঁর একটি চিঠি থেকে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন শুরু হয়েছে, গান্ধীজী তাঁর দীর্ঘ ২১ বছরের (এপ্রিল, ১৮৯৩ থেকে জুলাই, ১৯১৪) দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাস চুকিয়ে ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছেন। উদ্দেশ্য যুদ্ধ চলাকালীন আহত সৈনিকদের পাশে দাঁড়ানো, এর জন্যে তিনি সেখানে অ্যাম্বুলেন্স কর্পস নামে একটি বিশেষ সেবাবাহিনী গঠন করেছিলেন। যদিও লন্ডনে বেশীদিন সুস্থ থাকতে পারেননি গান্ধীজী; দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ চলা কালীন দীর্ঘ উপবাসের ক্লেশ এবং নিষ্ঠাবান নিরামিষভোজী হওয়ার কারণে শরীর আগের থেকেই তাঁর ন্যুব্জ ছিল; তার ওপরে লন্ডনের আর্দ্র শীতল হাওয়ায় অতিরিক্ত কায়িক শ্রম তাঁকে দ্রু...

"আমার জীবনই আমার বাণী"!

গান্ধীজী এখানে উপবেশন মুদ্রায়, নিমীলিত চোখ, উন্নত সুষুম্না; আস্কন্দবাহুতল বেষ্টিত সুভদ্র শ্বেত উত্তরীয় - অনাবৃত বক্ষদেশ কে উল্লম্ব ভাবে উন্মুক্ত ক'রে দুই প্রান্তে বিভক্ত। পুঞ্জিত করতল, ভদ্রাসনে আলম্বিত পাদপদ্ম সন্ধিস্থলে প্রিয় সম্ভাষণে সমর্পিত। ১৫৭ তম জন্মদিন (১৮৬৯, ২রা অক্টোবর) উপলক্ষে আজ সুশোভন পুষ্প পুঞ্জ নিবদ্ধ তাঁর যুগল হস্ত বন্ধে। গলায় সুগন্ধ স্ফীত মাল্য ভূষণ। নানা বর্ণীল পুষ্প পত্র সম্ভারে সুসজ্জিত তাঁর কৃষ্ণ বেদী পৃষ্ঠ। সম্মুখ বেদী গাত্রে, হস্তাক্ষর মুদ্রায় খোদাই করা সেই চির অকপট, চির সত্য গান্ধী বার্তা - আমার জীবনই আমার বাণী। গান্ধী ভবন সম্মুখে, বেদী পৃষ্ঠে উপবিষ্ট গান্ধী মূর্তি! মূর্তির পশ্চাৎ পটে দৃশ্যমান একতল যে বাড়ি - যাকে এককালে হায়দরি মঞ্জিল বলা হত, এখন তা গান্ধী ভবন নামে পরিচিত; ১৯৪৭ এর ১৩ ই আগস্টের সন্ধ্যায়, এক বিশেষ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে গান্ধীজী এই বাড়িতেই এসে আশ্রয় গ্রহণ করেন, ছিলেন টানা ২৫ দিন। ৭ই সেপ্টেম্বর তিনি এখান থেকে দিল্লি ফিরে যান। প্রসঙ্গত এটাই ছিল তাঁর শেষ বাংলায় আসা, এর আগে ৬৩ বার তিনি বাংলা সফরে এসেছেন। বেলেঘাটার মিঞা বাগান অঞ্চলে অবস্থিত ...

রান্না পূজা ও পান্তা পদ প্রাশন!

নব শাপলা পত্রে সুসজ্জিত উনিশ ব্যঞ্জন, মাঝে গুচ্ছ কামিনী ফুলের মতো সুডৌল পান্তা ভাতের সুভদ্র স্তুপ, আঙুলের আদরে সুশোভন ও সুমার্জিত। আলু, ঢেঁড়শ, কাঁকরোল, বেগুন, পটলের পাঁচ ফ্রাই, কচু শাক, লাউ চিংড়ি, চালতার টক, ডাটি কচু ইলিশের ঝাল সহ তেলে পিঠে, নারকেলের পুর দেওয়া সাতপুলি, পায়েস - পর পর এমন নয় খানা সুগোল, সুমসৃণ শাপলা পাতার থালায় একে একে সেজে ওঠা ভোগ ব্যঞ্জনের সুনন্দ বাহার; স্পাইসি আর সুমিষ্ট সুরভির মধুর ককটেলে মদির বাতাস যেন ভোজন-উত্তর তৃপ্ত সর্পের মতো হেঁশেলের অন্দর হতে কিছুতেই নির্গত হতে চায় না। ভাদ্র সংক্রান্তির ভোর, যন্ত্রের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনার দিন, কিন্তু সূর্য উঠতেই সেদিন বাংলার গ্রামে গঞ্জে সর্প দেবী মনসা সহ অষ্টনাগের উদ্দেশ্য ভোগদানের মহা পর্ব শুরু হয়ে যায়। সাধারণ লোকবিশ্বাস অনুসারে, শিব ঠাকুরের মানসকন্যার নাকি গরম আহারে চরম অসূয়া, তাই ঠান্ডা পান্তা ভোগ দেওয়াই তাঁকে রীতি। এর জন্যে আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় রন্ধন প্রক্রিয়া, চলে রাত ভর। গোবর জলে লেপা পোছা উনানে, ধুপ ঘুরিয়ে, মনসা স্তুতি গেয়ে শুরু হয় রান্না চড়ানোর পর্ব, অধুনা গ্যাস ওভেনের ওপর গঙ্গা জল ছিট...

'জয়া আর শারমিন', লকডাউনের ছবি জিতে নিল সেরার স্বীকৃতি!

‘জয়া আর শারমিন’ বিপর্যয়ের দিনে নৈকট্যে আসা দুই মহিলার সম্পর্ককে ঘিরে বিরহমধুর যাপনপ্রবাহের ছবি; কোভিড সময়ের ঘরবন্দী দুই সমবয়সী মহিলার একজন গৃহকর্ত্রী, আর অন্যজন তার পরিচারিকা, জয়া আর শারমিন সামাজিক অবস্থানের বিচারে দুই মেরুতে থাকলেও লকডাউন চলাকালীন তাদের পরস্পরের বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প, তাতে নানা ওঠাপড়া থাকে, কিন্তু শুধু উপয়ান্তরহীনতার বাধ্যবাধকতায় তা বাঁধা থাকে না; বরং এক মায়াময় আকর্ষণের সুতো তাদেরকে ঘিরে রাখে শেষ অবধি, যে কারণে শুধুমাত্র ক্লিনিক্যাল দূরত্ব রক্ষার কারণে যখন বিচ্ছেদের আকস্মিক অবতারণা ঘটে তখন তা অনুভবের স্রোতকে প্রখর বেদনাতুর করে তোলে। বাংলাদেশের পিপলু আর খান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘জয়া আর শারমিন’এ এমনই হৃদয়স্পর্শী প্রাঞ্জল চিত্র রুপায়ণ দেখে মুগ্ধ হলেন কোলকাতার সাধারন দর্শক থেকে সমালোচক এবং বিচারকেরা।  ৮ থেকে ১৩ই সেপ্টেম্বর অব্দি চলা পঞ্চম কোলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে সম্প্রতি এই ছবিটি দেখানো হয় কোলকাতার নন্দন ৩ প্রেক্ষাগৃহে। এটি ছাড়াও ইরান, শ্রীলঙ্কা, ভারত সহ মোট ছয়টি দেশ থেকে আরও ৯ টি বাছাই করা ছবি প্রদর্শিত হয় পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছায়াছবি বিভাগে, যাদের মধ্যে...

শি জিনপিং মোদীর দেওয়া ডিনারে এলেন না!

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮ তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টার ভারত সফরে এসে পৌঁছেছিলেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং,  দুদিন ধরে চলা (১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এই বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন স্থল ছিল দিল্লির ভারত মণ্ডপম কনভেনশন সেন্টার। সংবাদে প্রকাশ, চায়না রাষ্ট্রপতির সম্মেলনে যোগ দেওয়া ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও বৈঠক শেষে ১২ই সেপ্টেম্বর, শনিবার রাত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ডিনার পার্টিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।  উল্লেখ্য, ১২ই সেপ্টেম্বর দুপুরবেলাতেই তিনি  দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে নামেন বলে খবর। চীন এবং রাশিয়া সহ ১১ টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এই শীর্ষ সম্মেলনে। জিনপিং ছাড়া রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিও এই সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক বলে মনে করা হচ্ছে ।  টাইমস অফ ইন্ডিয়া'র খবরে প্রকাশ, সম্মেলন স্থলে এই দুই বিশ্বনেতাকে পাশাপাশি দেখা গেলেও মোদীর দেওয়া নৈশভোজে কিন্তু জিনপিং কে দেখা গেল না।  ডিনার পার্টি শুরু হওয়ার পূর্বেই দিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলের...

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬, পুতিনকে তামিল ক্লাসিক উপহার দিলেন মোদী!

