সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দেবাশিস জানার লেখা কবিতা 'পাতালবাসে প্রেম' ও কিছু বিশ্লেষণ!

২০২৬, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রবল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যে। যুদ্ধে একদিকে থাকে ইরান অন্যদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংযুক্ত শক্তি। সারা বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব পড়ে, আক্রমন ও প্রতি আক্রমনের ঝাঁঝে জীবন ও সম্পদ হানির কোনো সীমা পরিসীমা থাকে না। কথায় আছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলু খাগড়ার প্রাণ যায়; সেখানে শান্তিকামী মানুষের মন আবার, দেশ ও দেশেরও সীমানার উপরে উঠে সকল দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কষ্টেই ব্যথা অনুভব করে।
মানবিক সংবেদনশীলতায় যুদ্ধের করাল রূপ যে ধ্বংসের ছবি নিয়ে হাজির হয় তাতে প্রকৃতির চিরাচরিত সৌন্দর্য উপকরণ গুলো তা যতই দৃশ্যগত মাধুর্য নিয়ে আসুক না কেন তা আসলে মৃত্যুপুরীর বুকে জোছনার মতই নিরর্থক; প্রাণহীন চেতনায় প্রেরণা জাগানোর ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। 
খানিকটা এই ভাবনা বৃত্তের মধ্যে আবর্তিত হতে হতেই, যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার (২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ঠিক ১২ দিনের মাথায় এই কবিতার জন্ম। কবিতাটির নাম 'পাতালবাসে প্রেম', লেখার পর প্রাথমিক ভাবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি শান্ত এবং সুশীল শ্লেষ হানতে পেরেছিলাম বলে বেশ আত্মতৃপ্তি পেয়েছিলাম এবং বলাই বাহুল্য তাকে ফেসবুকের পাতাতেই সর্বপ্রথম প্রকাশ করার কথা মনস্থ করেছিলাম। প্রকাশের পরে, বেশ কয়েকটি পাঠ প্রতিক্রিয়া আসে, যেগুলির সাহিত্য মুল্য নিঃসন্দেহে অপরিসীম, কারণ সাহিত্য জগতের আলোকপ্রাপ্ত কিছু বিদগ্ধ মানুষ যারা নিজেরা নিয়মিত কবিতা লেখেন তাদের কাছ থেকেই আসে এই পাঠ পর্যালোচনা গুলো।  কবিতাটিকে তাঁরা নানান আঙ্গিক এবং নানা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ফেলে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। 
এই পর্যায়ে সেই অমূল্য পাঠ প্রতিক্রিয়া গুলোকে  একসাথে সন্নিবেশিত করার প্রয়াস করলাম, আশা করি পাঠে অতৃপ্তি হবে না। 
প্রথমে আমার লেখা কবিতাটি রইল।   

পাতালবাসে প্রেম! কলমে- দেবাশিস জানা
=========== বোমারু বিমানের বারান্দায়
জ্যোৎস্না নামে; চোখ থেকে কুন্ঠিত কুন্তল সরিয়ে ধরিত্রীর আয়নায় নির্জন হয়, প্রেমহীন পরাভব!
নিশ্চল, নিরুত্তাপ - ঊর্মি সাগরবেলায়
অভ্র কুচি ছড়ানো আড়ষ্ট
আঁচল জুড়ে শুধুই ধুলোর ঝড়!
কেউ কি আছো চন্দ্রাতপ তলে,
বিছাবে শয্যা শুদ্ধ শিশির জলে!
জ্যোৎস্নার অপেক্ষা দীর্ঘ হয়!
প্রিয় নীড় শূণ্য
প্রবাসী প্রেম
পাতালবাসে বিলীন!
নগর, রাজপথ অলিগলি;
প্রাসাদ কুটির
উজির ফকির,
চঞ্চল চিৎ কাঠবিড়ালি;
জীবাশ্মের রাতদিন!
তবু অবলোকনের মায়ায়
জ্যোৎস্না নিভৃতে,
শূন্য তরণী পানে চায়;
ধ্বংসস্তূপের বুকে
সে রূপোলী তরী হতে
শুধু বিভূতি চূর্ণ গড়ায়!

