কোনটা গোল, কোনটা ডিম্বাকৃতি, কোনটা আবার ঈষৎ আয়তাকার; প্রচুর আয়না এরকম পাশাপাশি সেঁটে পুনরায় তাকে একটা বড়, গোলাকার আয়নার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। লাভ কি হচ্ছে, ক্লোজ সার্কিট টিভি দেখেছেন আপনারা, এক স্ক্রিনে অনেক জায়গার ছবি দেখা যায় তাতে। এক্ষেত্রে এই অভূতপূর্ব আয়নার সজ্জা আপনাকে ক্লোজ সার্কিট টিভির সার্ভিস দেবে।
কোন্ আয়নায় হয়তো কেবলের কালো তারে বসা কাকের করুন দৃষ্টি দেখতে পাচ্ছেন তো কোনোটায় হাবুদের ঘরের বারান্দায়, আরসার ওপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটাকে। কোনটায় হয়তো দেখতে পেলেন রোদে কাপড় মেলতে এসেছেন রাশভারী স্বভাবের মন্টু দা। ভালো করে দেখলে উনার বেজার মুখচ্ছবিটাও বেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। কোনটায় হয়তো হাওয়ায় দুলে ওঠা ছাতিম কে দেখতে পেলেন। সবটাই চলমান। সামনে অপরিসর রাস্তা ও তার সামনের বাড়ি ঘর গেরস্থালি সব কিছুই দেখতে পাবেন যখন যেমন তখন তেমন; তার জন্য এদিক ওদিক ছুটে যেতে হবে না, এক জায়গায় বসে, এক কাঁচের পর্দায় সবটাই দেখতে পাবেন বিনা খরচে। অন অফ করার কোনো বালাই নেই। স্বাভাবিক আলো থাকলেই হলো।। এমনকি আয়নার ক্লোজ সার্কিট পর্দায় যে চিত্র গ্রাহক ছবিটি তুলছে তাকেও পরিস্কার করে তুলে ধরে বেশ অবলীলায়। যাই হোক আর কথা না বাড়িয়ে বলে নিই পৃথিবীর এই নবতম আশ্চর্যটি ঠিক কোথায় দেখলাম। বালিগঞ্জ, নরেশ মিত্র লেনের একটি ক্লাব ঘরের দেওয়ালে রয়েছে এটি। অবশ্যই তারিফ করতে হয় এই চমকপ্রদ আয়না সজ্জাটির।
জল পড়ে, পাতা নড়ে - সহজ অথচ অমোঘ এমন দুটি লাইন মনে হয় কোনো উপনিষদীয় ঋষির স্বর্গীয় কাব্য সিদ্ধির অনুপম ফসল ছাড়া কিছু হতে পারে না। বৃষ্টিপাতের সঙ্গে অনিবার্য ভাবে উচ্চারিত হওয়া এই শ্লোক কেবল সৃষ্টির আপন খেয়ালেই রচিত হতে পারে। সেই কবে থেকে এর অনন্য স্বাদ মস্তিস্কের কোষে কোষে এক অদ্ভুত ভালোলাগার মোহ তৈরি করা শুরু করেছিল তা আজও অটুট এবং সমানভাবে সক্রিয় , মোহ ভঙ্গের নামই নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এর জাদুময় মোহপাশ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। যদিও রবীন্দ্রনাথই প্রথম এই দুটি লাইন লেখেন ‘জীবন স্মৃতি’ র পাতায়। মনে হয় স্রষ্টা যেন নিজেই তাঁর সৃষ্টির মহিমায় হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখানে একটা টুইস্ট আছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ এই দুটি লাইন লিখলেও লেখার শ্রেয় কিন্তু তিনি দিয়েছেন বিদ্যাসাগরকে। এখন প্রশ্ন, কেন! উত্তর - ভ্রান্তি সুখে। কিন্তু সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। ‘জীবন স্মৃতি’ তে তাই দেখা গেল যতবার তিনি ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ লিখেছেন ততবারই তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছেন। অন্য কারোর লেখা লিখলে তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখাই দস্তুর। কিন্তু তাতে কি! শিশুবেলার মুগ্ধতা যেন কিছুতেই প্রশমিত হতে পারে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন