সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

KABITA

                                                            মা তুমি শুনছো ?
                                                                         দেবাশিস জানা
মা তুমি আসছো!
তোমার আসার পথে
খসে পড়া - নক্ষত্র কোটি কোটি।
ফুল নয় কেউ, তারা সব নিভে যাওয়া ফুলঝুরি!
এ শর বনে পা রাখার
আগে, পরো মা হাওয়াই চটি!
নক্ষত্রের রক্ত! নক্ষত্রের ঘাম!
নক্ষত্রের স্বপ্ন, নক্ষত্রের দাম!
পিঁপড়ের পিঠে চেপে আজ
বড় রাস্তায়। বুকেরে আগুনে
দগ্ধ কয়লাগুলি তোমার মুখকে
পোড়ায়, শিল্পীর নিঃস্পৃহতায়।
তোমার আকর্ণ চোখ,
রক্তিম কান, ঠোঁটের কোনে
সেই স্মিত টান – বোবা বৈভবে
কাচ-বন্দি আজ, পোড়া মাটির ঘ্রাণ!
মা তুমি হাসছো!
তোমার ঠোঁট জুড়ে
নক্ষত্রের অশ্রু কোটি কোটি।
নীল আকাশ, সাদা মেঘের সারি
নদীর ধারে কাশ, ফুটছে
হাড়ি হাড়ি। চোখের জলে শুদ্ধ
তোমার ভোগে এবার
নক্ষত্রের ভাত, ডাল, রুটি।
মা তুমি শুনছো?
নক্ষত্রের ফুঁয়ে কেমন
বাজছে - বিসর্জনের ভোঁ–টি!
-----------------------------------------------------

কবিতাঃ কবিতা, তুমি কার? 
কবিতা, তুমি কার?
কবিতা, তুমি কি জীবনানন্দের না সুনীলের।
নাকি তুমি শক্তির। কিংবা শঙ্খের! ‌
মনে করতে পার, তোমার গর্ভে কার
মেধা ধারন করেছো! আর জন্ম দিয়েছো
কার বীর্য সঞ্জাত কাব্য সুষমাকে!
কবিতা তুমি হয়তো সেই কাব্যধারা, যাকে রমণীয় করে তোলে শত শত সার্থক কবির দীব্য লালসা। আর শরীর জুড়ে বুনে চলা, নিজেকে আরো সুখি করে তোলার আকূল আকাঙ্খা। তুমি তো বেশ্যার মত নীরবে, তোমার দেহের নরম মাটি আর উষ্ণ জল দিয়ে গড়ে যাও নতুন নতুন কাব্য প্রতিমা। বলতে পার কবিতা, তুমি আসলে কার?

------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ দূর গগন তলে! ‌
দূর গগনের নীচে -
ভোরের আলো গুলো,
জ্বলে যাচ্ছে আগুনের আঁচে!
যদি পারো, আলোর মায়ের কোলে
দূ ফোঁটা করুনার বারি দাও সিচে।
তোমাদের ঘরেও তো আসে প্রথম আলো।
আঁধারের বুকে যেমন, হীরের ঝলোমলো। ‌
তোমাদের আঙিনাতেও তো ওরা
খেলা করে দুইবেলা।
হঠাৎ বজ্র হুঙ্কারে,
ডেকে ওঠে গলা চিরে
মা...., তুমি কোথায় গেলা?
তাও তোমরা আলোর আকাশকে
বার বার কেন ভাঙো?
আর কত মরা আলোর বুকে
নাচবে প্রলয়-
দুর্বল, কাপূরুষের ইগো !

-------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আমি কোন পক্ষে?
আমি না ইজরায়েলের পক্ষে,
না প্যালেসটাইনের!
আমি পক্ষে, শান্তির জন্য লেখা
শুধু দুই লাইনের।
আমি না দেবতাদের পক্ষে
না অসুরকূলের।
আমি পক্ষে, নীলকন্ঠের কানে গোঁজা
শুধু নীল, ধুতরো ফুলের!
-----------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ভাই ফোঁটার ভোরে!
ভাই ফোঁটার ভোরে -
স্নিগ্ধ নয়ন হেরে,
উঠোনে ব'সে দিদি,
হাঁসি-মুখে, আহ্লাদী!
ভাবে, কত ফুল
ছড়াবে ভায়ের ঘরে।
আর কত হূল,
যম রাজের দুয়ারে!
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শব্দের চুম্বন না চুম্বনের শব্দ?
কবিতা, তোমার শব্দ-সুখের সকরুন আশ্লেষে
আমার জীবনের সকল পাতা জুড়ে রমনীয় সে শীৎকার, আজ ইতিহাস!
তোমার শব্দের আদরে আমার দুঃখ গুলো, কবিতার নৌকা হয়ে কোন দূরে
উজান বেয়ে উঠত স্বপ্ন-ভেজা, রূপোলী সমুদ্র তটে
তা আজ শীতের দেশে পর্ণ মোচী গাছের মত সেঁটে থাকে রুক্ষ পটে!
তোমার শব্দের চুম্বনে, আমার কবিতার পাতায় উঠত ঢেউ! সোহাগের জোয়ার।
সে শব্দের চুম্বন যে আজও আমার কবিতার ঠোঁটে লেগে থাকা নব পরিনয়ের লালিমা হয়ে ফোটে।
আর চুম্বনের শব্দ, যা একদা আমার কবিতার দেহে
জাগাতো রোমাঞ্চ, জাগাতো শিহরন কত মোহে
আজ পাশ ফিরে শুয়েছে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে। নৈঃশব্দের ব্রত নিয়ে,
উদাস বৈরাগী নদীর ধারে।
শব্দ দিয়ে চুম্বন আঁকতে,আয় রে শব্দ তুই আয় রে!
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ভোরের কবিতা!
ভোরের কবিতা, তুমি সূর্যের সাথে শুতে যা্‌ও সূর্যের মুখে খাও হামি। সূর্য এবার তোমার হাঁসি আলোয় ভরাবে চুমি!
--------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ভোরের দুঃখ!
ভোরের আলস্য মাখা রোদ্দুর পোহায়, বীর্য রঙা কুয়াশায় ফেলে যাওয়া রাত্রির খেদ গুলি। ব্যর্থতার শিশির গুলো ঝরে গেছে বড় অসময়ে। গভীর শীৎকারে চরম সে আনন্দকে ছিনিয়ে নেওয়ার অনেক আগেই। শুধু তোমার অধরে খেলে যায় মুরোদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা, চাবুকের মত ওই হাঁসি টুকুই।

---------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নিশিরাগ! তোমার শোবার ঘরে এখনো নেভেনি দীপ। দূরে কোন গাঁয়ে, বটের ঝুরি বেয়ে পড়ছে শিশির ঝরে টিপ টাপ, টাপ টিপ! তোমার মুক্ত অধরে নিরাশার আঙ্গুল ছুঁয়ে, ডুবে যাচ্ছে আকাশ প্রদীপ!

---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নিশিগন্ধা !
আলোর ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অন্ধকারের আদর পা থেকে নাভী, বুক থেকে চিবুক, সবশেষে চোখে - মুদিত পাপড়ির মধ্যে পরাগের রেনু হয়ে ঝরে পড়তে থাকে স্বপ্নের সম্ভোগে!
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শুধু থাকবো না আমি!
থাকবে এ আম্র পল্লব, জানালার রেলিং ছুঁয়ে। জবার জঙ্গলে ফুটবে ফুল, শিশির জলে ধুয়ে। শুধু থাকবো না আমি, বাজবে না সুর, এ হৃদয়ে!
-------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবিতার ভোর চাই!
একটা স্বপ্নের ঘোর চাই!
যখন অনেক আলোকবর্ষ অতীত খুড়েও
ফুটে ওঠে না, এক চিলতে - স্মৃতির অমৃত!
একটা প্রেমের ঘোর চাই!
যখন হাজার ক্রোশ হেঁটে ক্লান্ত হলেও
কেউ দেয় না, ভিক্ষার ঠোঁটে ছোট্ট চুমুর পিরীত!
একটা কবিতার ঘোর চাই!
যখন লক্ষ বিনিদ্র রজনীর পরেও
এসে পড়ে না, কোনো করুন শব্দ ঝরার ইঙ্গিত!
একটা মৃত্যুর ঘোর চাই!
যখন অনেক, অনেক নববর্ষ পেরিয়েও
পাওয়া যায় না, একটিও তুচ্ছ বেদনার বিহিত!
একটা কবিতার ভোর চাই!
যদি কবিতার রেখায়, রশ্মিতে ফুটে ওঠে
জীবনের, যত ব্যর্থ কুসুম। সুপ্ত-অন্তর্নিহিত!

---------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এবার তো আমায় থাকতে দেবে একা?
অনেক হয়েছে যুক্তির বেণী বাঁধা।
অনেক ঝরেছে মুক্তির অমৃত সুধা!
এবার তো আমায় হারতে দেবে একা?
অনেক হয়েছে আকূল স্বরে কাঁদা,
ব্যথার বেদনায়, ব্যাকুল সুর সাধা!
এবার তো আমায় কাঁদতে দেবে একা?
অনেক উঠেছে ঝড়, বৃষ্টি, বাধা।
অনেক এসেছে কৃষ্ণ, দূর্গা, রাধা!
এবার তো আমায় সইতে দেবে একা?
অনেক ঝরেছে ফুল, শুভ্র -সাদা।
অনেক হয়েছে ভগ্ন বুকে কাঁদা!
এবার তো আমায় মরতে দেবে একা?

--------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ডুবন্ত সূর্য!
ডুবন্ত সূর্যের পিছে ধাওয়া করে -
যদি বিষন্ন শালিক হতে হয়
গোধূলির হরিদ্রায়, হল্দে পায়ে!
যদি বিদ্যুতের তারে ঝুলে ঝুলে -
ঝরে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা হতে হয়!
যদি খোলা ছাদে, বেধড়ক ছুটে
দিনের শেষ আশা নিতে, লুটে পুটে
অপার দীগন্তের নীল নিঃসীম ছায়ে
পা রেখে চুমু খেতে হয়, ক্রমশ
তলিয়ে যাওয়া ঘন, কৃষ্ণ নীল অধরে!
ডুবন্ত সূর্য কি আসলে মায়া? ত্রস্ত শুক্রানুর
মত ক্রমশ ঢুকে যায় আঁধারের জঠরে!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শিলা - বৃষ্টির যুগলবন্দী!
দারুন দহন শেষে বৈশাখের অপরাহ্নে।
চরাচর ঢেকে আসে
ঘন বারিদ বরণে!
জানালা খুলে দেখি
শিলা আর বৃষ্টি
মিষ্টি দুই বোন,
মেঘেদের মেয়ে।
এসেছে ঝর্ণা ধারায়
চারদিক্ থেকে ছেয়ে!
ঝরছে আদুল হাওয়ায়
দ্বৈত কলতানে;
পথে, প্রান্তরে, পর্ণে
কিংবা বাড়ির লনে!
টাপুর টুপুর, শিলার নুপুর
বরষা ঝুমুর গানে
মলহার রাগ, সপ্তমে সুর
পাগল করা তানে!
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সূর্যের মুখে, মেঘের বুক
সূর্যের মুখে, মেঘের বুক
পড়বে ঝুঁকে।
আকাশের দিকে দিকে
বিদ্যুল্লতার ঝিলিকে -
মেঘবালা তার বারি সুধা ঢেলে দিতে
সূর্যের বুক দেবে ঢেকে,
সঘন কাজল মগন সে আঁচলে তে!
মূষল পর্বে, রিনিকে ঝিনিকে
মেঘের কাঁকন বাজবে বুকে
তপ্ত বিবশ, ধূসর নিরস ধরনীতে।
ঝরবে ধারা -
দীগন্তের প্রিয় -সে নব ধারাপাতে।
সূর্যের সব জ্বালা শুষে নিতে
কূপিত রবির পোড়া মুখেতে
সিক্ত মধু চুম্বন দেবে এঁকে।
সূর্যের মুখে,
মেঘের বুক, পড়বে ঝুঁকে!
-------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সৃজনের নির্জন!
কবিতা -
তোমার শরীর জুড়ে নিসর্গ, গহন!
বকুল ফুলের গন্ধ ছড়ানো,
আল্পনা আঁকা, পর্ণ কুটিরের উঠোন!
শাল পিয়ালের ছায়ায় শুয়ে থাকা
দুই স্তবকের মাঝে বক্ষ বিভাজিকা।
চিকচিক চোরা বালির চর
ছন্দ যেন চির অমিত্রাক্ষর !
নেমে গেছে ম্যানগ্রোভ ঢাকা
বদ্বীপ পেরিয়ে একা একা!
কোথায় হারালো সে সৃজণের নির্জন?
-------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ দুঃখগুলো, সুখ সাজবে!
একদিন দুঃখগুলো সব সুখ সেজে
আসবে আমার অতিথি হয়ে!
আমার দাওয়ায় বসে শীতের রোদ পোহাবে;
রোদের দিনে শীতলপাটিতে বসে
গেলাস ভর্তি লেবু নুন জল, চুমুক দিয়ে খাবে!
একদিন যন্ত্রনা গুলো সব বন্ধু সেজে
মুক্তির মন্ত্রণা আনবে বয়ে!
ফুটো হয়ে যাওয়া চালা থেকে সেদিন
জল নয়, মেঘমুক্ত চাঁদনী ঝরে পড়বে!
একদিন কষ্ট গুলো সব কেষ্ট সেজে
সাফল্যের খুশি আনবে বয়ে!
পাথরের চাঁই খুদে খুদে সেদিন
ত্রিভঙ্গ মুরারী বেরিয়ে পড়বে!
একদিন ব্যথা গুলো সব উঠবে বেজে
জ্যোৎস্না রাতের বংশী হয়ে!
সেদিন দুঃখগুলো সব সুখ সেজে
আসবেই আমার অতিথি হয়ে!
-------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বেচারা অভিমন্যু!
এই গ্রহে অভিমন্যুরা
একদম একা আজও।
সাতশো কোটির চক্রব্যুহ
কেমন বোকা বোঝো!
সকলেই অস্ত্র উঁচিয়ে
মুখ আর মুখোশে।
স্থির বিশ্বাস অভিমন্যুর
সেই জিতবে শেষে!
ধান্দা আমার ধান্দা তোমার
তাই তো গোলক ধাঁদা!
একশোর নিরানব্বই আমরাই
কন্ঠা মেলান দাদা!
এই যুদ্ধে ভগবান ও কি গেছেন মিত্র পক্ষে?
সবার শত্রু অভিমন্যুর আর কি আছে রক্ষে!
কোথায় যাবে কোন চুলোয়
দিগন্ত মেঘে ঢাকা!
মঞ্চে কখন গাইবে বিবেক
নওতো তুমি একা!
---------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মৃত্তিকার মাতৃত্ব!
আর কত দিন!
ধর্ষকাম চোখের আগুনে
ঝলসে যাবি এমনি করে?
বুঝি সব সয়ে গেছে,
নটরাজের ক্লিশে শরীরে!
ত্রিভূবন কাঁপানো সেই আন্দোলন
তাই আজ আর সংগঠিত হয় না।
লাশ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ এখন
দেহ আর মোহ নিয়ে মজে গেছে মন!
বিষ্ণুর ব্যবচ্ছেদের ব্যগ্রতা
আমাদের একান্ত সহজাত!
সুদর্শন হয়ে ফালাফালা করি
সতীর বুক, উরু প্রতি নিয়ত।
কিন্তু কোথায় একান্নটা?
একটাও পীঠ গড়তে পারছি না তো!
প্রতিমার উত্তল বুকে শুধু
লেপে যাচ্ছি কুশলী মৃত্তিকার মাতৃত্ব!
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এই তো দারুন!
এই তো দারুন!
খেয়ে পরে, সুখে মৈথুন।
পরপার নিয়ে না ভাবলেও চলবে।
আসলে বেঁচে থাকাতেই
যে বেলা বয়ে যায়।
সন্ধ্যার অন্ধকার
আদিম লালসায় জবজবে।
একটু লোভ তো হয়ই।
কিন্তু জীবন নিয়ে ভ্রান্তিবিলাস?
হায়! সে সময় কোথায়!
গুহায়, মন্দির গাত্রে
কি সংঘর্ষময় কল্পনার উন্মীলন!
সে অবকাশ এখনো আছে
দৈনিক আট ঘন্টার অতিরিক্ত হিসেবে।
জানা নেই
এই অভ্রভেদী মইয়ের সন্ধান পেল কে কবে!
মনে মনে কেউ কৌরব, কেউ পান্ডব!
ফাৎনায় চোখ গেঁথে,
দূর্যোধন হুঙ্কারে পৃথিবী ছুটছে!
যদি কোনো গন্তব্য জোটে।
তাও ভালো
অন্ধের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া
শূণ্য - মূল্য সেবা বিজ্ঞাপিত হলে
বিকিকিনির এই হাটে!
তবু সকলের নয়।
কারো কারো মনোবিকার আছে।
শর শয্যায় শোওয়া, ইচ্ছা মৃত্যু হাতে !
ক্ষত বিক্ষত তারা
জীবনের অন্য এক দায়ের কাছে!
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মূক লিরিক!
আপন মনে গেয়েছিলেম যে গান,
সে গান আজ
পেয়েছে তোমার কন্ঠ পরশ।
নীলকন্ঠী তুমি -
কৃতজ্ঞ করেছো,
করেছো আমায় চির বিবশ!
আপন গোপন ধৃষ্টতাকে
ধরে ওষ্ঠাধরে,
করেছো সদা উন্মুক্ত।
দিয়েছো নতুন সূর্য দেখার স্বাদ।
যদিও আগামী অন্তর্মুখী,
তবু তোমার তরে
এগিয়ে যাওয়ার রইল ক্ষীণ সাধ!
থিরথির কম্পমান,
তোমার কন্ঠ মণি!
হরষিত চোখ, মুখে স্মিত হাসি।
কখনো ভাবিনি
এত কাছে করে নেবে!
তোমার কোমল স্পর্শে
আমার এ হঠকারিতা
জীবনের দিশা খুঁজে পাবে!
যুগ থেকে যুগান্তরে,
এমনি কি জন্ম নেবে
তুমি অন্বেষা?
শতাব্দীর দীর্ঘশ্বাস বয়ে,
নতুন দীগন্তে লেখা হবে
মূক নির্বাকের ভাষা!
----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবিতা আমার পদ্ম পাতা হবে..!
ইচ্ছে হয় -
জানালা খুলে বসি
কবিতা লিখতে!
আর নয়
বদ্ধ ঘরে,
ঝড়ের অজুহাতে।
নিজের চোখে
দেখতে চাই
শীত তক্ষকের নিষ্ক্রমণ,
তপ্ত মেঠো পথে।
হয় হোক
কালীমালিপ্ত কবিতার পাতা
প্রবল ধারাপাতে।
মুছে যায় যাক আকাশ কাব্য
মেঘের কলঙ্কতে!
যদিও জানি -
আমার কবিতা পারবে না
কভু সবুজ, পিচ্ছিল হতে।
সোনাঝরা হবেই সে হবে
সূর্যের রাঙা কলমপাতে!
কোনোদিন সে -
হবে না বিবস্ত্রা,
নীরব হাট খোলায়!
ধুলি বিবর্ণ গোধূলিতে।
জেনে রাখো -
কবিতা আমার
পদ্ম পাতা হবে,
সব ঝড় জলের রাতে!
-------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শেষে নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি!
শেষে নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি।
তাতে ঝাপসা হলো দৃষ্টি!
তাতে ভিজলো পাতা ধূসর,
তাতে সবুজ হলো সৃষ্টি!
শেষে নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি।
তাতে ভিজলো টগর,
ভিজলো অধর
আঁখি পল্লব হলো মিষ্টি।
হঠাৎ নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি
তাতে ভিজলো বেল,
ভিজলো রেল,
ভিজলো ছবির বিরাট
ও অনুষ্কার শুভ দৃষ্টি!
শেষে নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি।
হঠাৎ আধার হলো মিস্ট্রী।
প্রেমের সাথে বৃষ্টির
ফিরলো আদি কেমেস্ট্রী!
শেষে নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি!
তাতে ভিজলো বাড়ি,
ভিজলো শাড়ি,
ভিজলো স্কুলের গায়ে লেখা
স্বামীজীর জীবন হিস্ট্রি।
শেষে নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি
ঘুচলো তাপের রোষটি!
শেষে নামলো ঝেঁপে বৃষ্টি।
বাজলো ঝাঁপের তালটি!
------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সেই বড় রাস্তার ধারে...!
ঘুম ভাঙাও -
সুদূরের প্রিয় নিশা!
উঠোনে ডিঙিয়ে যাও -
কালো ম্লেচ্ছ পিঠে আরোহী হয়ে
দূরের জ্যোতির্দ্বারে।
রাত্রির আঁধার নলে,
প্রতীক্ষার দীর্ঘ নিঃশ্বাস..
কেঁপে কেঁপে কি সুর তোলে!
উজ্জ্বল বাতির নীচে
বড় রাস্তার ধারে।
ঘন ঘন অশনি সংকেত,
দূর আঁধার আকাশে।
রাত্রির সর্বাঙ্গে জাগে
সেই সুর শ্বাস সপ্তকে।
বুক নিংড়ানো, বিফল হাহাকারে!
সহসা এক পাগল হাওয়া
এলোমেলো বয়ে যেতে যেতে,
বাঁধা পড়ে সহস্র -
বিবর্ণ কাগজের ঘূর্ণাবর্তে।
সেই বড় রাস্তার ধারে!
--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বৃষ্টির রোড শো!
এবার বৃষ্টি নেমেছে রাস্তায়।
বাসে, ট্রেনে কোথাও রিক্সায়
সবার চোখে চুমুক দিয়ে
জানলা বয়ে জল ছিটিয়ে
বৃষ্টি পাখি, ডানা ঝাপটায়!
এবার বৃষ্টি নেমেছে রাস্তায়!
হাটে, ঘাটে, জলে, কাদায়।
যাচ্ছে নেচে মিষ্টি সুরে
উড়াল পুলে উড়ে উড়ে
গাছের ডালে, পাতায় পাতায়।
এবার বৃষ্টি নেমেছে রাস্তায়!
মেঘের আঁধার, আবছায়!
আঁকছে সুখের স্বপ্ন সিন্ধু
বৃষ্টি ঠোঁটের হীরক বিন্দু
পথ চলতি অটোর কাঁচটায়!
এবার বৃষ্টি নেমেছে রাস্তায়!
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মেঘ বলেছিল, আসবে...!
মেঘ বলেছিল সে আসবে দীঘির জলে।
ভাসবে দুলে দুলে হাওয়ার তালে তালে।
অগ্যস্তির তৃষ্ণা ছিল রোদের রোষে পুড়ে,
বেদনার বাষ্প জমে, সারা আকাশ জুড়ে।
মেঘ বলেছিল সে আসবে সময় হলে
তাল পাতার ছায়ায় সবুজ শ্যাম দলে।
মেঘের কথায় দীঘি ধার দিয়েছে সবি
আকাশ পানে চেয়ে খোঁজে মেঘের ছবি।
মেঘ বলেছিল সে ঝরবে সময় হলে
শুধবে সকল ঋণ সুদে আর আসলে।
মেঘের কথায় বুক উজাড় করে সুখ
দীঘির ঠোঁটে মূক মাটির শুকনো মুখ।
মেঘ বলেছিল সে নাচবে বরষা হলে
ফুটিয়ে স্তন্য বৃন্ত দীঘির শান্ত জলে।
মেঘের পালে হাওয়া সাগর পানে ছোটে।
মেঘ আসে না আর দুঃখী দীঘির ঘাটে।
---------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ স্খলিত জলধারা!
অবারিত জলধারায়,
উচ্ছল তনু তোমার
সিঞ্চিত হয়েছিলো, অবিশ্রান্ত!
প্লাবিত করেছিলো, দেহের প্রতিটি খাঁজ।
নিজের প্রতি তোমার, সে এক গূঢ় প্রশ্রয়।
তবু বেণী ভেজার ভয়!
যা আরো কমনীয় করেছিলো তোমায়।
স্মৃতির গবাক্ষ খুলে,
এখনো সে দৃশ্য দেখি সেই ছিদ্র দিয়ে!
অপলক, শকুনের চোখের মতন!
শরীর জুড়ে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু,
চোখ বেয়ে নামা জলের ঝারি!
তাই তোমার দৃষ্টি হয়তো ঝাপসা।
ছাদের কার্নিশ কেটে কখন
রোদ এসে পড়েছিল তোমার পায়ে!
কতক্ষন জানি না -
একরাশ জুঁই ফুল
ছড়িয়ে পড়তে চেয়েছিল
পা বেয়ে সারা শরীরে!
তুমি দেখতে পাওনি।
ভিজে গেছো - সর্বান্তকরণে!
খোলা আকাশের নীচে,
সেই এক আদিম কলতলায়!
তোমার বুকের ঢেউ, আমার কাছে
কোনো মাজারের উত্তুঙ্গ চূড়ার
উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার মতো
শিহরন হীন।
তবু আজও দেখি, অন্ধকারে থেকে
সে ভিরু হিল্লোল,
গোকূলে বেড়ে চলা সন্ধি গুলোয়!
তুমি সেই প্রথম জেনেছিলে, বুঝি
তোমার মনের দাবী।
যা তোমার সাধ্যাতীত!
তাই সে আবেশ - ছোঁয়া না পেয়েও,
মূর্ত হওয়া ভালোলাগা গুলো,
ঠোঁটে ঠোঁট চেপেও,
আমাকে বিবশ করেছিল।
কেমন বিবিক্ততা
সারা দেহ জুড়ে তোমার!
বুঝে নিতে অসুবিধে হয়নি
হার হোত না আমার
তোমায় ভালোবাসি ভাবলে।
দেওয়ালেরও চোখ আছে,
সেই প্রথম মনে হয়।
এতদিনের সে প্রস্তরীভুত তৃতীয় নয়ন
শুধুই আমাকে দেখে - আর দেখে
শাঁখের করাতের মতো দৃষ্টি হেনে।
যার সামনে আমার স্খলিত দৃষ্টি,
আজোও খুঁজে চলে
শিল্পের আশ্রয়!
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বুকের ভেতর, গড়ের মাঠ!
একটা গড়ের মাঠ, সবার বুকেই আছে।
কখনো ফাঁকা, ঘাসের বুকে একা একা
হিরের নাকছাবি পরা ভোরের শিশির!
ডেকে যায় একটানা একা এক তিতির।
কখনো নিঃসঙ্গ ট্রাম চলে যায় একঘেয়ে
হুহু করে দগ্ধ বায় উঠে যায় সিঁড়ি বেয়ে।
ভিক্টোরিয়ার চূড়ায় বসে একা এক পাখি,
অপলক হলুদ রোদে কাটে আঁকিবুঁকি।
আকাশের খাম হতে খসে পড়ে পাতা,
দিয়ে যায় উড়ো চিঠি, বিরহের কবিতা।
ছুটে যায় ঘোড়া গুলো, বেতাল বিষন্ন।
বিকেলের হাওয়া বয় তালসুর ছিন্ন।
তাও চোখে প্রেম ছিল, ছিল অশ্রু প্রসন্ন ,
মেঘ হয়ে উড়ে যায় হৃদয় স্মৃতি শূন্য।
গড়ের মাঠের কাছে দিনান্তে সঙ্গ যেচে
নকল বুদির গড়েই, পৃথিবী বেঁচে আছে।
------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মেঘের মহাকাব্য!
আকাশ সেতো মেঘের অধীন, হারানো কৌমার্য!
লুকিয়ে ভাগে তেপান্তরে, পাহাড় - ডোবায় সূর্য!
মেঘ তন্ত্র, মেঘের সেনা খাটায় মেঘের শামিয়ানা
স্বর মন্দ্র, মেঘের হানা হঠায় - আদিম জ্যোৎস্না!
মেঘের পালক, মেঘের তিলক মেঘের শুভ্র ওড়্না
মেঘের পালে রোদের ঝলক আকাশ জুড়ে ঝর্না!
মেঘের হিয়ায় বাদল বাতাস ওড়ায় মধু - পর্ণা
মাদল তানে ওঠে হিল্লোল নাচে কুঁচ বর্ণ কন্যা।
মেঘের বুকে মিনার খাড়া, রজত মুক্তো বর্ণা
তুলির টানে আকাশ পটে ফেনিল শুভ্র ধর্না।
মেঘের মুখে অশ্নি চমক, বরষা পায়ে আল্পনা
হঠাৎ মেঘের উজাড় কন্ঠে মিয়া মল্হার মূর্ছনা।
মেঘ - হূণ, মেঘ - মোঘোল, মেঘ - পাঠান আর্য
মেঘের হাটে আকাশ সারা - নীল শূন্য শৌর্য।
--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ পরাজিত অভিমান!
আহত ইগোর শেকড় খুঁজতে গিয়ে,
স্মৃতির বাঁশ বাগান জুড়ে - খুঁড়ে যেতে হয়
জোছনা মাখা কার্পেট।
ছায়া জাফরিতে - আলো, মায়াবী সাঁতার কাটে!
ছুরির মতো পাতাগুলি গেঁথে যায় মাটিতে।
বিদ্ধ বেদনা কার্পেটের তলায়,
রক্তক্ষরণ লুকিয়ে রাখে।
উঠোনে ধ্রুবতারা রঙের রোদ্দুর খেলা করে
বারবার ভেঙে যাওয়া সমুদ্র স্রোতের ভীড়ে।
সাপের খোলস পড়ে থাকে নরম বিছানায়।
ছোবল গুলি, শীতঘুমের অলস আচ্ছন্নতায়
আহত ইগো ঢেকে রাখে।
ভেসে আসে স্বপ্নের অন্তর্জলী যাত্রা, শীৎকার।
বিবেকের ভেঙে পড়া কন্ঠস্বর। ব্যর্থ হাহাকার।
বিদগ্ধ জোছনা হেদিয়ে যায়, ইগোর তরজায়।
হেরে যায়, আহত অভিমান মর্মান্ধ ঈশারায়।
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ জল ধরা পাতা ও ফুলের কবিতা।
জল ধরেছে পাতা, চিকন আঁচল পেতে।
ফুলের পাঁপড়ি মেলে, শ্যামল বন বৃতে।
হাওয়ার ঝোঁকে গড়িয়ে গেছে -কতশত জল,
চমকায় তাও হাজার ফোঁটা এখনো নিশ্চল!
রোদের পরশ গায়ে মেখে, হীরের মত জ্বলে।
মেঘের ছায়ার তলে যেন পারদ বিন্দু দোলে!
ব্যাকুল বেগে বাতাস যখন টানে পুষ্প ঝুঁটি
পাতার নাচন দেখে রোদের সেকি লুটোপুটি।
জল ঝরিয়ে, জল ভরিয়ে জলের বৃষ্টি লেখা
রূপোর রঙে আঁকা জোকা রজত শুভ্র রেখা!
------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবিতা, তোমার শরীর জুড়ে....!
কবিতা, তোমার সারা..শরীর জুড়ে অপূর্ব নিসর্গ!
বকুল ফুলের সুবাস ছড়ানো, পর্ণ কুটিরের স্বর্গ।
শাল পিয়ালের ছায়ায় শুয়ে থাকা,
রোদ্দুরে পাতানো বক্ষ বিভাজিকা।
বালির চর -নেমে গেছে ম্যানগ্রোভ ঢাকা
বদ্বীপ পেরিয়ে দূরে, নির্জনে একা একা।
কবিতা, তোমার সারা শরীর জুড়ে, ঘন বরষা বিসর্গ
পাতার পরে টলটলে জল, ঝোড়ো মৈথুনে বিবর্গ!
---------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মসী চিহ্ন!
অদ্ভুত এক মসী চিহ্ন, চারিদিকে।
হেঁটে যাচ্ছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবক্ষ
মূর্তি হয়ে আছে! আড্ডা মারছে -
খাচ্ছে দাচ্ছে। এট্টুও আলো নেই মুখে।
আসর জমিয়ে গান করছে,
মঞ্চে আগুনে বক্তৃতা করছে;
সমাজ সেবা করছে, ডাক্তারখানায়
রোগী দেখছে! ওকালতি করছে,
ছাত্র পড়াচ্ছে, সরকারী অফিসে
কাজ করছে; সব্জী বিক্রি করছে
বিকেলে ফুচকা, তেলেভাজা নিয়ে
বসছে। এবারে ওরা, একজোট হচ্ছে।
গোটা দেওয়াল তাই, মসীলিপ্ত!
এখন মসী চিহ্নের হয়ে সবাই কথা বলছে!
ক্রমশ বানের জলের মতো ঢুকে পড়ছে
চিন্তন, মনন, শুভ চেতনার পিছে পিছে।
সর্বত্রই, মসী চিহ্নের জয়।
নিকষ অন্ধকারের বরাভয়!
এর বাইরে অচিন জগৎ
একা হয়ে যাওয়ার ভয়!
----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মোহনা মুক্তির স্বপ্ন!
কেন দুঃখের উৎসমুখ গুলি
আমার সামনে এসে, ঝরে পড়তে চায়
অঞ্জলীর ফুল পাতা হয়ে!
কতটা উষ্ণ করুনার প্রয়োজন
জমে থাকা হিমবাহের গলে যেতে?
দুকূল ভাসিয়ে সে রিক্ততা
সাগরে মিশে যাওয়ার আগে,
আঁকে মোহনা মুক্তির স্বপ্ন -
মরা নদীর নিঃস্ব দুই ভাগে!
প্লাবন অন্তে পাতা
রূপোলী লবনের রেখায়,
ডানা মেলে আবার -
নব দিগন্তের কবিতা!
----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ অগ্নিবর্ষনের সময় এখন!
অগ্নিবর্ষনের সময় এখন!
স্বপ্নের চিতা সাজিয়েছে যারা
তাদেরও পোড়াতে হবে বিলক্ষণ।
পা থেকে বুক, মুখ, চোখ থেকে
সুষুম্না কান্ডের দূর বুভূক্ষার পথ ধরে
মাথার নিস্তেজ হোমকুন্ডে
জ্বালাতে হবে আগুন।
এ আগুন পোহানোর নয়!
অগ্নিবর্ষনের সময় এখন
অগ্নিবর্ষনই একমাত্র পন।
অশোক তরুতলে, সীতার ক্রন্দনে
বানভাসি হওয়ার সময় এখন।
সাপ আর নেউলে এক হয়েছে।
হে ক্ষত্রিয় বীর্য রাম, তোল ধনুর্বাণ।
যুদ্ধ করার সময় এখন, ভোল অভিমান।
এখনও মৌন লঙ্কাধিপতি
ছলনার জোরে টিকে থাকতে চান।
সর্বগ্রাসী সে ছলনার নাভিকে
পুড়িয়ে করতে হবে, নিঃশেষ!
অগ্নিবর্ষনের সময় এখন।
অগ্নিবর্ষনেই হবে শেষ।
ক্ষোভের লেজে আগুন পড়েছে!
পুড়ে যাবেই অহং, ঘৃণা, শ্লেষ;
যত ভাতৃত্ব বিরোধী বিদ্বেষ!
অকাল দশেরা হবে এবার,
অগ্নি শুদ্ধ হবে আমার দেশ।
-------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ শিলা - বৃষ্টির যুগলবন্দী!
দারুন দহন শেষে
বৈশাখের অপরাহ্নে।
চরাচর ঢেকে আসে
ঘন বারিদ বরণে!
জানালা খুলে দেখি
শিলা আর বৃষ্টি
মিষ্টি দুই বোন,
মেঘেদের মেয়ে।
এসেছে ঝর্ণা ধারায়
চারদিক্ থেকে ছেয়ে!
ঝরছে আদুল হাওয়ায়
দ্বৈত কলতানে;
পথে, প্রান্তরে, পর্ণে
কিংবা বাড়ির লনে!
টাপুর টুপুর, শিলার নুপুর
বরষা ঝুমুর গানে
মলহার রাগ, সপ্তমে সুর
পাগল করা তানে!
---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সূর্যের মুখে, মেঘের বুক!
সূর্যের মুখে,
মেঘের বুক
পড়বে ঝুঁকে।
আকাশের দিকে দিকে
বিদ্যুল্লতার ঝিলিকে -
মেঘবালা তার বারি সুধা ঢেলে দিতে
সূর্যের বুক দেবে ঢেকে,
সঘন কাজল মগন সে আঁচলে তে!
মূষল পর্বে, রিনিকে ঝিনিকে
মেঘের কাঁকন বাজবে বুকে
তপ্ত বিবশ, ধূসর নিরস ধরনীতে।
ঝরবে ধারা -
দীগন্তের প্রিয় -সে নব ধারাপাতে।
সূর্যের সব জ্বালা শুষে নিতে
কূপিত রবির পোড়া মুখেতে
সিক্ত মধু চুম্বন দেবে এঁকে।
সূর্যের মুখে,
মেঘের বুক পড়বে ঝুঁকে!
--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সৃজণের নির্জন!
কবিতা -
তোমার শরীর জুড়ে নিসর্গ, গহন!
বকুল ফুলের গন্ধ ছড়ানো,
আল্পনা আঁকা, পর্ণ কুটিরের উঠোন!
শাল পিয়ালের ছায়ায় শুয়ে থাকা
দুই স্তবকের মাঝে বক্ষ বিভাজিকা।
চিকচিক চোরা বালির চর
ছন্দ যেন চির অমিত্রাক্ষর !
নেমে গেছে ম্যানগ্রোভ ঢাকা
বদ্বীপ পেরিয়ে একা একা!
কোথায় হারালো সে সৃজণের নির্জন?
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ দুঃখগুলো, সুখ সাজবে!
একদিন দুঃখগুলো সব সুখ সেজে
আসবে আমার অতিথি হয়ে!
আমার দাওয়ায় বসে শীতের রোদ পোহাবে;
রোদের দিনে শীতলপাটিতে বসে
গেলাস ভর্তি লেবু নুন জল, চুমুক দিয়ে খাবে!
একদিন যন্ত্রনা গুলো সব বন্ধু সেজে
মুক্তির মন্ত্রণা আনবে বয়ে!
ফুটো হয়ে যাওয়া চালা থেকে সেদিন
জল নয়, মেঘমুক্ত চাঁদনী ঝরে পড়বে!
একদিন কষ্ট গুলো সব কেষ্ট সেজে
সাফল্যের খুশি আনবে বয়ে!
পাথরের চাঁই খুদে খুদে সেদিন
ত্রিভঙ্গ মুরারী বেরিয়ে পড়বে!
একদিন ব্যথা গুলো সব উঠবে বেজে
জ্যোৎস্না রাতের বংশী হয়ে!
সেদিন দুঃখগুলো সব সুখ সেজে
আসবেই আমার অতিথি হয়ে!
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বেচারা অভিমন্যু!
এই গ্রহে অভিমন্যুরা
একদম একা আজও।
সাতশো কোটির চক্রব্যুহ
কেমন বোকা বোঝো!
সকলেই অস্ত্র উঁচিয়ে
মুখ আর মুখোশে।
স্থির বিশ্বাস অভিমন্যুর
সেই জিতবে শেষে!
ধান্দা আমার ধান্দা তোমার
তাই তো গোলক ধাঁদা!
একশোর নিরানব্বই আমরাই
কন্ঠা মেলান দাদা!
এই যুদ্ধে ভগবান ও কি গেছেন মিত্র পক্ষে?
সবার শত্রু অভিমন্যুর আর কি আছে রক্ষে!
কোথায় যাবে কোন চুলোয়
দিগন্ত মেঘে ঢাকা!
মঞ্চে কখন গাইবে বিবেক
নওতো তুমি একা!
------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মৃত্তিকার মাতৃত্ব!
আর কত দিন!
ধর্ষকাম চোখের আগুনে
ঝলসে যাবি এমনি করে?
বুঝি সব সয়ে গেছে,
নটরাজের ক্লিশে শরীরে!
ত্রিভূবন কাঁপানো সেই আন্দোলন
তাই আজ আর সংগঠিত হয় না।
লাশ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ এখন
দেহ আর মোহ নিয়ে মজে গেছে মন!
বিষ্ণুর ব্যবচ্ছেদের ব্যগ্রতা
আমাদের একান্ত সহজাত!
সুদর্শন হয়ে ফালাফালা করি
সতীর বুক, উরু প্রতি নিয়ত।
কিন্তু কোথায় একান্নটা?
একটাও পীঠ গড়তে পারছি না তো!
প্রতিমার উত্তল বুকে শুধু
লেপে যাচ্ছি কুশলী মৃত্তিকার মাতৃত্ব!
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এই তো দারুন!
এই তো দারুন!
খেয়ে পরে, সুখে মৈথুন।
পরপার নিয়ে না ভাবলেও চলবে।
আসলে বেঁচে থাকাতেই
যে সব বেলা বয়ে যায়।
সন্ধ্যার অন্ধকার
আদিম লালসায় জবজবে।
একটু লোভ তো হয়ই।
কিন্তু জীবন নিয়ে ভ্রান্তিবিলাস?
হায়! সে সময় কোথায়!
গুহায়, মন্দির গাত্রে
কি সংঘর্ষময় কল্পনার উন্মীলন!
সে অবকাশ এখনো আছে
দৈনিক আট ঘন্টার অতিরিক্ত হিসেবে।
জানা নেই
এই অভ্রভেদী মইয়ের সন্ধান পেল কে কবে!
মনে মনে কেউ কৌরব, কেউ পান্ডব!
ফাৎনায় চোখ গেঁথে,
দূর্যোধন হুঙ্কারে পৃথিবী ছুটছে!
যদি কোনো গন্তব্য জোটে।
তাও ভালো
অন্ধের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া
শূণ্য - মূল্য সেবা বিজ্ঞাপিত হলে
বিকিকিনির এই হাটে!
তবু সকলের নয়।
কারো কারো মনোবিকার আছে।
শর শয্যায় শোওয়া, ইচ্ছা মৃত্যু হাতে !
ক্ষত বিক্ষত তারা
জীবনের অন্য এক দায়ের কাছে!
--------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মূক লিরিক!
আপন মনে গেয়েছিলেম যে গান,
সে গান আজ
পেয়েছে তোমার কন্ঠ পরশ।
নীলকন্ঠী তুমি -
কৃতজ্ঞ করেছো,
করেছো আমায় চির বিবশ!
আপন গোপন ধৃষ্টতাকে
ধরে ওষ্ঠাধরে,
করেছো সদা উন্মুক্ত।
দিয়েছো নতুন সূর্য দেখার স্বাদ।
যদিও আগামী অন্তর্মুখী,
তবু তোমার তরে
এগিয়ে যাওয়ার রইল ক্ষীণ সাধ!
থিরথির কম্পমান,
তোমার কন্ঠ মণি!
হরষিত চোখ, মুখে স্মিত হাসি।
কখনো ভাবিনি
এত কাছে করে নেবে!
তোমার কোমল স্পর্শে
আমার এ হঠকারিতা
জীবনের দিশা খুঁজে পাবে!
যুগ থেকে যুগান্তরে,
এমনি কি জন্ম নেবে
তুমি অন্বেষা?
শতাব্দীর দীর্ঘশ্বাস বয়ে,
নতুন দীগন্তে লেখা হবে
মূক নির্বাকের ভাষা!
----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবিতা আমার পদ্ম পাতা হবে..!
ইচ্ছে হয় -
জানালা খুলে বসি
কবিতা লিখতে!
আর নয়
বদ্ধ ঘরে,
ঝড়ের অজুহাতে।
নিজের চোখে
দেখতে চাই
শীত তক্ষকের নিষ্ক্রমণ,
তপ্ত মেঠো পথে।
হয় হোক
কালীমালিপ্ত কবিতার পাতা
প্রবল ধারাপাতে।
মুছে যায় যাক আকাশ কাব্য
মেঘের কলঙ্কতে!
যদিও জানি -
আমার কবিতা পারবে না
কভু সবুজ, পিচ্ছিল হতে।
সোনাঝরা হবেই সে হবে
সূর্যের রাঙা কলমপাতে!
কোনোদিন-
হবে না সে বিবস্ত্রা,
নীরব হাট খোলায়!
ধুলি বিবর্ণ গোধূলিতে।
জেনে রাখো -
কবিতা আমার
পদ্ম পাতা হবে,
সব ঝড় জলের রাতে!
--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বৃষ্টি গুলো!
বৃষ্টি গুলো পাঁপড়ির গলগ্রহ হয়ে
ঝুলে থাকে রূপসী কন্যার মতো।
চুমকি জড়ানো আঁচলে ঝলমল
করে ভিরু হাওয়া, বাসনায় উদ্যত!
আকাঙ্খার গভীরে সে ঝাঁপ দেবেই!
মৃত্তিকায় শায়িত শিব, সদা জাগ্রত!
ওত পেতে থাকা সুপ্ত বীজ, বুক ভরে
সে মাধুরী শুষে, নবপত্রে হবে উত্থিত!
বৃষ্টি গুলো যেন মেঘ মুক্ত চুম্বন ধারা!
ছিন্ন মুক্তো মালা হতে ঝরে অবিরত।
পাতার অধরে, পাঁপড়ির বক্ষে, বৃন্তের
কোমরে -মায়া মৃগ সম চঞ্চল ও দূরন্ত!
বৃষ্টি গুলো কখনো আশাবারি, কখনো অশ্রু ক্লান্ত! রৌদ্র দগ্ধ বেদনার সাগর, আকাশে হচ্ছে ঘনীভূত!
-----------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বসন্তের সনেট!
প্রতিভার রোশনাই, অশ্বত্থ পাতার
চিকন ঢেউ ভাঙে; সূর্যের স্বর্নালী ধেনু
ভাসে হাওয়ায়, বসন্তের অনুরাগে।
প্রতিভার আগুন, শোণিত ধারায়
শিমূল হয়ে ফোটে; মন পলাশের সুখে
কবরীর দোলা, বসন্তের লাল ঠোটে!
প্রতিভার জাগরন, হীরের ঝালর
ঝোলায় শীর্ষ শাখে; রবির ভূষণ গলে
কাঁপে রত্নাবলী, বসন্তের ফাগ মাখে!
প্রতিভার আবাহন, হরিৎ হরষে -
কাব্য রচার আশায়; ভাস্বর হবে তপন
প্রেমের গোপন, বসন্তের ভালোবাসায়!
প্রতিভার সমাদর শেষে, ফুটপাতে বাঁধে বাসা !
কালের কালি, ধুলি মাখা বিগত বসন্তের ভাষা!
----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবিতা মাতৃক সভ্যতা!
কখনো সে আমার - প্রিয় জননী!
কখনো জায়া! কখনো বা দুহিতা।
কখনো আকাশ, কখনো বা ধরনী!
কখনো সে আঁধারে জ্বলা সবিতা।
কখনো দেয় আদর! কখনো করে ভণিতা!
কখনো রোদে মাখা, কখনো বা ছায়া পাতা।
কখনো সে মুখর, কখনো বা নীরবতা
কখনো মরুর বুকে জলের উদারতা!.
সে আমার - সকল জয়ের উদগ্র ব্যাকুলতা
আমার প্রিয়, নিভৃত যাপনের সাথী কবিতা।
আমার সকল পরিশ্রমের ফসল, পুষ্প লতা
মহাকালের বুকের উপর দাঁড়িয়ে নৃত্যরতা
সে নারী, জন্ম দিচ্ছে নব কবিতা মাতৃক সভ্যতা!
------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আমাকে চুপ থাকতে দাও!
এবার আমাকে চুপ থাকতে দাও!
পাথরের মতো নিথর, নির্নিমেষ চোখে -
দেখতে দাও, মানুষ পুড়ছে কত শোকে!
শ্বেত প্রস্তরীভুত ভ্রূক্ষেপ হীন দৃষ্টিতে
দেখতে দাও, জ্বলছে কত স্বপ্নের চিতে!
যদি আমার মরা চোখ ঢাকতে চাও, ঢাকো
নিকষ কালো কাপড়ে, আঁধার করে রাখো।
পাথরের রামলালা কে যেমনটি করে,
পরাও উষ্ণ চাদর! পরম সমাদরে।
তেমনি করে ঢাকো হৃদয় শ্বেত মর্মরে।
যদি কারো মনে হয় আমার এ নীরব নির্মিতি,
অকাতরে বিলোয় কেবলই অন্যায়ের সম্মতি!
তাহলে, আমাকে একা ছেড়ে দাও!
আমি আসলে একজন মৃত সেলিব্রিটি।
মানুষ মরছে, তাই করবো রাজনীতি!
------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ স্বপ্ন!
মৃত নদীর বুকে -
ঢেউয়ের আচড় কাটছে, স্বপ্নের তুলি!
দু -কূল প্লাবিত করা, সোনালী ফসল গুলি
পত্তন করছে রাজপথ আর তার বুলি!
জাতিস্মরের স্মৃতির ক্যানভাসে -
ধ্বংস প্রাপ্ত চারিদিক, জেগে উঠছে
নগরে, বন্দরে, কোলাহলে, কল্লোলে
ছড়িয়ে মাটির বুকে, ঘন হলুদ পলি।
বর্গীরা, হানা দেওয়ার আগে -
ফিরবে কি সেই স্বপ্নের জাহাজ গুলি?
নোঙর করবে - ঘুম ভাঙা চরে ..!
নামিয়ে যত দুর্বোধ্য, স্বপ্ন ভরা ঝুলি!
-----------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নষ্ট কল্পনা!
কবিতা -
আমি তোমায় মতই
আটপৌরে জীবনের ছন্দে
শীতের রোদ ওঠা খোলা ছাদে
বসে ফুলবড়ি দিতে দিতে
ঢলে পড়া নারকেল গাছের পাতা
ধোওয়া শিশির দিয়ে স্নিগ্ধ
করতে যাই,
তুমি -
বিকিনি ঔদ্ধত্যে শুষে নাও
সমগ্র সৌররস! চেটে যাও
স্খলিত পৌরুষের দুর্বোধ্য
অপরাধবোধ; তোমার বুক, উরু,
এক জোড়া অধর, সতীচ্ছদ আরো সব
উড়ো বৃষ্টি হয়ে ফোঁটা ফোঁটা
গড়িয়ে যায় আয়নার কাঁচে -
ধুয়ে দিয়ে নগ্ন এক শরীরের নির্মিতি।
যেন জলে পড়া ঝড়ের ছবি, তুমি শুধু
নষ্ট কল্পনাই!
---------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আদরের কাল!
অদ্ভুত সেই মোহ গুলি,
আদরের কাল কে, নেয় কেড়ে!
নীল শালোয়ারের নীচে
জেগে ওঠা চর -
মায়াবী রূপকথা গড়ে!
আদুরে সেই মায়া গুলি
আদরেরই কাল নেয় কেড়ে!
চুম্বন রত ঠোঁটের ফাঁক ধরে,
দীপক কিংবা মেঘ মলহারে
সময় নাচতে চেয়েছিলো
বৃষ্টি হয়ে আগুনের পরে।
চেয়েছিলো পৌঁছতে
পূর্ণ থেকে শূণ্যতে!
আলাপ থেকে শমে!
অন্ত থেকে অনন্তে,
ভূমি থেকে ভূমান্তে!
অদ্ভুত সে-ই ইচ্ছা গুলি,
আদরের কাল কেই নেয় কেড়ে।
খাদের মতো আদরের কিনারে,
ছুটে যাওয়া অদ্ভুত সেই তাড়া গুলি -
আদরের লাশটাকে, টানে সমাদরে!
অদ্ভুত সে-ই লালসা গুলি,
আদরের কাল কেই নেয় কেড়ে!

-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ অ-তিথি!
তোমার আসার সময় নিয়ে কোনো হেঁয়ালি চলেনা!
তুমি, কালের বোঁটা থেকে ভেঙে পড়া আকাশ
হয়ে আসো; যে আকাশ ফেটে ঝরে শুধু কান্না!
তোমার আসার হেতু নিয়ে চারিদিকে কত রটনা!
অহেতুক ভূমিকা করে, আসলে আগমনের
বিস্ময় কে তুমি জাদুহীন করে দিতে চাও না।
তোমার আসার খবর, তাও তুমি জানাবে না!
অকারণ পূর্বাভাস দিয়ে হঠাৎ আনা ঝড়ে,
কোনোকিছুই তো শ্মশানে নিয়ে যেতে পারবে না।
তোমার দেওয়া চুম্বনের স্বাদ, সবার কাছে অচেনা!
সবুজ সায়ানাইডের মতো, লালায়িত জিহ্বা থেকে
সারা দেহ জুড়ে ডানা মেলে -সে ঘন নীল অভ্যর্থনা।
তুমি সেই আগন্তুক, অজানা তোমার ঠিকানা!
অশরীরী হয়েও, এ শরীরটা তোমার সম্পত্তি কিনা!
বিদ্যুতের ঝলকের মত গ্রাস, হে আকাশের অতিথি,
কবে যে আসবে আবার, অতর্কিতে দেবে হানা!
কেউ জানে না, কেউ জানে না, কেউই জানে না!
------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ তাই কি তুমি এলে?
অনেক, অনেক দিন পর
তোমার স্মৃতির গন্ধরাজ -
ঘুমভাঙা চৈতালী রাতে
জমিয়ে দিল গাজনের আসর!
বিস্মৃতির বিগ বাজারে -
অপয়া বিড়ালের মত তোমাকে,
প্লাস্টিকের মুখ বন্ধ করা অন্ধকার
সমেত নামিয়ে এসেছিলাম।
সিলিকন হাওয়ায়,
কালবৈশাখীর আম কুড়োনো
গোধূলি গুলো গা ঢাকা দিয়েছিল -
যে যার মতন।
নগ্ন, রোদেল দুপুরে এক রত্তি
কাঁঠালের ছায়া -
বিকিনির হাটে ব্রাত্য তো হবেই!
তবু কখনো কখনো
মনে হয়, তোমার আমার
এই বিচ্ছেদ সহজে হবার নয়।
তাই কি তুমি এলে,
এক বুক নারীত্ব নিয়ে;
আমার ক্লীবতায়, একরাশ
আদিম আলোড়ন ছড়িয়ে দিতে!
--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শেকড়ের টানে!
ঐ যে দেখছো নৌকাটিকে!
তীরের নোঙর খুলে ক্রমশ-
ভেসে যাচ্ছে সাবালক দীগন্তে !
তার অতীত গুলো বিদ্যুতের
তারে বসা পায়রার মত প্রায়ই,
গম খেয়ে যেত আমার হাতে।
দীগন্তের অসীমে সে যেন
এক কুহকী, ধূসর পাখি।
ভেসে যাওয়া -ছেঁড়া পালক!
যে পালক দিয়ে কেউ আঁকে
প্রেম, কেউ বিরহ, কেউ বা
একে দেয় বিজয় তিলক!
হয়তো সে ফিরবে মাটিতে-
ঝুরি নামা বটের মত,
ভাসতে, ভাসতে, ভাসতে -
দুনিয়াটা নাকি গোল! তাই
ব্যর্থ সওদার শেষে, যদি
ফেরে - ফেলে যাওয়া সৈকতে!
ঐ যে দেখছো নৌকাটিকে -
ঝুরির মতো, সত্যিই যে
সে নামছে মাটির বুকে!
-----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এক গহন কথা!
একদিন এক বিরল ক্ষণে,
বিদ্রোহ করলো জনে, জনে।
হাত, পা, বুক, পেট, মাথা,
সক্কলে! এক সাথে, এক
হয়ে; উদাস মনটাকে
ধরে, শুধায় ক্রুদ্ধ স্বরে,
এ তোমার কেমন বিবেক?
কেমন হৃদয়? কেমনই
বা নির্দয়, ভেক? দিন রাত এক
করে, আমরা খাটি তোমার
তরে। কেউ হাঁটি তো হেঁটে যাই
কেউ দাড় টানি তো টেনেই যাই,
তার পরেও পেটের ক্ষুধা
তার পরেও বুকের ক্লেশ
তার পরেও পিষ্ট মাথা!
তোমায় কি ছোঁয় না কিছুই,
লাগে না একটুও মনে শ্লেষ?
তুমি ভাবো, কিন্ত সে কার কথা?
আমরা তো কেউ কবিতা নই!
তবে কেন কাঁদো, তার তরে?
কেন বা লেখো তার মর্ম গাথা?
শেষমেশ, মৌনব্রত ভাঙে মন!
আসলে তোমাদের কথাই শুনতে
আসে কবিতা। যেমন তীরের বুকে
আছড়ে পড়ে সমুদ্দুর। তীর থেকে
নিয়ে যেতে যত ঝড়, বৃষ্টি, রোদ্দুর!
--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ প্রজাতন্ত্র দিবসের ভোরে, মা ও ছেলের কথা!
(একটু গৌরচন্দ্রিকা করে রাখি, এখানে ছেলের ভূমিকায় ভারতীয় সংবিধান এবং মায়ের ভূমিকায় অবশ্যই ভারতমাতা)
ছেলে -
ঐ তো গেল রাত্তিরে,
মা এসেছিল ঘরে!
বল্লো খোকা ওরে,
কেমন যাচ্ছে বল্
রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে!
মা -
জন্ম, সেই পঞ্চাশে।
পড়লি, চুয়াত্তরে!
তোর কথাকি আর
মানে এ সংসারে?
ছেলে -
মানে, ভালোই আমাকে।
ভালোই, সাজিয়ে রাখে।
ধুলো ঝাড়া তকতকে,
লাল শালু মোড়া তাকে!
মা-
ভালোই লাগলো শুনে।
এত বদলেও তোর
আদর কমেনি জেনে!
ছেলে -
বোল্ছিস কি মা যা তা!
ঐ শুনতে লাগে, ছাতা।
কাটা ছেঁড়া কল্লো, কত্তো
কাটেনি শুধু মাথা!
মা-
বোলিস কি রে বেটা?
কোল্লো, এ হাল কেডা!
ছেলে-
বোল্বো কি আর, সে কথা -
(একটু থেমে)
তুইও কি বে-আক্কেলে?
জন্ম তো ভালোই দিলি!
ধর্মটা দিলি না ভুলে?
মা -
ও সব রাজার কালে হত।
কুল গুরুদের কথায় সে
রাজারা উঠতো, বসতো।
ছেলে -
সেই তো ভালো ছিল,
রাজার রাজ তন্ত্র!
সক্কল্কে রাজা মেনে
দিলি তো প্রজাতন্ত্র?
---------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শেষ সাঁকো
জীবনের শেষ ইচ্ছে আর শেষ
সম্বলের মাঝে, পলকা একটা
সাঁকো, স্বরবর্ণের মত একা
বাঁচতে চাইছে; নিরাশার ক্লেশ
মাখা রাত্রির আঁধারে, কাস্তে মার্কা
বিবর্ণ চাঁদ, সেও সূর্যের ছটা
ছড়িয়ে ভরতে চাইছে আধ পেটা
স্বপ্নের, ভুখা সালোকসংশ্লেষ।
পিঠ বেয়ে নেমে যাওয়া ভিরু, বাঁকা
স্বেদ ধারা, সেও বায়োস্কোপের
আঁধারে, ঋজু এক আলোকরেখা
হয়ে দিতে চাইছে, প্যার কা সন্দেশ!
জীবনের শেষ সাধ আর শেষ
সাধ্যের মাঝে এখনো বেচারা স্বপ্ন,
জিততে চাইছে বাজি শেষমেশ।
----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ "বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক"
মুষ্টি বদ্ধ একটা হাত
ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে জনতার
স্রোতে খাবি খেতে খেতে!
বঞ্চনার আলেখ্য হিমশৃঙ্গের চূড়ার মতো।
তবু লুঠের মাল পৌঁছে যাচ্ছে বন্দরে বন্দরে।
শত শত হাত - জোড় হস্তে দাঁড়িয়ে,
বাবু বিবির ঠোঁট চুঁইয়ে পড়া মধুর ভাগ পেতে!
ওই একটা হাত, মুঠোর মধ্যে ধরা ঘাম, রক্ত!
সহস্র শৃগালের হাঁ - মুখ এড়িয়ে,
ভেসে যাচ্ছে, বৃষ্টি হীন মেঘের মতো।
রাজপথের মঞ্চ থেকে তখন
উঠছে বিপ্লবের কোরাস!
ক্রমশ, ছড়িয়ে পড়ছে নীচে।
নীচে হেঁটে যাওয়া; হেঁটে, সেঁটে যাওয়া
টি - শার্টের পিঠের কানা গলিতে।
"বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক"
-----------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ রোদনের অরন্য!
এ হৃদয় যেন আমার, সত্যি এক অরন্য!
বসন্তের শৈশবে কচি পাতা, রঙীন পর্ণ,
সবই তোমার - দক্ষিনা হাওয়ার সৌজন্য!
গ্রীষ্মের কৈশোর জুড়ে, থোকা ফুলের স্বপ্ন!
একান্তই, তোমার খোঁপার শোভায় নিমগ্ন।
বর্ষার যৌবন -সে যে উদ্দাম প্লাবনে বন্য!
পত্র মিতালী আর হাওয়ার হেঁয়ালি ধন্য।
নীলাকাশে সাদা মেঘের আসা যাওয়ার জন্য
ব্যাকুল বায়ে পাতার উড়ান, হৃদয় উচ্ছন্ন।
হেমন্তে ঝরে সান্ধ্য শিশির, ক্লান্ত অবসন্ন!
ঝরবে কখন পাতার ফাঁকে, রাত্রি বিষন্ন।
শীতের ছোঁয়ায় শেষ পত্র, বিদায় আসন্ন!
পর্ণ মোচী হৃদয় যেন রোদনের অরন্য!
------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ডুবন্ত সূর্য!
ডুবন্ত সূর্যের পিছে ধাওয়া করে -
যদি বিষন্ন শালিক হতে হয়
গোধূলির হরিদ্রায়, হল্দে পায়ে!
যদি বিদ্যুতের তারে ঝুলে ঝুলে -
ঝরে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা হতে হয়!
যদি খোলা ছাদে, বেধড়ক ছুটে
দিনের শেষ আশা নিতে, লুটে পুটে
অপার দীগন্তের নীল নিঃসীম ছায়ে
পা রেখে চুমু খেতে হয়, ক্রমশ
তলিয়ে যাওয়া ঘন, কৃষ্ণ নীল অধরে!
ডুবন্ত সূর্য কি আসলে মায়া? ত্রস্ত শুক্রানুর
মত ক্রমশ ঢুকে যায় আঁধারের জঠরে!
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এবার তো আমায় থাকতে দেবে একা?
অনেক হয়েছে যুক্তির বেণী বাঁধা।
অনেক ঝরেছে মুক্তির বারি, সুধা!
এবার তো আমায় হারতে দেবে একা?
অনেক হয়েছে আকূল স্বরে কাঁদা,
অনেক দুঃখে, ব্যাকুল সুর সাধা!
এবার তো আমায় কাঁদতে দেবে একা?
অনেক উঠেছে ঝড়, বৃষ্টি, বাধা।
অনেক এসেছে কৃষ্ণ, দূর্গা, রাধা!
এবার তো আমায় সইতে দেবে একা?
অনেক ঝরেছে ফুল, শুভ্র -সাদা।
অনেক হয়েছে ভগ্ন বুকে কাঁদা!
এবার তো আমায় মরতে দেবে একা?
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবিতার ভোর চাই!
একটা স্বপ্নের ঘোর চাই!
যখন অনেক আলোকবর্ষ অতীত খুড়েও
ফুটে ওঠে না, এক চিলতে - স্মৃতির অমৃত!
একটা প্রেমের ঘোর চাই!
যখন হাজার ক্রোশ হেঁটে ক্লান্ত হলেও
কেউ দেয় না, ভিক্ষার ঠোঁটে ছোট্ট চুমুর পিরীত!
একটা কবিতার ঘোর চাই!
যখন লক্ষ বিনিদ্র রজনীর পরেও
এসে পড়ে না, কোনো করুন শব্দ ঝরার ইঙ্গিত!
একটা মৃত্যুর ঘোর চাই!
যখন অনেক, অনেক নববর্ষ পেরিয়েও
পাওয়া যায় না, একটিও তুচ্ছ বেদনার বিহিত!
একটা কবিতার ভোর চাই!
যদি কবিতার রেখায়, রশ্মিতে ফুটে ওঠে
জীবনের, যত ব্যর্থ কুসুম। সুপ্ত-অন্তর্নিহিত!
--------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আকাঙ্খা বিমুগ্ধ - শাল মঞ্জরী !
ভোরের আলোয় অন্ধ গলি গুলো যখন প্রজাপতির মতো রাজপথে এসে বসে, খবর কাগজের পাতায় সূর্যোদয় দেখতে এসে জ্ঞানের নুড়ি কুড়ায় তখন কেউ কেউ।
সেই সুযোগে ধীর লয়ে, উড়ে যায় - পাখনা বেয়ে
আদিম রাতের - রূপোলী পরী!
আসে সূর্য ব্যাকুল হয়ে, ছুঁয়ে যায় - রোশনি দিয়ে
আকাঙ্খা বিমুগ্ধ - শাল মঞ্জরী !
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মানুষ চায় জাস্টিস!
মানুষের কন্ঠে নালিশ,
মানুষ চায় জাস্টিস!
জাস্টিস চেয়ে মানব শৃঙ্খল কোলকাতার পথে!
কোনো শয়তান কিংবা কোনো ভগবান - আজ
নেই কারোর ক্ষমতা মারার কিংবা সাধ্য রক্ষে
করার। আজ জেগেছে মানুষ -
তাই নেই প্রয়োজন কোনো অলৌকিক সখ্যে!
হাত বাড়িয়েছে মানুষ,
মানুষই আজ দাঁড়িয়েছে মানুষের পক্ষে!

-----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আ - কাশ বনে হুড়োহুড়ি!
নীলাম্বরী নীলপরী, তোর্
বুকের গাঙে বৈঠা ধরি
পালটি তুলে, রোদের জলে
ভাসছে সাদা মেঘের তরী!
নীলাম্বরী নীলপরী, তোর্
নীল নভ নীড় আঁখি হেরি
কাঁপন ওঠে, পবন সুখে
আ - কাশ বনে হুড়োহুড়ি!

------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ আগুনের ঋণ শোধ!
চকমকির আগুন দিয়ে মানুষ গড়েছিল
অনল কান্তি ফুল বিতান।
ক্রোধ, ক্ষোভ, বিদ্রোহ, ক্ষুধা -সেই আগুন থেকে পেয়েছে তাদের বিমূর্ত শিখা!
কামনার ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি - সেই আগুনেই
মেলেছে তার তপ্ত হলুদ তৃষ্ণাতুর পাখা।
তঞ্চিত রক্তের হলুদ প্লাজমা রস - তাও আগুনেরই রঙে গড়া। সেই আগুন নিয়েই জ্বলেছে
দাবানল, জ্বলেছে সাজাল, জ্বলেছে চিতা।
আছে যত মন্দির, মসজিদ, গির্জা - সবেতেই
সেই আগুনের রঙে জ্বলে ওঠে নবারুণ দীপশিখা!
আগুন আজ ফুলের কাছে এসেছে, তার ঋণ
শোধ নিতে। আগুনের কোলে দোলা
খেতে খেতে তাই - ফুল আজ সহস্র কোটি
বিপ্লবের ফুলকি ছড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের চোখে!

------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বিরল সুখ!
রাত্রির আকাশ চুঁইয়ে, আলোর রূপোলী প্রলেপ দেওয়া বৃষ্টির প্রক্ষেপণ, কল্পনার সোনালী স্ক্রীন জুড়ে নামিয়ে আনে - গ্রীক মহাকাব্যিক নাটকীয়তা।
পাতায় পাতায় পড়া বৃষ্টির কল কল ধ্বনি কোনো অত্যাচারী সভ্যতার পতনের শব্দের চেয়ে কম সুখকর নয়।

----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ তোমায় বরং তিতলি বলেই ডাকি!
তোমায় বরং
তিতলি বলেই ডাকি!
তুমি আসবে বলে আমার ঠোঁটের
পাঁপড়ি মেলে রাখি।
আমার গালের কোমল স্পর্শে,
তোমার ভুবন রাঙিয়ে দিতেই
রবির কিরণ মাখি।
তোমায় বরং
তিতলি বলেই ডাকি!
তুমি আসবে বলে আমার সুখের
কোরক মেলে রাখি।
আমার মুখের মধুর স্পর্শে,
তোমার তৃষ্ণা মিটিয়ে দিতেই
অধর উঁচিয়ে রাখি!
আমি বরং তোমায়,
তিতলি বলেই ডাকি!
তুমি বসবে বলেই আমার বুকের
উজাড় রঙের ঝাঁকি।
সকল লাজের আগল ভেঙে
প্লাবন ভরা আঁখি।
তুমি আসবে বলে নাচন লাগে
বন্য বায়ে - উন্মুখী।
হলুদ রঙের পরাগ পায়ে
সৃজন সুখের উঁকি।
তুমি আসবে বলেই আমার গর্ভে
হলুদ বরণ চুমকি !
নবনীর স্রোতে - ডানা মেলে ওড়ে
স্বপ্ন রাঙ্গা আঁকিবুঁকি!
আমি বরং তোমায়
তিতলি বলেই ডাকি!

----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বৃষ্টি যখন সৃষ্টি মগন!
ঝরেছে বারি হীরে!
ধুয়ে দিয়ে কদম্ব পল্লব,
গবাক্ষের ওপারে!
ছড়িয়ে মুক্তোর মত বিন্দু স্বেদ
বেল মঞ্জরী পরে,
সে কোন্ কুহেলীর ভেজা কবরী
আলুলায়িত আকাশ জুড়ে!
হিসহিসে হাওয়ায়
ঝরছে বেল, বকুল!
শান্ত পর্ণ ছায়ায়
সোঁদা গন্ধে ব্যাকুল।
চোখ থেকে আরো দূরে -
যদি যেতে পারি,
খোয়াইয়ের পথ ধরে!
মোরাম ধোয়া লাল জল -
নয়নজুলির বুকে,
লাল শালুকের রেকাবির মতো পাতায়
টলটলে পারদ সাজিয়ে
ঝরে ঝরে পড়ে, বৃষ্টি রিমঝিম
কখনো মুষলধারে।
বাতায়নের পথে নুয়ে আসা
ঢ্যাঙা শিরিষ শাখে,
ওষ্ঠ লগ্ন জোড়া শালিক
ভিজে একসা, চোখে চোখ রেখে।
সুদূর আকাশে, কালো লোমশ গায়ে
ধামসা বাজে দ্রিম দ্রিম, দ্রিম দ্রিম লয়ে
ভূমিপুত্ররা আসছে বুঝি বৃষ্টি পড়ছে ছেয়ে!
নেতিয়ে পড়া পলাশের
সূচল পত্রাগ্র বেয়ে,
বিনম্র ধারাপাত ঝরে
স্বপ্ন সম্ভব ভ্রুণাধারে!

------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ টু লাইনার!
স্মৃতি যেন একটি হাইওয়ে! ধাবা গুলোয় জমে থাকে, আকাশের তারা হয়ে ওঠার গল্প! এলোমেলো বাতাস আর ঠুং ঠুং আওয়াজে - থেকে থেকে বেজে চলে সুমধুর রাশিয়ান অর্কেস্ট্রা। সিগারেটের ধোঁয়ায়, দূরে হোগলা বন ভেঙে ভেসে যায় চাঁদের হলুদ মায়া। কত অযাচিত তারা যে খসে পড়ে খাটিয়া গুলোয়, তার হিসাব জমা থাকে শুধু ধাবার ক্যাশ বাক্সে গুলোয়। এর মাঝে স্মৃতি গুলো কখন আবার বিবর্ণ হযে পড়ে - ফিকে হয়ে যাওয়া রাতের গাল বেয়ে নামা অদ্ভুত রোদের ছোঁয়া লেগে। স্মৃতি আর বিস্মৃতির মাঝে তখন শুধুই একটি পাপবোধে আক্রান্ত ঘাঁটিয়া ভোর চেয়ে থাকে জামা কাপড় খোলা রাতের আঁধারের দিকে চেয়ে।
শুধু মনে থাকে স্মৃতির হাইওয়ে ধরে চলে যাওয়া একটি দ্রুত অপসৃয়মান লরির পশ্চাতেদেশে লেখা সেই অমোঘ টু লাইনার টির কথা। "পাগলী, হাঁস না মত। প্যার হো যায়েগা"
---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ রবিবাসরীয় জোড়া কবিতা!
প্রথম কবিতাঃ
গঙ্গা বাইতে চেয়েছিল,
তপস্বী ভগীরথ!
পরিনতি শুধু - কাল পেঁচার সংস্কার!
ঊষর মরুভূমি পেরিয়ে, খালি হাতে
দুঃস্বপ্ন বিলোয় আশাহত নবকুমার!
পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতা
পুড়ে পুড়ে আজ বহুজাতিক।
আকাশে বাতাসে - গাছে গাছে
পাহাড়ে মিনারে - পাতায় পাতায়
জমেছে পুরু ভুসা কালির স্তর।
ঝিম কালো বিড়ালের মতন
নীল চোখ জ্বেলে আকাশে,
মৃত্যুর মতন তন্দ্রা হীন নিশাচর!
পাঁচ মাথার মোড়ে,
মর্মর মূর্তির মত নিথর জীবন!
পায়ে পায়ে ওঠা ধুলি ঝড়,
কপালের ভাঁজে ফেলে
ধূসর বালির, সফল উর্মি স্তর!
দ্বিতীয় কবিতা।
রৌদ্র দগ্ধ -
যত তরল অবয়ব, রুদ্র কঠিন চরাচরে
রাতের বাতাসে ঘন, ক্ষুব্ধ আঁধার জুড়ে
নামে বৃষ্টি হয়ে, অশ্রু ধারায় আর্দ্র হয়ে
কখনো টিপ টিপ, কখনো বা মুষলধারে!
কত নরম ভোরের সূর্য
সোনালী আলোর স্বর্গীয় অনুভুতি,
ওড়ে স্বপ্ন স্নিগ্ধ অবচেতনের পৃথ্বী জুড়ে।
আখেরে সে বলদর্পী সূর্য ই ওঠে মাথার পরে।
পুড়িয়ে মারতে যত দীন হীন নির্বল জর্জরে!
কেউ হয় পান্ডুর, কারুর কালশিটে পড়ে
কেউ নিমীলিত, কেউ বিবর্ণ মৃত্যুর নির্ঝরে।
তারই মাঝে চলে - সাত বর্ণের সালোকসংশ্লেষ!
শুধু তরল হারিয়ে যেতে চায়, শূণ্যে মহাকাশে!
হতে চায় বিলীন, শূণ্য, নিঃস্ব, নিরন্ন নিঃশেষে!
--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আহত ক্ষত
রোদের আদরে বেড়ে ওঠা সবুজ আজ
সবুজ বেষ্টনী গড়েছে, রাক্ষুসে নিশি প্রহরা দিতে!
নিষ্ঠুর রৌদ্র কনার সাথে
আর নয় মিলন নিভৃতে।
সবুজ কনা থেকে টুপিয়ে পড়া রক্তলাজ
আজ, উলংগ মর্গে! আগুন জ্বলছে আহত ক্ষতে।

----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নতুন গতি!
গতির জালে বন্দী জীবন, স্থবিরতার আশ্রয় খোঁজে একান্তে। স্থাপন করতে চায়, নয়া কক্ষপথ। জীবনের নতুন আহ্নিক ও বার্ষিক গতির ইতিহাস লেখা থাকুক কালের প্রত্নতত্ত্বে!

----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বর্ষা ক্লান্ত দিনের শেষে....!
বর্ষা ক্লান্ত দিনের শেষে,
সন্ধ্যা নামে কোন্ হরষে!
কৃষ্ণ মেঘে মুখটি ঢেকে
শ্রাবণ শশী - সন্ধ্যাকাশে জোছ্না নিয়ে পালায় হেঁসে।
দীপ জ্বালানো মানা! তবু জ্বালিয়ে
হার মানি, যখন মাতাল -
বাদল বাতাস পশে।
দেখি আকাশলতার বিচ্ছুরণে, উঠোন
আমার আলোর জোয়ারে ভাসে।
ক্ষণেক পরে - লজ্জা ভরে, বদন
ঢাকো আঁধার ঘন কেশে।
ছলাৎ ছলাৎ জলতরঙ্গ,
নিশি শোকে বজ্র রঙ্গ!
উঠোন বেয়ে, বাস্তুহারা
পিঁপড়েরা উঠে আসে।
পিচ্ছিল পথ, সর্পিল বাঁক,
সন্ধ্যা মালতীর শ্বাসে
কামিনীর সুঘ্রাণ এসে মেশে।
কেন তুমি আস না এই অবকাশে?
জড়িয়ে ধরতাম তোমায়, ঘন সন্নিবেশে!
যদিও জানি তুমি আসবে
ধীর পায়ে, ধীর লয়ে
ঘন আঁধারে, দাঁড় বেয়ে
উজ্জ্বল নবারুণোদয়ে,
আমায় চুমিতে অবশেষে।

-------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নিঃসীম রেখা!
পৃথিবীর দুই গোলার্ধকে জুড়ে রাখে একা এক নিরিবিলি, নিঃসীম রেখা!
কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ জুড়ে তার প্রসারিত দেহ, নির্জনতায় মাখা।
খালি বুকের মাঝে এখনোও এক ধূসর শালিকের উল্কি আছে আঁকা। নিমীলিত, ঝিম ধরা- স্থবির দুটি পাখা।

--------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বৃষ্টি এল ধেয়ে,
ট্রেনটি গেল নেয়ে!
ঝমাঝম বৃষ্টি পড়ছে, প্ল্যাটফর্মের চাতালে।
তার মধ্যেই ধমাধম ট্রেনটি এসে দাঁড়ালে!
ওমনি উথাল পাথাল, ভাবনার ঝড় জলে
কেমনি বা লাগে দু লাইন কবিতা না এলে।
কবিতাও কেমন, ঘুমিয়ে ছিল বৃষ্টির কোলে।!
শেষে সেই হেলেদুলে, চঞ্চল দুটি ডানা মেলে
উড়ে এল কপালে। যেন প্রজাপতি আঁচলে।।
আর্কিমিডিসের মতন খুশীতে ইউরেকা বলে।
বৃষ্টি একদিকে বাজাচ্ছে সন্তুর, নুপুর ঝাঁপ তালে
সৃষ্টির গান লেখে কবিতা, বৃষ্টি নিয়ে যায় রেলে।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ জলমগ্ন সাঁকো।
জলমগ্ন সাঁকো। হৃদয়ের এঘর থেকে ওঘর যাওয়া- খানিক বন্ধ রাখো!
সম্প্রতি বৃষ্টি তার জলের রঙ আর স্রোতের তুলি - রোদের হাতে তুলে দিয়ে বলেছে ভাই, এবার তুমি যেমন খুশি ফুটিয়ে তোলো, যেমন খুশি আঁকো!
-------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শব্দে বরং নিঃশব্দ আসুক...!
শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে
কোন্ ইমারত আমি গড়ি!
গুমোট বাঁধা রূদ্ধ প্রাসাদে
প্রাণের বাতাস খুঁজে মরি!
ঝিনুকে ঝিনুকে মুক্তোর খোঁজে
সাগরে সাগরে ডুবে মরি।
বাঁদরের গলে মুক্তো চড়িয়ে
হেরো শব্দের মালা পরি।
শব্দে বরং নিঃশব্দ আসুক
চাই না শব্দের হারিকিরি।
পাতা পড়ার শব্দ হারাক
গুটিয়ে শব্দের পাততাড়ি!
একান্তে বসে শুনবো বনে
হাওয়ায় গাছের মর্মরি।
দিনান্তে বসে শুনবো লনে
নিশি পোকার মিষ্টি লোরী।
শব্দ হারুক! শব্দের জামানত - হোক জব্দ।
সাদা থান মেলে দেওয়া গভীর রাত্রে, শুনবো
মন জোছ্নার দীর্ঘশ্বাস, হৃদয়কে করে স্তব্ধ!

----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ একক কবিতা পাঠ!
আজ ভরা বিকেলে,
একক কবিতা পাঠের আসর বসবে
নিঃসঙ্গ কুঞ্জ তলে!
সূর্য তখন মেঘেদের আড়ালে রবে।
কুলকুল রবে, ঝরাপাতা ভেসে যাবে
দূর নদীর জলে!
নিঃশব্দে নীরবে, মৃদুমন্দ ভাবে
তরঙ্গায়িত কুঞ্জ ছায়া, হারাবে
অতল জলের তলে।
দীগন্তে উঠবে বিদগ্ধ বিতনু ধোঁয়াশা
নির্জন বিকেলে
তটিনী ছল ছলে
উদাসী হাওয়া খুঁজবে না কোনো ভাষা!
এমনি করে জলে
যা কিছু আলো, হারাবে নিঃসাড়ে নিঃশেষে।
সাঁঝের তারা তলে
যবনিকা পাত হবে কবিতা পাঠে অবশেষে!

--------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শ্রাবণে, বসন্ত বিলাপ!
বৃষ্টি যেন,
কুহেলীর অধরে
ধরা ব্যাকুল অনুরাগ!
বৃষ্টি যেন,
ধুতরা, আকন্দের
ধুয়ে যাওয়া পরাগ!
বৃষ্টি যেন,
কোচ পাতার
ঢলঢলে যৌবন!
বৃষ্টি যেন,
ঘাসের শিসে
হীরের আভরন!
বৃষ্টি যেন,
খোলা ছাদে
ফিসফিসে আলাপ!
বৃষ্টি যেন,
শ্রাবণীর গাল চুঁয়ে
ভাদ্রতে- বসন্ত বিলাপ!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কুহেলী কি জানতো?
হঠাৎ বর্ষায় -
কদম ফুলের গন্ধ!
কুহেলী কি জানতো?
আচমকা লোডশেডিং এ
আমি তাকে........!
কম্পিউটারে কিছু স্লাইড শো
দেখছিল ও।
হঠাৎ বজ্রপতন
সঙ্গে বাতাস শোঁ শোঁ!
হয়তো মেঘ উঠেছিলো
অনেকক্ষণ, ঝরে পড়ার আনন্দ!
কুহেলী কি জানতো?
আমি তাকে এমন করে....!
ভুলে, স-ব দ্বিধা দ্বন্দ!
-----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বৃষ্টি জোনাকি!
হঠাৎ বৃষ্টি এলে দেখি,
উঠোনে দাঁড়িয়ে আছো -
উদাস চোখে - একাকী!
খোলা চুল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে
বৈশাখী নদীর অভিমানী প্লাবন।
কুলকুল কখনো কলকল স্বরে
বঞ্চিত শত বিপ্লবের বানী,
মুক্ত অধর চুঁইয়ে ঝলসে উঠছে
প্রতিশ্রুত চুম্বনের বজ্র হানি।
তুমি ভিজতে থাকো, জানি
তোমার বুকে মেঘের দরবার,
হাপুস চোখে ডুবন্ত সুখ পাখি।
তবু ভিজে যাও।
ভিজে যায় পথ বাতি।
শুধু অচেনা বাতাস এসে ঝরায়
অসংখ্য আলোর জোনাকি!
আমি অবাক হয়ে দেখি -
আঁধার জুড়ে বৃষ্টি মিছিল আর
হোগলা বনের অলৌকিকী।
বৃষ্টি যেখানে লক্ষ কোটি
হীরক বরণ চুমকি!
--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতা ঃ রূপনারায়ণ!
দিনান্তে ফেরার মন,
আদরের নারীর বুকে
জেগে উঠতে দেখে
আস্ত একটি নিঝুম তটরেখা।
নিঃসীম, ছায়া ছায়া
যেন গণেশ পাইনের জল রঙে আঁকা
সলাজ আড়ালের নিটোল, নিশ্চুপ আপন।
প্রতীক্ষায় ঝুঁকে পড়া - আদরের বসবাস।
সাঁঝের নিয়তি মাখা, অবনত কৃষ্ণ নয়ন।
নীচে তিরতির ঢেউ মেলে
অবিরাম, বয়ে চলে
ধূসর জলের রূপনারায়ণ!

---------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ রোদ সাঁতার!
সবুজ বিকিনি পরা রোদ পরীর দল
হলুদ বর্ণ হাজারো প্রদীপে সমুজ্জ্বল
সাঁতরে যায় উচ্ছল তরঙ্গে ভেসে ভেসে
হরিৎ কোচ পত্রের দীঘল ক্যানভাসে!

------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ খোদ, ধর্মতলায় আমার বাসা!
খোদ -
ধর্মতলায় আমার বাসা!
মেট্রো হলের উল্টো পাড়ে
The 42 ও নয়কো দূরে
ট্রাম রাস্তার গা ঘেঁষা!
শিমুল গাছের ডালের পরে
খড় কুটোয় গড়া খাসা
নিজের বাড়ি, নিজের নীড়ে
সকাল সাঁঝে ফিরে আসা!
খোদ -
ধর্মতলায় আমার বাসা!
হাজার গাড়ির পো পো স্বরে
উঠোন নিত্য ভিড়ে ঠাসা।
ব্যালকনি তে পাতায় ছিঁড়ে
রোদ্দুর মেঘ আসে খাসা।
শহীদ মিনার হীরেয় মোড়ে
রুপোর জলে সাঁঝের চূড়ে
নিয়ন আলোয় ভাসা!
খোদ -
ধর্মতলায় আমার বাসা!
সুখ দুঃখের হাওয়ায় দুলে
নিত্য লড়ে আকাশ তলে
আমার আপন - ভালো বাসা!
খোদ -
ধর্মতলায় আমার বাসা!

--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ যদি তুমি হাসো.....!
এসো তুমি একাকীতে!
নিষিদ্ধ স্বপনের কাঙ্খিত ছায়ানীতে
শুধু তুমি আর আমি -
মাঝে সুপ্ত অবচেতন চাহিবে জাগিতে!
পোঢ় ধরা রোদ্দুরে
ধূ ধূ করা সুদূরে,
কাখ ভরা জলচল
পথ বাওয়া ফসলের ঝমঝম
ধুয়ো তুলে চলে যাবে রহিতে রহিতে!
চেয়ে তোমার চোখে
বিহ্বল নীরবতায়
কালের উজান বাওয়া
নীল প্রত্যাশায়
শিহরণ জাগিয়ে তোমায় চুমিতে !
যদি তুমি হাসো,
ইতস্তত চোখে!
কুয়াশা সরিয়ে রোদের মতন
হাতে হাত রেখে,
কপট লজ্জায় রাঙা হতে হতে...!
নিশ্চিত ঢেউ হোত নিঃসীম বুনো সৈকতে,
দিগন্ত খেয়া হোত নীলনভে ভেসে যেতে!

------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বুনো প্লাবন!
ডানায় তখনো নীড়ের গন্ধ
মাখতে বাকি!
শেষে -
সবুজ অরন্যের পলকা চাঁদোয়ার নীচে
কাছাকাছি আসি, নিঃশর্ত বুনো প্লাবন যাচি।
উট পাখিরা তখন বালিতে মুখ গুঁজে।
কত শত অপমৃত্যু পালিয়ে স্বর্গ খোঁজে!
তার মাঝেই স্ফুরিত হয়
এক জাতক সম্ভাবনা
বিজন বনের মাঝে!
বুনো ফুলের গন্ধে গন্ধে
কাছে দূরে কোথাও
ঘাসে ভরা জলা থেকে
বাতাস ফেরে জলে ভিজে।
ফুরফুর শব্দে
শুকনো পাতা উড়ে যায়
বুক খোলা তির তিরে
বিপাশা নদীর নীরে।
দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়ে
উষ্ণ শ্বাস প্রশ্বাসের তপ্ত লেহন জুড়ে।
বেচারা নদী, আদিম লালসায়
তাকে শুষে নিতে চায়
হয়তো ভুল করে!
তবু পাখিদের কুহু তানে
যখন কোকিল সন্ধ্যা এসে দাঁড়ায়
অরন্যের নীল নীড়ে,
চলে গেছে নিষিক্ত সময়
বসন্তের হাওয়ায় ,
নীল নির্মোক ছেড়ে।

--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ গোধূলি
দিনান্তে গোধূলির বিরহ দেখে
বড় মায়া জাগে চোখে।
ব্যর্থ বিদায়ের বিষণ্ণ পদরেণু
ওড়ে অন্তিম আগুনের শোকে!
----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ তাই অহল্যা ...।!
হয়তো তোমায় দেখেছিলাম..!
দীঘির জলে,
বিস্রস্ত চলনে।
বসেছিলাম দীঘির পাড়ে..!
দ্রৌপদীর পাণি প্রার্থী হয়ে!
আমি একা!
মধ্যাহ্নের প্রখর দাহ তবু নীল শিখাহীন চারপাশ।
হেমন্তের বিকেলের মতো দ্রুত সন্ধ্যার বোরখায়
ঢেকে নিতে চেয়েছিলো নিজেকে।
অর্জুন তুমি শ্রেণী শত্রু
যুগ যুগ ধরে তোমার সম্ভোগের অহংকার
আঘাত করে ক্ষয়াটে চাঁদের পৌরুষে!
অবচেতনের আলেয়ায়
প্রশমিত হয় কত অলৌকিক নারী
মাছের আঁশের মতো রূপোলী জোছনা মেখে।
হয়তো তুমি এসেছিলে,
অহল্যা হয়ে!
আমি সেই পাপবোধ - পুরানের পথ ধরে
পড়ে থাকি শাপগ্রস্থ প্রস্তর হয়ে!
ঋষি গৌতম আজ জরা ক্লিষ্ট।
তাই অহল্যা
তার কৌমার্য হারায়
লুকানো রাতের নীল নিষিদ্ধ কাননে।
এখনো তুমি,
নীল নদের নোনা জলে নাইতে নামো।
নিশাচর তারার স্খলনে,
তুমি বিচলিত হও।
একান্তে ঋষি গৌতম যখন,
তাঁর দিব্য দৃষ্টি দিয়ে লিখে যান
মানব সভ্যতার আগাম ধ্বংসের ফতোয়া!
---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ভেজা ফুটপাত
বৃষ্টি ধোওয়া ফুটপাত,
কখনো আসর কখনো অবসর!
ভেজা পাতা, ভেজা বাতাস
কখনো আপন কখনো খুব পর!
------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ প্রিয় শুভ্রা
শরতের জল হাওয়াতেই ফোটে, তবু ব্রাত্য শরতের হাটে। পদ্ম, শিউলি, শাপলা, কাশ এরা তো আছেই, অনন্য সুন্দর শারদীয় মুদ্রা। তার পাশেই থাকুক না হয়, শুভ্র পাঁপড়ি, দিব্য রাগের সানন্দ প্রিয় শুভ্রা।
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এই শরতে, কুহেলীর সাথে .....!
অনেক, অনেক দিন পরে
কুহেলীর সাথে দ্যাখা!
টলটলে নদীর মতো, বর্ষা
উত্তর স্নিগ্ধতা মাখা।
সামনেই, দাঁড়িয়ে ছিল সে।
যেন পুজো সংখ্যার খোলা পাতায়
মুগ্ধ চোখ রাখা।
পরনে নীল রোদ্দুর
রাঙা জিন্স,
ছায়ার আবেশ মাখা।
পিঠে শিউলি ঝরা ঠাকুর দালানের কার্নিশ,
বিকেলের রোদে একা।
বুকেতে ছিল কাশের আমোদ,
তীরেতে বাঁধা নৌকা।
কিছু বলার আগেই,
সে গেয়ে ওঠে গান।
যেন নীলকন্ঠ মেল দেয় পাখা।
দূরে কোথাও বিসর্জনের সুর,
ঢাকের তালে বাজে বাঁশরিকা!
নিবিড় করে কাছে পাবার আগেই ধূসর জলে ভেসে যায় সেই কাঙ্খিত চির, প্রিয় কুহেলিকা!
------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ পঞ্চমীর চাঁদ
পঞ্চমীর চাঁদ - খোঁজে নীল বাদাড়, ত্রস্ত মৃগ মেঘ।
জোছনা মাখাবে সুখে, বুকে ব্যালকনির ভাবাবেগ!
-----------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ তৃতীয় নয়ন!
আকুল ভ্রু পল্লবে কাছাকাছি দু - নয়ন,
অস্বিকার তৃতীয় লোচন, জ্বলে অনুক্ষণ!
-----------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শালুক
শালুক, তোমার ওই ফুলের কাছে আমার অনেক ঋণ। তুমি উজাড় করে দাও, তোমার শেকড় ছেঁড়া বেদনা হয়তো লেগে থাকে ফুলের গায়, তোমার নিবেদনে তবু নিবিড় ভালোলাগার হাজার স্বপ্ন থাকে আঁকা। হাজার বছরের ফুলসাজি ভরার দুর্মর আকাঙ্খা, ছিন্নমূল হয়ে দেবীর পায়ে পায়ে যাযাবর হয়ে যাওয়ার দিব্য লালসা তোমাকে কেন যে এত বড় করে দেয়! বুঝতে পারি যন্ত্রনা লুকিয়ে হাঁসি মুখে থাকার সেই চির কিংবদন্তি সিন।
--------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নবমীর নিশি!
নবমীর নিশি, তিন পোয়া
চাঁদকে নিয়ে দিব্যি শুয়ে থাকে।
বিসর্জনের প্রাতে, আলোর চুমু
দিয়ে বিদায় জানাবে তাকে!
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ পুজোর শেষে!
পুজোর শেষে, মনের মাঝে
দূর বাতাসে, বেহাগ বাজে!
তবু সেই অদ্ভুত ভালোলাগা গুলি,
ঝুলে থাকে কুয়াশায় মুড়ে-
গাঁয়ে, গঞ্জে, আদিম শহরে;
গোধূলির কাশে, নদীর চরে।
আবার কখন সেই রোদেল নারী
মেঘ পরীদের পিঠে চেপে দাঁড়াবে, উজ্জ্বল ত্রিনয়ন হেরি! সরাবে করুন ক্লেদ আর জমে থাকা যত গ্লানি!
বোধহয় শরতের আশ্বিন মাসে!
আসবে সে তপ্ত কাঞ্চন বর্ণা
ঠোঁটের কোনায় বজ্র অশনি হানি।
----------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শারদ বীথি!
শিউলি, টগর, পদ্ম, রঙ্গনে
উচ্ছল বীথি আলোর চুম্বনে!
--------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সোনালী জোছনা!
সোনার জলে ধোয়া জোছনা,
অবচেতন মনের বায়না
মেটাতে বিমূর্ত ছায়া দের সাথে নিত্য
লীলা করে একান্ত নির্জন গলির মুখে!
রাজপথ জুড়ে ভব্যতার মেকি মিছিলে
হারিয়ে যায় অহল্যার সাথে পরকীয়ার
গোপন বাসনা।
দেবীর বিসর্জনে আওয়াজ ওঠে
'আসছে বছর আবার হবে
বছর বছর এগিয়ে যাবে।'
ভেতরের ঘরে তালা বন্দী
পড়ে থাকে কৃষ্ণের অবাধ্য দুষ্টুমি গুলো।
উঠোন জুড়ে তখন সিঁদুর খেলা, লতানো
পানের বোঁটা মায়ের হাত ফসকে
পড়ে যেতে চায় নিত্য
ওঠা পড়ার বন্য বুকে।
পরিত্যক্ত ঠাকুর দালানের
এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকে
ঝিমিয়ে পড়া কলা বৌ।
নিভিয়ে দেওয়া ঝাড় বাতির আবছায়ায়
আসর জমায় নিশি বান্ধবী জোনাকি গুলো।
বাইরে সোনালী জোছনা আবার
ছায়াদের সাথে একসাথে ভিজতে থাকে শিশিরে
ভিজে যায় সোনালী জোছনা অশান্ত নীল নিবিড়ে!
--------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ গোপন সুগন্ধ!
কথা হচ্ছিলো, ছাতিম তলায়!
ঝাঁ ঝাঁ গন্ধে, মাতাল হাওয়ায়
লালচে চাঁদ উঠেছিলো
কাশ বন ছাড়িয়ে,
ঝুলে থাকা আবছা কুয়াশায়!
কেমন মিষ্টি গন্ধ না?
কুহেলীর চোখে কল্পনার হানা!
তাই কি! নাহ্ না!
মিষ্টি গন্ধে তো থাকে
আপ্যায়নের জোছনা?
তবে?
কোনো আদিম সুগন্ধ!
নগ্ন কুন্তল বেয়ে গড়িয়ে পড়া নদী
যে গন্ধ ছড়িয়ে যায়
রোমাঞ্চিত চরে জেগে ওঠা
কোনো নাবিকের চোখে মুখে, সেই গন্ধ!
না না, তা কেন হবে?
কেমন ঝাঁঝালো, বোঝো না !
কুহেলীর গালে চৌম্বকীয় প্রণোদনা!
তাই কি! না ...না!
ও কথায় প্রেম নাই
কেমন ল্যাবরেটরি মার্কা ব্যঞ্জনা!
তবে!
তবে কিসের গন্ধ?
কুহেলীর মুখে ঝোড়ো দ্বীপের যাতনা!
আসলে এটি গন্ধের অতৃপ্ত বাসনা!
তাই?
হঠাৎই কুহেলীর বুকে
ঢেউ ভাঙে আস্ত একটা মোহনা।
দূর্বোধ্য এর পুলক,
দুরূহ এর ছন্দ।
উষ্ণ নিঃশ্বাসে মাখামাখি
গভীর তোমার গোপন সুগন্ধ!

--------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শেষে সেই আদরের নারী!
কবিতা, তুমি বেশ সুন্দরী!
ঠিক কার মত যেন -
শেষে সেই আদরের নারী
ভাবতেই, ভালো লাগে কেন!
তোমার শরীরের অনেক ঢেউ,
মহুয়ার গন্ধে মদির!
হারানো ছন্দ খুঁজে কেউ কেউ
পায় দেখা ভরা নদীর!
কবিতা, তুমি সত্যিই সুন্দরী
ঠিক যেমন আমি চাই।
বুকেতে বাদল, বদনে বারি
অধরে প্রিয় রোশনাই!
চুমু গুলো দারুন সবই
কপালে, গালে, বুকে!
অনুভূতিই আসল কবি
কবিতা তার সুখে!

---------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবিতার পরকীয়া!
কবিতা ছাড়া কবি সত্তা যেন
জল শূন্য নদীর ব্যর্থ পরিযান!
তবু অভিমানী কবি,
তার একান্ত প্রিয় কবিতাকে
বন্ধ তোরোঙের মাঝে একাকী ছেড়ে যান
সাবলীল শব্দগুলোর সাথে
পরকীয়ার আনন্দে মেতে যেতে!
দূর থেকে দেখেন, তার কবিতা
শব্দের বুকেতে মাথা রেখে কেমন
দুকূল ছাপিয়ে ভেসে উঠতে চায়!
শব্দগুলোর সাথে বাঁধতে চায় আদরের সে ঘর।
পাতায় পাতায় ছাওয়া মাত্রা ছাড়া অমিত্রাক্ষর।
তবু কবি অন্তরের কবি হয়েই থাকতে চান।
সে যে যাই বলুক না কেন!
তিনি বাহিরের রত্নাকর সেজে
আর একটা উই ঢিপির আড়াল খুঁজে যান।
অবহেলার নির্জনতায় যদি বেজে ওঠে
আরো একটি কালজয়ী মহাকাব্যের গান।

---------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ তোমায় করুনা করি!
কাক পক্ষিতেও পায় না টের।
ছুঁয়ে দেখে না কেউই।
খোলা বাজারে অক্ষত, পড়ে থাকে
কয়েক পিস - থিন এরারুট বিসকুইট।
আসলে ঠোঁটের ডগায় ধরার মতো হাতের বড় অভাব।
যেভাবে ব্যর্থ সঙ্গম শেষে পড়ে থাকে অন্তর্বাস কুঁচকানো বিছানায় ছড়ানো ইতিউতি,
খোলা জানালা দিয়ে রোদ এসে উঁকি মেরে দেখে- পড়ে থাকা 'তোমায় করুনা করি' লেখা ছোট্ট চিরকুট টি।
সেভাবেই ......!

--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নির্বাসন চাও, তুমি?
অবান্তর বৃষ্টি গুলো, প্লাস্টিক প্রকৃতির গা বেয়ে গড়াতে, গড়াতে আমার অরগ্যানিক বুকের এক পাশে পড়ে থাকা কবেকার সে বিস্মৃত হাটের ধূসরতায় আস্ত একখানা জংলা জমি গড়ে দেয়।
আসবে নাকি সে হরিৎ অরন্যে হলুদ প্রজাপতি হয়ে?
একটাই শর্ত! অনেক অনেক ফুল ফোটাতে হবে কিন্তু।
ফুলবড়ি দেওয়ার মতো করে, বনে বনে ঘুরে ঘুরে।
হাসছো যে? নির্বাসন চাও!
ঠাঁই হবে বহুতলের কাঁচ ঘেরা ঘরে!
অবান্তর বৃষ্টি গুলো আজ যেন অবাধ্য কিশোরী।
হেসেই যায় হেসেই যায়, হাসির বৃষ্টি ঝরিয়েই যায় কৃত্রিম বনের হরেক চরে।
যেমন, কুশলী মাথার এক প্রান্তে একদল সাঁওতাল নারী পুরুষেরা দিন রাত গলা পিচ ঢেলে ঢেলে রাস্তা বানায়। বৃষ্টিতে ভিজে, তাতে আজ কাগজের নাও ভেসে যায়।
আসবে নাকি তুমি আমার বাড়ি, ভেনিস নগরীর স্বপ্ন বয়ে?
দেখো একটাই শর্ত। নৌকো থামালে চলবে না কিন্তু।
অনেক অনেক স্বপ্নের ফেরি করতে হবে নদীর এপার থেকে ওপারে!
ভাবছো যে? ফুটপাতে ফিরতে চাও!
রাস্তা থাকলে তো রাস্তার পাশে পড়ে থাকার প্রশ্ন!
কত মানুষ ফিরবে দাঁড়িয়ে আছে এখনোও।
!এসো কিন্তু, আমার সুখী গৃহকোণে!

-------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কদম্ব বিলক্ষণ জানে!
হেমন্তের মেঘলা মনে,
প্রেম যে যায় নি মরে
কদম্ব বিলক্ষণ জানে!

---------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ছাতিম তলে!
বাতাস এলে ছাতিম তলে, সোনার চূর্ণ ঝরে
গন্ধে ভরে রোদের খেয়া, রোমাঞ্চে হৃদয় ভরে!
--------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ছায়া-শিব!
বিষন্নতা কাটানোর আলোগুলো
তখনো ভূমিকা হীন!
সাঁঝের বাতি হয়ে জ্বলবে যখন
শিব হয়ে ছায়া জাগবে নিশি,
রাত্রির পায়ে - নিদ্রা হীন!
-----------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কবি তবু অমরত্ব চান না!
আজকের লেখা,
কালকের হাটে ঠিক বাসি হয়ে যায়।
অদক্ষ হাতে, মাছি তাড়ায়
যত কাব্য কেরানীর দল!
আর্মেনিয় গীর্জার আদলে তৈরি শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে - ঘড়ি ঘরে লটকে থাকা বৃত্তীয় সময় যখন জিরো থেকে শুরু করতে চায় তার ইনিংস,
লাঞ্ছনার স্মৃতি দুয়ে বার করা কবিতার লাইন গুলো
তখনো বই ঘরে চিৎ হয়ে শুয়ে, জেগে ঘুমায়!
পরের দিন ফুটপাতে,
কড়া রোদে শুকোবে - দগদগে ঘায়ের মতন।
মাছি ভনভন করবে মৃত শরীর জুড়ে।
কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাত ধরে হেঁটে যাওয়া কবির পেছনে তাড়া করে যত রাজ্যের দুয়ো।
কবি ফরমালিন খুঁজে যান।
মৃত কবিতাকে চুবিয়ে রাখবেন, বাজি রেখে জান প্রাণ!
কবি তবু অমরত্ব চান না।
মৃতদেহের শোক কে পুষে রেখে বাসি হয়ে যাওয়া শব্দ শব আগলে যান।
কবি তবু অমরত্ব চান না।
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সবুজের মাঝে!
ভরা থাক হৃদয় সবুজ শোণিতে,
সবুজ রহস্যে মোড়া থাক!
সবুজের মাঝে শুঁয়োপোকা সেজে
সবুজের গ্রাসে বেঁচে থাক!
------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ফুলের স্বপ্ন!
সূর্য জানে, তার পথ চেয়ে কে নিশি জেগে থাকে?
তার ছোঁয়া পেতেই বা কে ভোরের স্বপ্ন দ্যাখে!
--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মায়া যুদ্ধ!
স্বপ্ন গুলো হাওয়ার তালে
দুলে যায় তরু ছায়া তলে!
কখনো রঙীন, কখনো সাদাকালো;
অতলে ডুবে যায় শাল গাছ গুলো!
শুধু সেগুন মঞ্জরী ঝুলে থাকে
তোমার ব্যালকনির মত বুকে!
দেখি, দাবানল ধেয়ে আসে!
তবু দুলে যায় তরু ছায়া,
নদীর জলে ভেসে ভেসে!
তুমি দাঁড়িয়ে থাকো, মায়াবী মানচিত্রের মতন!
তোমার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে,
কতই না দেশের সীমান্ত জেগে ওঠে!
প্রেম আর ঘৃনা, আহ্লাদে দু চোখ বুজে
নিত্য যুদ্ধ করে, তোমার গোলাপী ঠোঁটে!
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সোনা কি গাছে ফলে?
গাছেই ফলে বৈকি!
সোনার এমন কুসুম সজ্জা,
আর কোথাও দেখা যায় কি?
গাছেই ফোটে, গাছেই সাজে
গাছের ঠোঁটে, শিশিরে ভিজে
কনক আভা বিলায় না কি!
রোদের চুলে, হাওয়ায় দুলে
মঞ্জরী খুলে, রাঙা বনতলে
কাঞ্চন চূর্ণ ছডায় না কি!
পাতার কবরী, স্বর্ণকান্তা তরী,
ধুলি পথে সোনা ঝরে ভরী ভরী!
তাকে সোনাঝুরি বলে না কি!
------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ নির্জন ঠোঁট!
কবে থেকে
তোমার নির্জন ঠোটৈ
বসে আছি ওঁত পেতে!
নির্জনতা প্রগাঢ় হলে
হেমন্তের শিশির, টুপ স্বরে
চুমু খায় শাল বনের মুক্ত অধরে!
আমি ঝড়ের আগের অরন্যের মতন
নিশ্চুপ, নিঝুম, পদ্ম জলে
বিদ্যুতের ঝিলিক খুঁজে যাই,
বাতাস হয়ে বইবো কতক্ষনে।
তোমার ঠোঁটে - অজন্তার খোদাই
করা নারীর অলীক আকুলতা!
দিনে দিনে ক্ষয়ে যায়,
হারানো স্রোতের গড়ানে!
দেখি, গোলাপী ঠোঁট গুলো
ছিঁড়ে পড়া বকফুলের মতন
বিক্রি হচ্ছে জন অরন্যে!
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বিরহী নক্ষত্রের আলো!
প্রথমে পালিশ!
তারপরে রঙ ও রঙের সাত
সাত টি বার্নিশ!
তারপরে প্রলেপ!
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়
তুলিকার প্রক্ষেপ।
শেষে মাটির শরীর,
ধুয়ে দেয় - জল শিশির।
জীবন বাঁচে জীবনের টানে,
নদী জানে বিসর্জনের মানে।
রাতজাগা বিরহী নক্ষত্রের আলো
অমাবস্যার রাত্রে, নামে টলোমলো
বিবস্ত্র, কাঠ খড়ের অবয়ব হীন মনে!
আবারো আসছেন, মা!
ডুবে যাওয়া রাঙা চরণ, নদী
ফিরিয়ে দিচ্ছে কালের শরণে!
----------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ একাকী সময়! একাকী সময় গুছিয়ে নিতে চাইছে তার পাওনা গন্ডা!
বিদ্যুতের তারে বসা একা এক কাজলপাতি পাখি, যদি মগ্ন সুখে নির্জনতার সব টুকু শুষে নিতে চায় তো ক্ষতি কি!
প্রকৃতি কি জানে, তার নীরবতার মূল্যে কেউ কেউ একাকীত্ব কিনতে চাইছে?
এইটুকুই!
------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ রোদের আদর!
রোদের আদর যদি একান্তই সুখের স্পর্শ আনে, কুয়াশার রাতভর জড়িয়ে থাকার স্মৃতি কি এত সহজে মিথ্যে হয়ে যায়!
নদীর বুকে এক চিলতে ঠাঁই খুঁজে পেতে, ঠোঁটের এক দিগন্তে ঠিক ভেসেই থাকে, ভেসেই থাকে।
-------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ সবুজের মাঝে!
ভরা থাক হৃদয় সবুজ শোণিতে,
সবুজ রহস্যে মোড়া থাক!
সবুজের মাঝে শুঁয়োপোকা সেজে
সবুজের গ্রাসে বেঁচে থাক!
----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ রতনে রতন চেনে, কুসুম চেনে কাননে!
প্রকৃতি তার সেরা সৃষ্টি গুলোকে সকলের অলক্ষ্যেই রচনা করে থাকে। আনাচে কানাচে, লতা পাতার দেহাতি ভিড়ের মধ্যে, সকল বিদগ্ধ দৃষ্টি এড়িয়ে এমনিই এক কেতাহীন অবস্থায় আপন শোভার মহিমা ছেড়ে যায়। যে চেনার তাকে ঠিকই চিনে নিতে পারে। রইল বাকি মান পত্র, তা তো তোলাই থাকে কালের দেরাজে। আর কি, চাই!
--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কুঁড়ি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা!
কমল বনে আমার কুঁড়ি হয়েই থেকে যাওয়ার আকাঙখা! ফুল হয়ে ঝরে পড়ার আগে, ভ্রমরের যদি না পাই দেখা!
------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ দূর ছাই!
দূর ছাই, কি লিখি
তাই - ভেবে যাই!
কোথা, কোথা ঘুরি বনজল, বাদাড়
কোথা যে ফোটে রঙ কল্পনার বাহার!
কে ...জানে?
শেষে দেখি,
আনমনে
জামরুল, লেবু আর জবার ছায়ায়,
রোদ, মুখ গুঁজে শুয়ে আমের পাতায়!
ওইখানে, থিতু হয়ে বসি। খানিক
ভেবে নেই - অন্য মনে!

--------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ অদৃশ্য দূরে!
একটু দূরে, প্রজাপতিরা ওড়ে!
এমনিই, হালকা হাওয়ায়
রঙীন ডানা নেড়ে!
তার একটু দূরে,
কেউ যেন, তিল তিল করে
বালির প্রাসাদ গড়ে।
রোজ সন্ধ্যায়, গন্ধ ছড়ায়
মাধবীলতায়; দক্ষিণের ব্যালকনি জুড়ে!
ঘন চুল উড়িয়ে, ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে
কেউ যেন, মুক্ত অধরে
লুকোনো নদীর কবিতা পড়ে!
যে নদীর পাড় ধরে
হেঁটে যায় দুজনে,
দুজনকে জড়িয়ে ধরে!
যাদের উষ্ণ ঘন নিঃশ্বাসে,
নদী শেষে , মোহনায় এসে মেশে।
তারপরে ধূ ধূ ধোঁয়াশা, গাঙচিলেরা ওড়ে!
জানি না উড়ে যায়, কোন অদৃশ্য দূরে!

-------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এ শহর!
হিসেবের অ্যাবাকাস ভুলে সবুজের বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাক, এ শহর।
ধোঁয়া ধুলোর রাজপথ ছেড়ে সবুজ অরন্যের মাঝে হারিয়ে যাক, এ শহর!
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বিষুবরেখা!
একা পৃথিবীও বড় একা
ভূমিকম্পে, ঝড়ে, জলোচ্ছ্বাসে,
প্রেমে, বিরহে, ধ্বংসে কিংবা উদ্ভাসে
কিংবা পৃথিবী ছাড়িয়ে উড়ে
যাওয়া কোনো পাখির চোখে
একাকী এক নীল জল বিন্দু যেন।
তৃষ্ণা মেটানোর এক আঁজলা জলেও
যার এক ফোঁটা নেই ভূমিকা।
মৃতদেহ বিচ্ছিন্ন নীল, নিঃসঙ্গ চোখের মতো
যাকে নিয়ে অসম্ভব কোনো স্বপ্ন দ্যাখা!
শুধু বিপন্ন বোধে,
একা এক অক্ষিগোলক
কল্পনার নিঃসঙ্গ বৃত্ত ধরে টেনে যায়
নির্জন এক অলীক বিষুবরেখা!
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ছোট্ট নদীর গল্প!
ওই
নদীর বাঁকে
লুকিয়ে থাকে, আমার স্বজন ঢেউ!
পারের হেতু
হৃদয় সেতু, পাতবে কেউ না কেউ!
নদীর বুকে
মুখটি ঢেকে, গভীর গহন সুখে
বইছে ধারা
পাগল পারা, রোদের আদর মেখে!
নদীর পাড়ে
ঘাঘরা মুড়ে, সবুজ পাতার হারে
জলের ছলে
কোমর দোলে, অলীক সুখের ঘোরে!

------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ জলচল!
ঝিলমিল জলে রোদ্দুর,
এক টোকায় সমুদ্দুর !

----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ পালিত পাখি! পালিত পাখির আকাশে খাঁচার অন্তরাল তবু গমের দানার রঙে রোদ এসে রোজ সান্ত্বনা দিয়ে যায়, বলে এটাই জীবন একেই মেনে নিতে হবে চিরকাল!
---------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সম্ভোগের দৃষ্টিপাতে!
বনানীর ঠোঁটে হলুদ দাবানলের লিপস্টিক
আগুন ধরিয়ে দেয় দূর্বল মরা স্রোতে!!
পাগলের মতো ছুটে যায়, সু-উত্থিত নগরীর
সুশোভন অন্তর্বাস পড়ে থাকে সৈকতে।
মোহনার মুখে দৃপ্ত শুক্রাণুর মতো চন্ড মাতন,
অগ্যস্তের মত সবটুকু চায় শুষে নিতে।
ঝড়ের চোখে অসহায় পাখির বাসা হয়ে ডুবে
যেতে যেতে, মজে যেতে চায় অলীক সুখে মেতে!
শেষ মরনের সুখে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে, সিক্ত
চুমু হয়ে ঝরে পড়তে চায় জানালার শার্সিতে।
অতৃপ্ত গঙ্গা হয়ে বয়ে যেতে যেতে জলের আঁচড়
কেটে, গোপন বদ্বীপ চায় নিভৃতে গড়ে দিতে!
উত্তরণের শেষে একাকী এক হেমন্তের রাতে,
পড়ে থাকে শুভ্র শিশির, সম্ভোগের দৃষ্টি পাতে!
-------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ চাঁদেরও আড়াল লাগে!
চাঁদেরও আড়াল লাগে!
সূর্য ডোবা আকাশের আঁধার লাগে।
তারাদের নির্বাসন লাগে!
জোছনা ঢাকা কুয়াশার নৈশ বসন লাগে!
শিরিষ শাখের পাতার ঝালর লাগে!
বাঁশ বনের ছায়ার ফাঁক গলে
দীঘির জলের ছোট ছোট ঢেউ লাগে!
চাঁদেরও আড়াল লাগে!
নগ্ন চাঁদ, আকাশকে বড্ড অশ্লীল করে তোলে!
কখনো কখনো তাই
পাহাড়ের উত্তুঙ্গ চূড়া কিংবা বহুতলের
আকাশচুম্বী আড়াল লাগে!
চাঁদেরও আড়াল লাগে!
-------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মোবাইলে আছি!
মোবাইলে আছি, মোবাইলে বাঁচছি, মোবাইলে শ্বাস নিতে নিতে মোবাইলের সাথে প্রেম করছি। নীরবতা ভেঙে যায় ট্রেন; তবু দূরে নেই আমরা, দেখো একে অন্যের পাশে কতটা নিবিড় কতটা নিখুঁত কাছাকাছি!

---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ অবচেতনের ফুল!
চেতনায় যখন শিশির ঝরে,
পাতায় পড়ে টুপটাপ!
চৈতন্য তখন স্রোতের জলে
ঢেউয়ে ভাসে বালু ছাপ!
নেশায় যখন
অচেতন বিস্ময়,
তারারা আকাশে পোড়ে!
অচৈতন্যের জীবন ওড়ে,
কয়েক আলোকবর্ষ দূরে!
জানি না,
তাকে ছুঁতে চেয়ে
করেছি কিনা কোনো ভুল!
কুয়াশার ঘোরে
তাই কি
থাকে মুড়ে
অবচেতনের হলুদ ফুল!
--------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ দিশা!
কারা যেন ছায়া ফেলে,
পায়ে পায়ে দলে দলে!
পিঁপড়ের মতো ওজনের
বেশী স্বপ্নের বোঝা বয়ে!
গোবর লেপা সাধের উঠোন জুড়ে
শুধুই এলোমেলো দাগ - চলে খুঁড়ে ...
এর শেষ কোথায়?
ছাতিম তলে জল বাতাসার ছলে
শুধু এক বৃত্ত ছায়া, নিত্য যায় দুলে!
জীবনের শেকড় গুলো,
জলে কাটা দাগের মতো
ফালতু হয়ে যায়, এক পলে!
ঘাসের ডগায় শিশিরের কুচি গুলো
যে হীরে নয়, স্পষ্ট হয় যায়
আকাশ মেঘে ঢেকে গেলে!

------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ফুটে উঠতে চাইছে গাঁদা!
পাঁপড়ি গুলো ঢেউয়ের মতন, কুঁড়ির পাত্রে সুধা!
প্লাবন সুখ আগলে রেখে ফুটে উঠতে চাইছে গাঁদা!
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শিশির ও সূর্য !
শিশির এসেছিল রাতে!
সূর্য এসেছে, প্রাতে......!
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সুদূর অনামিকা!
চরে বুঝি ঠেকে গেছে নৌকা!
খোলের তলা থেকে জল
সরে গেছে, ভাবের অতল!
পৃথিবী এখন,
ছন্দ মাত্রা হীন দিনলেখা!
আকাশের তারাগুলো, প্রাণহীন রূপকল্প!
রাত্তির শুয়ে পান্ডুলিপি লেখে,
ধূধূ চিকচিক; বালুময় মরু গল্প!
হলিউডি সাসপেন্সের মিউজিক
হঠাৎ ভেসে আসে কানে!
অলৌকিক কোনো শব্দ যেন
আসবে এখুনি চরে নেমে
মৃত লখিন্দরের প্রাণবায়ু হয়ে
আবারো ভাসাবে সুনীল সাগরিকা!
নিরুদ্দেশে যাওয়া শব্দগুলো যদি
আসেই ঢেউ তুলে, প্রবল আনন্দি,
আমি কবিতার খড়কুটো ধরে,
ভেসে যেতে চাই দূরে বহু দূরে !
শিরোনামে লিখে দেবো, সুদূর অনামিকা!

-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আকাশ, সেও তো...।।
আকাশ, সেও তো
দিগন্তের যুদ্ধে মাটির সাথে সন্ধি করে!
----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ প্রিয় চোখে দেখা!
অত সহজ নয় মুগ্ধতার কবিতা লেখা!
অনুরাগে রাঙা মুখে, প্রিয় চোখে - তাকে দেখা!
--------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শরীরী স্পর্শ!
আমার বুকে জলের ভার!
যে জলে তোমার মুখ থাকে ভেসে; শরীরী
স্পর্শ খুঁজে সে নিত্য সরায় মেঘ দুহাতে!
--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ পাতা ঝরা পথেই!
পাতা ঝরা পথেই,
নৈঃশব্দ্যের শিশির, ঝরে পড়বে!
শুধু আলো নিভে যাওয়ার অপেক্ষা!
-------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ বিপন্নতা!
অপরাহ্নের আলো এসে পড়েছে বিপন্ন ব্যালকনির গায়ে, নীচে দাঁড়িয়ে থাকা টানা রিক্সাটি যেন বেলা শেষের বিপন্নতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।
হঠাৎই নাটকের শেষ দৃশ্য হয়ে ওঠে বিপন্ন বেলার অচেনা ফুটপাত!
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আমার প্রিয়,
জোড়া তাল ও মাঝের খেজুর গাছ!
তোমাদের নিয়ে কবিতা লিখবো কিনা ভাবতে ভাবতেই শীতের বেলা শুয়ে পড়ে আলো নিভিয়ে!
কল্পনায় ভেজা বাষ্প - সম্পৃক্ত হলে, ভাবনার অধঃক্ষেপ গুলো ঝরে পড়ে বটে শিশির হয়ে; কিন্তু সে তো প্রবন্ধ!
রূপে রসে পোয়েটিক জাস্টিফিকেশন পাই কোথা!
ইতিমধ্যে, কখন যে ভোরের রোদ এসে নাটকীয় ভাবে ভাঙিয়ে দিয়ে যায় ভোরের স্বপ্ন! উপন্যাস তো কোন ছার, ছোট গল্প, অনুগল্প ও হয় না সম্পূর্ণ!
স্মৃতির পর্দায়, শুধু লটকে পড়া রহস্যময় রূপকথা
হয়েই থেকে যাও আজীবন!
কিছুই হোল না যে,
ইতি
তোমাদের
দেবাশিস জানা
---------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ পারানির কড়ি!
নৌকা যখন ভাসে সবাইকে নিয়ে ভাসে।
যখন ডোবে সবাইকে ডুবিয়ে ডোবে!
শুধু ভেসে থাকে পারানির কড়ি,
ভাসতে ভাসতে শেষে
সেই একমাত্র জীবনের খেই হয়ে
এসে পৌঁছায় অগতির তীরে।
তাকে পাওয়ার জন্য লড়াই করে কিছু বুদ্ধিমান মানুষ। কিছু মানুষ শুধু ঢেউ গোনে।
----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ পদ্ম বনে!
শিশির এসেছিল রাতে!
সূর্য এসেছে, প্রাতে......!
--------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ ফুটে উঠতে চাইছে গাঁদা!
পাঁপড়ি গুলো ঢেউয়ের মতন, কুঁড়ির পাত্রে সুধা!
প্লাবন সুখ আগলে রেখে ফুটে উঠতে চাইছে গাঁদা!
-------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ চান ঘরের টুপটাপ!
কুয়াশার চান ঘরে,
পাতায় শিশির ঝরে!
---------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নয়নতারা!
প্রেম, অপ্রেম, ঈর্ষা কিংবা নব আনন্দধারা;
চোখের কোলে নিত্য খেলে, সাক্ষী নয়নতারা !
------------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ তোমার বক্ষ বিভাজনে...।।!
তুমি বরং নদী হয়েই থেকো!
স্রোতের পক্ষে থাকবো আমি;
কথা দিচ্ছি, ভাঙ্গবো না কূল,
আনবো না ঢেউ এক চুল!
তুমি বরং আমায় নিয়ে
মনের ইচ্ছে জলে ধুয়ে
যেমন খুশি এঁকো!
জোয়ার এলে গা ভাসাবো,
ভাটার টানে হেদিয়ে যাবো!
কথা দিচ্ছি, উজান ঠেলে
যাবো না ঐ তীরে চলে।
তুমি শুধু উজাড় বুকে,
আমার ঠাঁই টি রেখো!
তুমি বরং নদী হয়েই থেকো!
আকাশ যদি ভেঙেও পড়ে,
ঝড়ের তোড়ে - দুকুল ওড়ে !
কথা দিচ্ছি, পালাবো না
পাখির মতন মেলে ডানা!
তুমি শুধু উদার মনে
তোমার বক্ষ বিভাজনে,
আমায় রেখো সাঁকো!
তুমি বরং নদী হয়েই থেকো!
----------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ কুঁড়িগুলো ফুল হবে!
সেদিন ও এমনি ভোর হবে,
কুঁড়ি গুলো যেদিন ফুল হবে!
------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ ঢলে পড়া জীবনের জলছবি!
ঢলে পড়া জীবনের জলছবি!
এর বেশী কিছু বুঝতে চাওয়া নিরর্থক। বরং নিশ্চুপ, নীরবতার সঙ্গ খোঁজা যাক কিছুক্ষণ! প্রগলভ জীবনের শুধুই ব্যাকুলতা, সফল হওয়ার।
অনেক কাজ পড়ে থাকে, সেখানে!
অনেক দরকারী কথা বাকি থাকে বলার।
শুধু ব্যাথা গুলোই অনাহুত অতিথির মতো ফিরে ফিরে যায় কাজের বাড়ির ড্রয়িং রুম থেকে।
কথায়, কথায় কখন যে সম্ভোগের অমৃত গলে পড়ে যায় আঙুলের ফাঁক দিয়ে...! মৃত্যুর সামনে শুধুই গুটিয়ে থাকতে হয়, সঙ্গম বিফলতার দোষ দেব কার ঘাড়ে?
বেলা যে বয়ে গেল!
কিছুই করে ওঠা হলো না যে!
------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ পথেই শেষ!
পথেই শুরু, পথেই শেষ!
বাকি সবই পথের ক্লেশ!
--------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ কলা পাতার ভুবন!
কলা পাতার ভুবন!
রোদের থালায়
শিশির সারে
রাতের বেলার ভোজন!
কলা পাতার ভুবন।
সাঙ্গ হলে
দেবে ফেলে
এঁটো কাঁটার বাসন!
কলা পাতার ভুবন।
তাতে আম, আমড়া, শশা
বেশ জাঁকিয়ে ছিল খাসা
এখন তারা, গেছে ভিড়ে
বড় বড় বাবুর ঘরে;
ফেলে শূন্য আসন!
কলা পাতার ভুবন
হাওয়ায় ওড়ে
আঁচল ছিঁড়ে
চিরল চেরা কাঁপণ!
কলা পাতার ভুবন!
--------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ মায়াজল!
যাকে ছোঁয়া যায় তাই কায়া। যাকে ছুঁয়ে দেখতে চাই তাই মায়া। মায়া, দিগন্তের মতো সদা অপসৃয়মান, স্বর্ণ মৃগের মতো অলীকস্পর্শী।
কায়া, জল। মায়া, জলে পড়া জলছবি।
কায়া বিম্ব, মায়া প্রতিবিম্ব।
কায়া কাব্য কঙ্কাল, মায়া রূপকের অলংকার।
কায়া, চুম্বন স্পর্শ; মায়া চুম্বনের অস্থির স্পৃহা।
কায়া, চক্ষু কর্ণের বিবাদ ভাঙা; মায়া বিমূর্ত অবগাহন, অস্পৃশ্য দৃশ্য সুখ!
কায়া ছেড়ে বারবার তাই মায়া জলে দেই ডুব!
--------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ দূরের দেখা
দূরেই থাক, দূরের দেখা!
কাছে এলেই নষ্ট অপেক্ষা!
--------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ আমিও শেষ দেখবো...!
সরোবরের পূর্ণতা নাকি
উচ্ছসিত উদাসীনতা?
কি যে আছে সে চোখে, কে জানে!
বকের একাগ্রতাই আমাকে বেশী টানে!
বঞ্চনার গভীরে, প্রাপ্তির পুচ্ছ
যদি অকাল স্রোত বয়ে আনে,
মন্দ কি! রবাবের সুর যদি
প্লাবন আনে ব্যর্থ জলতরঙ্গের তানে,
ক্ষতি কি! অপেক্ষা করি বাষ্প রুধি!
তুমি আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নাও প্রতিক্ষণ।
আলোড়িত হতে চাও, হতে চাও প্রেমাস্পদ!
তবু দামাল বাতাসে, রুখে দাও সে অনুরণন!
আমি তোমার চোখেই যে ছিপ ফেলে বসে থাকি!
কতক্ষন তুমি থাকতে পারো চক্ষু মুদি,
আমিও ছাড়বো শেষ দেখে, শেষাবধি!
জানি তোমার ও চোখ শ্বাস নেয়
আমার আকাঙ্খার হুতাশে!
তবু তোমার বেঁচে থাকা
আমার কাছে ভীষণ জরুরী!
তাই... চেয়ে থাকি,
তোমারি নয়নে নয়ন হেরি!

---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ শীতের বেলায়...।!
শীতের বেলায় পাতার ভাঁজে,
সূর্য নিজেই রোদ্ দুর খোঁজে!
--------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ টোল পড়ে দুই গালে!
কুহেলী, তুমি হাঁসলে
টোল পড়ে দুই গালে!
কমলালেবুর দুই গোলার্ধের মতন,
আদরের কক্ষপথ ধরে
এক শীতের বিকেলে
নীল গ্রহ হয়ে
আকাঙ্ক্ষার ঝিঙে গাছ লাগিয়েছিলে,
অধরের তটরেখা জুড়ে।
তাতে এখনও হলুদ ফুল ধরে।
আমি নিতান্তই এক কমলা ব্যাপারী!
দুঃখের জাহাজ কিনে
ভাসাই দূরের জলে!
গ্রীষ্ম বর্ষার বার্ষিক গতি পেরিয়ে,
ফের শীত আসে
আগুনের পরশ চেয়ে।
হেঁসে ওঠে পৃথিবী তখন
দুই মেরুর গালে দুটি টোল নিয়ে।
--------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ ঢেউগুলো কবিতার মতো!
ঢেউগুলো কবিতার মতো!
তীরে এসে হয় প্রকাশিত!
ভাবনার কোন্
দূর দিকশূণ্যপুর হতে
ছুটে আসে
সমুদ্র, তার কবিতা শোনাতে!
কে জানে!
তীরে বসে সেই কাব্য ধ্বনি,
ঢেউ শুনি আর ঢেউ গুণি!
---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ মধ্যরাত পেরিয়ে এসো....!
এসো, আমার খেয়ায় এসো !
থেকো না আর দূরে,
চল ছইয়ের নীচে বসো।
স্বপ্ন গুলো গুছিয়ে নেবো
দুঃখগুলো ছড়িয়ে দেবো
আর দেরি করো না প্রিয়
তারা গুলো খসিয়ে দিও
চাঁদ গুলো কুড়িয়ে নিও! !
খুশির পালটি তুলে ভেসো!
দেখো - তোমার খেয়ায় কত নষ্ট ফসল!
তুমি শুধুই কাঁদো, ছাড়োনি স্মৃতির বাকল!
এসো প্রিয় এসো আমার খেয়ায়।
মধ্যরাত দাঁড়িয়ে মাঝে,
পেরিয়ে এসো এই সাঁঝে;
ভরিয়ে দাও নব কালবেলায়,
চুমুর আদর, বরণ ডালায়!
------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ প্রজ্বলিত বিদায়ী সন্ধ্যা!
পাকুড় আর অশ্বত্থ প্রায় পিঠোপিঠি দুই বৃক্ষের গোড়ায় তৈরি হওয়া অপরিসর কোটরেই বাস করেন মহাকাল, শিব। তাঁরই সমুখে পাদপ্রদীপ হয়ে জ্বলছে এ বছরের শেষ সন্ধ্যা প্রদীপটি। কম্পিত লাল শিখা সিঁদুর লেপা কোটরের লাল দেওয়ালে এঁকে দিচ্ছে কালের প্রগতি রেখা।
অনন্য এক আধিভৌতিক আবহে কোটর স্থিত আঁধার যাত্রা শুরু করছে বর্ষ বরণের মধ্য রাত্রির পথে!
--------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ এ পথ চলার পথে!
এ পথ চলার পথে -
আলো ছায়া মিলে মিশে,
জানি না কি আছে শেষে!
------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ সূর্যই একমাত্র সার্থক ভবঘুরে।
পথে পথে আমার সাথেই ঘুরে বেড়ায় সূর্য। এই পৃথিবীতে সূর্যই একমাত্র সার্থক ভবঘুরে।
গাছে গাছে পাতার ফাঁকে, পাহাড়ের চূড়ায়, সমুদ্রের বুকে, গাঁয়ে গঞ্জে, শহরে, শপিং মলের উঠোনে, আইফেল টাওয়ার কিংবা ইন্ডিয়া গেটের প্রাকারে সর্বত্র - সূর্যই সাক্ষী একমাত্র।
পথ চলতি আলো ছায়া মাখা নির্জন কিছু ছবি!
------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ খোলা আকাশ আর ...।।!
এমন আদিগন্ত বিস্তৃত ধানের ক্ষেতে, মাথার ওপরে মেঘেদের টিলা, তুষার মন্ডিত উপলরাশি ভরা চন্দ্রাতপ।
দূরে আবার প্রায় আকাশের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু স্বপ্নদর্শী তরু শাখা কেমন আকাশকে ছুঁয়েও শান্ত স্থির থাকে। কি বলবো - ম্যাজিকাহত?
ভালো করে দেখলে বোঝা যায় কোথাও সবুজ একটু গাঢ় কোথাও একটু পলকা হলুদের আভা লেগে থাকে যেন।
একটা সরু পথ চলে গেছে ক্ষেতের পাশ দিয়ে। সেই পথের পাশ ধরে গাঁদা, মোরগ ঝুঁটি ইত্যাদি ফুলের বেশ আমুদে বসতি। হাওয়া মাঝে মাঝে তার সবুজ ওরনা উড়িয়ে আসে তবে স্থির চিত্রে তার অনুসন্ধান করা বৃথা
------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ তুমিও কি শুনবে, কবিতা!
একদিন, অনেকদিন, অনেক বছর...
এমনকি আমার মৃত্যুর পরে
তুমি আমার সামনে এসে দাঁড়াও,
শিশিরের নুপুর পায়ে!
স্মৃতির মরিচিকা পেরিয়ে,
আমি অবাক হয়ে যাই, তোমাকে দেখে!
জোছনার মতো জেগে রই, শ্বাস রুখে!
অবশেষে, তুমি কুয়াশার বুক ঠেলে বলে ওঠো -
আচ্ছা, তুমি তো কবিতা লেখো ফেসবুকে!
শোনাও তো একখান, বেশ বুক ঠুকে!
কোথা পাই সে কবিতার অস্থি ভস্ম!
সে যে ভেসে গেছে কালের এ ঘাট থেকে ও ঘাটে...
ধুলোবালিতে পড়া কুসুম গুলো পায়ে পায়ে
মাড়িয়ে গেছে সব্বাই, উন্নাসিক চোখে চেয়ে!
কোথা পাই সে কবিতার জীবাশ্ম!
বেকার কবি যে বিক্রি হয়েছে এ হাট থেকে ও হাটে
শুধু সেই কবিতাটি যেটি ব্যর্থ আশার মতো
না মরে আছে বেঁচে, রক্তভেজা দগদগে ক্ষত!
সেই কবিতাই শোনাতে থাকি আমি....!
অলীক প্রজাপতির মতো!
জানি একদিন আমার,
নিথর আঁখি পল্লব পরে
স্বপ্নের দুধ কলা দিয়ে
পোষা সে গোপন অনল
উঠবে জ্বলে, প্রচন্ড জোরে!
সেদিন তোমার উদ্ধত চোখের লবিতে
দাঁড়িয়ে থাকা সে বিরহী প্রতিবিম্বই
সোল্লাসে গাইবে গান;
কবিতা পড়বে বুধমন্ডলে,
উচ্ছাসে ভরিয়ে প্রাণ!
----------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ পথ হারাই যদি ।।
পথ হারাই যদি আনমনে,
চেয়ে দেখি নীল গগন পানে!
------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ সন্ধ্যে নামছে!
সন্ধ্যে নামছে। তবু বাসায় ফেরার নাম নেই কারোর। আসলে বাসাই তো নেই, তা ফিরবে কোথায়?
তাল গাছের মাথায় ঝুলে থাকা সেই খড় খাঁচি দিয়ে গড়া বাবুই নিবাস গুলো আজ অতীত। আজকাল বাবুই গুলো, উল্টানো কুঁজো ছেড়ে যে কোথায় উঠে গেছে কে জানে। হয়তো কোনো জাদুঘরে! পরিযায়ী শ্রমিকের মতন লোটা কম্বল নিয়ে চলে গেছে দেশ গাঁয়ের ঘর ছেড়ে, চির..তরে। না কদর পাওয়া শিল্প সত্তার দাম খুঁজে হয়তো কোন অমরাবতীর নিবিড় তালবনে গিয়ে উঠেছে। বিপন্ন জাদুবাস্তবতার শিল্প নির্মাণ দিয়ে শোভা বাড়াচ্ছে সেই অমরত্বের পারিজাত বনে।
ভালো থাক সেখানে, বাবুইয়ের পোতা পুতিরা। অবিনশ্বর, কালোত্তীর্ণ হোক তাদের নিবাস সেখানে। কোনো ঠিকাদারেরয় কু -নজরে পড়ে যেন ভেঙে না যায় তাদের সে বিপন্ন বসতের ম্যাজিক সুখ।
ছোটবেলায় বাবুইয়ের বাসা দেখে যতটা না অবাক হয়েছি তার থেকে বাসার খোলা মুখ দিয়ে বাবুই ছানার খসে পড়ার সম্ভাবনার কথা ভেবে ভয় পেয়েছি বেশী।
আমার স্মৃতিতে তাই বাবুইয়ের বাসা চিরকাল এক বিপন্ন বাস্তবতার নজির হয়ে থেকে গেছে। সে স্মৃতিই আজ বিস্মৃতির দরবারে হাটু গেড়ে বসে আছে ভুলে যাওয়ার আগে অন্তত তালগাছ গুলো থেকে যাক পুকুর পাড়ে কিংবা ডাকাতিয়াপোতার ফাঁকা মাঠে; এই করুন আর্জি টুকু নিয়ে।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ প্রিয়,
অনল কুসুম লাখো!
তুমি,
দেখতে চাইলে দেখো!
স্বপ্ন -দারুন।
মগ্ন -অরুণ ।
প্রিয়,
অনল কুসুম লাখো!
তুমি,
বাঁধতে চাইলে বেঁধো!
খোঁপায় গেঁথে,
অলক রাতে;
প্রিয়,
ইমন রাগটি সেধো!
তুমি,
ছুঁতে চাইলে ছুঁয়ো!
কোমল করে,
অমল স্বরে ;
প্রিয়,
ছোঁয়ার দুয়ো দিও!
তুমি,
সাজতে চাইলে সেজো!
আগুন রঙে ,
ফাগুন সঙে;
প্রিয়,
সখার আদরে মজো
-----------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ সোনালী বালুচর !
অনেকদিন আগে স্বপ্নে দেখেছিলাম সমুদ্রকে। মাঝ সমুদ্রের মতো ভাবলেশহীন নয়, তীরে এসে ওঠা একান্তই নিরাপদ এক অস্তিত্ব, তবু সৈকতের সাথে কেন যে তার বনিবনা হয় না কে জানে। প্রতিনিয়ত তার কল্লোল ধ্বনি যেন বেলাভূমির বুকে ভালোবাসার আস্ফালন দেখিয়েই ফিরে যেতে চায়। তীরে বসে সমুদ্রের সে অহেতুক ঢেউ বল দেখে ভারী মায়া লাগে। তবু সমুদ্রের সে কুহকী ডাককে ও যে কোনোভাবে উপেক্ষা করা যায় না। দূরে কোথাও যেন সে পালিয়ে যেতে চায়, হারিয়ে যেতে চায় সকল দৃষ্টির অলক্ষ্যে।
ঈশারা বুঝে, সেই যে বেলাভূমি আমাকে নিয়ে ডুব দিল, ক্রমশ গভীর থেকে আরোও গভীরে অতলস্পর্শী ঠিকানায়; এক বাঁশ, দুই বাঁশ....হালে পানি পাওয়া যায় না। উত্তাল জলরাশি খুঁজে যায় সে স্বপ্নের বালুচর কে। নোঙর ছিঁড়ে, ভেসে পড়ে একদল ডিঙি নৌকা। দিশেহারা ঊর্মিমালার বুকে নেচে নেচে ঘোলা জলে মাছ ধরে যায়।
ঘুম ভেঙে দেখি জল রাশি সরিয়ে আবার সোনালী বালুচর দিচ্ছে উঁকি। আবার সেই ঢেউগুলো তাতে এসে গড়াগড়ি খাচ্ছে যেন কতদিন বাদে সে ছলনার অবসান হলো তাই এত দাপাদাপি, অভিমানের এত আতিশয্য।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ নীড় হারায়নি সে নীর!
মেঘ ছাপিয়ে গড়িয়ে পড়া অকাল কান্না ঝিরঝির!
ব্যাকুল বায়ে মেঘ হেরেছে নীড় হারায়নি সে নীর! --------------------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ অপু দূর্গা ফিরে এলো!
কিশোর মন যেন সবসময় একটা কিছু আবিস্কার করতে চায়। এই মহা পৃথিবীর যাবতীয় সরল আনন্দের মাঝে নিজেদের খুঁজে পাওয়ার তাগিদই মূলত সেই অবোধ তাড়নার কেন্দ্রে থাকে।
সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো প্রতিনিয়ত তা আছড়ে পড়ে কিশোর মনের সৈকতে। কোনোভাবেই তাকে শান্ত হতে দেয় না।
চেনা আনন্দকেও অচেনা করে উপভোগ করার নিত্যনতুন পন্থা উদ্ভাবন করার মধ্যেই কিশোরবেলার যাবতীয় লক্ষ্য সিদ্ধ হয়।
সর্বোপরী, চেনা গন্ডীর বাইরে যেন সেই আত্ম আবিষ্কারের প্রেরণা পেয়ে যায় বাঁধন ছেঁড়ার শক্তি।
তবু অপু আর দূর্গারা বারবার ফিরে ফিরে আসে মনের পর্দায়।
এইটুকুই।
আর বেশী কথা নয়।
ছবিতে দুই ভাই বোন, একজনের ১২ আর একজনের ১৪। ১২ বছরের দেবার্পণ আমার ছেলে আর ১৪'র Debangshi আমার ভাইঝি গতকাল দীঘায় গিয়ে যেমন পেরেছে ছবি তুলে দেওয়ার আব্দার জানিয়েছে আমার কাছে। আমি ক্যামেরাম্যানের মতো তা তুলে দিয়েছি।
তাই শেয়ার করে নিলাম, এই পরিসরে।
---------------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ একান্তই ছোবল খুঁজে যাই!
একঘেঁয়ে শব্দ গুলো
রোজ রোজ চেনা গলির মুখে
দাঁড়িয়ে থাকে হেঁসে!
অদ্ভুত সব রং মেখে,
নিত্য নতুন বেশে!
ওরা একযোগে, সমস্বরে বলে ওঠে হাই!
তারপর, খোলস ছাড়া সাপের মতন
বেয়ে যায়, এঁকেবেঁকে; চেনা
আঁধারে যায় মিশে!
আমি একান্তই ছোবল খুঁজে যাই!
চেনা কফি হাউস ছেড়ে,
ভাটিখানায় যাই ভিড়ে!
একান্তই মুক্তির বিষ খুঁজে যাই!
সেই তো একই শব্দ, হদ্দের ক্লিশে।
বেদনার সেই একই উল্লাস;
তেড়ে আসে তীব্র আহ্লাদী রোষে!
আমি একান্তই প্রেরণা খুঁজে যাই!
শেষে কবিতার কাছে,
নতজানু হয়ে দাঁড়াই!
বধিরতার অভিশাপ যাচি শেষে!
শব্দ গুলো না হয় বোবা হয়ে থাক
ঝরুক অচেনা বর্ণমালার দেশে!
আমি শব্দের দৃশ্যময়তা খুঁজে যাই!
---------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ নাও খুঁজি ভেসে থাকতে!
চাই না, গভীরে ডুবে যেতে!
নাও খুঁজি ভেসে থাকতে!
---------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ এ পথই তো শেষ নয়!
জীবনে -
এ পথই তো শেষ নয়!
যেতে হবে দূর নিশ্চয়।
----------------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ ছুটে আসে ভ্রমর কুল। পল্লবী, তোমার খোঁপায় গোঁজা হাজার লাল হলুদ ফুল। সিন্থেটিক নয় কেউ, তাইতো দিন দুপুরে সোহাখ জমাতে ছুটে আসে ভ্রমর কুল।
------------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ দিবারুণ ঢলে অস্তাচলে।
দিবারুণ ঢলে অস্তাচলে।
সাজাল জ্বেলে জলের কোলে!
----------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ রৌদ্র এসেছে সে কি!
পাঁপড়ি তব লজ্জাবনত, বুজে আসা রাঙা আঁখি!
অবগুণ্ঠন খুলে চেয়ে দেখো রৌদ্র এসেছে সে কি!
-----------------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ ভবঘুরে
পথে পথে আমার সাথেই ঘুরে বেড়ায় সূর্য। এই পৃথিবীতে সূর্যই একমাত্র সার্থক ভবঘুরে।
গাছে গাছে পাতার ফাঁকে, পাহাড়ের চূড়ায়, সমুদ্রের বুকে, গাঁয়ে গঞ্জে, শহরে, শপিং মলের উঠোনে, আইফেল টাওয়ার কিংবা ইন্ডিয়া গেটের প্রাকারে সর্বত্র - সূর্যই সাক্ষী একমাত্র।
পথ চলতি আলো ছায়া মাখা নির্জন কিছু ছবি!
------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ এ পথ চলার পথে!
এ পথ চলার পথে -
আলো ছায়া মিলে মিশে,
জানি না কি আছে শেষে!
------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ মধ্যরাত পেরিয়ে এসো....!
এসো, আমার খেয়ায় এসো !
থেকো না আর দূরে,
চল ছইয়ের নীচে বসো।
স্বপ্ন গুলো গুছিয়ে নেবো
দুঃখগুলো ছড়িয়ে দেবো
আর দেরি করো না প্রিয়
তারা গুলো খসিয়ে দিও
চাঁদ গুলো কুড়িয়ে নিও! !
খুশির পালটি তুলে ভেসো!
দেখো - তোমার খেয়ায় কত নষ্ট ফসল!
তুমি শুধুই কাঁদো, ছাড়োনি স্মৃতির বাকল!
এসো প্রিয় এসো আমার খেয়ায়।
মধ্যরাত দাঁড়িয়ে মাঝে,
পেরিয়ে এসো এই সাঁঝে;
ভরিয়ে দাও নব কালবেলায়,
চুমুর আদর, বরণ ডালায়!
----------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ ঢেউগুলো কবিতার মতো!
ঢেউগুলো কবিতার মতো!
তীরে এসে হয় প্রকাশিত!
ভাবনার কোন্
দূর দিকশূণ্যপুর হতে
ছুটে আসে
সমুদ্র, তার কবিতা শোনাতে!
কে জানে!
তীরে বসে সেই কাব্য ধ্বনি,
ঢেউ শুনি আর ঢেউ গুণি!
--------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ এক গুচ্ছ
শীতের ঘায়ে
মূর্ছা যায়নি যে মূর্ছনা!

