ম্যাজিক ফিগার
কথাটির মধ্যে কিন্তু কোনো জাদু টাদু কিছু নেই বরং বেশ একটা আত্মম্ভরিতার ব্যাপার আছে।
সেটা হোল পারিস যদি একবার ছুঁয়ে দেখা। পারলে ঠিক আছে, ছেয়ে যাবি; নইলে সিধা রসাতলে পৌঁছে যাবি।
বাঙালি যখন ফিগার কথাটা বলে তখন তা কোনো সুন্দর দেহ সৌষ্ঠবের কথা ভেবেই বলে, সেখানে
সেই ফিগার আবার যদি ম্যাজিক ফিগার হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই, পুরো – 'ঝুমকা গিরা
রে, বারেলি কি বাজার মে’ টাইপ মওকা। একবার প্রচেষ্টার পারা নিজেদের অনুকূলে তুলতে
পারলেই, ছোঁ মন্তর পাঁচ বচ্ছর। বাকি কাণ্ড কিস্কিন্দা কাণ্ড।
তাই ম্যাজিক ফিগার শুধুমাত্র এক কাষ্ঠবৎ সংখ্যা মাত্রই নয়; একটি অবদমিত আকাঙ্ক্ষার
প্রতীক, যাকে বিশেষায়িত করতেই জাদু কথাটির সংযোজোন করতে হয়েছে। অনেকটা ঢ্যাঙ্গা
কদম গাছের মাথায় জড়িয়ে যাওয়া কাটা ঘুড়ির মত ঝুলে থাকে ম্যাজিক ফিগার, নীচে আমটি
আমি খাব পেড়ের মতন আকুল অভিলাষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দেঁতো দাঁতালের দল, কিছু মূঢ়
মুনিষের কাঁধ পেলেই তাতে ভর করে শুরু হয়ে যায় সেই জাদু সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলার লড়াই।
বিন্দু মাত্র রহস্য মুক্তির কথাও তাই রূপকথার আবহ তৈরি করে ফেলে।
মায়া বর্ণন
এমনভাবেই রূপকথা রচনা করে চলে প্রাক সম্ভোগ শৃঙ্গারের মতন।
নাকি সবই সম্ভভ রীতিমত
শাশুড়ি ননদ সুলভ গুজগুজ ফুসফুস।
নাটকের শেষ
ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছানোর মহড়া।
প্রাপ্তির নেশায়
বুঁদ হয়ে ঘাম রক্ত এক করে দেন যারা তারা পাড়ার
নন্তু ঘন্তুরা প্রাণপণে ছোটে গাছ থেকে নামিয়ে কে আগে ছোঁবে সে ম্যাজিক নাম্বার তাই
নিয়ে তাতিয়ে তোলে সারা পরিবেশ।
ম্যাজিক
ফিগার পণ্ডিতরা যতই কাষ্ঠবৎ একটা
সংখ্যাকেই
ম্যাজিকটা আসলে ফিগারের না ফিগারটা ম্যাজিকের। অনেকটা দড়ি টানাটানি খেলার বুড়ির মত, যুযুধান দু পক্ষই তাকে নিজেদের ঝোলে আনার জন্যে যাকে বলে একেবারে ঘাম রক্ত এক করে ফেলে। আসলে এই টানাটানির মূলে যতটা না ম্যাজিক দায়ী তার থেকে বেশী দায়ী ফিগার। কারণ সে যতই মেরুকরণ হয়ে যাক না কেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন