সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শি জিনপিং মোদীর দেওয়া ডিনারে এলেন না!

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮ তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টার ভারত সফরে এসে পৌঁছেছিলেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং,  দুদিন ধরে চলা (১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এই বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন স্থল ছিল দিল্লির ভারত মণ্ডপম কনভেনশন সেন্টার। সংবাদে প্রকাশ, চায়না রাষ্ট্রপতির সম্মেলনে যোগ দেওয়া ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও তার পাশাপাশি ১২ই সেপ্টেম্বর, শনিবার রাত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ডিনার পার্টিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। 
উল্লেখ্য, ১২ই সেপ্টেম্বর দুপুরবেলাতেই তিনি  দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে নামেন বলে খবর। চীন এবং রাশিয়া সহ ১১ টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এই শীর্ষ সম্মেলনে। জিনপিং ছাড়া রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিও এই সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক বলে মনে করা হচ্ছে ।  টাইমস অফ ইন্দিয়া'র খবরে প্রকাশ, সম্মেলন স্থলে এই দুই বিশ্বনেতাকে পাশাপাশি দেখা গেলেও মোদীর দেওয়া নৈশভোজে কিন্তু জিনপিং কে দেখা গেল না। 
ডিনার পার্টি শুরু হওয়ার পূর্বেই দিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলের উদ্দেশ্যে তিনি রওনা দেন; আবু ধাবির যুবরাজ সেখ খালেদ বিন মোহম্মদও ডিনার পার্টিতে অন্যতম গরহাজির ছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে অবশ্য অধিবেশন অন্তে তাঁর আবুধাবি ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। 


শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদী।
যদিও ভারতের সঙ্গে ডিনার পূর্ব যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল সেটি অত্যন্ত ফল্প্রসু এবং সফল ভাবে সম্পন্ন  হয়েছে বলে খবর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ জিনপিং দুজনেই দুই দেশের মধ্যে নানা অন্তর্বর্তী সমস্যার সমাধান কল্পে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নেওয়ার পক্ষে একমত হয়েছেন। মতান্তর যেন কখনো মনান্তরে না পরিবর্তিত হয় এই ব্যাপারে দুই পক্ষই তাদের সম্মতি জানিয়েছেন। 
যদিও শি জিনপিং  এর পক্ষ থেকে এই অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে এর পেছনে যে কোনো কূটনৈতিক কারণ নেই বরং নেহাতই হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নেওয়াই মুখ্য উদ্দেশ্য সেটা নিয়ে ওয়াকিবহল মহল নিশ্চিত । 
উল্লেখ্য শনিবারের এই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন পুতিন সহ অন্যান্য সদস্য দেশের সম্মানীয় রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা; বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ সহ উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরা। 


  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জনগণমনঃ জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার ইতিহাস ও কিছু প্রশ্নের উত্তর!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ব্রহ্ম সঙ্গীত ‘ জনগণমন অধিনায়ক’ কে দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মান্যতা দেওয়ার সর্ব সম্মীলিত সিদ্ধান্ত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ শে জানুয়ারি । কিন্তু কেন এত দেরী? দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও কেন তিন বছর সময় লেগেছিল জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন করতে? ‘ভারত বিধাতা’ শিরোনামে লেখা, স্বদেশ পর্যায় ভুক্ত (গীতবিতান অনুসারে) এই রবীন্দ্রগীতিটি কিভাবে -  দেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পথে একটু একটু করে এগিয়ে গেল! ‘জনগনমন’র জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনীই আজ আমরা ফিরে দেখবো এই প্রবন্ধে।  ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট - দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে পরাধীনতার কৃষ্ণ কাল অতিক্রম করার পরে অবশেষে দেশবাসীর ভাগ্যাকাশে এসে উপস্থিত হোল বহু আকাঙ্খিত সেই দিনটি। উদিত হোল স্বাধীনতার নতুন সূর্যের।   স্বাধীন হোল দেশ। কিন্তু সদ্য ব্রিটিশ অধীনতা মুক্ত দুটি দেশ ভারত এবং পাকিস্থান তখনও পায় নি স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা। ১৯৪৭ এর ১৮ই জুলাই তারিখে লাগু হওয়া ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুসারে নিজ নিজ সংবিধান প্রণয়নের আগে পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্থান এই দুটি ভূখণ্ড কমনওয়েলথ দেশের অধীনস্থ দুটি অধিরাজ্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারা...

'জল পড়ে, পাতা নড়ে' ঃ রবীন্দ্রনাথ না বিদ্যাসাগরের লেখা?

জল পড়ে, পাতা নড়ে - সহজ অথচ অমোঘ এমন দুটি লাইন মনে হয় কোনো উপনিষদীয় ঋষির স্বর্গীয় কাব্য সিদ্ধির অনুপম ফসল ছাড়া কিছু হতে পারে না।  বৃষ্টিপাতের সঙ্গে অনিবার্য ভাবে উচ্চারিত হওয়া এই শ্লোক কেবল সৃষ্টির আপন খেয়ালেই রচিত হতে পারে। সেই কবে থেকে এর অনন্য স্বাদ মস্তিস্কের কোষে কোষে এক অদ্ভুত ভালোলাগার মোহ তৈরি করা শুরু করেছিল তা আজও অটুট এবং সমানভাবে সক্রিয় , মোহ ভঙ্গের নামই নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এর জাদুময় মোহপাশ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। যদিও রবীন্দ্রনাথই প্রথম এই দুটি লাইন লেখেন ‘জীবন স্মৃতি’ র পাতায়। মনে হয় স্রষ্টা যেন নিজেই তাঁর সৃষ্টির মহিমায় হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখানে একটা টুইস্ট আছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ এই দুটি লাইন লিখলেও লেখার শ্রেয় কিন্তু তিনি দিয়েছেন বিদ্যাসাগরকে। এখন প্রশ্ন, কেন! উত্তর - ভ্রান্তি সুখে। কিন্তু সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। ‘জীবন স্মৃতি’ তে তাই দেখা গেল যতবার তিনি ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ লিখেছেন ততবারই তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছেন। অন্য কারোর লেখা লিখলে তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখাই দস্তুর। কিন্তু তাতে কি! শিশুবেলার মুগ্ধতা যেন কিছুতেই প্রশমিত হতে পারে...

নিয়তিতাড়িত মানিক!

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ীর অন্যতম - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যে প্রবেশ ঘটে ১৯২৮ সালে। ২০ বছর বয়সী মানিকের সাহিত্য ক্ষেত্রে যখন এই পদার্পণ সূচিত হচ্ছে তখন এই ত্রয়ীর প্রথম জন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব ঘটে গেছে তারও সাত বছর পূর্বে। ১৯২১ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘উপেক্ষিতা’ গল্পের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে  প্রথম পরিচয় হয় বাংলা র পাঠক সমাজের। এর চার বছর পরে অর্থাৎ ১৯২৫ সালে ভাগলপুরে থাকাকালীন বিভূতিভূষণ তাঁর জীবনের প্রথম উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ লেখা শুরু করেন। লেখা শেষ করতে লেগে যায় তিন বছর। উল্লেখযোগ্য ভাবে ১৯২৮ এ যখন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব ঘটছে, একই বছরে বিভূতিভূষণের লেখা আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’র ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হওয়া শুরু হচ্ছে ‘বিচিত্রা’র পাতায়। বিভূতিভূষণ এবং মানিকের পরে তৃতীয় বন্দ্যোপাধ্যায় - তারাশঙ্করের আবির্ভাব হচ্ছে আরও চার বছর পরে । ১৯৩২ সালে ‘চৈতালী ঘূর্ণি’ নামক উপন্যাস দিয়ে বাংলা সাহিত্যের উঠোনে প্রথম পা রাখেন তারাশঙ্কর । তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বহু তারকা খচিত বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল আক...