------------------------- কবিতার প্রথম যে পর্যালোচনাটি এখানে উপস্থাপিত হোল সেটি লিখেছেন বিশিষ্ট কবি দুর্গা চরন ঘোষ।
কবিবন্ধু দেবাশিস জানার কবিতা “পাতালবাসে প্রেম!” একদিকে অত্যন্ত চিত্রময় ও আবেশময়, অন্যদিকে গভীর দর্শনীয় এবং অন্তর্মুখী ভাবনার আয়না। কবিতার শুরুতেই পাঠককে টেনে আনা হয় “বোমারু বিমানের বারান্দায়”—এখান থেকে নগরজীবনের ব্যস্ততা, ধুলোর ঝড় এবং একাকিত্বের অনুভূতি সরাসরি প্রকাশিত। জ্যোৎস্না, নির্জনতা এবং প্রেমহীন পরাভব—সব মিলিয়ে কবি এমন এক নিখাদ একাকীত্বের অনুভূতি ফুটিয়েছেন যা শহুরে জীবনের বাস্তবতার সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত।
কবিতার রূপক এবং প্রতীক খুব শক্তিশালী। “শূন্য তরণী পানে চায়; ধ্বংসস্তূপের বুকে সে রূপোলী তরী হতে শুধু বিভূতি চূর্ণ গড়ায়”—এই লাইনগুলোতে দেখা যায় বেদনাহীন, শূন্যপ্রাপ্ত প্রবাসী প্রেমের এক অলীক যাত্রা, যেখানে প্রেম নিজেকে খুঁজে ফিরছে ধ্বংসস্তূপের মাঝে। পাঠক অনুভব করে, প্রেম এবং জীবন দুইই কোথাও হারিয়ে গেছে, এবং শুধু আবেগ ও নীরব প্রত্যাশাই বাকি।
শহরের সব এলাকা—“নগর, রাজপথ, অলিগলি; প্রাসাদ কুটির, উজির ফকির”—এগুলো একদিকে সাধারণ দৈনন্দিন দৃশ্য, অন্যদিকে মানবিক ও প্রেমিক অভিব্যক্তির আয়নায় রূপান্তরিত। কবি ছোট ছোট ছবি দিয়ে দেখিয়েছেন কিভাবে জীবন, সমাজ এবং প্রেম একত্রে সংলগ্ন, কিন্তু একাকী অভিজ্ঞতা সবকিছুকে নীরব করে দেয়।
মোটকথা, দেবাশিস জানার কবিতা চিত্রময়, রহস্যময় এবং মর্মস্পর্শী, যা নগরজীবনের একাকিত্ব, প্রেমহীনতা এবং শূন্যপ্রাপ্ত আশা পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে। এটি পাঠককে ভাবতে প্ররোচিত করে—কীভাবে শহরের জীবন, ধুলোর ঝড়, এবং প্রতিদিনের তাড়া চলার মাঝে প্রেমের নিঃশব্দ জ্বালা এবং অপেক্ষা ফুটে ওঠে।

কবি দুর্গা চরন ঘোষ

 দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়াটি লিখেছেন কবি শিবাজি দাশ। 
প্রিয় কবি বন্ধু সুপ্রভাত।
কবিতার কথায় আসি - এই ধ্বংসস্তূপের পৃথিবীতে জোৎস্নার অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। অসাধারণ শব্দ চয়ন ভাবনা এবং এক শোকবার্তার শৈল্পিক প্রকাশ। কবিতাটি পড়ে কয়েক মূহুর্তের জন্য সব অনুভব স্তব্ধ হয়ে গেল।খুব ভালো থাকবেন।


কবি গৌর সুন্দর মুখোপাধ্যায় এর লেখা বিশ্লেষণ! 
অসাধারণ চিত্রকল্পে ভরা একটি কবিতা। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও জ্যোৎস্না আর প্রেমের যে প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন, তা সত্যিই মুগ্ধ করল। শব্দচয়ন ও ভাবনার গভীরতা মন ছুঁয়ে গেল।

কবি ও চিন্তাবিদ সুবিমল ভৌমিকএর লেখা বিশ্লেষণ!
সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে জ্যোৎস্নার আলোয় যেন এক অদ্ভুত বিভীষিকাময় রূপকথা লিখলেন—যেখানে প্রেম আর বেঁচে থাকা দুটোই এখন এক দীর্ঘস্থায়ী 'ফসিল'।

বিখ্যাত কবি আজাদ রায়হান (বাংলাদেশ ) এর লেখা পর্যালোচনা ! 
কবিতাটি এক অদ্ভুত বিষণ্ন সৌন্দর্যে ভরা, যেখানে প্রেম যেন ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও নিঃশব্দে বেঁচে থাকে।
বোমারু বিমানের বারান্দায় জ্যোৎস্না নামার চিত্রটি গভীর প্রতীকী অর্থ বহন করে।
এখানে যুদ্ধ, ধ্বংস আর শূন্যতার মাঝেও প্রেমের অনুপস্থিতি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।
প্রকৃতি ও মানুষের অনুভূতির মেলবন্ধন কবিতাকে করেছে অনন্য।
ধুলোর ঝড়ে আড়ষ্ট আঁচলের ছবি যেন সময়ের ক্লান্ত ইতিহাসের কথা বলে।
“চন্দ্রাতপ তলে শিশির জলের শয্যা” — এই চিত্রকল্প অসাধারণ কাব্যিক সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে।
জ্যোৎস্নার দীর্ঘ অপেক্ষা যেন এক অনন্ত প্রতীক্ষার প্রতীক।
প্রিয় নীড়ের শূন্যতা ও প্রবাসী প্রেমের বেদনা হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
নগর, রাজপথ, অলিগলি—সবখানে জীবনের চলাচল থাকলেও প্রেম যেন পাতালবাসে নির্বাসিত।
উজির ফকির থেকে কাঠবিড়ালি পর্যন্ত উল্লেখ জীবনের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরেছে।
জীবাশ্মের রাতদিন—এই উপমা সময়ের স্তব্ধতাকে গভীরভাবে প্রকাশ করে।
ধ্বংসস্তূপের বুকেও জ্যোৎস্নার অবলোকন এক আশ্চর্য নান্দনিকতা তৈরি করেছে।
রূপোলী তরীর প্রতীক যেন হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের স্মৃতি বহন করে।
কবির ভাষা চিত্রধর্মী ও ভাবগভীর, যা পাঠককে চিন্তার গভীরে নিয়ে যায়।
এ কবিতা ধ্বংসের ভিতরেও সৌন্দর্য ও অনুভূতির অস্তিত্বকে মনে করিয়ে দেয়।
প্রেম কখনো পুরোপুরি হারায় না, শুধু সময়ের গভীরে লুকিয়ে থাকে।
দেবাশিস জানার এই সৃষ্টিতে কাব্যিক কল্পনা ও দার্শনিক ভাবনার এক সুন্দর মেলবন্ধন দেখা যায়। শ্রদ্ধেয় গুণী কবি।

বিশিষ্ট কবি ও সুলেখক তপন দাস অধিকারী কৃত পর্যালোচনা! 

আহা কি সুন্দর ও অভিনব শব্দ সংযোজন এবং ছন্দের বাহার! অভিভূত হয়ে যাই। এককথায় অনন্য সৃজন! সবচেয়ে ভালো লাগলো - সে রূপোলী তরী হতে শুধু বিভূতি চূর্ণ গড়ায়! যুদ্ধের বিভীষিকা পরতে পরতে। প্রেম ডুকরে কাঁদে, পাতাল বাসে বিলীন হয়ে। আহা, কি গভীরতা, চিন্তাশীল কবির। ইদানীং খুব উন্নত মানের কবিতা উপহার দিয়ে আমাদের সমৃদ্ধ করছেন। কি অসীম ভাবনায় সমৃদ্ধ লেখনী! ভালো থাকুন নিরন্তর কবি। আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই।

কবি ও সাহিত্যিক রাজা চক্রবর্তীর লেখা বিশ্লেষণ! 
অসাধারণ কবিতা! গভীর বেদনা আর চিত্রকল্পে ভরপুর প্রতিটি লাইন।
নগরজীবনের একাকীত্বকে এত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন, সত্যিই মুগ্ধ হলাম।
ভালো থাকবেন দাদা, শ্রদ্ধা জানাই এত সুন্দর শব্দ চয়নে।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রনয় গোস্বামী যেভাবে কবিতাটিকে বিচার করেছেন! 
ভীষণ ভালো লাগলো লেখাটা, শব্দচয়ন ভাব মাধূর্য কাব্যিকতা সবেতেই সুনিপুণ কুশলতার ছাপ। ভালো থাকবেন কবি। 

সব শেষে কবি রমনি কুণ্ডু কৃত বিশ্লেষণ! 
অসাধারণ লেখা... চমৎকার শব্দের বুননে গভীর মননশীল ভাবনার প্রকাশ... হৃদয় ছুঁয়ে যায়। জোছনার আলোতে পৃথিবী ঝলমল করুক.. কালো ধোঁয়া সরে যাক পৃথিবী থেকে। যুদ্ধবাজদের চেতনা ফিরুক। হিরোশিমা নাগাসাকির বিভৎস্য ঘটনার আর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই কবিকে সৃজনশীল এই কবিতাটি উপহার দেওয়ার জন্য।

------------------------------------------------------------------------------

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

'জল পড়ে, পাতা নড়ে' ঃ রবীন্দ্রনাথ না বিদ্যাসাগরের লেখা?

জল পড়ে, পাতা নড়ে - সহজ অথচ অমোঘ এমন দুটি লাইন মনে হয় কোনো উপনিষদীয় ঋষির স্বর্গীয় কাব্য সিদ্ধির অনুপম ফসল ছাড়া কিছু হতে পারে না।  বৃষ্টিপাতের সঙ্গে অনিবার্য ভাবে উচ্চারিত হওয়া এই শ্লোক কেবল সৃষ্টির আপন খেয়ালেই রচিত হতে পারে। সেই কবে থেকে এর অনন্য স্বাদ মস্তিস্কের কোষে কোষে এক অদ্ভুত ভালোলাগার মোহ তৈরি করা শুরু করেছিল তা আজও অটুট এবং সমানভাবে সক্রিয় , মোহ ভঙ্গের নামই নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এর জাদুময় মোহপাশ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। যদিও রবীন্দ্রনাথই প্রথম এই দুটি লাইন লেখেন ‘জীবন স্মৃতি’ র পাতায়। মনে হয় স্রষ্টা যেন নিজেই তাঁর সৃষ্টির মহিমায় হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখানে একটা টুইস্ট আছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ এই দুটি লাইন লিখলেও লেখার শ্রেয় কিন্তু তিনি দিয়েছেন বিদ্যাসাগরকে। এখন প্রশ্ন, কেন! উত্তর - ভ্রান্তি সুখে। কিন্তু সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। ‘জীবন স্মৃতি’ তে তাই দেখা গেল যতবার তিনি ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ লিখেছেন ততবারই তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছেন। অন্য কারোর লেখা লিখলে তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখাই দস্তুর। কিন্তু তাতে কি! শিশুবেলার মুগ্ধতা যেন কিছুতেই প্রশমিত হতে পারে...

জনগণমনঃ জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার ইতিহাস ও কিছু প্রশ্নের উত্তর!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ব্রহ্ম সঙ্গীত ‘ জনগণমন অধিনায়ক’ কে দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মান্যতা দেওয়ার সর্ব সম্মীলিত সিদ্ধান্ত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ শে জানুয়ারি । কিন্তু কেন এত দেরী? দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও কেন তিন বছর সময় লেগেছিল জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন করতে? ‘ভারত বিধাতা’ শিরোনামে লেখা, স্বদেশ পর্যায় ভুক্ত (গীতবিতান অনুসারে) এই রবীন্দ্রগীতিটি কিভাবে -  দেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পথে একটু একটু করে এগিয়ে গেল! ‘জনগনমন’র জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনীই আজ আমরা ফিরে দেখবো এই প্রবন্ধে।  ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট - দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে পরাধীনতার কৃষ্ণ কাল অতিক্রম করার পরে অবশেষে দেশবাসীর ভাগ্যাকাশে এসে উপস্থিত হোল বহু আকাঙ্খিত সেই দিনটি। উদিত হোল স্বাধীনতার নতুন সূর্যের।   স্বাধীন হোল দেশ। কিন্তু সদ্য ব্রিটিশ অধীনতা মুক্ত দুটি দেশ ভারত এবং পাকিস্থান তখনও পায় নি স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা। ১৯৪৭ এর ১৮ই জুলাই তারিখে লাগু হওয়া ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুসারে নিজ নিজ সংবিধান প্রণয়নের আগে পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্থান এই দুটি ভূখণ্ড কমনওয়েলথ দেশের অধীনস্থ দুটি অধিরাজ্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারা...

রবীন্দ্রনাথের চোখে বিদ্যাসাগর এবং দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ!

রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং যাকে আদিকবির আসনে বসিয়েছিলেন; যার লেখা বইয়ের (বর্ণ পরিচয়) হাত ধরে তাঁর প্রথম পরিচয় হয় বাংলা বর্ণ যোজনার সঙ্গে; মাত্র চার বছর বয়সে পড়া - যার লেখার প্রভাব থেকে কোনোদিন পারেননি তিনি মুক্ত হতে; ৫১ বছর (১৯১২) বয়সে লেখা 'জীবন স্মৃতি' তে তাই যার লেখার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’ র মত বাংলা কাব্যের ইতিহাসে চির কালজয়ী দুটি লাইনের কথা - সেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল মেট্রোপলিটন স্কুলে।   ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিদ্যাসাগর তখন মেট্রোপলিটন স্কুলের সভাপতি আর সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রামসর্বস্ব ভট্টাচার্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সংস্কৃত ভাষার গৃহ শিক্ষক। রামসর্বস্ব পণ্ডিত ছোট্ট রবীন্দ্রনাথ কে ‘ম্যাকবেথে’র বাংলা অনুবাদ  করে শোনাতেন, আর তা শুনে বাংলায় লিখিত তর্জমা করতে হত রবীন্দ্রনাথকে। তর্জমা সম্পূর্ণ হলে তার গুনমান বিচার করতে রামসর্বস্ব ছাত্র রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে শরণাপন্ন হলেন বিদ্যাসাগরের কাছে। কেমন ছিল সেই প্রথম সাক্ষাৎ পর্ব! রবীন্দ্রনাথ তার আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ তে সে কথা লিখেছেন বিস্তারিত। ‘জীবন স্মৃতি’র ‘ঘরের...