সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শিল্পের দামঃ ভ্যান গগ, রামকিঙ্কর ও হরবাবুর থিওরি!

সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় বেরিয়েছিল খবরটা; রামকিঙ্কর বেইজের ছবি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য ছড়ানো খবর ছিল এটি।। পড়ার পরে, হঠাৎ অনেক দিন পর হরবাবুর কথা মনে পড়ে গেল আমার! প্রসঙ্গত হরবাবুর স্মৃতি আর প্রকাশিত খবরটির মধ্যে একটি ভাবনাগত সম্পর্ক রয়েছে, যে কথা বলার জন্যেই এই লেখার অবতারণা। ধাপে ধাপে খববের বিষয়ে আসার আগে হরবাবু সম্পর্কে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা জেনে নিলে ভালো হয়।  


রামকিঙ্কর বেইজ

কেমিস্ট্রির টিচার হরপ্রসাদ বাবুর শিল্প সাহিত্য নিয়ে ছিল প্রবল আগ্রহ, স্কুলের হোস্টেলে যে ঘরে থাকতেন প্রায়দিন সন্ধ্যায় এসরাজ নিয়ে বসতেন। বিছানায় উঁচু হয়ে বই পড়ে থাকতো, দেশ বিদেশের সাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পীদের জীবন নিয়ে নানান গল্প করতেন ক্লাসে। যদিও কেমিস্ট্রির সিলেবাস তাতে অসম্পূর্ণ থাকতো না কখনো, বরং সরসতার মিশেলে তাঁর পড়ানোর কৌশল সকল ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভীষণ প্রিয় ছিল। সহজে কেউ অমনোযোগী হতো না।  তাতে পড়া এগোত ভালো। একদিন প্যারিসনিবাসী ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগ তাড়িত হয়ে পড়লেন। জীবদ্দশায় প্রতিভার দাম না পাওয়া গগ যে কী ভীষণ দুর্দশার মধ্যে কাটিয়েছেন সারাজীবন, অথচ কেউই তখন তাঁকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি বেঁচে থাকতে, গগ কেবল একটিই মাত্র ছবি বিক্রি করতে পেরেছিলেন তাঁরঅথচ মৃত্যুর পরে, ভাগ্যের কি পরিহাস, সেই ছবিগুলিই আবার শিল্পরসিক মানুষদেরর কাছে চরম আদ্রিত হয়ে উঠল; এর মধ্যে একটা বেশ বিরহ ভরা নাটকীয় মোচড়ের গল্প আছে, যার কেন্দ্রে ছিলেন গগ; বলাই বাহুল্য ট্র্যাজিক হিরোর মতো তিনি সেদিন আমাদের সকল করুন আগ্রহ শুষে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।  হর বাবু, গগের আঁকা ‘ভায়োলেট ভায়োলেটস’ ছবিটির কথা বিশেষ করে বলেছিলেন। কারণ ১৯৮৭ তে ওই ছবিটি একটা আকাশ্চুম্বী দামের বিনিময়ে বিক্রি হয়েছিল, মার্কিন ডলারের হিসেবে সেটা ছিল ৫৪ মিলিয়ন। 


ভিনসেন্ট ভ্যান গগ

ছাত্রজীবনে ট্র্যাজিক চরিত্রগুলোর কথা শোনার আগ্রহ থাকে ভীষণ। যদিও হরবাবু গগের শেষ পরিনতির কথা কখনো আমাদেরকে বলেননি,  কারণ তিনি জীবনের বিবর্ণ উদাসীনতাকে শুধুমাত্র সহ্যের মাপকাঠি দিয়ে মাপতে চাননি, বরং তার অন্দরে লুকিয়ে থাকা সুদূরগামী সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন। গগ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন কিনা সে নিয়ে দ্বিমত আছে, কিন্তু তিনি যে অবহেলার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠেছিলেন, তার প্রমান তিনি বারবার দিয়েছেন। কখনো ক্ষুর দিয়ে কান কেটে কখনো বা বুকে গুলি করে। কতকটা ম্যানিয়াগ্রস্থের মত ক্লেশমুক্তির অবদমিত তাগিদ থেকে বারবার ছুটে গেছেন শেষ কিনারের দিকেআগের দিন নিজের বুকে গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তার জন্যে কোনো দুঃখ নেই তাঁর। পাকা গম ক্ষেতের গাঢ় হলুদ দিয়ে ক্যানভাসের শূন্যতা ভরাতে চেয়েছিলেন গগ, জীবনের অদৃশ্য হাহাকার সে রঙকে শ্বাসরুদ্ধ করে মারতে চেয়েছে আকাঙ্ক্ষিত গভীরতায় পৌঁছাতে না পারার অতৃপ্তি তাঁকে এতটাই অস্থির করে তুলেছিল যে আপন বুকের পাঁজরকেই বন্দুকের গুলির ঘায়ে ঝাঁঝরা করে ফেলতে চেয়েছিলেন পরের দিন, পুলিশের লোক এলে তিনি তাঁদের ডাঁটিয়ে বলে দিয়েছেন,  এটা আমার শরীর,  এটা নিয়ে যা কিছু করার স্বাধীনতা আমার আছে। হরবাবু বলেছিলেন, প্রত্যেক শিল্পীর অন্দরে একজন ভ্যান গগ বাস করেন। যে তাঁকে মৃত্যুর চির বিচ্ছেদেও বৈরাগ্যের দীপ্তি প্রদান করে। গগ তাই মানসিক অ্যাসাইলামে থেকেও একটুকরো খোলা আকাশের প্রেরণা পেতে চেয়েছিলেন, যেখানে তাঁর ক্যানভাসে ফুটে উঠতে পারে অলীক আকাশের নিখাদ বেগুনী ব্যঞ্জনা, 'দা স্টারি নাইট'। 

রাতে অনেক দিন, হরবাবুকে দিঘির ঘাটে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেছি। হোস্টেলের সামনেই ছিল দিঘিটি, উল্টো পারে ঘন শিরিষ বাবলার জংগল। নিভৃত জীবনে, হরবাবুর এই অতি নক্ষত্র আকর্ষণের কারণ আজও আমাদের কাছে অজানা। সদা সপ্রতিভ হরবাবু ছিলেন বেঁটে, স্লিম চেহারার মানুষমাথায় সবসময় পরিপাটি করে চুল আঁচড়ানো থাকতো। ফুল স্লিভ জামা, বেলবটম প্যান্টের মধ্যে তাকে টানটান করে গুঁজে পরতেন তিনি; আর কলপ করা সরু গোঁফের নীচে সবসময় একটা হালকা হাঁসির ছোঁয়া লেগে থাকতো তাতে শিল্পী সুলভ শ্লেষের মাত্রা ছিল চোখে পড়ার মতন। হরবাবু মনে করতেন প্রত্যেক বড় হওয়া মানুষের পেছনে একটা দীর্ঘ প্রত্যাখানের ইতিহাস থাকে, যেটা তাকে কখনো শমিত হতে দেয় না। ল্যাবরেটরিতে অ্যাসিড ও ক্ষারের প্রশমনে যেমন লবন ও জল তৈরি হয়, শিল্পীর প্রতিভা ও তার স্বীকৃতি প্রাপ্তির মধ্যে সম্পর্কটা কিন্তু তেমন নয়, বরং উল্টো; বিপরীত আনুপাতিক। যেখানে সাফল্যের লিটমাস কখনোই জয়ের সিগন্যাল দেখায় না। ফল, শিল্পীর সাধনা আরও গাঢ় ও আরও সিদ্ধি বুভুক্ষু হয়।  
সমরেশ বসুর মৃত্যুর (১২ই মার্চ, ১৯৮৮) পরে, দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত উপন্যাস ‘দেখি নাই ফিরে’র মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়াটা হরবাবুর কাছে একটা বড় বিপর্যয়ের মত ছিল। রামকিঙ্কর বেইজের প্রবল অনুরাগী হরবাবু, রামকিঙ্করের শিল্পকর্মের প্রতি যতটা আগ্রহী ছিলেন তার চেয়ে বেশী তাঁর জীবন আলেখ্যের প্রতি তাঁর টান ছিল বেশী
বাঁকুড়ার যুগীপাড়া থেকে উঠে আসা রামকিঙ্কর কিভাবে রবীন্দ্রনাথের প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছিলেন, সেই যাত্রাপথের কথা ছায়াপথের চেয়ে কম আশ্চর্যের ছিল না হরবাবুর কাছেযার নির্মাণ করা ভাস্কর্য ‘সুজাতা’ দেখে একদা রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, তুমি তোমার মূর্তি দিয়ে এখানকার (শান্তিনিকেতন) চারিদিক ভরিয়ে দাও, সেই রামকিঙ্করকেও প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছিল। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ের ঘোড়ায় চড়া নেতাজী মূর্তি বানানোর প্রস্তাব প্রথমে এসেছিল রামকিঙ্করের কাছেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য, রামকিঙ্কর যে প্লাস্টার অফ প্যারিসের মডেলটি পাঠিয়েছিলেন তা পছন্দ হয়নি সরকারি কর্তাদের। সেটিকে তাঁরা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
কেমিস্ট্রিতে যত সমীকরণ রয়েছে তাতে বিকারকদের নিয়োজিত শক্তি ও বিক্রিয়াজাত বস্তুর মধ্যে উদ্ভুত শক্তি সবসময় সমান। হরবাবু বলতেন, কৃত কর্মের ফল থেকে কর্তা কখনো বঞ্চিত হন না। আজ নয় অন্যদিন, অন্য কবে, সেই ফল পাওয়া যাবেই। না হলে, সমতাবিধানের নিয়মটাই মিথ্যে হয়ে যাবে। যেমন ভ্যান গগ, মৃত্যুর পরে হলেও তাঁর কৃতিত্বের পুরষ্কার তিনি পেয়েছিলেন। যেমন পেলেন রামকিঙ্কর বেইজও। অন্তত সাম্প্রতিক এক খবরে সেরকমই এক মুল্যপ্রাপ্তির কথা উঠে এসেছে। 'ফাদার অ্যান্ড সন' নামে একটি সিমেন্টের ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন রামকিঙ্কর, গত শতাব্দীর সাতের দশকে।  যেটির বিনিময় মুল্য সম্প্রতি পূর্বের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে।  ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমান ছয় কোটি টাকারও অধিক।  দিল্লি স্থিত আন্তর্জাতিক স্তরের নিলাম প্লাটফর্ম আস্থাগুরু মাস্টার লিগেসি মঞ্চে সম্প্রতি এই ভাস্কর্যটি এই দর পেয়েছে, যা স্বাভাবিকের থেকে চার গুণেরও বেশী। প্রসঙ্গত ১৮
x  ১৭ x ১৪ ইঞ্চি বিশিষ্ট এই ভাস্কর্যটি এতদিন এক ব্যক্তির নিজস্ব সংগ্রহে ছিল, যেটি তিনি রামকিঙ্করের এক বন্ধু মারফত  সংগ্রহ করেছিলেন বলে খবরে প্রকাশ।  


রামকিঙ্কর বেইজ

যদিও রামকিঙ্কর নিজে কখনো তাঁর শিল্প সৃষ্টির বিক্রয়মূল্য নিয়ে বিশেষ  ভাবিত ছিলেন না। বরং একটু উদাসীনই ছিলেন বলা যায়। কোনো আর্ট আইটেমকেই তিনি বিক্রয়যোগ্য পন্য বলে মনে করতেন না। এক সাক্ষাৎকারে তাই অবলীলায় তিনি বলতে পেরেছিলেন, “ছবি আঁকা বা মূর্তি গড়ার পর আমার দায়িত্ব শেষ।" কিন্তু মূর্তি গড়ায় যার মনোনিবেশ প্রায় আকাশের মত অসীম, যিনি তৈরি করা মূর্তিও বারবার ভেঙে ফেলেন, আকাঙ্ক্ষিত শিল্প সৌকর্য আনতে আক্ষরিক ভাবেই যিনি আপোষহীন,  তাঁর জাগতিক মুল্য প্রাপ্তি নিয়ে উদাসীন থাকাটাই স্বাবাভিক। কিন্তু পৃথিবীর যাবতীয় শিল্প সৃষ্টির নেপথ্যে থাকে একটি রসায়ন, যেখানে শিল্পীর মনন ও শিল্পের উপাদান নিজেদেরে মধ্যে সম্পর্কের আন্তক্রিয়ায় জন্ম দেয় কোনো কালজয়ী শিল্প কর্মের। যার দাম পাওয়া অবশ্যম্ভাবী। যদি জীবনে না হয়, সমীকরনের নিয়মে তা মৃত্যুর পরে হলেও প্রাপ্ত হয়। হরবাবু অন্তত তাই বোঝাতেন। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

'জল পড়ে, পাতা নড়ে' ঃ রবীন্দ্রনাথ না বিদ্যাসাগরের লেখা?

জল পড়ে, পাতা নড়ে - সহজ অথচ অমোঘ এমন দুটি লাইন মনে হয় কোনো উপনিষদীয় ঋষির স্বর্গীয় কাব্য সিদ্ধির অনুপম ফসল ছাড়া কিছু হতে পারে না।  বৃষ্টিপাতের সঙ্গে অনিবার্য ভাবে উচ্চারিত হওয়া এই শ্লোক কেবল সৃষ্টির আপন খেয়ালেই রচিত হতে পারে। সেই কবে থেকে এর অনন্য স্বাদ মস্তিস্কের কোষে কোষে এক অদ্ভুত ভালোলাগার মোহ তৈরি করা শুরু করেছিল তা আজও অটুট এবং সমানভাবে সক্রিয় , মোহ ভঙ্গের নামই নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এর জাদুময় মোহপাশ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। যদিও রবীন্দ্রনাথই প্রথম এই দুটি লাইন লেখেন ‘জীবন স্মৃতি’ র পাতায়। মনে হয় স্রষ্টা যেন নিজেই তাঁর সৃষ্টির মহিমায় হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখানে একটা টুইস্ট আছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ এই দুটি লাইন লিখলেও লেখার শ্রেয় কিন্তু তিনি দিয়েছেন বিদ্যাসাগরকে। এখন প্রশ্ন, কেন! উত্তর - ভ্রান্তি সুখে। কিন্তু সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। ‘জীবন স্মৃতি’ তে তাই দেখা গেল যতবার তিনি ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ লিখেছেন ততবারই তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছেন। অন্য কারোর লেখা লিখলে তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখাই দস্তুর। কিন্তু তাতে কি! শিশুবেলার মুগ্ধতা যেন কিছুতেই প্রশমিত হতে পারে...

জনগণমনঃ জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার ইতিহাস ও কিছু প্রশ্নের উত্তর!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ব্রহ্ম সঙ্গীত ‘ জনগণমন অধিনায়ক’ কে দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মান্যতা দেওয়ার সর্ব সম্মীলিত সিদ্ধান্ত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ শে জানুয়ারি । কিন্তু কেন এত দেরী? দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও কেন তিন বছর সময় লেগেছিল জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন করতে? ‘ভারত বিধাতা’ শিরোনামে লেখা, স্বদেশ পর্যায় ভুক্ত (গীতবিতান অনুসারে) এই রবীন্দ্রগীতিটি কিভাবে -  দেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পথে একটু একটু করে এগিয়ে গেল! ‘জনগনমন’র জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনীই আজ আমরা ফিরে দেখবো এই প্রবন্ধে।  ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট - দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে পরাধীনতার কৃষ্ণ কাল অতিক্রম করার পরে অবশেষে দেশবাসীর ভাগ্যাকাশে এসে উপস্থিত হোল বহু আকাঙ্খিত সেই দিনটি। উদিত হোল স্বাধীনতার নতুন সূর্যের।   স্বাধীন হোল দেশ। কিন্তু সদ্য ব্রিটিশ অধীনতা মুক্ত দুটি দেশ ভারত এবং পাকিস্থান তখনও পায় নি স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা। ১৯৪৭ এর ১৮ই জুলাই তারিখে লাগু হওয়া ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুসারে নিজ নিজ সংবিধান প্রণয়নের আগে পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্থান এই দুটি ভূখণ্ড কমনওয়েলথ দেশের অধীনস্থ দুটি অধিরাজ্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারা...

রবীন্দ্রনাথের চোখে বিদ্যাসাগর এবং দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ!

রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং যাকে আদিকবির আসনে বসিয়েছিলেন; যার লেখা বইয়ের (বর্ণ পরিচয়) হাত ধরে তাঁর প্রথম পরিচয় হয় বাংলা বর্ণ যোজনার সঙ্গে; মাত্র চার বছর বয়সে পড়া - যার লেখার প্রভাব থেকে কোনোদিন পারেননি তিনি মুক্ত হতে; ৫১ বছর (১৯১২) বয়সে লেখা 'জীবন স্মৃতি' তে তাই যার লেখার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’ র মত বাংলা কাব্যের ইতিহাসে চির কালজয়ী দুটি লাইনের কথা - সেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল মেট্রোপলিটন স্কুলে।   ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিদ্যাসাগর তখন মেট্রোপলিটন স্কুলের সভাপতি আর সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রামসর্বস্ব ভট্টাচার্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সংস্কৃত ভাষার গৃহ শিক্ষক। রামসর্বস্ব পণ্ডিত ছোট্ট রবীন্দ্রনাথ কে ‘ম্যাকবেথে’র বাংলা অনুবাদ  করে শোনাতেন, আর তা শুনে বাংলায় লিখিত তর্জমা করতে হত রবীন্দ্রনাথকে। তর্জমা সম্পূর্ণ হলে তার গুনমান বিচার করতে রামসর্বস্ব ছাত্র রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে শরণাপন্ন হলেন বিদ্যাসাগরের কাছে। কেমন ছিল সেই প্রথম সাক্ষাৎ পর্ব! রবীন্দ্রনাথ তার আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ তে সে কথা লিখেছেন বিস্তারিত। ‘জীবন স্মৃতি’র ‘ঘরের...