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশতম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে আগত জোটের অন্যতম সদস্য দেশ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে উপহার হিসেবে তামিল ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ 'তিরুক্কুরাল'  তুলে দিলেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  দুদিন (১২ এবং ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬) ধরে চলা এই আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের এবারে আয়োজক দেশ ভারত, এই নিয়ে চতুর্থ বার ভারত এই দায়িত্ব পেল; ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ এর পরে এবারে ২০২৬। রীতি অনুসারে  ভারতই এবারে সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবে।  ১১ই সেপ্টেম্বর, সম্মেলনের প্রাক সন্ধায় প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর কথিত প্রিয় এই বইটির একটি রুশ অনুবাদ পুতিনের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে সংবাদে প্রকাশ।  আনুমানিক ৪৫০ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তি কোনো এক সময়ে এই গ্রন্থটি রচনা করেন, মহান তামিল দার্শনিক এবং মহাকবি তিরুভাল্লাভার; এটিকে তামিল ভাষার বেদ বলেও অভিহিত করা হয়। ধর্ম (আরম), কর্ম (পরুল) এবং কাম (ইরবাম) এই তিনটি পর্বে বিভক্ত এই গ্রন্থে মোট ১৩৩ টি অধ্যায় রয়েছে। ধর্ম পর্বে ৩৮ টি, কর্মে ৭০ এবং কাম পর্বে রয়েছে ২৫ টি অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায়ে ১০ টি করে পয়ার ছন্দে লেখা দ্বিপদ...

ধাপ, ধাপ, ধাপাস বল!

ফুটবল, ব্যাট বল, বেসবল, বাস্কেটবল ইত্যাদি যতরকমের খেলার বল রয়েছে সবেরই তো উৎপত্তি হয় ইংল্যান্ডে নয় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে, সেখানে সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে একেবারে এই বাংলার জল হাওয়া ও মাটির গন্ধে জন্ম হওয়া এবং বেড়ে ওঠা ধাপাস বলের ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কাহিনী কিন্তু বেশ চমকপ্রদ। ছোটবেলায় বাতাবী লেবুর গায়ে ধাপাস ধাপাস করে লাথি মেরে উঠোনের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে পাঠানোর ছবি গ্রাম বাংলার জীবনে একটি অতি পরিচিত আনন্দঘন মুহূর্তের অবতারণা করে আসছে আজন্মকাল। পরবর্তীতে কিশোর তরুণদের কাছে শিশুবেলার সেই সবুজ এবং আপাত নরম স্বভাবের গোলাকরূপী বাতাবী লেবু পেটানোর উন্মাদনাই যে তাদের ফুটবল খেলার প্রতি আগ্রহকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় তাতে কোনো অতিশয়োক্তি নেই। মাঠে ঘাটে, বৃষ্টির জল কাদা ভেঙেই চলে ফুটবল নিয়ে মাতামাতি, সঙ্গে পায়ের এবং শরীরের নানা কারুকাজ ও কারসাজি। কিন্তু সবই করতে হয় নিয়ম আর অনুশাসন মেনে; খেলোয়াড়দের তার বাইরে গেলে রেফারির হুইসল বেজে ওঠার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু নিয়মের নিগড়ে পড়ে যদি পায়ের সেই অবাধ ধাপাস-সুখ প্রাপ্তির আনন্দটাই নিরঙ্কুশ না থাকে তবে আর রইলটা কী! যদিও বাংলা তথা বাঙালির ফুটবল প্র...

১০১ এ সুকান্ত!

১৯৬৭ তে সুকান্ত - সমগ্র প্রকাশিত হওয়ার সময় , কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন সুকান্ত ( জন্ম - ১৯২৬ , ১৫ই আগস্ট ) বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স হতো ৪১ , কিন্তু সুকান্ত আজও একুশেই আছেন ; সুকান্তের বয়স বাড়েনি , প্রবহমান সময়ের স্রোতে কবি সুকান্ত এক স্থায়ী দিক চিহ্ন হয়েই চিরকাল তাঁর বিদ্রোহী কবিসত্তার ধ্বজা উড়িয়ে চলেছেন । প্রাণপ্রিয় বন্ধু কবি অরুণাচল বসুকে একটা চিঠিতে সুকান্ত লিখছেন , প্রেমে পড়ে প্রেমের কবিতা লেখা তার কাছে বড়ই ন্যক্কারজনক ব্যাপার , ঠিক যেমনটি তিনি নিজেকে ' দুর্ভিক্ষের কবি ' ( রবীন্দ্রনাথের প্রতি , ছাড়পত্র ) বলে আখ্যায়িত করেও অযথা সহানুভূতি কুড়ানোর প্রত্যাশায়,  ব্যক্তি হি সেবে কখনো  বুভুক্ষু মানুষের  দলে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত  করেননি । কবি সুকান্ত। ছোটবেলায় যে সচ্ছলতা এবং স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে বড় হয়েছেন , বাবা ( নিবারণ ভট্টাচার্য ) এবং জ্যাঠা ' র ( কৃষ্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য ) যৌথ প্রকাশনা ব্যবসা ছিল কোলকাতার ( ২০৬ নং ) বিধান সরণি তে;   সারস্বত প্রকাশনী না...