পাতার ফাঁক গলে পড়ে আলোর নজর!
রাত্রির দিবাস্বপ্ন!

কোথায় গুঁড়ি, নেই খবরে! পাতার ছায়া মাথায় করে, ঝুরিই দাঁড়ায় ছাতাটি ধরে!

আলোই কেবল খবর রাখে আঁধারের!

নিত্য সাজার বাহানা খুঁজি!

শীতের বেলায় পাতার ভাঁজে,
সূর্য নিজেই রোদ্ দুর খোঁজে!

পায়ের তলায় ঢেউ!

সাত রঙ আছে বেনিআসহকলাতে!
আঁধারই শুধু পারে না রঙ বদলাতে!

পত্র লেখে সূর্যরেখা,
কুঞ্জ তলে হবে দেখা!

তোমার ডানায় মরু, চোখে মরিচিকা!
হৃদয় শূন্য - দূর বিজন নীহারিকা!

শুভ্রতা - কখনো মলিন হয়ে যায় না।
যে যেমন দেখে; মিথ্যে বলেনা আয়না!

দিবা নিদ্রা! ফুটপাতেই। তবে ঘুমের মধ্যে ও বলটি থাকে বুকের খুব কাছে। রাস্তায় বেড়ে ওঠা শৈশব এভাবেই বিকেলের স্বপ্ন নিয়ে ঘুমোতে যায়।
তবে বল বিক্রি হয় এখনও, ক্রীড়াঙ্গন গুলো অবশ্য আগেই বিক্রি হয়ে গেছে!
ধন্যবাদ।

ঢাকে না বিরাগ পত্রতলে,
নিত্য সে নয়ন টলটলে।

এইটুকুই থাক!
বাকি সব ফিকে হোক! শুধু ফুলের গায়ে লেগে থাকা ভোরের আলো টুকু বেঁচে থাক!

আদি গঙ্গায়, সূর্যের সংক্রান্তি ডুব!

অলক গন্ধা অধরে,
চাঁদের খোঁজ আদরে!

এক গুচ্ছ ভালো লাগা হাঁসি মুখ,
হাঁসি মুখে শুধু দিয়ে যায় সুখ!

ওই দেখা যায় সাঁকো,
ফাঁকা বুকের মাঝে আঁকো!

নাব্যতা হীন নদে বৃথাই সুখের সওদা!

পালক পত্রে আলোর উড়ান,
আশার ছলে উজাড় পরান!

মৃত্যু নেই তারকার!
আকাশের শামিয়ানা থেকে ধরিত্রীর ধূসর কার্পেটে
তারকারা জেগে থাকে; মৃত্যু নেই তাদের।
কখনো নক্ষত্র হয়ে রাতের কৃষ্ণ ললাটে, কখনো ফুল হয়ে ভোরের হৃদয়ডাঙার মাঠে!

সকালের পাতানো তাঁবু গুটিয়ে নেওয়ার পালা এবার। আকাশ গঙ্গায় ডুব দেবার আগে, পরিযায়ী রোদ ছুঁয়ে যায় বহুতলের উঁচু শস্যাধার! নীচের ক্ষেতে, অনেক আগেই নেমেছে ছায়া ছায়া সবুজ আঁধার।

ভেসে রই ভালোবেসে...!

ভুট্টা দানার বিপণন চক্র! প্রথমে সবুজ পাতার মোড়কে, তারপরে ছাল ছাড়িয়ে নেওয়া এবং সব শেষে আগুনে পুড়িয়ে পোড়া গায়ে নুন লেবু মাখিয়ে পরিবেশন করা।
জীবনের সকল পর্ব এভাবেই বিক্রির ঠেলায় ফুরিয়ে যায়!

পরিযায়ী শ্রমিক নয় , এঁরা পরিযায়ী পুণ্যার্থী!
বুচকি বোঁচকা মাথায় গঙ্গাসাগর মেলা ঘুরে এখন প্রয়াগরাজ কুম্ভ মেলার পথে।
কোলকাতার বাবুঘাটে আবারো এই ছবি দেখা যাবে আগামী বছর পৌষ সংক্রান্তি মেলার শেষে।

ফুটপাতে থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইলে শুধু আকর্ষ (ইচ্ছে ) থাকলেই হয় না। কারুর না কারুর বাঁধা সুতো ধরেই ওপরে উঠতে হয়!
ব্যস্ত শহরের ফুটপাতে বেড়ে ওঠা কুমড়ো লতার আত্মোপলব্ধি!

কুয়াশা ছিঁড়ে রোদ লাগলো সকালের গা'য়!

নাথিং বাট শুভ সখা,
রোদ নয় কুয়াশা মাখা!

ভালো লাগলে সই,
না লাগলে - মাভৈ!

সাঁকোর শেষে আমিই রাজা
আমার দেশে নেই কো প্রজা!

কে যেন তুলি, নিয়েছে আজি তুলি;
কুয়াশার ডাকে,
পাঠিয়েছে ঢেকে
জলে পড়া ছবির পোস্টকার্ড গুলি!

কাঠ বাদামের থোকা,
পড়বে দিলেই টোকা!

মানুষ জাগে ঘুম ভেঙে,
সাধু সদাই রন জেগে!

তোমায় ছুঁয়ে দেখি,
জলে ভেজে আঁখি!

কাঁচা লঙ্কার পাকা পিরিত!

লাল শালু দেখেছি তাই ফুচকা খুঁজতে যাই না! জীবনানন্দীয় ভাবে আক্রান্ত!

যাক চুলোয় বসন্ত, ভাসিয়ে প্রেমের সাম্পান;
এ বেলায় এসো মিলে শোণিত সুধা করি পান!

ট্রাম রাস্তার পরে
শিমুল ঝরে পড়ে!

টাওয়ার ছুঁয়ে, পড়ছে চুঁয়ে মেঘের ই - মেল আসা!
পাতার বুকে, লিখবে সুখে, বর্ষা - ইতি ভালোবাসা!

চাঁদ' তুমি আকাশেই জ্বলো,
জোনাকিরা আঁধারেই ভালো!

আজ বিকেলে আরোও কিছু শিমুল ফুটে থাক!
কাব্য পাঠে চির নব 'জীবনানন্দ' ঝরে যাক!

জলের বুকে ভাসে আকাঙ্খার ভরা নদী!
ঢেউ তুলতে চেয়ে ডিঙ্গা ভাসাও যদি !

মাঠবাগান থেকে ছাদবাগান কিংবা ছাদবাগান থেকে মাঠবাগান - দৃষ্টিভঙ্গিটাই শুধু বদলে যায়!

সাজানো ভাঁড়, সুতোয় ঝোলে সৌভাগ্য, সাকুল্যে লেবু তিনটে আর পাঁচখানা চব্য। একবার ফুরোলে পানীয়, ভাঁড় ছুঁড়ে ফেলাই ভবিতব্য!

মুকুল এলে পাতার ফাঁকে,
বসন্ত কি আর দূরে থাকে?

ক্লান্তি একটা সুখ!
যে সুখ পোহাতে মানুষ ঘরে ফেরে!

কিস ডে আজ হ্যাপি, এই মর্মে
সূর্য এসে পাতায় গেল চুমে!

বুকে টেনে নেওয়া হাত!
বুকে টেনে নেওয়া হাগ!
মিলে গিয়েছে যখন বলতেই পারি আলিঙ্গন!
হ্যাপি হাগ ডে, হ্যাপি হৃদয়ের মধুর স্পন্দন!

বিগত শীতের হৃত গৌরবে,
সেজেছে বসন্ত, ওয়ার্ডরোবে!

স্বপ্নের রঙ স্ট্রবেরি 🍓
বাক্স বন্দী হচ্ছে বিক্রি!

লাল দড়ি বেয়ে,
লঙ্কার রোপওয়ে!

পূর্ণ হলে, টলটলে!
চোখ জ্বলে, অন্ধ হলে!

চাঁদের ক্ষয় সারে, ক্ষতির অন্ধকারে!

বুক পেতেছি, দুকূল ছাপা জলে;
ভাসিয়ে রেখো, ভালোবাসার ছলে!

নদীর বুকে থাকি, নদীতে বুক রাখি!
নদীর মুখে চেয়ে, নদীর জল মাপি!

প্রাণের সুরে, ওই অধরে.....!

ঘুম ভেঙেছে ভোরের, নীল হয়েছে আকাশ;
লজ্জার রং সবুজ, উদ্বেলিত বসন্তাভাস!
-------------------------------------------------------------- কবিতাঃ টোল পড়ে দুই গালে!
কুহেলী, তুমি হাঁসলে
টোল পড়ে দুই গালে!
কমলালেবুর দুই গোলার্ধের মতন,
আদরের কক্ষপথ ধরে
এক শীতের বিকেলে
নীল গ্রহ হয়ে
আকাঙ্ক্ষার ঝিঙে গাছ লাগিয়েছিলে,
অধরের তটরেখা জুড়ে।
তাতে এখনও হলুদ ফুল ধরে।
আমি নিতান্তই এক কমলা ব্যাপারী!
দুঃখের জাহাজ কিনে
ভাসাই দূরের জলে!
গ্রীষ্ম বর্ষার বার্ষিক গতি পেরিয়ে,
ফের শীত আসে
আগুনের পরশ চেয়ে।
হেঁসে ওঠে পৃথিবী তখন
দুই মেরুর গালে দুটি টোল নিয়ে।
-------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ কাগুজে গোলাপ
কাগুজে বাঘ যদি হয় কাগুজে গোলাপ কেন নয়!
গোলাপ, টিউলিপ আজ ফুলসাজি ভরা গুচ্ছের কাগুজে ফুলে।
দেখছেন যখন দেখেই যান, গন্ধ নেবার কি দরকার! সুবাস টুকু থাক শুধুই কল্পনার।
তাতে দেখার এই আয়োজন হবে না বিফল।
এক রাশ ভালোলাগা, হাঁসি আনন্দে ঝলমল!
----------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আমিও শেষ দেখবো...!
সরোবরের পূর্ণতা নাকি
উচ্ছসিত উদাসীনতা?
কি যে আছে সে চোখে, কে জানে!
বকের একাগ্রতাই আমাকে বেশী টানে!
বঞ্চনার গভীরে, প্রাপ্তির পুচ্ছ
যদি অকাল স্রোত বয়ে আনে,
মন্দ কি! রবাবের সুর যদি
প্লাবন আনে ব্যর্থ জলতরঙ্গের তানে,
ক্ষতি কি! অপেক্ষা করি বাষ্প রুধি!
তুমি আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নাও প্রতিক্ষণ।
আলোড়িত হতে চাও, হতে চাও প্রেমাস্পদ!
তবু দামাল বাতাসে, রুখে দাও সে অনুরণন!
আমি তোমার চোখেই যে ছিপ ফেলে বসে থাকি!
কতক্ষন তুমি থাকতে পারো চক্ষু মুদি,
আমিও ছাড়বো শেষ দেখে, শেষাবধি!
জানি তোমার ও চোখ শ্বাস নেয়
আমার আকাঙ্খার হুতাশে!
তবু তোমার বেঁচে থাকা
আমার কাছে ভীষণ জরুরী!
তাই... চেয়ে থাকি,
তোমারি নয়নে নয়ন হেরি!
--------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ আলোর রোমাঞ্চ ছায়ার সাথে!
পাতার ফাঁকে অভিসারে
গড়িয়ে পড়ে বৃষ্টি হয়ে;
কিংবা শিশির কুঞ্জ বনে,
নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে
জাফরি কাটা আলিঙ্গনে!
আলোর হাঁসি ছায়ায় ভাসি
কাঁপন দারুন রাশি রাশি।
যেন অগ্নি শিখা ওঠে ভাসি!
শুধু বাতাস কেন উল্টো রথে।
অন্ধকার এনে আলোর পথে
দূর করে সুর ছায়ার সাথে?
নয়তো সেই কাল বেলায়,
যখন রোদ খাঁ খাঁ ভেলায়!
উড়ে যায় পাখি
না জানা খেয়ায়।
ছায়া গুলো রেখে
কল্পনার গোঠে,
হারানো সুর বাজে
বারো ভূতের মাঠে!
-------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ নষ্ট সাজ!
কারোর উপেক্ষা আর কারোর অপেক্ষা যখন সমান্তরাল দুই রেখা ধরে এগিয়ে চলে,
চলতেই থাকে....
মিলন বিন্দু চির বিমূর্ত থেকে যায়।
অপেক্ষার ফল নাকি মিষ্টি হয়?
অনাহুত জলসায়,
সবই নষ্ট সাজ বৈ কিছু নয়!
-------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ সেই তো দাবানল আসে....!
সব পাঁপড়িই খসে পড়ার ইতিহাস লেখে।
তবু বর্তমান কেই শাশ্বত ভেবে চলমান সময়ের ভাঁড়ারে নিজের সবটুকু দিয়ে ফেলে!
তারপরে?
সেই তো কালের কাঁধে চড়ে
দাবানল আসে!
সেটাই ভবিতব্য, অনাঘ্রাত সৌরভের মতো!
সেই গন্ধের কথা কেউই
লিখে যেতে পারেনি আজো।
রূপসী বর্তমান, ধনী বর্তমান, জ্ঞানী বর্তমান
কালজয়ের গৌরবে ধন্য হতে চায়!
মুচকি হেঁসে উড়ে যায় প্রজাপতি! মধু কোথায়?
টুপ টুপ করে গড়িয়ে পড়ে খেজুরের রস;
শেষ ফোঁটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে কলসির হাঁ মুখ!
তারপরে?
কোথায় বর্তমান?
সঙ্গমের সম্ভোগের মতনই হারিয়ে যায় অচিরে!
ভবিতব্য! ব্রহ্মান্ডের মতন সত্য কিন্তু অজানা!
শুধু ইতিহাস তার চিহ্ন রেখে যায়।
খসে পড়া পাঁপড়ির কালশিটে গা'য়!
------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ একবার তো ডোবো, রূপের অতলে!
রূপ কি ধুয়ে খাবে?
তাও রূপের বড়াই করে যাও সারাক্ষণ!
দাঁড়াও দাঁড়াও তোমার পাউটি পাঁপড়ি দেখে
কিছু কথা উঠে আসতে চাইছে যন্ত্রণার ভিড় ঠেলে!
কথাগুলো সব ছেঁড়া ছেঁড়া,
সতীর দেহাংশের মতো!
তবু শরীর জুড়ে কবিতার একান্ন পীঠ
গড়ে তুলতে চায়!
কিন্তু কবিতা ও তো মানুষ!
রক্ত মাংসের যন্ত্র তো নয়!
তার ও গুনমুগ্ধ গুঞ্জন চাই,
শীতের সকালের ওম চাই,
রূপের মাধুকরী চাই!
নিদেন পক্ষে কালের ক্রোধ চাই!
ঈর্ষার ইন্ধন চাই!
হিংসার অনল চাই!
না! শুধুই সস্তার মজদুরি
বুদ্ধিহীন নকল বাহাদুরি!
সত্যি সত্যিই,
কথা গুলো কবিতা হয়ে উঠতে চাইছে, আপ্রাণ।
শুকিয়ে যাওয়ার আগে সেই মরমী স্রোতের টান
একবার তো ডোবো, রূপের অতলে!
কতদিন আর কাটবে,
চুরি করে - মিছে ভাবের জলে?
-------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ প্রেমের পাণ্ডুলিপি!
রত্নাকর থেকে বাল্মীকি,
সব ঠেকায় পড়ে!
প্রেমে পড়লে সব মেকি।
শুধু আদর খুঁজে
সুযোগ বুঝে
বাড়াও লাল ঠোঁটটি দেখি!
একটু বসো, মুচকি হেঁসো।
পিঠের পরে পিঠটি ঠেসো।
সঙ্গে চলুক ঝাল মুড়ি আর
বাদাম ভাজা লাল নিমকি!
সময় হলে গোলাপ বোকে
গভীর সুখে, প্রলাপ বকে
লিখবো যেটা বুক ঠুকে
গোলাপ সুদূর, গোলাপ নিকট
হনুলুলু থেকে মিসিসিপি!
গোলাপ কাব্য, গোলাপ গল্প
গোলাপ প্রেমের পান্ডুলিপি!
--------------------------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ পূর্বরাগ!
তুমি না হয় এসো সকালবেলায়!
জানালার ওপারে,
দাঁড়িয়ে থেকো হেলাল দিয়ে;
জড়িয়ে থেকো নারকেল গাছের গা'য়!
কুসুম রঙা কাঁসা বর্ণ বুঝি তোমার গায়ের রঙ?
তোমাকে দেখবো বলে ছুটে আসি,
ছেড়ে সকল সঙ।
অভিমান হয়, তবু জানি
সময়ের সাথে চলতে তুমি
বদলে ফেল রঙ!
কষ্ট নয়, হয় অভিরাগ!
তোমার গায়ে যখন জ্বলে
অহংকারের অঙ্গ রাগ।
তাচ্ছিল্যের এই অনুভব, জানি না
নব প্রভাতের পূর্বরাগ কি না!
--------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ আমার দেশের ঘরে!
আমার দেশের ঘরে
কাকা, জ্যাঠা, ন - দিদা
এক ঘরে বাস করে।
আমার দেশের ঘরে,
সদর উঠোন - জামরুল
গাছের তলে,
ভাই বোনেরা সব্বাই,
একসাথে খেলা করে।
আমার দেশের ঘরে
উড়নচণ্ডী, কালবোশেখের ঝড়ে
আম কুড়িয়ে সবাই
এক ঝুড়িতেই ভরে!
আমার দেশের ঘরে
গাঙের ধারে চিলের খোঁজে,
দাদা, দিদি সবাই মজে!
একসাথে জিদ ধ'রে।
সন্ধ্যাবেলায় মাদুর পেতে
একসাথে পড়া পড়ে!
কেউ আকবরের রাজ্যকাল,
তো কেউ নিউটনের থার্ড ল
কেউ বা চাঁদের মনসা মঙ্গল
পড়ে চলে এক স্বরে,
এক যোগে, এক সুরে!
বাবা বসেন মুনির মতন
পাশের কাঠ চেয়ারে।
যেন বাইবেল, গীতা,
কোরান, সংহিতা
শুনছেন প্রাণ ভরে!
আমার দেশের ঘরে
বরষা তুমুল হলে
চাল দিয়ে জল গলে।
তবু যায় নাকো কেউ,
কাউকেই একা ছেড়ে।
আমার দেশের ঘরে
বাজার থেকে
জিলিপি নিয়ে এলে,
ছেলে মেয়েরা সবাই মিলে
একসাথে ঘিরে ধরে।
আমার দেশের ঘরে!
মহিলা মহল, দিল্লির খবর
রাত আটটার নাট্য বাসর
কিংবা গল্প দাদুর আসর
সবাই শোনে যে যার মতন
আকাশবাণীর সম্প্রচারে।
আজকে ছুটির দিনে,
ফিরবো বলে দেশের ঘরে
রাত জেগেছি!
জাগবো - প্রজার ভোরে!
---------------------------------------------------------------------------- কবিতাঃ রোদের রোমান্স!
রোদের রোমান্স
আসলে এক গভীর ষড়যন্ত্র!
জানি, তবু তাকে
অগ্রাহ্য করতে পারি না।
তিলে তিলে সে আমাকে উন্মুক্ত করে,
আমার সকল কোরক সুপ্তি ধীরে ধীরে
ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে
এক অনাবিল সুখের পুলকে।
আর রোদ!
টাকার মতো আলো ছড়িয়ে দেয়
আমার সারা শরীরে;
আমি এতটাও ছোট নই।
তবু বেঁচে থাকার দায়
সেই তো রোদের হাতেই
তুলে দেই প্রতি রোজ!
যদি রোমাঞ্চ কিনে যায় রোদ, সকাল দুপুর সারা
আলোর আহ্বানে সতী আমিও কি দেইনি সাড়া?
------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতাঃ নাটকের সকাল সাঁঝে ,
উদয় আর অস্তের মাঝে
এক সাঁকো জীবনই তো সম্বল।
দৌড়ে পেরোবে নাকি কচ্ছপের মতন,
বিলাসে ব্যাসনে নাকি করে অনশন!
মঞ্চ কি জানে
কখন হবে নাটকের যবনিকা পতন?
লাটাই তো অন্য কারোর হাতে!
সূত্রধরের সূতোয় বাঁধা,
আরোহণ আর অবরোহণ !
মাঝে সাজঘরে সবাই সাজে,
কেউ নির্মনন বোকা কেউ চালাক রতন!
মাঝে কোথায় যে ভোকাট্টা হয়ে যায়!
তখন ফিরতে পারবে না কিন্তু সাঁকোয়।
নাটকের সকাল সাঁঝে ,
মিথ্যে হবে জীবনের সব সঞ্চয়!
--------------------------------------------------------------------------------
এই বসন্তেও আগুন জ্বেলে
ফুটেছে পলাশ মেলা;
আসছে বছর ফুটবে কি না
জানে না ধর্মতলা!
এই বছরেও পড়েছে ঝরে
শহীদ বেদীর পরে!
জুড়ি হারিয়ে এখন একাই
ভাষা উদ্যানের ধারে!
সরেছে ফলক, ভেঙেছে মূর্তি
সুনীল শঙ্খের ভাষা উদ্যান।
আসছে বছর অমর একুশে
ফুটবে কি পলাশ বহ্নি মান?
এই বসন্তেও শালিক টিয়ে
জঙ্গলে ভরা কার্জন বাগ;
সব হারিয়ে বলছে কবি
পলাশ টুকুই বেঁচে থাক!
২১শে ফেব্রুয়ারী, ভাষা দিবসের দুপুরে কার্জন পার্ক ভাষা উদ্যানে গিয়ে দেখা হয়ে গেল - ধ্বংস স্তুপের মাঝে একাকী বেঁচে থাকা এই পলাশ গাছটির সাথে। ভাষা উদ্যান এখন ভাঙা খন্ডহর, মেট্রো রেলের কাজ চলছে। পুরনো স্মৃতির ফলক হিসেবে, জেগে আছে শুধু এই ডালা ভর্তি হলুদ অগ্নি শিখার পলাশ গাছটিই। বেঁচে থাক বাংলা ভাষা বেঁচে থাক পলাশ।
-----------------------------------------------------------------------------------
কবিতা, তোমায় লিখবো ভেবে নীল শিখাতে,
বারবার পুড়িয়েছি হাত সাগরের আগুনেতে!
তোমায় ভাবতে গিয়ে,
বারবার এঘর ওঘর;
শেষে সেই শ্বাস নিতে,
প্রাণপণে জল ঠেলে
ভেসে উঠেছি, ডুবে যেতে যেতে!
ভাগ্যিস তুমি বসেছিলে ঘাটে!
বড্ড করুনার দৃষ্টি ছিল;
তোমার ভ্রু তোলা আঁখি পাতে!
কন্ঠ তীরে তাচ্ছিল্য মেখে
বলেছিলে, নীলাক্ত মুখে -
বারবার আমায় ভেবে ডুব তো দাও;
পারো না তো অতলে তলিয়ে যেতে!
বারবার আমায় চাও তুমি প্রকাশিতে,
পারো না তো আমায় মুক্ত করে দিতে!
---------------------------------------------------------------------------------------
বলছি শোনো, ধৈর্য ধরো
কানটি খুলে খাসা!
বাংলায় লেখে হদ্দ কবি,
বাংলা বলে চাষা!
আমার ছেলে ভালোই বলে
ইংরেজি, রাজ ভাষা!
খেয়ে দেযে কাজের বেলা
আহ্ ম'লো মাতৃভাষা!
২১ ফেব্ এলে পরে
কত না আদিখ্যেতা
বাংলা মাসের দিনটি কত
শুনি কেমন কেতা!
নেচে গেয়ে বক্তিমে দিয়ে
আসর জমাবে বেশ!
মা কে পাঠিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে
মাতৃভাষা, আহা বেশ!
-----------------------------------------------------------------------------------------
অপেক্ষার দীর্ঘ নিঃশ্বাস
এখানে কেবলই পাতা ঝরায়।
পৃথিবীতে কিছুই তো বাঁচে না, প্রতীক্ষা ছাড়া!
প্রতীক্ষা বেঁচে থাকে, বাঁচিয়ে রাখে।
নতুন পাতার মতো
প্রতি বসন্তেই নতুন আশা গজিয়ে ওঠে;
সেই আদি ও অনাদি
অমরত্বের প্রতীক্ষায়!
ভাত শালিকের ঠৌটে ধরা
লাল বট ফলটি আরোও একটি
অপেক্ষার মর্ত্য ভূমি রোপন করতে চেয়ে
আশা পূরণের মহাবিশ্ব খুঁজে বেড়ায়!
অপেক্ষার বাতাস
এই বসন্তেও বয়ে যাচ্ছে, বয়ে যায়!
----------------------------------------------------------------------------------------------
ভোরের উঠোনে না হয়
ফুল হয়ে ফুটুক, কবিতা!
যখন কিছুই মনে আসে না
ভালো লাগে না কিছুই,
উড়ে যাওয়া শব্দগুলো, নির্মোহে উড়ে যায়
বারো ভূতের মাঠে;
মনে হয় না ছুঁয়ে দেখি,
হারিয়ে ফেলেছি যখন শব্দ চাখার প্রবণতা;
কবিতা না হয় খড় পাতা হোক,
ফিরে আসুক উড়ে যাওয়ার চঞ্চলতা!
নিষ্ঠুর এ যাপন মহিমায় খানিক
মুগ্ধতার জেলিই - মাখিয়ে দিক কবিতা!
বেঁচে থাকার জন্য আরোও কারণ খুঁজতে
কবিতা কে করে - আরোও কিছু দিন
বেঁচে থাকার যেন পাই প্রিয় ক্ষমতা!
-----------------------------------------------------------------------------------------------
চাঁদের শরীর
জোছনার ভিড়..!
চাঁদের আকাশে
তারারা প্রবাসে
ছায়ারা ভূমি শয্যায়!
নিভবে প্রদীপ
বুক ঢিপ ঢিপ
তটিনী নাও ভাসায়!
নিশাচর পাখি
দেয় উঁকি ঝুঁকি
পাতারা পাতা ঝরায়!
শিশিরের স্বরে
বারি ঝরে নীড়ে
আগুনেরা ভিজে যায়!
চাঁদের শরীর
জোছনার ভিড়
লজ্জা রাঙা কুয়াশায়!
ফিসফিস কেউ
বয়ে যায় ঢেউ
মুক্ত চুমুর আশায়!
-------------------------------------------------------------------------------------------
যেই টপাটপ উঠলো ফুটে
শিমুল ডালে ওই .....!
অমনি রতন বললো উঠে
ফাগুন আইলো ভাই...!
চায়ের জলে আগুন জ্বেলে
বউটি বললো তুই
মজবি যদি শিমুল ফুলে
ফাগুন যাবে মিছেই!
একটু হাওয়ায় পড়বে দেখিস
আমার চালার পরে!
খেয়াল আছে? বেকার মরিস
ফাগুন ফাগুন করে!
চারটে ফাগুন এমনি গেল
কোথায় ছিলি তুই!
ব্যাকুল হয়ে ডাকলো কোকিল
জ্বল্লো আগুন বৃথাই!
ক্রমশ...
-------------------------------------------------------------------------------------------
প্রকৃতি কি মনে রাখে কিছু?
রোদের স্মৃতি জমা হয় ক্লোরোফিলে;
হাওয়ার খুনসুটি পাতার দোলায়!
জোছনার স্মৃতি উজাগর হয়
ঘন নির্জন নীল অমানিশায়।
কোথা হতে ঢেউ জলে ভেজা সৈকতে
ফিরে যায় বাঁকা আল্পনা দিতে দিতে!
কুয়াশার স্মৃতি তাও ধরে রাখে শিশির।
রাত ভোলে না সে ভোরের কিচিরমিচির!
বৃষ্টির জলারণ্যে ভেসে যায় ধূসর বন্যে
তবু মনে রাখে নদী একটু জলের জন্যে!
শুধু জন প্লাবনে ভেসে,
ফিরে যায় মানুষ -
প্রকৃতির বিউটি শো দেখে।
মনে রাখে না প্রকৃতি!
মুছে দেয় ফাঁকা
বিস্মৃতির গড়ের মাঠ থেকে!
-------------------------------------------------------------------------------------------
একসাথে নীল দুই
ফুটে রয় ফুল দোঁহে!
সময়ের রেলে চেপে,
কে যেন সাজি হাতে
দাঁড়ায় অদূর সম্মুখে!
মন্দ কি মৃত্যুর মোহে,
এক সাথে এক দ্রোহে;
বেদনার এক আগুন,
দহে যদি ফুল দোঁহে!
---------------------------------------------------------------------------------------------
আলো - প্রকাশক, ছায়া - গ্রন্থ,
লেখক - নিমিত্ত মাত্র, মতভেদে সুপারি বৃক্ষ।
প্রকাশ কাল - রবিবারের অপরাহ্ন।
প্রকাশ স্থান - ঘন্টুদের ঘরের পশ্চিমের দেওয়াল।
পড়ার আমন্ত্রন রইল!
অবশ্যই প্রচ্ছদে মৃদু টোকা দিতে ভুলবেন না যেন।
---------------------------------------------------------------------------------------------
ছন্দ আনতে, ছুটি বসন্তে!
রোদ উঠেছে
রোদের ঘোরে!
কুয়াশা গেছে
যমের দোরে!
নীল ঢেকেছে
আকাশ নীলে!
মেঘ আনেনি
বরষা বিলে!
ঝরছে পথে
আমের মুকুল;
সজনে সাদা
শোণিত শিমুল!
গাইছে কোকিল
আকুল স্বরে!
বইছে বাতাস
দখিন ঘরে!
পলাশ মাঠে
আগুন জ্বেলে,
কবির কি লাভ
বসন্ত এলে!
-------------------------------------------------------------------------------
জানি একটা দীর্ঘ সকাল লাগে তোমার
ঠোঁটে লেগে থাকা রাত্রির ইতিহাস পড়তে!
বুঝতে পারি, সে গাঙ তটে
কুয়াশা ছিল নাকি জ্যোৎস্না;
নাকি শুয়ে ছিল আস্ত জাহাজ
ভেসে যাওয়ার অপেক্ষাতে!
হয়তো অরণ্যের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে
রাত জেগেছিল শিশির প্রেমের হাটে!
হয়তো ত্রস্ত, শত তুলির আঁচড়েও
ফুটে ওঠেনি ঝড় সাধের চিত্র পটে!
নিশাচর পাখিরা কি উঠে পড়েছিল ঘুম ভেঙে!
তোমার ঠোঁটে ছড়ানো না ভাঙা চিনির দানা,
ভোরের বাতাসে ঠিকই
নোনা নদী হয়ে বয়ে যাবে!
-----------------------------------------------------------------------------
নতুন আলো!
আকাশ থেকে
যেই নামলো
প্রথম দিনের আলো!
পাহাড় ডেকে
বললো আগে
আমার মাথায় ঢালো!
-----------------------------------------------------------------------------------
কবিতা কখনো কখনো
বন্ধ পড়ে থাকা রাজবাড়ীর মতন।
সিংহ দুয়ার হয়ে
ঘুরে ঘুরে চলে যায় পর্যটক পবন।
কবির ভাবনাগুলি
অতৃপ্ত বাতাসের কাঁধে চেপে
ঘুরে বেড়ায় শহরের অলিগলি,
ভগ্ন গেস্টরুম খুঁজে!
চলতে চলতে কখন
নিভে যায় মোমবাতি!
অন্ধকারে, কবির শরীর ছেড়ে
বেরিয়ে পড়ে জয়োদ্যত রাজকুমার
অপসৃত কাব্য রাজ্যের।
তখনো কবিতার মুখড়া
রূপকথার বন্দী রাজকন্যার মতো
সিন্দুক বন্ধ হয়ে মুক্তির প্রহর গোনে।
ভোর হলেই রোজনামচাসুর এসে
এলোমেলো রোষে, সব যাবে ভেসে।
বাকি থেকে যাবে কবিতা উদ্ধার!
-------------------------------------------------------------------------------------
পাতার পরে আল্পনা,
রংবেরঙের উল্কি!
শিল্পী বড় নাদান;
কে জানে, তাঁর মনে
কি দিয়েছিল উঁকি!
ফুল ফোটাতে চেয়ে
হৃদয় রঙে ছেয়ে,
কি না ভেবে কি, ভাবনা ভাসিয়ে দিয়ে
ফুটিয়েছিলেন পাতা
ফোটাননি কি ফুল কি?
----------------------------------------------------------------------------------------
রূপের কথা রূপকথা,
ডুব দিলেই ডুবকথা!
ভাবতে গেলে ভাবকথা,
শুনতে লাগে গল্প গাথা!
রূপের শব্দ চুপকথা,
ভাবের ঘরে আকূলতা;
রূপের আলো নবনীতা,
কথার মাঝে নীরবতা!
রূপের দেখা পাই কোথা,
অতল তলে সুখকথা ;
রূপের মাঝে চঞ্চলতা,
ফুরিয়ে গেলে স্বপ্নকথা!
রূপের হাটে সফলতা
ছুঁয়ে দেখার নিমগ্নতা;
রূপের ঘাটে নৌকাপাতা,
নিত্য আসে ভ্রমর সেথা!
-------------------------------------------------------------------------------------------
আলোর কদম্ব ফুল
কথা দাও, তুমি
আজ নিভবে না।
প্রেক্ষাগৃহে কারা যেন অপ্রাসঙ্গিক
নাটক দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে!
অহেতুক কৌতুকের ছলে সব্বাই নিজেকে নিজের থেকে আড়াল করতে হাস্যকর সব সঙ সাজবে।
প্রেমিক প্রেম লুকিয়ে ধর্ষক হয়ে উঠবে।
তুমি ভাবতে পারছো, আলোর কদম্ব ফুল!
তোমার নিস্প্রভ হওয়ার সুযোগ নিয়ে
দুঃখি মানুষটাও চটুল গানে দিব্যি কোমর দোলাবে।
প্রতিবাদী, সেও ভাষা হারিয়ে বোবা হয়ে ঘুরবে
মঞ্চের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে!
কারা যেন আজ শ্মশানে
শান্তির বাণী শুনিয়ে হাততালি কুড়োতে চায়!
লালন, রবীন্দ্রনাথ, জসীমউদ্দীনকে আজ রিয়েলিটি শো' র জোকার জাজ বানিয়ে ছাড়বে।
দর্শকাসন থেকে মানুষ ছুটে আসবে লাঠি সোটা
বন্দুক নিয়ে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চাইবে
মর্যাদার অর্জিত বিশ্বাস কে। আসলে ভিলেন চাই !
না হলে হিংসার যথার্থতা প্রতিষ্ঠিত হবে কি করে?
তুমি ভাবতে পারছো, আলোর কদম্ব ফুল
সুফি বাউল, ভাটিয়ালির সুরে খিস্তির খেউড়
না মেশাতে পারলে নাকি দামাল
যৌবনের সাথ পাওয়া যাবে না!
তুমি কথা দাও, আলোর কদম্ব ফুল
প্রেক্ষাগৃহের সিলিং থেকে তুমি আজ
শেষ বিচারের আসামীর মতো
ঝুলে থাকবে না। তুমি নিভে যাবে না।
তুমি এই অলীক কুনাটকের বিবেক হয়ে
জ্বলে থাকবে বলো।
তুমিই শেষ সম্বল।
একবার নিভলেই প্রেক্ষাগৃহ উচ্ছন্নে চলে যাবে।
কথা দাও, তুমি নিভবে না।
আলো জ্বেলে রেখে অন্তত
এবেলা বন্ধ করো এই ভাবের ঘরে চুরি।
মান সম্মান, সঞ্চয় সম্পদ সব গেছে
এবার অন্তত ভাষাটাকে বাঁচাতে দাও!
--------------------------------------------------------------------------------------
এইতো আর দু এক দিন,
ডাল ভর্তি লাল জৌলুস!
পড়লেই ঝরে ভূমিতলে
রাজ্যের জঞ্জাল, ধুস্... !
অতঃ ঝরা শিমুল কথা।

ডাবের রাজ্যে পিপাসার্ত স্ট্র মুখ!
সুকান্তীয় ভাবে আক্রান্ত!

