"ও শাম ভি
কুছ আজিব থি,
এ শাম ভি
কুছ আজিব হ্যায়"। কি বুঝলেন, নাকি কিছুই তেমন নাড়া দিল না! আসলে বলার কথা
এটাই - সবকিছু একই
আছে;
মানুষ সে
মোটা,
বেঁটে, লম্বা, শুটকে যাই হোক না কেন সেই দোপেয়ে, হোমো স্যাপিয়েন্স এর দলেই আছে।
বেশি নৃতাত্ত্বিক খুঁটিনাটির মধ্যে না গিয়েও একটা বদলের কথা যদিও বলতেই হয়, মানুষের সি পি উ মানে হেড অফিস বা
মস্তিস্কের গ্রে ম্যাটার ধারী করোটির সাইজটি কিন্তু খানিক পরিমার্জিত হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এই নিয়ে
চাঞ্চল্যকর তথ্য। এক লক্ষ বছর আগের মানুষের খুলির সাইজ নাকি এখনকার থেকে ১৩ শতাংশ
বড় ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিজ্ঞানী মরগ্যান
স্টিবল অবশ্য এর জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। (Ref:- Study published in
journal 'Brain, Behaviour and Evolution' in 2023) কিন্তু তাতে কি.? মানুষ তো মানুষই আছে নাকি।
২০২৫ বছর পার করে দেওয়া বেথেলহেমের যীশু হোন কি ১৫০০ সাল আগে জন্ম নেওয়া
হজরত মুহাম্মদ বা ৬০০ বছর আগের নবদ্বীপের নিমাই; এরা চরিত্রে সকলে মহামানব ছিলেন ঠিকই কিন্তু
দেখতে নিপাট মানুষের মতোই ছিলেন।
এমনকি হিন্দুদের কথিত দেবদেবীরাও, শুধু চতুরানন ব্রহ্মা ব্য্যতিত, বেশিরভাগেরই মানুষের অবয়ব।
এইজন্যেই তো মানুষকে অমৃতের পুত্র বলা হয়। কিন্তু সেই দেবসত্তা যুক্ত মানুষই কি
ক্রমশ তার স্বজাতীয়দের প্রতি শত্রু মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠছে? গত ২০২৫ সাল ধরে এই প্রশ্নটি কিন্তু বারবার
উঠেছে মানুষের মনে এবং বিব্রত করেছে।
উপরে,
ভূমিকায়
দেওয়া তথ্যটি থেকে এই বিষয়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো। তবে তার আগে, মানব জীবনের শুরুর দিকটা একটু মনে
করিয়ে দেওয়া দরকার। আদিম যুগে যখন মানুষ বন্য জন্তুদের হাতে আকছার প্রাণ হারাতো, নিজেদের জীবন রক্ষার তাগিদেই তখন
দল বেঁধে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা ভেবেছিল। বলাই বাহুল্য, অস্তিত্বের প্রশ্নে, মানুষের তথাকথিত এই সমাজবদ্ধ জীব
হয়ে বাঁচার ভাবনা এসেছিল তাদের উন্নত মস্তিস্ক থেকেই। যা তাদের সমস্ত জীবকুলের ওপর
প্রভুত্ব কায়েম করতে সাহায্য করেছিল। এরপরে যথারীতি মানুষ তার আদিম বাসভূমি
আফ্রিকা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে, চরাচরের সর্বত্র, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানুষের
প্রশ্নহীন কর্তৃত্ব। এমনকি প্রকৃতির ওপরেও প্রভাব বিস্তার করতে ছাড়ে নি মানুষ। যত
আনচ্যালেন্জড হয়েছে মানুষের দখল, তত যেন প্রভুত্বের খিদা বেড়েছে তার।
অপ্রতিহত মানুষ তার অসহিষ্ণু ইগো চরিতার্থ করতে, দিব্যি যুগের পর যুগ, লড়াই করে গেছে নিজেদের মধ্যে; জাতি, ধর্ম, দেশ বা গোষ্ঠীর বিভেদরেখাকে ঢাল
করে লড়াইয়ের
পেছনে অকাট্য যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করেছে প্রতিবার। এখন এই সংঘর্ষ আরোও আভ্যন্তরীণ
হয়েছে। নিজের দেশের ভৌগলিক সীমার মধ্যেই, শুধু মাত্র ধর্মের কারণে নিজের সহ নাগরিকদের
বিরুদ্ধে পর্যন্ত নামিয়ে আনছে অত্যাচারের খাঁড়া। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশেই
কমবেশি এই চিত্র,
যা
শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে ক্রমশ শঙ্কিত করে তুলেছে।
ধর্মীয় সমন্বয় বা সম্প্রীতির কথা পুরোনো। অবাধ, অপ্রতিরোধ্যতা যেখানে সকল
অসহিষ্ণুতার মূলে,
সেখানে
সম্প্রীতির কথা বলা বাতুলতা। একমাত্র উপায় প্রকৃতি, যে আবারো মানুষকে তার অস্তিত্ব সংকটের কথা
মনে করিয়ে দিতে পারে।
সেদিন হয়তো বিপাকে পড়ে মানুষ, অন্তর্কোন্দল ছেড়ে পুনরায় এক হয়ে বাঁচতে
চাইবে।
সেইরকমই এক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ক্রমাগত মানুষের মাথার সাইজ ছোট হয়ে যাওয়ার
খবরে। যদিও ভিন্নমত রয়েছে,
তবুও বলা
হচ্ছে যে গতিতে মস্তিস্কের আকৃতি ক্রমশ ছোট হচ্ছে তাতে হিউম্যান মাইন্ড বা মানবমন
শুধু সংকুচিত হচ্ছে তাই নয়, আগামী দিনে হয়তো মানব মস্তিস্কের অস্তিত্বই
বিপন্ন হয়ে পড়বে। আগেই উল্লেখ করেছি, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এমনটা হচ্ছে। কারণ
আবহাওয়ার উষ্ণতার কারণে মস্তিস্কের ছোট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি। তাই
এখনই যে লড়াইটা শুরু করতে হবে সেটা গ্রিন হাউস গ্যাসের বিরুদ্ধে। সমগ্র মানব
প্রজাতির মস্তিস্ক রক্ষার প্রশ্ন যেখানে, সেখানে নতুন বছরে হোক মাথা বাঁচানোর লড়াই। কারণ
মাথা বাঁচলে বাপের নাম। ধর্মের নাম আসবে তার পরে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন