সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২০২৬ এর অঙ্গীকার ঃ ধর্ম নয় মাথা বাঁচানোর লড়াই!

"ও শাম ভি কুছ আজিব থি, এ শাম ভি কুছ আজিব হ্যায়"। কি বুঝলেন, নাকি কিছুই তেমন নাড়া দিল না! আসলে বলার কথা এটাই - সবকিছু একই আছে; মানুষ সে মোটা, বেঁটে, লম্বা, শুটকে যাই হোক না কেন সেই দোপেয়ে, হোমো স্যাপিয়েন্স এর দলেই আছে। বেশি নৃতাত্ত্বিক খুঁটিনাটির মধ্যে না গিয়েও একটা বদলের কথা যদিও বলতেই হয়, মানুষের সি পি উ মানে হেড অফিস বা মস্তিস্কের গ্রে ম্যাটার ধারী করোটির সাইজটি কিন্তু খানিক পরিমার্জিত হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এক লক্ষ বছর আগের মানুষের খুলির সাইজ নাকি এখনকার থেকে ১৩ শতাংশ বড় ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিজ্ঞানী মরগ্যান স্টিবল অবশ্য এর জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। (Ref:- Study published in journal 'Brain, Behaviour and Evolution' in 2023) কিন্তু তাতে কি.? মানুষ তো মানুষই আছে নাকি।


এক সন্ধিক্ষণের ছবি!

২০২৫ বছর পার করে দেওয়া বেথেলহেমের যীশু হোন কি ১৫০০ সাল আগে জন্ম নেওয়া হজরত মুহাম্মদ বা ৬০০ বছর আগের নবদ্বীপের নিমাই; এরা চরিত্রে সকলে মহামানব ছিলেন ঠিকই কিন্তু দেখতে নিপাট মানুষের মতোই ছিলেন।

এমনকি হিন্দুদের কথিত দেবদেবীরাও, শুধু চতুরানন ব্রহ্মা ব্য্যতিত, বেশিরভাগেরই মানুষের অবয়ব। এইজন্যেই তো মানুষকে অমৃতের পুত্র বলা হয়। কিন্তু সেই দেবসত্তা যুক্ত মানুষই কি ক্রমশ তার স্বজাতীয়দের প্রতি শত্রু মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠছে? গত ২০২৫ সাল ধরে এই প্রশ্নটি কিন্তু বারবার উঠেছে মানুষের মনে এবং বিব্রত করেছে।

উপরে, ভূমিকায় দেওয়া তথ্যটি থেকে এই বিষয়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো। তবে তার আগে, মানব জীবনের শুরুর দিকটা একটু মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। আদিম যুগে যখন মানুষ বন্য জন্তুদের হাতে আকছার প্রাণ হারাতো, নিজেদের জীবন রক্ষার তাগিদেই তখন দল বেঁধে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা ভেবেছিল। বলাই বাহুল্য, অস্তিত্বের প্রশ্নে, মানুষের তথাকথিত এই সমাজবদ্ধ জীব হয়ে বাঁচার ভাবনা এসেছিল তাদের উন্নত মস্তিস্ক থেকেই। যা তাদের সমস্ত জীবকুলের ওপর প্রভুত্ব কায়েম করতে সাহায্য করেছিল। এরপরে যথারীতি মানুষ তার আদিম বাসভূমি আফ্রিকা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে, চরাচরের সর্বত্র, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানুষের প্রশ্নহীন কর্তৃত্ব। এমনকি প্রকৃতির ওপরেও প্রভাব বিস্তার করতে ছাড়ে নি মানুষ। যত আনচ্যালেন্জড হয়েছে মানুষের দখল, তত যেন প্রভুত্বের খিদা বেড়েছে তার। অপ্রতিহত মানুষ তার অসহিষ্ণু ইগো চরিতার্থ করতে, দিব্যি যুগের পর যুগ, লড়াই করে গেছে নিজেদের মধ্যে; জাতি, ধর্ম, দেশ বা গোষ্ঠীর বিভেদরেখাকে ঢাল করে লড়াইয়ের পেছনে অকাট্য যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করেছে প্রতিবার। এখন এই সংঘর্ষ আরোও আভ্যন্তরীণ হয়েছে। নিজের দেশের ভৌগলিক সীমার মধ্যেই, শুধু মাত্র ধর্মের কারণে নিজের সহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পর্যন্ত নামিয়ে আনছে অত্যাচারের খাঁড়া। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশেই কমবেশি এই চিত্র, যা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে ক্রমশ শঙ্কিত করে তুলেছে।

ধর্মীয় সমন্বয় বা সম্প্রীতির কথা পুরোনো। অবাধ, অপ্রতিরোধ্যতা যেখানে সকল অসহিষ্ণুতার মূলে, সেখানে সম্প্রীতির কথা বলা বাতুলতা। একমাত্র উপায় প্রকৃতি, যে আবারো মানুষকে তার অস্তিত্ব সংকটের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।

সেদিন হয়তো বিপাকে পড়ে মানুষ, অন্তর্কোন্দল ছেড়ে পুনরায় এক হয়ে বাঁচতে চাইবে।

সেইরকমই এক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ক্রমাগত মানুষের মাথার সাইজ ছোট হয়ে যাওয়ার খবরে। যদিও ভিন্নমত রয়েছে, তবুও বলা হচ্ছে যে গতিতে মস্তিস্কের আকৃতি ক্রমশ ছোট হচ্ছে তাতে হিউম্যান মাইন্ড বা মানবমন শুধু সংকুচিত হচ্ছে তাই নয়, আগামী দিনে হয়তো মানব মস্তিস্কের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। আগেই উল্লেখ করেছি, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এমনটা হচ্ছে। কারণ আবহাওয়ার উষ্ণতার কারণে মস্তিস্কের ছোট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি। ‌তাই এখনই যে লড়াইটা শুরু করতে হবে সেটা গ্রিন হাউস গ্যাসের বিরুদ্ধে। সমগ্র মানব প্রজাতির মস্তিস্ক রক্ষার প্রশ্ন যেখানে, সেখানে নতুন বছরে হোক মাথা বাঁচানোর লড়াই। কারণ মাথা বাঁচলে বাপের নাম। ধর্মের নাম আসবে তার পরে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

'জল পড়ে, পাতা নড়ে' ঃ রবীন্দ্রনাথ না বিদ্যাসাগরের লেখা?

জল পড়ে, পাতা নড়ে - সহজ অথচ অমোঘ এমন দুটি লাইন মনে হয় কোনো উপনিষদীয় ঋষির স্বর্গীয় কাব্য সিদ্ধির অনুপম ফসল ছাড়া কিছু হতে পারে না।  বৃষ্টিপাতের সঙ্গে অনিবার্য ভাবে উচ্চারিত হওয়া এই শ্লোক কেবল সৃষ্টির আপন খেয়ালেই রচিত হতে পারে। সেই কবে থেকে এর অনন্য স্বাদ মস্তিস্কের কোষে কোষে এক অদ্ভুত ভালোলাগার মোহ তৈরি করা শুরু করেছিল তা আজও অটুট এবং সমানভাবে সক্রিয় , মোহ ভঙ্গের নামই নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এর জাদুময় মোহপাশ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। যদিও রবীন্দ্রনাথই প্রথম এই দুটি লাইন লেখেন ‘জীবন স্মৃতি’ র পাতায়। মনে হয় স্রষ্টা যেন নিজেই তাঁর সৃষ্টির মহিমায় হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখানে একটা টুইস্ট আছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ এই দুটি লাইন লিখলেও লেখার শ্রেয় কিন্তু তিনি দিয়েছেন বিদ্যাসাগরকে। এখন প্রশ্ন, কেন! উত্তর - ভ্রান্তি সুখে। কিন্তু সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। ‘জীবন স্মৃতি’ তে তাই দেখা গেল যতবার তিনি ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ লিখেছেন ততবারই তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছেন। অন্য কারোর লেখা লিখলে তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখাই দস্তুর। কিন্তু তাতে কি! শিশুবেলার মুগ্ধতা যেন কিছুতেই প্রশমিত হতে পারে...

জনগণমনঃ জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার ইতিহাস ও কিছু প্রশ্নের উত্তর!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ব্রহ্ম সঙ্গীত ‘ জনগণমন অধিনায়ক’ কে দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মান্যতা দেওয়ার সর্ব সম্মীলিত সিদ্ধান্ত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ শে জানুয়ারি । কিন্তু কেন এত দেরী? দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও কেন তিন বছর সময় লেগেছিল জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন করতে? ‘ভারত বিধাতা’ শিরোনামে লেখা, স্বদেশ পর্যায় ভুক্ত (গীতবিতান অনুসারে) এই রবীন্দ্রগীতিটি কিভাবে -  দেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পথে একটু একটু করে এগিয়ে গেল! ‘জনগনমন’র জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনীই আজ আমরা ফিরে দেখবো এই প্রবন্ধে।  ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট - দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে পরাধীনতার কৃষ্ণ কাল অতিক্রম করার পরে অবশেষে দেশবাসীর ভাগ্যাকাশে এসে উপস্থিত হোল বহু আকাঙ্খিত সেই দিনটি। উদিত হোল স্বাধীনতার নতুন সূর্যের।   স্বাধীন হোল দেশ। কিন্তু সদ্য ব্রিটিশ অধীনতা মুক্ত দুটি দেশ ভারত এবং পাকিস্থান তখনও পায় নি স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা। ১৯৪৭ এর ১৮ই জুলাই তারিখে লাগু হওয়া ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুসারে নিজ নিজ সংবিধান প্রণয়নের আগে পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্থান এই দুটি ভূখণ্ড কমনওয়েলথ দেশের অধীনস্থ দুটি অধিরাজ্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারা...

রবীন্দ্রনাথের চোখে বিদ্যাসাগর এবং দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ!

রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং যাকে আদিকবির আখ্যায় ভূষিত করেছেন; যার লেখা বইয়ের (বর্ণ পরিচয়) হাত ধরে তাঁর প্রথম পরিচয় হয় বাংলা বর্ণ যোজনার সঙ্গে; মাত্র চার বছর বয়সে পড়া - যার লেখার প্রভাব থেকে কোনোদিন পারেননি তিনি মুক্ত হতে; ৫১ বছর (১৯১২) বয়সে লেখা 'জীবন স্মৃতি' তে তাই যার লেখার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’ র মত বাংলা কাব্যের ইতিহাসে চির কালজয়ী দুটি লাইনের কথা - সেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল মেট্রোপলিটন স্কুলে।   ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিদ্যাসাগর তখন মেট্রোপলিটন স্কুলের সভাপতি আর সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রামসর্বস্ব ভট্টাচার্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সংস্কৃত ভাষার গৃহ শিক্ষক। রামসর্বস্ব পণ্ডিত ছোট্ট রবীন্দ্রনাথ কে ‘ম্যাকবেথে’র বাংলা অনুবাদ  করে শোনাতেন, আর তা শুনে বাংলায় লিখিত তর্জমা করতে হত রবীন্দ্রনাথকে। তর্জমা সম্পূর্ণ হলে তার গুনমান বিচার করতে রামসর্বস্ব ছাত্র রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে শরণাপন্ন হলেন বিদ্যাসাগরের কাছে। কেমন ছিল সেই প্রথম সাক্ষাৎ পর্ব! রবীন্দ্রনাথ তার আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ তে সে কথা লিখেছেন বিস্তারিত। ‘জীবন স্মৃতি’র ‘ঘ...