নিত্য গলা তুলে চেয়ে থাকা চোখ কয় ওরে,
রোদ্দুর এসেছে দেখ আঁধার আর নাই রে!

গঙ্গার জলে ভিজে,
গোধূলি লাল লাজে!

ভাটিয়ে গিয়েছে জল, ফেঁসেছে তরী তীরে
প্রেমের ঘাটে কবে জোয়ার আসবে ফিরে?

কৃষ্ণ আকাশের মাথায়
আঁধার অর্ধচন্দ্র পায়!

এই বেলা আয় লুটি সুখে,
উপুড় গঙ্গা হীরক বুকে!

জননী, দুহিতা, স্ত্রী
নারী তিন ধরিত্রী!

ক্রিকেট ধর্ম যে দেশের,
মন্দির তার খেলাঘর!

ভোরের আকাশ নীল, দেখে চক্ষু মেলে;
খোলা বুক শুয়ে নদী, ভাসে রোদ জলে!

দুর্বিনীত গোধূলির ছায়া যুদ্ধে,
দিনের শেষ আলো শুধু মায়াই বাড়ায়!
স্থির নিশ্চল বাতাসে বসে কেউ,
ক্ষীণ দীপ্ত লন্ঠন জ্বলে ওঠার প্রত্যাশায়!

চলো হৃদয় রাঙাই এই বেলা!

রং বাতি জ্বালো এই প্রাতে!

চাঁদ তুমি পূর্ণিমা,
রাত্রির অরুনিমা!

এ কেমন সাজা, বৃথা জল খোঁজা!
তৃষ্ণার্ত হংস কথা!

কবরী শোভা তব, নব মঞ্জরী গ্রন্থনে;
দেখিলে কি বা সুখ, ছুঁতে চাই আনমনে!

নির্জন পাতার চরে এখনোও কিছু ফুল ফোটে;
জানে না ভোরের ভ্রমর, ভিড়বে কিনা এই পাটে!

প্রেমের ডাকে সবার আগে, অপ্রেমে পলকহারা;
রোদ বৃষ্টি তারই মাঝে, নির্নিমেষ নয়নতারা!

সম্ভোগের চূড়ায় মিশে যায় বেদনার শিখর বিন্দু!

চাঁদের ঘাটে নাইতে নেমে
আড়াল খোঁজে জোছনা!

বলতো, ফুল ফুটেছে ক'টা?
কেউ বলে দুটো, কেউ ন'টা!

বিদ্বেষ বিভেদ দূরে যাক, থাক শিশুর হাঁসি সুরক্ষিত;
সবে মিলে বলি চলো ঈদ মোবারক; মহা খুশীর ব্রত।

সে আহ্বান মিথ্যে নয়, তবু ভেসে যেতে পারি কই!

নিম বেগুনের ম্যাচে, উইকেট সজনে ডাঁটা!
ডাল ভরা ডাঁটা গাছে, ম্যাচ হবে না গড়াপেটা!

আকাশ ঢাকা বুকে মেঘের অন্তর্বাস;
হৃদয় ঘাটে হঠাৎ, চৈত্রে শ্রাবণ মাস!
-----------------------------------------------------------------------------------------
একদা এক পাগল কবি ছিলেন দেশে!
বুভুক্ষু মানুষ গুলোকে, জনে জনে
তাঁর কবিতা শোনাতে গিয়ে
কম সাধ্য সাধনা করেননি তিনি।
শেষে একদিন,
ভরা হাটে, ঘোষণা করে দিলেন
শোনো, শোনো! আমার কবিতা
একবারটি শুনে দেখো;
দেখবে, খিদে আর তোমাদের জ্বালাবে না!
বিশ্বাস হচ্ছে না, এই দ্যাখো
তোমরা আমাকে দ্যাখো!
কেউ কোনোদিন তোমরা
দেখেছো আমাকে কিছু খেতে?
কবিদের খিদে পেতে নেই।
তৃষ্ণার্ত হতে নেই।
কবিরা তো ভাবের রাজ্যে বাস করেন,
তাদের অ-ভাব থাকতে নেই।
কিন্তু কেউ কর্ণপাত করলো না।
সবাই নিজের নিজের অভাবের
অনুযোগ করতে করতেই হাট থেকে
বিদায় নিল একে একে।
শুধু একটা গুঞ্জন উঠলো বটে
ব্যাটা পাগল আর বাঁচবে না বেশিদিন।
কেউ কেউ বিড়ির শেষ ছাইটাকে
বেশ জোরের সঙ্গে মাটিতে ফেলে
বলে গেল, খালি পেটে কি আর কবিতা হয়!
ব্যাটা পাগল বলে কি!
শেষে সে পাগল কবির
কি দশা হয়েছিল, কেউ খোঁজ রাখে নি!
কেউ জানে না, সে মরে বেঁচে গেছে কি না!
-----------------------------------------------------------------------------------
ওই হৃদয়ের আগল খুলে
আমিও ছিলাম, তুমিও ছিলে!
যতেক প্রেমের আবেশ বয়ে
বেণীর সাজে শিমুল ছুঁয়ে
ঢেউ তুলে নাও ভাসিয়েছিলে!
ওই হৃদয়ের পাখনা মেলে
আমিও ছিলাম, তুমিও ছিলে!
রোদেল ধোওয়া শিশির জলে
আমিও ছিলাম ঘাসের কোলে!
শালিক পায়ে তুমিও ছিলে
ঝরবো বলে হাওয়ায় দুলে!
ধূসর মাঠে আগুন জ্বেলে
পলাশ পঙ্খ দুলিয়েছিলে!
হঠাৎ ফাগুন ধেয়ে এ'লে
ছন্দ হারাই অন্তমিলে!
এই বসন্তে রঙের মিলে
আমিও ছিলাম তুমিও ছিলে!
তোমার ঠোঁটের আদর পেলে
দোষ কি বলো পাগল হলে?
--------------------------------------------------------------------------------
কি যেন বলবে বলেছিলে?
একে একে ঢেউ,
ফিরে যায় ফেউ;
গাঙচাত ভরে নোনাজলে!
উড়ে চলে শিমুলের তুলো!
ব্যথা ফেরি করে,
অবলা হকারে;
ঘুরে যায় বোবা শব্দ গুলো!
কি যেন বলবে ভেবেছিলে?
পিঠে পুর দিয়ে
ভেজেছিলে ঘি'য়ে;
ফোটাতে গোলাপ, পদ্ম ঝিলে!
রোদ ঢাকে কুয়াশায় মেখে!
লগি ঠেলে ঠেলে,
ভাসো বাধো জলে;
অধরে অধর চেপে রেখে!
কি যেন বলবে বলেছিলে!
ভালোবাসি বলে
দাও এই বেলে;
কথা খুঁজে পাবে কথাচ্ছলে!
----------------------------------------------------------------------------------------
বাইপাসে যানজট!
ভাবছি বসে, জানলা পাশে
বাঁধবো কি না উড়াল কাব্য পথ!
বাস ট্যাক্সি বাইক, জুড়লো সবে যেই
পাখনা পতপত; অমনি দেখি
বাগড়া সেকি, নড়ছে না স্বর্গ রথ!
হঠাৎ ফোনে বাজলো উঠে,
আজোও দেরী তোমার বাটে!
কি করবো! ভাবছি পদ্য উদ্ভট!
হঠাৎ দেখি গাড়ির কাঁচে,
উদাস চোখে তাকিয়ে আছে
লাল রাঙা দুটি ঠোঁট!
জানলা খোলা, চলছে যানজট;
মোটা, তন্বী, নিষ্প্রভ বহ্নি
সবার মনে কাব্য কাহিনী।
গড়লে গাড়ি, ভাঙবে চিত্রপট!
অনেক ভেবে নোঙর খুলে
নামলাম পথে, কাব্য ভুলে
হন্টন গদ্যে চটপট!
বাইপাসে যানজট!
---------------------------------------------------------------------------------------
কখনো সে আমার - প্রিয় জননী!
কখনো জায়া! কখনো বা দুহিতা।
কখনো আকাশ, কখনো বা ধরনী!
কখনো সে আঁধারে জ্বলা সবিতা।
কখনো দেয় আদর! কখনো করে ভণিতা!
কখনো রোদে মাখা, কখনো বা ছায়া পাতা।
কখনো সে মুখর, কখনো বা নীরবতা
কখনো মরুর বুকে জলের উদারতা!.
সে আমার - সকল জয়ের উদগ্র ব্যাকুলতা
আমার প্রিয়, নিভৃত যাপনের সাথী কবিতা।
আমার সকল পরিশ্রমের ফসল, পুষ্প লতা
মহাকালের বুকের উপর দাঁড়িয়ে নৃত্যরতা
সে নারী, জন্ম দিচ্ছে নব কবিতা মাতৃক সভ্যতা!
----------------------------------------------------------------------------------------
ফুল যদি ব'সেই বেঁকে,
ভাল্লাগেনা পরের সুখে;
ফুটতে ভারী মন রেখে!
রোজ সকালে টুকটুকে,
না হয় সাদা তকতকে;
পাঁপড়ি মেলি ভার বুকে!
রাগ ধরে যে রোদ দেখে!
ভ্রমর মধু যায় চেখে;
ফুটবো বলো কোন্ মুখে?
কেউ ছেঁড়ে বা বৃন্ত থেকে!
রঙে, রূপে ফুলদানিকে;
অলক গুচ্ছে স্বপ্ন আঁকে!
আহা সেকি বেহদ সুখে,
মুগ্ধ বাণী অবাক চোখে;
শুকিয়ে গেলে শূণ্য শাখে
স্মৃতির ঘরে কেবা রাখে!
ইচ্ছে হয় সবটা দেখে ,
নুড়ো জ্বালি কবির মুখে !
কি লাভ বলো ওর দুঃখে,
ফুটবো আমি ফেসবুকে?
-----------------------------------------------------------------------------------------
তোমার ঘরে এখনোও জ্বলছে আলো!
শিয়ালদা স্টেশনের
বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডের মতন।
মেকাপ মুছে
একটু শোবে অন্ধকারের সাথে,
তার জো কই।
রাত্রির ভারী হয়ে আসা
বাতাসেরও চোখ আছে যে!
পাতাখোরের চোখ, সেও ঘুমে ঢুলুঢুলু।
বাঁশবাগানে - জোনাকিরাও জ্বলে নেভে..!
শুধু তুমি অপলক;
রাতের বেশ্যাদের মতন!
নিশাচর একটা পেঁচা ও যেন তোমার
অনালোকিত শস্যহীনতা
দেখে না ফেলে!
আলো নিভিয়ে
খোলা জানালার ধারে বসবে খানিক
হাসনুহানার গন্ধে....!
তার ও জো নেই!
রাতের ও তো অপূর্ণ স্বপ্ন আছে!
স্বর্ণ মৃগকে নিজের করে পাওয়ার
অবাধ্য বাসনা আছে।
জেগে থাকা একটা পাগল ও যেন
ছদ্মবেশী মারীচকে
না দেখে ফেলে।
আলো জ্বালিয়েই রাখো।
ঠৌটের দূরপনেয় লিপস্টিকের মতন!
---------------------------------------------------------------------------------------------
আগুন লেগেছে পূবে!
বড় রাস্তার ওপারে নয়নজুলি, কালধার মাঠ
পেরিয়ে কাঁচা পাকা ঘর, মাথায় তাল সুপারি
শিরিষের ছায়ায় - কমলা আগুনের ছোঁয়াচ
ছড়িয়ে যায়।
আমের বকুল, সজনে ফুল, নিম নব পল্লবে
চরে লাল আভার বিস্তার!
এদিকে, নব সবুজ তরুন ধান ক্ষেতের পানে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে হরেন কাকা!
আগুন কোথায়?
দূর পাগল - আগুন লেগেছে ঐ পূব মুন্সীর গাঁয়?
ঐ .. পূবে! সে তো অনেক দূর!
মোরাম ফেলা পথ, তাল দিঘি, বেবুরের সারি
মাছের ভেড়ি, তারপরেও কি পড়বে দাঁড়ি?
এবার বুঝেছি, পৃথিবীর আদিমতম সত্য কেন
প্রতিদিন ভোরের পূব-শূণ্য-পুরে
রাঙ্গা ফাগুনের মায়া ছড়ায়!
আগুনের ছলনায় যদি ঘুম ভাঙে এইবার!
--------------------------------------------------------------------------------------
বিকেলের বারান্দায় এসো কিন্তু এক ফাঁকে!
নারকেল, সুপারি, কদম্ব, বকুল আর
শিরীষের ফাঁকে ফাঁকে, লুকোচুরি চলে চলুক
ভিরু শালিকের পা'য়, রাঙা মুখ খোলা রেখে!
ভয় পাচ্ছো, তুমি? কেউ কি ডাকছে তোমাকে?
এই বেলা এসো কিন্তু, সাঁঝ পাখি ফেরে ঝাঁকে!
ছেলেরা ড্রয়িং স্কুলে, সূর্যাস্তের ছবি আঁকে;
দূরে দিঘির জলে, কমলা পদ্ম ভেসে থাকে!
চলে যেও না বিকেলের বারান্দা থেকে!
দেখো ফিরছে মানুষ, দল বেঁধে একে একে!
একান্তই যদি যেতে হয়, চলে যাওয়ার আগে
বলে যেও ফিরবে কাল গোধূলির পূরবী রাগে!
-----------------------------------------------------------------------------------------
ভেবেছিলাম খেলবো আজ লম্বা বড় ইনিংস,
কয়েকটি মাত্র শব্দ লিখেই, কাব্যি দেখি ফিনিশ!
বাউল মন আমার..!
আজ যে হোলি, রঙীন ফটো ফিনিশ!
এবেলা খেলে, ওবেলা ধুয়ে ফেলিস।!
নানা রঙের ফাগ, লাল নীল সবুজ মাখিস!
কবে নিউটন বলে গেছেন ভুলে কি গেছিস,
সব রঙ মিশে গিয়ে - সাদাতেই হয় হাপিস?
বাউল মন আমার...!
আজ উড়বে রঙের ফররা কালকে সব ভ্যানিশ!
আজ দুপুরে চলবে বেজায় কল ঘরের কোশিস !
পাগল মন আমার...!
কবিতা এখন মাথায় থাক, রং নিয়ে মাতিস
বসন্ত এসেছে যখন রঙের জোয়ারে ভাসিস!
--------------------------------------------------------------------------------------
ভারতীয় চায়না লেবু!
----------------------------
আমার মন চায় না, দিল চায় না;
চায় না মাল ভরা, বাজার চায় না!
চায় না তাস পাশা, খেলনা চায় না
চায় না পর্যাপ্ত চিনি, মিষ্টি চা'য় 'না'!
চায় না বিদ্যা, আমার বুদ্ধি চায় ন;
চায় না টর্চ চাবি, আয়না চায় না
চায় না কাগজে লিখি, পেন চায় না
চায় না প্রাচীর দেখি, শৈলী চায় না!
চায় না মল, হাট, বাজার চায় না
চায় না রুচি বলতে ফের চা'য় না।
চায় না লাইটার, সেলফোন চায় না
চায়না রোজ হলে রক্ত জবা চায় না
চায় না মেয়েটির, নাম হোক চায়না
চায় না রিং টোন, রেডিও চায় না!
চিন্তা চায় না, আমার ভাবনা চায় না;
লড়াই চায় না, ক্যারেটে কুংফু চায় না!
ডিম চায়না, মুজফ্ফরী লিচু চায়না;
মেক ইন ইন্ডিয়া কিন্তু নয় সে বাহানা,
ভারতের মাটিতে, ফলছে লেবু চায়না!
-----------------------------------------------------------------------------------
সাঁঝ বাতি উঠবে জ্বলে
সূর্য হলে নিষ্প্রভ!
জানিয়ে দেবে বাতি স্তম্ভ
সূর্যাস্তের সি অফ!
----------------------------------------------------------------
দাও কথা ডুব, অবসর নিশ্চুপ;
গন্ধ ছড়াক নাগকেশর!
জীবনের গতি, পথে পথে যতি;
ঠোঁট আর চুমুর অন্তর
-------------------------------------------------------------------
ইচ্ছে করে,
তোমার সাজার ফুল দিয়ে ওই
আমার গেটেটি সাজিয়ে নেই!
রোদ আনবো মেঘ সরিয়ে,
পাহাড় কেটে জল!
বাতাস কেন বাকি থাকে,
তাকেও করবো , নিমন্ত্রণ!
তবে একটা শর্ত আছে, একটু শুনে নাও!
যখন আমি ঘুমের ঘোরে ..!
সেই সুযোগে, চাঁদের আলো হাত বাড়িয়ে
ডাকবে তোমায় অভিসারে!
তুমি কিন্তু চুপটি করে
সৌরভে আর কপাল ছোঁয়া চুমুর স্বরে
আমায় জাগিয়ে দাও!
কি রাজি তো মাধবীলতা?
-------------------------------------------------------------------
ধম্ম কথাঃ

মূর্খ গুলো মরাই ছিল
ধর্মের নামে বলি যেত!
ভাত ছিলনা কাজ ছিলনা
বিনা শোচে মুরগা হোত!
ফাঁসুড়েরা ক্লান্ত হয়ে,
ডাক দিল - ধর্মাবতার!
সুখ নেই মড়া মেরে
এক বা ছাব্বিশ হাজার!
ধর্মের মুখ মোরগ লড়ে
আহা কি দারুন মজা!
কেকিয়ে উঠছে ডেকে,
জীবন্ত মরার সাজা!
দু ক্লাস পড়িয়ে পড়ে,
ভাবছিস আমায় বোকা !
তোর ভাত আমার হাতে,
লেখা আছে শাস্ত্রে পাকা!
রাত হয়েছে অনেক যখন
ধর্মের সুখ, শান্তি চাই;
অশ্রু ভেজা কাঁথায় শুয়ে
বাঁচার স্বপ্ন দেখতে নাই!
বোকারা হাততালি দেয়
এখনো ঘুমের ঘোরে !
জানে না ধর্মের আগুন,
জ্বলে না বাছাই করে!
-------------------------------------------------------------------
যাচ্ছে চলে চালচুলোহীন বেরঙীন এক দিন,
নিচ্ছে বিদায় অগ্নি শিখায় দিগন্তে রুধির ঋণ!
দু লাইন লিখেই মনে হচ্ছিল, না - বলার আর কিছু নেই, কিন্তু কিছুতেই যেন সেরে উঠতে পারছিলাম না ভাবনার সুতো গোছানোর কাজ- তাই নিতান্তই বেলাগাম, লিখে ফেললাম আরোও কয়েকটা লাইন।
পথে পথে কেটেছে বেলা,
গাছের তলে
নদীর জলে
জুড়িয়েছে সে গাত্র জ্বালা !
এবার ফেরার গাড়ি চাই !
তাই তো চিতা
সাজিয়ে মিতা
বলছে এসো শুয়ে যাই!
পোড়ার শেষে
ছায়ার দেশে
সাঁঝের প্রদীপ হাতে সই;
জ্বালবে নিশি
উঠবে শশী
চলো জ্যোৎস্না ধোওয়া হই!
---------------------------------------------------------------------------
চৈত্রের চড়ক আর উত্থিত শিবের ত্রিশূল;
চেয়ে রয় আকাশ পানে, গগন শিরীষ ফুল!
চৈত্র মাসে দামাল চৈতালী বায় আর আকাশ থেকে ঝরে পড়া মৃদু বর্ষা সিঞ্চনে , জেগে ওঠে এমন সুনন্দ পুষ্প প্রস্ফুটনের সানন্দ প্রেরণা কাল।
ধন্যবাদ।
-------------------------------------------------------------------------------- মোহনা মুক্তির স্বপ্ন!
কেন দুঃখের উৎসমুখ গুলি
আমার সামনে এসে, ঝরে পড়তে চায়
অঞ্জলীর ফুল পাতা হয়ে!
কতটা উষ্ণ করুনার প্রয়োজন
জমে থাকা হিমবাহের গলে যেতে?
দুকূল ভাসিয়ে সে রিক্ততা
সাগরে মিশে যাওয়ার আগে,
আঁকে মোহনা মুক্তির স্বপ্ন -
মরা নদীর নিঃস্ব দুই ভাগে!
প্লাবন অন্তে পাতা
রূপোলী লবনের রেখায়,
ডানা মেলে আবার -
নব দিগন্তের কবিতা!
------------------------------------------------------------------------------
যুক্তি দিয়ে বলতো দেখি
সেঞ্চুরি কেন শত!
অমূল্য হলে ভালোবাসা,
চুমুর দামটি কত?
যুক্তি দিয়ে বেশতো দেখি
সাজাও কথা কত!
পিঁপড়ে মরে পাখায় শুধু;
পাখিরা মরে নাতো!
যুক্তি দিয়ে বুঝতে যদি,
দুধটা আমিষ হতো!
পুরুত সেও পানের মতো
পেঁয়াজ চিবিয়ে খেতো!
যুক্তি হলো বখাটে ছেলে
উটকো প্রশ্ন যত!
যুক্তি ছাড়া ভাবুক বেড়ে,
যুক্তিতে থতমত!
বেশতো তবে মানছি আমি,
আনছি ঝাল ঘৃত!
যুক্তি ছাড়াই ভ্রমর জানে
যুক্তি ফুলটি তিতো!

নীল প্লাস্টিকের ওপর ডাই করা ফুলগুলির নাম হলো যুক্তি ফুল। 'যুক্তি' না হয়ে যদি 'জুক্তি' হতো তাও একটা কথা। ঠিক যুক্তি দিয়ে বোঝা যায় না কেন ফুলটির নাম যুক্তি হলো। যাই হোক, এই সময়ে বাজারে খুব বিক্রি হয় এটি। এমনিতে দেখতে খুব সুন্দর হলেও, এর স্বাদে কিন্তু রয়েছে তিক্ততার ছোঁয়া। আর এই তিতা স্বাদের কারণেই, এর আর এক নাম তিতা কুঞ্জ। গড়িয়ার স্টেশনের ওপরে যে মাসি নিয়ে বসেছিলেন তিনি বললেন, নিয়ে যাও বাব, এইসময় খেতে হয়। নিশ্চয়ই কোনো যুক্তি আছে। কিন্তু আবার যুক্তি...!
----------------------------------------------------------------------------------------------
আমাদের গ্রামে একটি নদী ছিল; এখনোও আছে।
ক্ষীণ তার স্রোতধারা।
তবু সে শীর্ণ তনু নদী - আমাদের গ্রাম পেরিয়ে, আরোও যে কত গ্রাম ছুঁয়ে বয়ে গেছে কে জানে...!
একদিন এক পরিত্যক্ত বাতিঘরের ভাঙা সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলাম, একেবারে শিখরে!
দেখি কি, নদীটি মিশে গেছে নীল সমুদ্দুরে!
নদীপথ ধরে একদিন পৌছোলাম,
মোহনার দরবারে।
শুধোলাম নদীটিকে, শান্ত গম্ভীর স্বরে -
আচ্ছা এতদিন তো তুমি আমাদের ছিলে,
আমাদের ছোট গাঁয়ের;
এখন দেখি তুমি আমাদের নও,
হয়ে গেছ গোটা রাজ্যের!
নদীটি সম্ভবত বুঝছিল আমার ব্যথা!
রোদের হাঁসিতে কলকল স্বরে সে বলে উঠলো-
এবার বলো তো, তুমি বাস করো কোন্ রাজ্যে?
কেন, আমি আমার রাজ্যে বাস করি, বলতে পারো রাজ করি মহা সাধ্যে!
তবে আর কি, সমুদ্র ও তো সেই তোমারই হলো ।
একদিন আরোও ওপরে, বিমানের কাঁচ দিয়ে
দেখি আমাদের রাজ্য তথা আমাদের প্রিয় দেশের
সেই সমুদ্র কিনা মিশে লীন হয়ে গেছে মহাসাগরে!
ইথার তরঙ্গে ভাসিয়ে দিলাম আমার এতদিনের
প্রবঞ্চিত শ্লাঘাকে -
সমুদ্র তুমিও আর আমাদের রইলেনা? হয়ে গেলে ভিনদেশের?
সমুদ্র গর্জনে কম্পিত বাতাস!
ভীষণ স্বরে শুধালো আমাকে - তুমি কোন্ গ্রহে থাকো বাছা, জানো না কি তাকে?
জানি, আমাদের পৃথিবীকে।
এবার বুঝেছো বাছা, এ ধরনী গোটা তোমার!
মিছেই দাঁড়ি টানো, করো শুধু তোমার আমার !
এই দুনিয়ার সর্বত্র, একই মাধ্যাকর্ষ টানে
সকলেই বাঁধা, একই আসন একই আকর্ষণে!
------------------------------------------------------------------------------------------
রাস্তা জুড়ে আলোর মেলা,
খোকা খুকু করছে খেলা !
ফল মিষ্টি, ইফতার পার্টি
দারুন মজা জমজমাটি!
চাঁদ দেখতে বিকেল বেলায়
সবাই যাচ্ছে মাঠের খোলায়!
নতুন চুড়ি লেহেঙ্গাতে
মলিনা ওঠে চিলে ছাদে;
রহিম সাথে পিছে পিছে
চাঁদ দেখবে ঈদের সাঁঝে!
পূব আকাশে মেঘের জটা
চাঁদটি যেন জটায় আঁটা!
তালগাছের ঐ মাথার পরে
মেঘ জমেছে এমন করে
লাগছে যেন দিব্যি বসে
শশীভূষণ, ধ্যানের ঘোরে!
জোরসে মলি ডেকে ওঠে,
আয়রে রহিম আয় ছুটে!
ওই দেখা যায় - নির্বিবাদ,
শিবের মাথে ঈদের চাঁদ!
------------------------------------------------------------------------------
কত না বেদনা বুকে ভ'রে,
প্রকৃতি এমন ফুল গড়ে !
পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্যের পীঠস্থান গড়ে ওঠে, বেদনার পাহাড় খুদে!
প্রকৃতির যন্ত্রনা তাই সবথেকে বেশী; বৃথাই মানুষ কাঁদে, নয়ন মুদে!
------------------------------------------------------------------------------------ মসী চিহ্ন!
অদ্ভুত এক মসী চিহ্ন, চারিদিকে।
হেঁটে যাচ্ছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবক্ষ
মূর্তি হয়ে আছে! আড্ডা মারছে -
খাচ্ছে দাচ্ছে। এট্টুও আলো নেই মুখে।
আসর জমিয়ে গান করছে,
মঞ্চে আগুনে বক্তৃতা করছে;
সমাজ সেবা করছে, ডাক্তারখানায়
রোগী দেখছে! ওকালতি করছে,
ছাত্র পড়াচ্ছে, সরকারী অফিসে
কাজ করছে; সব্জী বিক্রি করছে
বিকেলে ফুচকা, তেলেভাজা নিয়ে
বসছে। এবারে ওরা, একজোট হচ্ছে।
গোটা দেওয়াল তাই, মসীলিপ্ত!
এখন মসী চিহ্নের হয়ে সবাই কথা বলছে!
ক্রমশ বানের জলের মতো ঢুকে পড়ছে
চিন্তন, মনন, শুভ চেতনার পিছে পিছে।
সর্বত্রই, মসী চিহ্নের জয়।
নিকষ অন্ধকারের বরাভয়!
এর বাইরে অচিন জগৎ
একা হয়ে যাওয়ার ভয়!
--------------------------------------------------------------------------------------------
কদম্ব গাছের তলে, বরষা শূন্য - ছায়া ছিন্ন কালে ;
আম একখান, সখ্যতা করে ছড়িয়েছে ডালেপালে।
পাতার বোনা জালে, হাওয়া বয় ফিসফিস স্বরে ;
রোদের চুমু তপ্ত ভানু, তলে বসে কবি হা-ঘরে!
যদি দূরে পল্লব, রৌদ্র রুধিরে লেখে প্রেম বল্লভ;
পুড়ে ছাই হয়ে আরোও কত দিন রহিবো নীরব!
কবি চেয়ে রয়; দিন শেষে পাতা, পড়িবে নিশ্চয়;
পিওন বায়ে বয়ে যাবে, কুশলী পত্র বিনিময়!
পাখিরা জানি কলরোলে মিছেই ভরিবে হট্টগোলে;
পত্র লাভে কবি সাজাবে কথা, কবিতার উতরোলে!
----------------------------------------------------------------------------------------------
লম্বা, নধর বোয়াল;
দেখেই নন্দ দুলাল,
কামড়ে ধরে চোয়াল!
কি রে! মাছের কি হাল?
বেশ হবে, তেল ঝাল!
পাঁচ্শো; রূপো ঘষা ছাল;
পেটি দেখো - হল্দে লাল!
কোথা পাবে এই মাল?
আহা, টেপো কেনো গাল?
চুনো, পুঁটি, শোল, শাল
সব খেয়ে গোলগাল !
নিয়ে যাও এই তাল ।
কথা দিচ্ছি বাবুলাল;
খেলে, একটা বোয়াল,
লাগবে না মৎস্য পাল;
ভরাতে, পেট গোয়াল!
----------------------------------------------------------------------------------
ঝরে গেছে শিমুল কবে,
চলে গেছে বসন্ত যে;
তাও মন রোজই ভাবে,
সে আছে হিয়ার মাঝে!
বিগত বসন্তের কিছু অপ্রকাশিত শিমুল স্মৃতি জুটাইয়া রাখিয়াছিলাম; ইহাতে মোবাইল মেমোরি যারপরনাই ভারাক্রান্ত হইয়া উঠিয়াছিল; এক্ষণে তাহাকে সর্বসমক্ষে আনিয়া ইষৎ ভারমুক্ত হইলাম।
------------------------------------------------------------------------------------------------ কবিতা, তোমার শরীর জুড়ে....!
কবিতা, তোমার সারা..শরীর জুড়ে অপূর্ব নিসর্গ!
বকুল ফুলের সুবাস ছড়ানো, পর্ণ কুটিরের স্বর্গ।
শাল পিয়ালের ছায়ায় শুয়ে থাকা,
রোদ্দুরে পাতানো বক্ষ বিভাজিকা।
বালির চর -নেমে গেছে ম্যানগ্রোভ ঢাকা
বদ্বীপ পেরিয়ে দূরে, নির্জনে একা একা।
কবিতা, তোমার সারা..শরীর জুড়ে বরষা বিসর্গ
পাতার পরে টলটলে জল, ঝোড়ো মৈথুনে বিবর্গ!
-------------------------------------------------------------------------------------------
ছড়া লেখা খুব কঠিন কাজ, অন্তত আমার মতো এলেবেলের কাছে। একটু চেষ্টা করলাম, তবে সাহস করে এই লেখার পেছনে কিন্তু যাবতীয় অনুপ্রেরণা আমি আহরণ করেছি প্রিয় কবি শ্রদ্ধেয় #Chandan_Chakraborty মহাশয়ের লেখা, বিশেষ করে উনার সৃষ্ট অনবদ্য সব ছড়া পড়েই। যদিও উনার ধারে কাছেও লেখার ক্ষমতা আমার নেই, তবু উনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ছড়াটি উনার উদ্দেশ্যেই নিবেদন করলাম। শ্রদ্ধেয় কবি পড়ে খুশী হলে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সার্থক হবে বলে মনে করি। ধন্যবাদ।
বেশ তো ভাই মশগুল,
কিনছো টিপে টোপাকুল;
দেখছো না পাশেই আছে,
জামরুল নয় সে গাছে!
কলাপাতায় ডাই ক'রে,
রসালু ও মাটির পরে;
রসে বশে দারুন খাসা,
খেতে হবে ছাড়িয়ে শসা!
এসব ব'লে দুগ্গা কাকা,
ছত্র তলে দেয় যে হাঁকা;
কিনে নাও জলদি এসে,
খেতে হয় রোজার মাসে!
মাঝে মাঝে জলটি সিচে,
অল্প হেঁসে গোঁফের নীচে;
যাই দেবে এই শরীলে,
দোষ নেই টাটকা ফলে!
---------------------------------------------------------------------------------------
পাতার এমন জামদানী বুনন; ফাঁক দিয়ে চলকে আসা আলোর সান্দ্র কাঞ্চন বিভা, যেন মায়ের আঁচল পাতা মাথায়।
রোদের খুব ঝাঁঝ যে; চুপটি করে বাবু হয়ে দাঁড়াও,
যেমন দাঁড়াতে বৃষ্টিতে কোচপাতা মাথায়।
ভেবেছিলাম, কবিতাকে আজ ভাগিয়ে দেবো কাক-তাড়ুয়া ফ্লাইং কিসে!
শেষে সেই - কাব্যি পাখি বসলো এসে
আগুনে পোড়া ধানের ক্ষেতে!
----------------------------------------------------------------------------------- ইতি যবনিকা!
এই শোনো,
মঞ্চে এখন মাতৃজঠর সম আঁধার!
বড় শ্বাসরোধী, বুঝলে তমালিকা!
একটু আলো জ্বলতে দাও,
শুরু হবে অভিনয়ে পাওয়া
সম্পর্কের ইনা মিনা ডিকা!
প্রথম দৃশ্যে ভোর হবে;
কেমন চিকন আলো,
শাসনের আদর মাখা!
দুপুরে রেস্তোরাঁ, পার্টি,
নিকোটিন ঋদ্ধ প্রিয়ার অধর,
ভবিষ্যতের রূপরেখা!
বিকেলটা কিন্তু পার্কে হবে;
সময়টা যে পাল্টে যাচ্ছ
ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা!
দেখছো না সন্ধ্যে নামছে ..!
জ্বলজ্বল করছে নীল তারকা!
ডুবছে সময,
ডুবে যাচ্ছে রোমান সাম্রাজ্য ,
পুড়ে যাচ্ছে অন্ধ অহমিকা!
নিরোর বাচ্চারা ঠিকই বাজায়
করুন সুরে আড় বাঁশরিকা!
একে একে হাজির তাই, হিরো, হিরোইন
ভিলেন, বিবেক মঞ্চে এসে দাড়ায় সবাই!
ফটো ফিনিশের পালা, বুঝলে তমালিকা ;
মঞ্চ যেন রাতের আকাশ, সুদূর নিহারিকা!
ঘুমে জড়িয়ে আসে দুই চোখ;
হেলায় হারায় যত সম্পর্কের ঠিকা
বড় প্রশান্তি এখন, বুঝলে তমালিকা
চোখ জুড়ে এখন একাই
মঞ্চ কাঁপায় ইতি যবনিকা! -----------------------------------------------------------------------------------------
আমার কোনো চাপ নেই!
রাতের শেষে সূর্য দেখার
আমার কোনো আশ নেই!
যদি মেঘের গড়ে, ঝরনা ঝরে;
পচন ধরে, কুঁড়ে ঘরের খড়ে!
দুএকটা তো ছাতা ফুটবেই !
তাতেই দিব্যি চলে যাবে,
দুএক কিলো চাল হবে;
বেকার ভেবে কাজ নেই!
আমার কোনো চাপ নেই!
যদি চাঁদের বুকে 'জ্যোস্না' জাগে,
দাওয়ায় এসে সোহাগ মাগে!
দুএকটা তো গাল পাড়বোই!
আমার চালে ফুটো করে ,
দিচ্ছো উঁকি কেমন বেড়ে !
কবিতা লিখে লাভ নেই!
দিনের শেষে চোখটি খুলে,
মিছেই ফালতু, ক্লান্তি ভুলে;
স্বপন দেখে কাজ নেই।
আমার কোনো চাপ নেই!
ঠিকই কাল উঠবো ভোরে,
গামছা কাঁধে, মনের জোরে !
আমার কোনো দাবি নেই!
ভাবের ঘরে চুরি করে
কাব্য লিখবো থরে থরে;
এমন কোনো দায় নেই!
আমার কোনো চাপ নেই!
-----------------------------------------------------------------------------------------
একটা কবিতা হবে নাকি?
ছোট করে চায়ের সাথে!
ভালোই তো, হলে মন্দ কি?
শুনে নেবো, চা খেতে খেতে!
বেশ তবে শোনো, শোনার আনন্দ!
বাজারে যাচ্ছি আমি, তুমি খোঁজো ছন্দ !
অগত্যা! তবে যাচ্ছো যখন,
এনো কিছু ফুলের গন্ধ!
কবিতা আমি পড়ে নোবো, খুলে পাঁপড়ি মুখবন্ধ!
আর শোনো - পারো যদি, এনো মধুপ-ছন্দ,
বিশল্যকরণী সে যে, বেঁচে থাকার আনন্দ !
-------------------------------------------------------------------------------------
বড্ড কংক্রিট দেখি চারিদিকে।
রজস্বলা মেঘ তাই ধুয়ে দেয়
সঙ্গমের শেষে স্নানের ঝোঁকে!
শালিকের ঠোঁটে ধরা আগামীর বীজ ;
ছাদ বাগানের টবে বৃথাই বন সৃজ!
ভাবনার ভ্রুণ দেখি গড়াতে গড়াতে,
ভেসে যায় শান বাঁধা খর নদী স্রোতে
ভাবছি কিভাবে কোন্ সুখে,
নামিয়ে দেবো ঝুরির মতো
প্রিয় শুভ কবিতা গুলোকে!
বড্ড কংক্রিট চারিদিকে!
কত শত কথা হয় কত
অসার বক্তৃতা শোনে লোকে;
শুধু কবিতার কথা ফিরে
আসে কংক্রিটে মাথা ঠুকে।
বড্ড কংক্রিট দেখি চারিদিকে ;
কাব্য আসে না, মাটির গর্ভ থেকে!
---------------------------------------------------------------------------------------
পৃথিবী ঘোরে;
জেনে ফেলেছিলেন কোপারনিকাস!
ঘাড়ে করে যত রাজ্যের
সুখ দুঃখের বোঝা বয়ে, পৃথিবী ঘোরে!
সমুদ্র পাহাড় মরু আগ্নেয়গিরি - ঘোরে
ধরিত্রী পৃষ্ঠে চড়ে, হাসি কান্নার নগর সংকীর্তন
রোজই চলে ঘুরে ঘুরে!
দেখা হয় সুখী আর দুখীর, কথা হয়,
আদান প্রদান হয় সুখ দুঃখের। বিদায় নেবার সময় আবারও দেখা হবে বলে, হাত নেড়ে বলে যায়
পৃথিবী সরলরেখা নয়; রোজই ছুঁয়ে যায়
রৌদ্র তট, ছায়া বট, অরণ্য, নদী, রাজপথ
বাজার, হাট, পুকুরের জল!
উদয় আর অস্তের মাঝে মানুষ
জানে, আলো আঁধারের মানে!
পাতি লেবুর গায়ে
চরে চরে বেড়ায় পিঁপড়ের দল,
ফিরে ফিরে আসে -
তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল!
একদা পাল তুলে
ভেসে পড়েছিলেন ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান!
বুঝেছিলেন - জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে
অনির্বাণ সূর্যই একমাত্র দীপ্যমান!
-----------------------------------------------------------------------------
মা!
মা সবার আছে! আমির, ফকির, সৎ অসৎ
মহান, হীনবল, পালোয়ান, কৃতবিদ্য, অক্ষম
কাগজ কুড়ুনি থেকে আদানি আম্বানি সব্বার!
গাছেরও আছে মা!
মা!
সবখানে আছে মা! সুখেতে, দুঃখেতে, মোহতে,
মমতায়; লালনে, পালনে, অর্জনে, উপার্জনে, একাকীত্বে, একাত্মতায়; মা আছে নিঃসঙ্গতায়!
ভিড়ের ও আছে মা!
মা আছে সবখানে! গৃহেতে, বৃদ্ধাশ্রমে, আদরে , অনাদরে, অবহেলায়; উল্লাসে, উদযাপনে,
হাহাকারে, স্নেহ বদান্যতায়; ইহকালে, পরকালে
স্মৃতিতে, তিথিতে, মা আছে সীমাহীন ক্ষমায়!
যন্ত্রনার ও আছে মা!
মা আছে সবার!
সকলের আছে মা! মা আছে টেস্ট টিউবের,
সারোগেট বাচ্চার! ন মাস ন দিনের জঠর
যাপনের সকলের আছে অধিকার!
মা'র ও আছে মা!
আকাশ থেকে পড়েনি কো কেউ
প্রকৃতি - জগৎ সংসারের মা!
সৃষ্টির মূলে মাতৃত্বের অবদান
অস্বীকার করতে পারে কি কেউ তা?
কৃষ্ণের মা দেবকী, কৌশল্যা - রামের মা!
ধাত্রী মা যশোদা; দূর্গা - লক্ষ্মীর মা!
অবতার, ভগবান, যীশু, বুদ্ধ, মহম্মদ অ্যাঞ্জেল
সকলের আছে মা, সকলেই অমৃতের সন্তান !
মা নেই শুধু তার, যে কিনা নন বায়োলজিক্যাল !
ধন্যবাদ।
আন্তজার্তিক মাতৃ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে
কলমে -দেবাশিস জানা
প্রচ্ছদের ছবি আমার মায়ের, শ্রীমতী শোভা রানী জানার। মা এখন সত্তরের দোরগোড়ায়।
অকৃত্রিম শ্রদ্ধা মা কে।
---------------------------------------------------------------
আরোও থেকো কিছুক্ষণ;
এই অবসরে যদি
হেনে যেতে পারি
কোনো অবিনশ্বর অবলোকন!
ঝরে গেলে সময়,
তখন তুমি কোথায! আর আমিই বা কোথায়!
এই বেলা চলো,
বোবা কালার দেশে যাই!
সময় বড় অমূল্য, বৃথাই তর্কে বয়ে যায়!
চলো দেরী নয় আর
কিছুটা সময়, নীরবে থাকি কিছুক্ষন!
-------------------------------------------------------------------
দুঃখগুলো, সুখ সাজবে!
কলমে -দেবাশিস জানা
(কলম স্বত্ত্ব সংরক্ষিত)
একদিন দুঃখগুলো সব সুখ সেজে
আসবে আমার অতিথি হয়ে!
আমার দাওয়ায় বসে শীতের রোদ পোহাবে;
রোদের দিনে শীতলপাটিতে বসে
গেলাস ভর্তি লেবু নুন জল, চুমুক দিয়ে খাবে!
একদিন যন্ত্রনা গুলো সব বন্ধু সেজে
মুক্তির মন্ত্রণা আনবে বয়ে!
ফুটো হয়ে যাওয়া চালা থেকে সেদিন
জল নয়, মেঘমুক্ত চাঁদনী ঝরে পড়বে!
একদিন কষ্ট গুলো সব কেষ্ট সেজে
সাফল্যের খুশি আনবে বয়ে!
পাথরের চাঁই খুদে খুদে সেদিন
ত্রিভঙ্গ মুরারী বেরিয়ে পড়বে!
একদিন ব্যথা গুলো সব উঠবে বেজে
জ্যোৎস্না রাতের বংশী হয়ে!
সেদিন দুঃখগুলো সব সুখ সেজে
আসবেই আমার অতিথি হয়ে!
-------------------------------------------------------------------
সমুদ্র,অরন্যানী, গিরি, গুহা সুড়ঙ্গ
ব্যপ্ত আলোক রশ্মি!
আমি আঁজলা পেতে, পঞ্চামৃতের মতো
ধারন করতে চাই পঙ্কতলে;
জন্মান্ধ আমার কণ্ঠ কলসী!
সাগরের সামনে অগস্ত্য মুনির মতো হাঁ মুখে
তাকিয়ে দেখবো সেই সুবিস্তৃত ফেনিল সুধা রাশি।
সাহিত্য কৃতির অভিসারী সঙ্গম,
শিল্প সঙ্গীতের তীর ধরে
চুঁইয়ে পড়বে আতশ কাঁচের
মধ্য দিয়ে, টুপ টুপ করে।
সম্ভোগের তুঙ্গ বিন্দু মুলে,
জ্বলে উঠবে দীপ্ত হোমাগ্নি
হে কবি, তুমি নিরাশ করো না আমায়,
হয়ো না কো উন্নাসী।
অকৃপণ দানে সদা উন্মুখ থাক
তোমার পূর্ণ গ্রীবা কোশাকুশি!
------------------------------------------------------------------------
রূপ বেচে ফুল রূপের বাগান,
রোদ বেচে রবি সারা দিনমান!
রূপের হাটে মানুষ গোলাম,
হাটের বাটে ছোটে কেনারাম!
There is no free meal, রাম!
বিক্রি, সারা বাজার তামাম!
-----------------------------------------------------------------------------
জীবন তো নয়
পুরাতত্ত্বের বিষয়!
শ্মশানের পাশেই ডোমের ঘর,
দখিনা বাতাস বয়, কখনো কখনো
ছিটকে আসে আগুন,
পুড়ে যায় মন, পোড়ে চালের খড়।
রাখালদাস বাড়ুজ্যেরা খুঁড়ে পায়
কঙ্কাল, ভগ্ন প্রণালী, শৌখিন স্নানাগার!
সভ্যতার উলকি চিহ্ন এঁকেছিল যারা
তারা আমাদেরই পূর্বপুরুষ,
কয়লা হয়ে আমাদের ঘরেই
জ্বালে আলো; মালা হয়ে ঝোলে
দীপান্বিতার কৃষ্ণ অমানিশায়!
যে উঠোনে মাদুর পেতে
বসতো সর্বজয়া, পাঁচালী পড়তো;
চেয়ে থাকতো অপু, অবাক বিস্ময়!
পুরাতাত্ত্বিক সাবধান!
কোনো বহুতলের নীচে চাপা পড়ে
থাকা সে উঠোনে আজ
খৈনি ডলে, নিরাপত্তার পাহারাদার!
জীবন তো নয়
পুরাতত্ত্বের বিষয়!
কবরের পরে ঝরে পড়ে
লাল কাঠ গোলাপ; আজোও,
এই গ্রীষ্মের খরতাপেও ঝরে যায়,
ছড়ায় সুনন্দ সুবাস!
মৃত্যুর শোধ তুলতে
বেঁচে থাকার সুগন্ধ টুকুই যে
একমাত্র অস্ত্র, ঐকান্তিক প্রতিকার ।
----------------------------------------------------------------------------
কৃষ্ণচূড়া তলে ছায়া গুজরান;
নিত্য এ পথে, যুদ্ধ প্রবহমান !

রোদের পাতায় ছায়ার জল।
জলের বুকে - রোদ টলমল!

নিঃসীম হোক আলো
আঁধার হঠুক পিছু;
আপন পর উঁচু নীচু
ভালো হোক সবকিছু!

কবিতা -
তোমার শরীরের অনেক ঢেউ;
মহুয়ার গন্ধে মদির!
হারানো ছন্দ খুঁজে কেউ কেউ
পায় দেখা ভরা নদীর!

আলাদা হতে হতে একা হয়ে যাবোনা তো?

নিভৃতে ছুঁয়ে দেখো...!

কাবেরী, তিস্তা, সিন্ধু, ভাগীরথী;
পানি-পথের যুদ্ধে তৃষ্ণা মেটাতে ,
কুঁজো তলার, খানিক বিরতি !

সারাদিন রোদে রোদে না জানি সে কত দুর্গতি,
ভেবে ভেবে তাই ফোটে সকালেই সন্ধ্যামালতি !

হাওয়ায় ভেসে, হেলে দুলে পড়লো প্রিয় জারুল,
পড়েই জলে বললো ঢলে আমি তোমার পারুল !

হঠাৎ প্রশ্ন উঠছে মনে,
ডুমুর ফুল ম্যজিক জানে!

মন খারাপের সকালে, হৃদয় যদি কাঁদেই, দোষ কি চোখের জলের!

হে ঈশ্বর ক্ষমা করো, আজ বলবো না!
বড্ড অন্ধকার আজ, স্তব্ধ উপাসনা!

দীপাধারে যেন ফুল রয়েছে সাজানো!

পান করি নিঃশেষে সে মাধুরী!

নিদাঘ বেলায় ছায়া ডুব!

নীরবতা...... অনিমিখ,
দেখছি জোড়া শালিখ!

জাতে তাল, তালে কাঁচা!

হঠাৎ উঠলো ঝটকা,
বিধি হলো বাম;
চাঁদের বদলে পেলাম,
এক চুপড়ি আম!

ফুলের রঙে আগুন 🔥
বিদায় বলে ফাগুন !
দুঃখে পড়ুক যতি, হর্ষে ঝরুক মতি!
হিংসা দ্বেষ ক্লেশ, পুড়িয়ে হোক শেষ!
গাজন গানের ইতি
আজ চৈত্র সংক্রান্তি!

আকাশ তুই, ভাসাস ছই!

মেরেছি পিঠে লাঠি, হোসনি তবু থ,
মারতে পেটে লাথি, পা ভেঙে হলো দ!
শিক্ষার দম আছে মানতে হবে।

বইছে মিচকে হাওয়া
চৈত্র মাসের ধক!
আয় না রোদে শ্যামলা
হোক না মিষ্টি Talk!

দাও কথা ডুব, অবসর নিশ্চুপ;
গন্ধ ছড়াক নাগকেশর!
জীবনের গতি, পথে পথে যতি;
ঠোঁট আর চুমুর অন্তর

--------------------------------------------------------------------------------
অনিরুদ্ধ, অনিবার্য যে সুখ তা ভালোবাসা;
পেলে - পিঠে পুলি; না পেলে
অকূল দরিয়ায় নৌকা ভাসা; ভাটিয়ালি গেয়ে
গাঙের ছলাৎ ছলাৎ....!
বুকের মাঝে চাষ করে এক হদ্দ চাষা!
রোদ্দুর আর মেঘের অবাধ লুকোচুরি
ক্ষেতের উদর জুড়ে; বেবাক প্রত্যাশা!
খরা আর বন্যার নিত্য হারিকিরি
ভাঙা মঞ্চে নিত্য যাওয়া আসা।
ফুলই একমাত্র ফুটে বেরোয়,
সকালের আলোয়; নির্বোধের মতো
গড়ে তোলে পাখির বাসা!
ভ্রুণ মরলে কার কি?
উড়ে যাবে আকাশ,
মিথ্যে হযে যাবে ভালোবাসা!
---------------------------------------------------------------------------
আমার মনের গোপন ঘরে ,
এক কৃষ্ণচূড়া বসত করে!
তপ্ত যখন আগুন ওড়ে,
শান্তি খোঁজে দিঘীর পাড়ে!
জলের বুকে ভাসবে বলে
দোলায় বেণী বাতাস এলে!
তিরতিরিয়ে যায় যে ছুটে
আল্পনা ঐ হাওয়ায় ওঠে !
সাজের এমন বাহার দেখে;
কম্পিত দল, রাতুল শাখে!
থিতু হলেই বুকের মাঝে
রক্ত ঝরা জল যে সাজে!
দগ্ধ বাহির দগ্ধ গভীর
রক্ত হৃদির ব্যক্ত মদির!
জলের কোলে আদর হেরে,
চোখ দেখি লাল কৃষ্ণচূড়ে!
মুখ ফিরিয়ে কেমন করে,
রোদ সইতে, হবেই যে রে!
---------------------------------------------------------------------------
সৃজণের নির্জন!
কলমে -দেবাশিস জানা
(কলম স্বত্ত্ব সংরক্ষিত)
কবিতা -
তোমার শরীর জুড়ে নিসর্গ, গহন!
বকুল ফুলের গন্ধ ছড়ানো,
আল্পনা আঁকা, পর্ণ কুটিরের উঠোন!
শাল পিয়ালের ছায়ায় শুয়ে থাকা
দুই স্তবকের মাঝে বক্ষ বিভাজিকা।
চিকচিক চোরা বালির চর
ছন্দ যেন চির অমিত্রাক্ষর !
নেমে গেছে ম্যানগ্রোভ ঢাকা
বদ্বীপ পেরিয়ে একা একা!
কোথায় হারালো সে সৃজণের নির্জন?
-------------------------------------------------------------------------------
সূর্য খেলছে আগুন নিয়ে,
মেঘ ভুলেছে মায়া!
ঝড় ভাবছে উঠবে কি না,
জল মাপছে হাওয়া!
হঠাৎ করে, 'জল মাপছে হাওয়া' এই লাইনটা মাথায় আসতেই ওপরের তিনটে লাইন লিখতে হলো। আচ্ছা সত্যিই কি জল মাপছে, হাওয়া? এই কূট প্রশ্নটি যদি একান্তই আপনার সরল মনকে বিব্রত করে ফেলে তবে বেশি না ভেবে নিতান্তই এটিকে একটি কথার কথা ভেবে সটান ভিড়িয়ে দেন কোনো বেকার ফালতু কথার ভিড়ে। তবে একটা বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ যেটা না দিলেই নয়, সেটা হলো এর সঙ্গে কিন্তু বর্তমানে চলা কোনো প্রাকৃতিক কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোরকম মিল নেই।
ব্যাস্ কেল্লাফতে।
---------------------------------------------------------------------------------------
ছোটলোকের সান্ত্বনা!
+++++++++++++++
পাতার নীচে জমে থাকা অন্ধকার
আর কতদিন লুকিয়ে রাখবে কার্পেটের তলায়!
বুকের ওপর শুরু হয়েছে
আরও একটা যুদ্ধের মহড়া!
যুদ্ধ চাই!
রক্ত চাই শত্রুর!
দেশ কি শুধু কাঁটাতারের বেড়া?
সবুর করো;
ধৈর্য্য ধরো!
ভুলে যাও
দুবেলা দুমুঠো আহার জোটানোর লাঞ্ছনা!
হাত নেড়ে বলে যায় অনাগত
আচ্ছে দিনের, হাঁসমুখ চেহারা!
------------------------------------------------------------------------------------------
এই তো বেশ দেখতে পাচ্ছি!
মন্দিরের চূড়া, মসজিদের গম্বুজ,
রবিঠাকুরের দাঁড়ি, নজরুলের বাবরি চুল !
এমনকি জলঙ্গী আর ভাগীরথীর মধ্যেকার
সেই সরু জলবিভাজিকা পর্যন্ত - কত্ত পরিষ্কার!
অথচ... আমাকেই তুমি অন্ধ বলছো?
চশমা ছাড়াই দিব্যি দেখছি,
এই তো বোরখাগুলো কত্ত কালো!
আর সিঁথির সিঁদুর কত লাল! চুড়ির গাছা
আর শাঁখার ফারাক ঠিকই ধরা দিচ্ছে
আমার চোখে! রামধনুর সব কটা রং
স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আলাদা আলাদা!
তবে? এই তো তোমার বাগানে নানা
কিসিমের গাছ আর তার ভিন্ন ভিন্ন সাজ!
রঙ দেখে আমি জাত চিনি ভাই!
কোনটা গাঁদা আর কোনটা জুঁই
সব জানি, মিলবেনা ফুল বললেই!
আসলে তোমার উদ্দেশ্যেটা কি?
অন্ধ বলে কি তুমি আমাকে
ভক্ত আখ্যা দিতে চাও?
লুঙ্গি আর ধুতির প্রভেদ আমার চোখে
ঠিকই লাগে, বিভেদ নজরে পড়বেই !
তাও তুমি অন্ধ বলবে আমায়? বলবে
অন্ধ হলে কি চোখ ও থাকতে নেই?
------------------------------------------------------------------------------------
Don't pluck the ফুল।
তুলতে মানা, ঝরাতে নয় বিলকুল!
হাওয়া তা ভালোই জানে! তাই তো সন্তর্পণে
কখনো ফু দিচ্ছে যেন গরমাগরম অন্নে,
কখনো চামর হাতে কখনো পাখার টানে
কখনো দীর্ঘ নিঃশ্বাসে কখনো ঝড় হেনে
ঝরাচ্ছে ফুল ঝুরঝুর কখনো অঝোর তানে!
হাওয়ার নেই আইন ভাঙার ভুল!
সে জুঁই হোক কি শিউলি; সে বেল হোক
কি বকুল, হোক না সে কনকচূড়া ফুল!
হাওয়া হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়!
হাওয়ার জোরে উড়ছে কেতন,
উড়ছে বুলি কাঁপিয়ে গগন!
ঝরছে শুধু লুটিয়ে ধূধূ
হা ঘরে হরেক ফুল!
Don't pluck the ফুল!
তুলতে মানা, ঝরাতে নয় বিলকুল!
----------------------------------------------------------------------------------------
মাঠের এক প্রান্তে,
একা এক কৃষ্ণচূড়া দাঁড়িয়ে আছে!
মাথায় লাল ফুল গুঁজে,
সেজে গুজে একেবারে রেডি!
আসলে সে সম্পর্ক গড়তে চায়, রক্ত রঙের সম্পর্ক;
রক্তের সম্পর্কের চেয়েও ঢের বেশি!
গভীর ঈশারায় তাকাতে বলে তার দিকে!
রক্তের বন্ধনে জড়িয়ে রাখতে বুকে
এ জৌলুস সে সমর্পিতে চায় নিঃশেষি!
------------------------------------------------------------------------------------
ব্যথার অসুখে ধরেছে আমায়!
তাই বিহিত চাইতে পারি না। কেঁদে ফেলি অকারণে। ভাব করতে চাইলে কেউ কেউ
সন্ত্রাসী মনে করে। ভাবের কথা আজকাল
একান্তই ব্রাত্যজনের।
মাঝে মাঝে কান্না লুকোতে
মিথ্যে ছলনার আশ্রয় নিচ্ছি!
অজান্তে কেন জানি না,
আমার কথাগুলো কখন যেন, সন্ত্রাসবাদীদের মতো প্রতিহিংসার ভাবনায় জারিত হয়ে যাচ্ছে।
কবিতা লিখছি সেও সন্ত্রাসবাদীর ভাষায়,
বদলার ভাবনায়!
তীব্র এই নিদাঘ বেলায়
সম্প্রীতির কথা যেন উড়ো বৃষ্টি, চটপট শুষে নিচ্ছে তাপিত দগ্ধ গলা পিচ।
অন্ধকে আয়না দেখানো কিংবা বধিরকে বেঠোফেন শোনানোর মতোই তা আজ বড় দুঃসাহসিক!
তবু কে যেন, ছায়া দিতে না পারা কুমড়ো লতার মাথায় নোংরা একটা কাপড় ঢেকে দিয়ে গেছে, দেখি। নিশ্চিত কোনো পাগল হবে। একটু স্বস্তি খুঁজি।
আসলে রোদের ঝাঁঝ সকলেরই লাগে,
মানুষ আজ বড়ই ছায়ার প্রত্যাশী;
ভেতরে ভেতরে বয়ে চলা এই ইচ্ছা গুলোর ফল্গুধারা যেন শুকিয়ে না যায় কখনো!
দেখো.. কিন্তু...!
---------------------------------------------------------------------------------------
বউটি পেত বইটি!
-----------------------
সেই যে তখন উপহারে বই পেত নতুন বউটি,
মুচকি হেঁসে বলতো ভালোই থ্যাঙ্ক U জুড়ে হাতটি!
দেওর ননদ পড়তো গায়ে, বেশতো বৌদি ভালো,
কবিতা, গল্প, উপন্যাস আর প্রবন্ধ কটা হলো?
শরৎ, মানিক, রবীন্দ্রনাথ, সুনীলের 'হঠাৎ নীরা..!
সাহেববিবিগোলাম দেবদাস আর মেঘে ঢাকা তারা
বন্ধু মিতা, এই নে বলে চোখটি টিপে মিষ্টি,
সময় পেলে পড়ে দেখিস, 'ভোর রাতে বৃষ্টি'!
দুষ্টু হাসি, বন্ধু শশী ' প্রজাপতি' এনে বলে
ভালো হত সমরেশের 'বিবর' খুঁজে পেলে!
রাশভারি মেসোমশাই, চশমা চোখে স্থিত,
জীবন হবে ধন্য, পড়ো রামকৃষ্ণ কথামৃত!
বইয়ের পাহাড়, বইয়ের সাগর, বইয়ের গন্ধে ম ম,
সবাই এসে বলছে হেঁসে আমায় কিন্তু একটি দিও!
জীবনানন্দ একটি আছে, একটি 'বিষের বাঁশী';
নতুন বউটি পুরনো হবে, বই হবে না বাসি!
--------------------------------------------------------------------------------------
ভাগ্যিস কৃষ্ণচূড়া, তুই ফটেছিলি;
পোড়া রোদ্দুরকে তাই রাঙিয়ে দিলি!
জানিস কি তোর আগুনে গা জুড়োতে,
আসবে বাণ তুমুল, কাল বৈশাখীতে!
তখন দেখবো সেই ঝড়ের মুখে
লড়ে যাস কেমন প্রেমের সুখে!
পাঁপড়ি গুলো কাঁপবে যখন লাজে,
উঠবে মাতন দারুন রুদ্র সাজে!
নৌ বিহারে আপন ছেঁড়া পালে,
খসবে পালক তোর কবরী খুলে!
চুঁইয়ে পড়া গোপন গন্ধ ভুলে
ভাসবি তুই এক পশলা জলে!
------------------------------------------------------------------------------
আহ্লাদে মরার সুখ,
গোপনে সাধে যে বুক;
তারে জানি সুরঞ্জনা বলে!
শরমে সবুজ সে যে, মরমে অবুঝ;
আঁখি পাতে খর নদী বয়ে চলে!
চরে বয় বায়, ধূধূ উড়ে ছায়;
পরশে পরাগে
সরসে সোহাগে
কনক বদন, লজ্জার মাথা খায়!
তারে জানি আমি, স্বর্ণকন্যা বলে!
পেলব সে বুকে, সঘন সে সুখে,
চুমু ঝরে যদি আঁখি অনিমিখে;
আদরের মোহনায়,
সহসা বাদল ঘনায়;
বরিষণ চলে অনিঃশেষ!
তুমুল সে হরষায়,
ছলকে জল জলসায়;
সুখ পাখি রয় নির্নিমেষ!
নিষিক্ত কাব্য সুধা,
বৃথাই চক্ষু মুদা!
আগুনের ঘন আচমন
নির্লিপ্ত শ্রান্ত ক্ষুধা!
যেন অমৃত, আগুনের হলাহলে!
জানি, তারে কেন সুসম্পন্না বলে!

---------------------------------------------------------------------------
যখন কিচ্ছু ভাল্লাগে না, যখন কোত্থাও যাওয়ার থাকে না; তখনও এমন ঝিম ধরা আলস্যের মায়াটান মাখা নির্জন বেঞ্চ, মাথায় হলুদ ফুল ফোটা গাছের এমন পত্রল ছাতা- থেকে যায় সেই রেল লাইনের ওপারেই।
হয়তো কোনো নিঝুম দুপুরে, খানিক বসে ভালোলাগার এই অনুভূতিটাকে পরখ করে দেখবো।
একান্তই যদি বিকেলে, কালবৈশাখী ঝড় ঘনিয়ে আসে তবে পাশে শেডের তলায় উঠে যাবো, মিশে যাবো থমকে দাঁড়িয়ে থাকা একগাদা ত্রস্ত মানুষের ভিড়ে। চিন্তা কিসের?
----------------------------------------------------------------------------------------
কান্নার অশ্রু আসলে আশ্রয় খোঁজে;
খুঁজেই চলে, অবিশ্রান্ত!
উবে যাওয়ার আগে, সঞ্চিত হতে চায় নিভৃতে;
ফুল, পাতা কিংবা ঘন সবুজ বৃন্তে!
অশ্রু সে তো কুমিরের চোখের নয়!
ঝড় উঠেছিল বুকে, মেঘের কড়া শাসনে
হাপুস হয়ে কাঁদতে চেয়েছিল মন।
মাটির ফাটা ললাট ছোঁয়ার আগেই
প্রবল জনপ্রিয়তার ঝড়ে উড়ে যায়
কত যে আবাদের অশ্রু জল!
নীচে, অগণিত খেটে খাওয়া মানুষ -
হাঁ- মুখ চাতকের মতো হা জল হা জল করে যায়।
নিশ্চিন্ত রাজা জানেন, অশ্রু আসলে
পুঞ্জিত শ্রমের অমূল্য অর্জন!
নীচের দিকে অল্প হলেও
চুঁইয়ে পড়াই তার ভবিতব্য!
মাঝ পথে রোদ এসে, অশ্রুর অন্দরে থাকা মেহনতের ঘাম রক্ত শুষে নিয়ে যেতে চায়,
ছলনার লীন তাপ হয়ে!
শেষে সেই, ভরা বর্ষার অপেক্ষাতে থাকে ধরিত্রী!
লক্ষ লক্ষ অর্জিত বৃষ্টি জল যেদিন
সোনার ফসল ফলাবে উড়ে যাওয়ার আগে।
---------------------------------------------------------------------------------
বিস্ময়ের খোলা চুল বেয়ে নেমে আসে
কিছু স্মৃতি, কিছু কল্পনা, কিছু অকালে
ঝরে যাওয়া মুগ্ধতার সুবাস; আছড়ে পড়ে
তীব্র সুঠাম নম্রতায়; ঝর্নার বেগে ধুয়ে দিয়ে
যায় পাথরের বুকে জমে থাকা স্খলিত
স্পর্শ সুখ গুলোকে। বড্ড শ্যাওলা
পিচ্ছিল গতি, পা টিপে টিপে হাঁটতে হাঁটতে
জলের সাথে খুনসুটি করা উপল রাশির
লাস্যময় হাস্য কেন যে আমাকে নগ্ন করে
নির্লজ্জ ভাবে, কে জানে!
বিস্ময়ের খোলা চুল এবার কপাল ছাড়িয়ে
গালের উপত্যকায় রিমঝিম রিমঝিম
শব্দ তুলে বয়ে যায় চপলা নদীর ন্যায়;
যেন জানালার শার্সি বেয়ে ভেসে আসা
অনেক গুঞ্জন, কোলাহল চেপে রাখা
মত্ত প্রেমের নিবিড় ফিসফিসে সায়!
বিস্ময়ের ঘোর ভেঙে যায়, যখন ভীড় বাসে
উঠে যেতে দেখি সেই পাহাড়ী ঝর্নাকে ।
তারপরে সেই এক বৈশাখী গরম হাওয়া,
সেই এক চেনা ফুলের একঘেয়ে গন্ধ!
------------------------------------------------------------------------------
আজ বিকেলে আসিস কিন্তু একা;
সোনালী বালির চরে, বসবো একান্তে দুজনে!
জুঁই, মালতী, বেল মিলে কত জমা কথা ...!
কোনটা ফুটেছিল বাগানের এক কোণে,
কোনটা কুঁড়ি, নিমীলিত, আধ ফোটা;
নিভৃতে কথা বলবে বলে কানে কানে
আঙ্গিনা জুড়ে লাজুক সৌরভ গুণে
ভেসে বেড়িয়েছে কত না অভিমানে!
সবে মিলে পাহাড়ের বিন্যাস, উত্তুঙ্গ চূড়ায়
নিটোল সুধা বৃন্ত যেন উন্মুখ অমৃত দানে।
চেয়ে দেখ, দূর পানে; নির্জনতার গাঢ় শালিনতা
নীরবে নীরবে আগুন জ্বালায় বন্ধ ঠোঁটের মধুবনে!
ভয় নেই, এখানে আদিগন্ত ধূধূ ফাঁকা!
মুক্ত পাঁপড়ি খুলে পড়ার আগে, এইবেলা
মালা গড়ে গেঁথে নে অধর তীরে
স্মৃতি হয়ে বয়ে যাবে সুবর্ণরেখা!
আসিস কিন্তু ..!
------------------------------------------------------------------------------
এ মন্দির আমার, এ মসজিদ আমার;
আর এ গীর্জা, গুরুদুয়ারা?
আমার.., আমার ....!
চেঁচিয়ে ওঠে টমাস, চেঁচায় সুখবিন্দার!
এ বুড়ো শিরীষ, আমার বাবকেলে;
বুঝেছো? জড়িয়ে ধরে অমল সরকার!
এ পুকুর, পুকুর পাড়ের বাঁশ ঝাড়?
আমার, ছুটে আসে রহমত আলি
এই জমিটুকুই আছে, এই যে
খড়ের গাদা আর এক চিলতে খামার!
এক ফকির বসে বটের তলে,
বিড়বিড় করে - কি যে সব বলে
কে জানে!
চাচা, তোমার কি আছে বলো দেখি এবার!
আমার? কিছুই নেই!
বলতে পারো এই বটের ছায়াটা শুধু আমার।
দিনান্তে পাখিরা ফেরে, নেমে আসে অন্ধকার!
শেষে আকাশ কেন বাকি থাকে?
দিনে সূর্য ওঠে,
রাতে তারা ফোটে চমৎকার!
আচ্ছা আকাশ, বলো তো কি আছে তোমার?
ফকির চেঁচিয়ে ওঠে, শোনো আকাশের সমাচার!
এই বেলা রোদের আর অন্য বেলা রোদ নেভার!
আকাশের আমি নেই, নেই কিছু আমার;
সারা জগৎ তার দখলে
একা আকাশ শুধু সবার!
-------------------------------------------------------------------------------------
আগুন তুমি নীলাঞ্জনা!
হলুদ ঝরা ওড়না তোমার
চড়ক মেলার কামনা!
অমন ডাগর জ্বলন তোমার,
কেমন ভরা আকুতি!
এই বেলা চলো নীলাঞ্জনা,
ভাসাই চড়ুইভাতি!
আমি দেহাতি, নগ্ন গায়ে
কৌপিণ ধুতি -
পুড়িয়ে যতেক যাতনা;
তোমার গভীরে গড়াগড়ি যাবো,
মিটিয়ে শিবের সাধনা!
গহন রোমাঞ্চে পবন যদি
ওঠায় স্বর্ণিল মতি;
এক বুক নদীর মতো
পূর্ণ করো এ আহুতি!
নীলাঞ্জনা,
তুমি অমলজ্যোতি রতি;
নেভো না তুমি; আঁখি
বোজ না, নীল নয়না!
তোমার বুকে জমিয়ে হবে
বোলান গানের লাচাগানা!
-------------------------------------------------------------------------
দম থাকলে কৃষ্ণচূড়া ফুটিয়ে দেখা!
কেউ অন্যভাবে নেবেন না,প্লিজ!
চেঁচু ক্ষমতাধরেরা মন্দির, মসজিদ
বানিয়েছে অনেক, ভেঙেছে ও কিছু কম নয়!
তাতেই তাদের ফুটানি কত..!
যেন মারবে মুখে ছুঁড়ে থালা!
ভাত ছড়ালে আবার কাকের অভাব হয়?
বেশ তো তুই পরে নে জয় মালা!
জানি তোর অনেক ক্ষমতা,
বুকেও তো নেই কম জ্বালা!
ক্ষমতা দেখাতে অনেক বকেছিস, মাঠে ঘাটে
হাটে, বাটে, সভায়, মলে; বকেছিস কত না মেলায়!
কিন্তু জ্বালা জুড়োতে কোথায় যাবি,
ভাবের ঘরে পড়েছে যে তোর তালা!
হেন করেগা, তেন করেগা
সাহস থাকলে ফাল্তু একটা কবিতা লিখে দেখা!
কথা দিচ্ছি,
জুড়িয়ে যাবে, আছে যত তোর
ব্যর্থ জীবন জ্বালা!
কলমে -দেবাশিস জানা
এটি সম্পূর্ণ ভাবে এ আই বা কৃত্রিম মেধা কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লেখা! কেউ গায়ে মাখবেন না!
----------------------------------------------------------------------------
ইস্....!
তমালিকা, সেই কখন ডেকে গেছ তুমি!
সরি, আমি উঠতে পারিনি!
টু লেট - বুঝলে তমালিকা! ভীষণ দেরী!
স্টিল..., উঠেছি তো।
জেগেছি তো শেষমেশ!
আর জেগেছি বলেই তো
তোমার অভিমানী মুখটা
আমাকে এত পীড়া দিচ্ছে।
বিশ্বাস করো, তমালিকা
আমার ঘুমের মধ্যে কোনো ছলনা ছিল না!
ঘুমিয়েই ছিলাম, বিশ্বাস করো তুমি!
ঘুমের রাজ্যে কখন যে কালবেলা এসে
আমার বুকে পেটে ...
ক্রমাগত লাঠি, লাথি মেরে মেরে
আমায় জাগানোর চেষ্টা করে গেছে ...!
আমি সত্যিই ঘুমের রাজ্যে ছিলাম!
গভীর ঘুমের অচেতন সংজ্ঞায়!
-------------------------------------------------------------------------------------
যাচ্ছে চলে চালচুলোহীন বেরঙীন এক দিন,
নিচ্ছে বিদায় অগ্নি শিখায় দিগন্তে রুধির ঋণ!
দু লাইন লিখেই মনে হচ্ছিল, না - বলার আর কিছু নেই, কিন্তু কিছুতেই যেন সেরে উঠতে পারছিলাম না ভাবনার সুতো গোছানোর কাজ- তাই নিতান্তই বেলাগাম, লিখে ফেললাম আরোও কয়েকটা লাইন।
পথে পথে কেটেছে বেলা,
গাছের তলে
নদীর জলে
জুড়িয়েছে সে গাত্র জ্বালা !
এবার ফেরার গাড়ি চাই !
তাই তো চিতা
সাজিয়ে মিতা
বলছে এসো শুয়ে যাই!
পোড়ার শেষে
ছায়ার দেশে
সাঁঝের প্রদীপ হাতে সই;
জ্বালবে নিশি
উঠবে শশী
চলো জ্যোৎস্না ধোওয়া হই!
-------------------------------------------------------------------------------------
দূরে, ট্রেন লাইনের ওভারহেড তারে
বসেছিল এক, ঝিম ধরা কালো ফিঙে!
মাথায় দলা পাকাচ্ছিল মেঘ, কৃষ্ণ বর্ণ ;
পাশেই শিরিষ, ভদ্র ভারী নয় সে বন্য!
ধীরে ধীরে মেঘ ভরেছিল বাষ্পাবেগ
তূণীর ছেড়ে তীর বৃষ্টি ঝরা আলেখ!
ঝুলোঝুলি ক'রে, রূপো গোলা জলে ;
বৃষ্টির রেল হয়ে, যাবে হেলে দুলে !
ফিঙে তাই বুঝে উড়ে যায় ডালে
শিরিনের শাখে মেঘ বৃষ্টি খেলে!
আপ ডাউন রেল, চলে তারই মাঝে
ফিঙে বসে বসে জীবনের মানে খোঁজে!
-------------------------------------------------------------------------------------
জল ভরা মেঘের চোখে
হাসছে না কেউই সুখে!
বলছে না ভাবের কথা,
ভালোবাসি, ভালোবেসো;
হাত রেখে নিজের বুকে!
দুলছে না পাতার ছাতা,
সুখ নেই ফুলের মুখে!
হাপুস হয়ে ঝরবে বলে,
পুষে রাখে বাদল বুকে!
জল ভরা মেঘের চোখে
অশ্রু, বৃষ্টি ব্যাতিরেকে!
-------------------------------------------------------------------------------------
আমার যাকে ভালো লাগে, কে জানে সে কেন অব্যক্ত থাকে; সবুজ পাতা, উদাসী ছায়া, পাউটি পাঁপড়ি, হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো ফুল রেণু কিংবা নির্বিরোধী শিরিষ ফল ও তাদের ইতিউতি বে-সমঝ ঝুলে থাকা। আসলে তারা নীরবতা ভালোবাসে। বাতাসের শোরগোল তাদের একেবারেই পছন্দ নয়। একটুকুতেই কেঁপে ওঠে ভেতর থেকে।
অন্তরে বেজে চলা সে অব্যক্ত ব্যাথার কাঁকন শোনাতে তাই, আমাকেই খুঁজে বেড়ায় এরা।
সেই যে কথায় আছে না, মাতালে ঠিক খুঁজে নেয় মদের ঠেক।
এইভাবেই হয়তো, অব্যক্ত বেদনা গুলো - অলস মুগ্ধতার কবিতা হয়ে আমার পাতা ভরায়।
-------------------------------------------------------------------------------------
বিভেদ ভুলে, এক হবার তরে
নজরুল আসুক ফিরে ফিরে!

বেশ হয় বৃষ্টি এলে
ঢুকে পড়ি ছত্র তলে!
শিয়ালদহ স্টেশন, বৃষ্টি মুখর!

হলুদ গোলাপ গোঁজা মাথায়,
এমন কলস পাবে কোথায়?

মেঘে, রৌদ্রে কাটে বেলা;
সাঁঝে সাঙ্গ হবে খেলা!

এক পশলা বৃষ্টি হয়ে এসো!

মেঘ বন্দী রবির প্রাতে,
তাল পড়ে না ঝাঁপতালে তে!

ফলে ফুলে পল্লবে- পিউর ঢেঁড়শ, ঢেঁড়শ মার্কা নয়!

রোদ বৃষ্টির অপেক্ষা!

বাদুড় ঝোলা ভিড়ে খেজুরের স্থানান্তর!

রোদে পোড়া মানুষ, সিঁদুরে আভা দেখলে বুঝতে পারে সন্ধ্যা আসন্ন!

কৃষ্ণচূড়া তলে ছায়া গুজরান;
নিত্য এ পথে, যুদ্ধ প্রবহমান !

রোদের পাতায় ছায়ার জল।
জলের বুকে - রোদ টলমল!

আলাদা হতে হতে একা হয়ে যাবোনা তো?

সারাদিন রোদে রোদে না জানি সে কত দুর্গতি,
ভেবে ভেবে তাই ফোটে সকালেই সন্ধ্যামালতি !
-------------------------------------------------------------------------------------
কান্ডারী প্রণাম!
---------------------
নদী বয় চিকচিক
জল ভরে দুই দিক!
বায়ু বয় দিক ভুলে
মেঘ ভাসে মন খুলে!
রোদ জলে লুকোচুরি
দুই পাড়, মাঝে তরী!
পাখিদের ওড়াওড়ি
ঝাঁক ঝাঁক সারি সারি!
মাঝি রোজ আনে খোঁজ
হাঁসি কান্না, ব্যাথা বোঝ!
খর জলে লগি ঠেলে
দেয় বল মরা পালে!!
ঝড় এলে নাও দোলে
মাঝি গায় সুর তুলে!
গান শুনে ফোটে যেই
ফুল এক বৃন্তে দুই;
দাঁড়ি হাঁক পাড়ে চার
কান্ডারী হুশিয়ার!
অবোধে জানে না মানে
আনন্দে কুসুম হানে!
এক নদী দুই কূল
মাঝি জানে বিলকুল!
কলমে -দেবাশিস জানা
হাতে আঁকা, কবি নজরুলের এই ছবিটি গড়িয়ার সাংস্কৃতিক শিক্ষা কেন্দ্র 'শিলালিপি'র দেওয়ালে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে রক্ষিত। শিল্পী, কেন্দ্রেরই এক অঙ্কন শিক্ষার্থী।
-------------------------------------------------------------------------------------
মেঘেদের সমাবেশে
বৃষ্টি শয়ে শয়ে;
রৌদ্রের বিরোধাভাসে
যদি আসে ধেয়ে;
মঞ্চ বেঁধেছে ছায়া
শ্যামল নব ঘনে;
ঝরবে নিঃস্ব কন্ঠে
কদম্ব পত্র বনে!
-------------------------------------------------------------------------------------
নিত্য এই পথ..!
---------------------
একটা স্থির চিত্র চাই!
যার বুকে একটি কুয়োতলা থাকবে;
পরিত্যক্ত নির্জন!
শুকনো পাতার স্তুপে আগুন থাকবে,
কিন্তু থাকবে না জল।
শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া তলদেশে থেকে
শুধুই বৃষ্টির অপেক্ষা থাকবে;
প্লাবনের অশ্রুজল!
-------------------------------------------------------------------------------------
একবার আসিস প্রিয় সুলক্ষণে,
রেল লাইন ধরে - হাঁটবো দুজনে!
দুই দিকে - দুই পারে! মাঝখানে
সতী নদী শুয়ে রবে নির্জনে!
ঢেউ যদি ওঠে মনের গোপনে,
জল ছোঁব তবু বেণী ভেজাবোনে!
হাওয়া যদি ধায় দিগন্ত পানে,
খোলা চুল ওড়ে আকুল নয়নে;
তর্জনী ছুঁয়ে থাক খাদের সিথানে,
টলটলে পায়ে ভেসে ঊর্মি নাচনে!
খোলা বুকে পাল তোলা ব্যাকুল প্রাণে,
মুক্ত গ্রীবা তটিনী বক্ষ বিভাজনে !
সম্মতি চেয়ে চুমু সংগোপনে,
বয়ে যাবে কথা - বাঁয়ে আর ডানে!
-------------------------------------------------------------------------------------
দীর্ঘ কবিতা যেন দীর্ঘ শৃঙ্গার;
ললিত রাগের আলাপ!
দিগন্তে চরে খেয়ালী শব্দ,
আকাশ থাকে নিরুত্তাপ!
বাতাসে মন্দ,
উদাসী ছন্দ;
নির্দোষ উষ্ণ সংলাপ!
মিছে তানকারি,
স্তব্ধ তালসারি;
মেঘেরা বড়ই নিষ্পাপ!
ভাবের ঘরে
নোঙর ক'রে,
নাও ভাসানোর খোয়াব!
এসো হে বারি
করো না দেরী,
ঘোচাও গ্রীষ্মের সন্তাপ!
-------------------------------------------------------------------------------------
সূর্যমুখী, নয় সে সুখী;
অধোবদনে চায় ভূমি পানে!
সখা রবি আজ আঁখি
রাখে ঢাকি, কৃষ্ণ মেঘ অঞ্জনে!
-------------------------------------------------------------------------------------
ঐক্য ভাঙছে নক্ষত্র পুঞ্জে;
মহাসাগর ভাঙছে ঢেউ!
কাল পুরুষের মাঝে টানা
কাল্পনিক রেখাগুলো আজ
অভিমানে সরে পড়া ফেউ!
হাত, পা, মাথা, নাক, কান
সবার ধর্ম আলাদা;
বিভাজনের সংঘাত বাড়ছে!
শরীরের মানচিত্রে ক্রমশ ভাঙন
এককোষী অ্যামিবা হাসছে!
আকাশ, বায়ু, ধরিত্রী
একই ছাতা, একই শ্বাস, একই পদতল!
আলাদা করছে মিস্ত্রি
রক্ত পথে কণিকা, প্লাজমা, রক্ত জল!
ভাঙছে বর্ণালী, ভাঙছে ভিবজিউর
তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে লালের জোর বেশী
বেগুনী নেহাতই কমজোর!
একা হচ্ছে তর্জনী, কনিষ্ঠা পঞ্চ তোড়;
বাম আর ডান হাত একসাথে
করতে পারছে না হাতজোড়!
ভাঙছে অরণ্য, খুঁজছে
শাল সেগুন পিয়ালের মনে
যদি কেউ থাকে খতরে মে
জাগাও তাকে, করো একজোট!
বিপদ বুঝে, বনদেবী হাঁক পাড়ে ওরে
লাগাস না দাবানল আপনারই ঘরে !
দিতি অদিতি আদতে আমার দুই মেয়ে;
মিছেই লড়াই বাধাস, শান্ত জনারণ্যে !
কে শোনে কার কথা
বাটে উঠেছে তুমুল ঝড়!
একা হয়ে পড়ছে ক্রমশ
ঐক্যবদ্ধতার কন্ঠস্বর!
-------------------------------------------------------------------------------------
আমি কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় নই যে মুখের ওপর বলে দেবো, 'যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?'
বিদ্যুতের তারের ওপর বসে থাকা, একা এক
নিরুদ্দিষ্ট পাখি হয়তো আমার মতোই ভাবছে, উড়ে যাবো, কিন্তু কোথায়?
বড় মায়া পড়ে গেছে যে।
যারা মুখ বন্ধ বস্তায় পুরে, বিড়াল ছানা ছেড়ে আসে নাম না জানা কোনো স্টেশনের পরিত্যক্ত ওয়েটিং রুমে, তারা বহুবার চেতাবনি দিতেই পারে, ভালোয় ভালোয় বলছি কিন্তু - বেরিয়ে যাও এখনিই এখান থেকে, নইলে ....!
বাকিটা উহ্যই থাক না হয়, সমঝদারো কে লিয়ে
ঈশারাই কাফি হ্যায়!
-------------------------------------------------------------------------------------
পৃথিবী ঘোরে;
জেনে ফেলেছিলেন কোপারনিকাস!
ঘাড়ে করে যত রাজ্যের
সুখ দুঃখের বোঝা বয়ে, পৃথিবী ঘোরে!
সমুদ্র পাহাড় মরু আগ্নেয়গিরি - ঘোরে
ধরিত্রী পৃষ্ঠে চড়ে, হাসি কান্নার নগর সংকীর্তন
রোজই চলে ঘুরে ঘুরে!
দেখা হয় সুখী আর দুখীর, কথা হয়,
আদান প্রদান হয় সুখ দুঃখের। বিদায় নেবার সময় আবারও দেখা হবে বলে, হাত নেড়ে বলে যায়
পৃথিবী সরলরেখা নয়; রোজই ছুঁয়ে যায়
রৌদ্র তট, ছায়া বট, অরণ্য, নদী, রাজপথ
বাজার, হাট, পুকুরের জল!
উদয় আর অস্তের মাঝে মানুষ
জানে, আলো আঁধারের মানে!
পাতি লেবুর গায়ে
চরে চরে বেড়ায় পিঁপড়ের দল,
ফিরে ফিরে আসে -
তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল!
একদা পাল তুলে
ভেসে পড়েছিলেন ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান!
বুঝেছিলেন - জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে
অনির্বাণ সূর্যই একমাত্র দীপ্যমান!
-------------------------------------------------------------------------------------
মা!
মা সবার আছে! আমির, ফকির, সৎ অসৎ
মহান, হীনবল, পালোয়ান, কৃতবিদ্য, অক্ষম
কাগজ কুড়ুনি থেকে আদানি আম্বানি সব্বার!
গাছেরও আছে মা!
মা!
সবখানে আছে মা! সুখেতে, দুঃখেতে, মোহতে,
মমতায়; লালনে, পালনে, অর্জনে, উপার্জনে, একাকীত্বে, একাত্মতায়; মা আছে নিঃসঙ্গতায়!
ভিড়ের ও আছে মা!
মা আছে সবখানে! গৃহেতে, বৃদ্ধাশ্রমে, আদরে , অনাদরে, অবহেলায়; উল্লাসে, উদযাপনে,
হাহাকারে, স্নেহ বদান্যতায়; ইহকালে, পরকালে
স্মৃতিতে, তিথিতে, মা আছে সীমাহীন ক্ষমায়!
যন্ত্রনার ও আছে মা!
মা আছে সবার!
সকলের আছে মা! মা আছে টেস্ট টিউবের,
সারোগেট বাচ্চার! ন মাস ন দিনের জঠর
যাপনের সকলের আছে অধিকার!
মা'র ও আছে মা!
আকাশ থেকে পড়েনি কো কেউ
প্রকৃতি - জগৎ সংসারের মা!
সৃষ্টির মূলে মাতৃত্বের অবদান
অস্বীকার করতে পারে কি কেউ তা?
কৃষ্ণের মা দেবকী, কৌশল্যা - রামের মা!
ধাত্রী মা যশোদা; দূর্গা - লক্ষ্মীর মা!
অবতার, ভগবান, যীশু, বুদ্ধ, মহম্মদ অ্যাঞ্জেল
সকলের আছে মা, সকলেই অমৃতের সন্তান !
মা নেই শুধু তার, যে কিনা নন বায়োলজিক্যাল !
ধন্যবাদ।
আন্তজার্তিক মাতৃ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে
কলমে -দেবাশিস জানা
প্রচ্ছদের ছবি আমার মায়ের, শ্রীমতী শোভা রানী জানার। মা এখন সত্তরের দোরগোড়ায়।
অকৃত্রিম শ্রদ্ধা মা কে।
-------------------------------------------------------------------------------------
আরোও থেকো কিছুক্ষণ;
এই অবসরে যদি
হেনে যেতে পারি
কোনো অবিনশ্বর অবলোকন!
ঝরে গেলে সময়,
তখন তুমি কোথায! আর আমিই বা কোথায়!
এই বেলা চলো,
বোবা কালার দেশে যাই!
সময় বড় অমূল্য, বৃথাই তর্কে বয়ে যায়!
চলো দেরী নয় আর
কিছুটা সময়, নীরবে থাকি কিছুক্ষন!
-------------------------------------------------------------------------------------
সমুদ্র,অরন্যানী, গিরি, গুহা সুড়ঙ্গ
ব্যপ্ত আলোক রশ্মি!
আমি আঁজলা পেতে, পঞ্চামৃতের মতো
ধারন করতে চাই পঙ্কতলে;
জন্মান্ধ আমার কণ্ঠ কলসী!
সাগরের সামনে অগস্ত্য মুনির মতো হাঁ মুখে
তাকিয়ে দেখবো সেই সুবিস্তৃত ফেনিল সুধা রাশি।
সাহিত্য কৃতির অভিসারী সঙ্গম,
শিল্প সঙ্গীতের তীর ধরে
চুঁইয়ে পড়বে আতশ কাঁচের
মধ্য দিয়ে, টুপ টুপ করে।
সম্ভোগের তুঙ্গ বিন্দু মুলে,
জ্বলে উঠবে দীপ্ত হোমাগ্নি
হে কবি, তুমি নিরাশ করো না আমায়,
হয়ো না কো উন্নাসী।
অকৃপণ দানে সদা উন্মুখ থাক
তোমার পূর্ণ গ্রীবা কোশাকুশি!
------------------------------------------------------------------------------------
রূপ বেচে ফুল রূপের বাগান,
রোদ বেচে রবি সারা দিনমান!
রূপের হাটে মানুষ গোলাম,
হাটের বাটে ছোটে কেনারাম!
There is no free meal, ম্যাম!
বিক্রি, সারা বাজার তামাম!
------------------------------------------------------------------------------------
জীবন তো নয়
পুরাতত্ত্বের বিষয়!
শ্মশানের পাশেই ডোমের ঘর,
দখিনা বাতাস বয়, কখনো কখনো
ছিটকে আসে আগুন,
পুড়ে যায় মন, পোড়ে চালের খড়।
রাখালদাস বাড়ুজ্যেরা খুঁড়ে পায়
কঙ্কাল, ভগ্ন প্রণালী, শৌখিন স্নানাগার!
সভ্যতার উলকি চিহ্ন এঁকেছিল যারা
তারা আমাদেরই পূর্বপুরুষ,
কয়লা হয়ে আমাদের ঘরেই
জ্বালে আলো; মালা হয়ে ঝোলে
দীপান্বিতার কৃষ্ণ অমানিশায়!
যে উঠোনে মাদুর পেতে
বসতো সর্বজয়া, পাঁচালী পড়তো;
চেয়ে থাকতো অপু, অবাক বিস্ময়!
পুরাতাত্ত্বিক সাবধান!
কোনো বহুতলের নীচে চাপা পড়ে
থাকা সে উঠোনে আজ
খৈনি ডলে, নিরাপত্তার পাহারাদার!
জীবন তো নয়
পুরাতত্ত্বের বিষয়!
কবরের পরে ঝরে পড়ে
লাল কাঠ গোলাপ; আজোও,
এই গ্রীষ্মের খরতাপেও ঝরে যায়,
ছড়ায় সুনন্দ সুবাস!
মৃত্যুর শোধ তুলতে
বেঁচে থাকার সুগন্ধ টুকুই যে
একমাত্র অস্ত্র, ঐকান্তিক প্রতিকার ।
-----------------------------------------------------------------------------------
অনিরুদ্ধ, অনিবার্য যে সুখ তা ভালোবাসা;
পেলে - পিঠে পুলি; না পেলে
অকূল দরিয়ায় নৌকা ভাসা; ভাটিয়ালি গেয়ে
গাঙের ছলাৎ ছলাৎ....!
বুকের মাঝে চাষ করে এক হদ্দ চাষা!
রোদ্দুর আর মেঘের অবাধ লুকোচুরি
ক্ষেতের উদর জুড়ে; বেবাক প্রত্যাশা!
খরা আর বন্যার নিত্য হারিকিরি
ভাঙা মঞ্চে নিত্য যাওয়া আসা।
ফুলই একমাত্র ফুটে বেরোয়,
সকালের আলোয়; নির্বোধের মতো
গড়ে তোলে পাখির বাসা!
ভ্রুণ মরলে কার কি?
উড়ে যাবে আকাশ,
মিথ্যে হযে যাবে ভালোবাসা!
-----------------------------------------------------------------------------------
আমার মনের গোপন ঘরে ,
এক কৃষ্ণচূড়া বসত করে!
তপ্ত যখন আগুন ওড়ে,
শান্তি খোঁজে দিঘীর পাড়ে!
জলের বুকে ভাসবে বলে
দোলায় বেণী বাতাস এলে!
তিরতিরিয়ে যায় যে ছুটে
আল্পনা ঐ হাওয়ায় ওঠে !
সাজের এমন বাহার দেখে;
কম্পিত দল, রাতুল শাখে!
থিতু হলেই বুকের মাঝে
রক্ত ঝরা জল যে সাজে!
দগ্ধ বাহির দগ্ধ গভীর
রক্ত হৃদির ব্যক্ত মদির!
জলের কোলে আদর হেরে,
চোখ দেখি লাল কৃষ্ণচূড়ে!
মুখ ফিরিয়ে কেমন করে,
রোদ সইতে, হবেই যে রে!
-----------------------------------------------------------------------------------
নিঃসীম হোক আলো
আঁধার হঠুক পিছু;
আপন পর উঁচু নীচু
ভালো হোক সবকিছু!
-----------------------------------------------------------------------------------
সূর্য খেলছে আগুন নিয়ে,
মেঘ ভুলেছে মায়া!
ঝড় ভাবছে উঠবে কি না,
জল মাপছে হাওয়া!
-----------------------------------------------------------------------------------
ছোটলোকের সান্ত্বনা!
+++++++++++++++
পাতার নীচে জমে থাকা অন্ধকার
আর কতদিন লুকিয়ে রাখবে কার্পেটের তলায়!
বুকের ওপর শুরু হয়েছে
আরও একটা যুদ্ধের মহড়া!
যুদ্ধ চাই!
রক্ত চাই শত্রুর!
দেশ কি শুধু কাঁটাতারের বেড়া?
সবুর করো;
ধৈর্য্য ধরো!
ভুলে যাও
দুবেলা দুমুঠো আহার জোটানোর লাঞ্ছনা!
হাত নেড়ে বলে যায় অনাগত
আচ্ছে দিনের, হাঁসমুখ চেহারা!
-----------------------------------------------------------------------------------
কাবেরী, তিস্তা, সিন্ধু, ভাগীরথী;
পানি-পথের যুদ্ধে তৃষ্ণা মেটাতে ,
কুঁজো তলার, খানিক বিরতি !
বকুলতলার ঘন সান্দ্র ছায়ায়, এমন জলভরা মাটির কুঁজোর শোভা কোলকাতার ফুটপাতেই বোধহয় দেখা যায়। প্রবল দাবদাহে, ক্লান্ত পথচারীর কাছে এমন মায়াবী জলসত্র যে কতটা আকর্ষণীয় তা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন।
জলসত্র, তবে সেল্ফ সার্ভিস। আপনা হাত জগন্নাথ। তবে সেটাই বা কম কি!
ধন্যবাদ!
-----------------------------------------------------------------------------------
মেঘেদের সমাবেশে
বৃষ্টি শয়ে শয়ে;
রৌদ্রের বিরোধাভাসে
যদি আসে ধেয়ে;
মঞ্চ বেঁধেছে ছায়া
শ্যামল নব ঘনে;
ঝরবে নিঃস্ব কন্ঠে
কদম্ব পত্র বনে!
-----------------------------------------------------------------------------------
বেশ হয় বৃষ্টি এলে
ঢুকে পড়ি ছত্র তলে!
শিয়ালদহ স্টেশন, বৃষ্টি মুখর!

ভুলি কেমনে!
কবি নজরুল, তোমায় প্রণাম!

বিভেদ ভুলে, এক হবার তরে
নজরুল আসুক ফিরে ফিরে!

জল ভরা মেঘের চোখে!

বৃষ্টি -ছাতা প্রেম কথা!

অলকে অমলতাস!

ধর্মতলায় এক ফাঁকে
কৃষ্ণচূড়া ফুটে থাকে!

দীপক রাগের অন্তিম চরণ;
ছুঁয়ে যায় জল ও পাতার বন!

পাতার ছায়ায়, নদী বয়ে যায়!

গাঢ় হোক পাতার বুনন:
সখা হোক সবুজ সুবন!
পূর্ণ হোক বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সকল তাৎপর্য!

অরণ্যে বৃষ্টি!

রাতুল সূর্য ঢাকা থাক সবুজ হলুদ পাতায়;
রৌদ্র ছায়া বিলি কাটুক ধূসর মাটির মাথায়!

টবে সাজানো ক্যাকটাস গুচ্ছ!

"গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ'
যদিও রাঙা মাটির উপরে পুরু ঢালাইয়ের প্রলেপ পড়েছে এখন, তবু সূর্যাস্তের লাল আভা তাকে এখনোও রাঙা করে তোলে।

যদি হও সুজন এরিকা কাঁদিতে সহস্র জন!

আগুন জ্বললে চাঁদে
হৃদয় পিরীত সাধে!

লিলি মিলি!

বহুতল ও বটের বনসাই!

নিরন্তর সে মগ্ন সুখ!

অনলকান্তি অমলতাস!

অনির্বাণ হোক জীবন!

পূরবী প্রভা !

চাঁদ উঠবে রোদের দেশে!

আকাশ যখন আলোয় ভরা,
বৃথাই তখন পিদিম ধরা!
-----------------------------------------------------------------------------------
জল ভরা মেঘের চোখে
হাসছে না কেউই সুখে!
বলছে না ভাবের কথা,
ভালোবাসি, ভালোবেসো;
হাত রেখে নিজের বুকে!
দুলছে না পাতার ছাতা,
সুখ নেই ফুলের মুখে!
হাপুস হয়ে ঝরবে বলে,
পুষে রাখে বাদল বুকে!
জল ভরা মেঘের চোখে
অশ্রু, বৃষ্টি ব্যাতিরেকে! -----------------------------------------------------------------------------------
দূরে, ট্রেন লাইনের ওভারহেড তারে
বসেছিল এক, ঝিম ধরা কালো ফিঙে!
মাথায় দলা পাকাচ্ছিল মেঘ, কৃষ্ণ বর্ণ ;
পাশেই শিরিষ, ভদ্র ভারী নয় সে বন্য!
ধীরে ধীরে মেঘ ভরেছিল বাষ্পাবেগ
তূণীর ছেড়ে তীর বৃষ্টি ঝরা আলেখ!
ঝুলোঝুলি ক'রে, রূপো গোলা জলে ;
বৃষ্টির রেল হয়ে, যাবে হেলে দুলে !
ফিঙে তাই বুঝে উড়ে যায় ডালে
শিরিনের শাখে মেঘ বৃষ্টি খেলে!
আপ ডাউন রেল, চলে তারই মাঝে
ফিঙে বসে বসে জীবনের মানে খোঁজে!
-----------------------------------------------------------------------------------
যখন আমি কবিতা লিখি,
তখন আমি গাধা হই!
ঢাউস সমাজ দর্পণটাকে
পিঠে করে করে বয়ে বেড়াই
এখানে ওখানে; দিনে রাতে, সবখানে!
গাধার কোনো বউনি খরচ নেই।
যখন আমি গান করি
তখন আমি কোকিল হই!
ফ্রি তে বসন্ত আনি!
যখন আমি নাচ করি,
তখন আমি ময়ূর হই!
ফ্রি তে বর্ষা আনি!
যখন আমি ছবি তুলি
তখন আমি লুকিং গ্লাস হই!
ফ্রি তে মুখ দেখাই!
যখন আমি ছবি আঁকি,
তখন আমি প্রকৃতি হই!
ফ্রি তে পাহাড়ের কোলে
লাল টিউলিপ ফোটাই!
যখন আমি গাইয়ে,
লিখিয়ে, নাচিয়ে, আঁকিয়ে
সক্কলকে এক প্লাটফর্মে
নিয়ে এসে জড়ো করি!
তখন আমি #ফেসবুক হই!
কেমন মজা!
দেখার জন্য সাতশো কোটি তো আছেই!
যখন আমি আমার
হিসেবে বুঝে নিতে যাই;
তখন আমি ক্রিয়েটিভ ক্রীতদাস হই!
কি! যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা!
তৃতীয় বিশ্বের লোক কোথাকার!
মনটা কে বড় করতে পারো না?
ছুঁড়ে দেওয়ার জন্য
কয়েকটা আমেরিকান সেন্টই যথেষ্ট!
ভাগ এখান থেকে!
বেশী ফুটানি মারিস না!
-----------------------------------------------------------------------------------
কামিনী, বৈধব্যের রঙে অবাধ উল্লাস যেন; প্রেমে
পড়তে চায় দিব্যি। গন্ধে জাগে অবোধ রোমাঞ্চ, উন্নাসিক হবার নেই সাধ্যি!
পথে, এক ফাঁকে চোখাচোখি হতেই বলি তোমার আমার দেখা হওয়া ছিল পূর্ব নির্ধারিত।
প্রতীক্ষার অবসান হতোই!
-----------------------------------------------------------------------------------
আমি একবার শুধু ছুঁয়ে
দেখেছিলাম, তোমার চোখের পাতায়
ঘন মেঘের আনাগোনা;
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার
অবকাশ খুঁজে যাচ্ছিল অনুক্ষণ!
না জানি সে বৃষ্টি জলে
পুষ্ট হোত কোন মরা নদী প্লাবন!
আমি শুধু মেঘগুলোকে
টেনে নিয়েছিলাম আমার বুকে!
জড়িয়ে রেখেছিলাম
পরম আশ্লেষে, দীর্ঘ চুপ ক্ষণ!
মুখে বলেছিলাম
চুম্বন হোক, সম্পূর্ণ হোক ঘনীভবন!
তুমি বৃষ্টি মেঘের সাদা কুয়াশা হয়ে যাও!
আমি হয়ে যাই চেরাপুঞ্জির বাতায়ন!
----------------------------------------------------------------------------------
উচ্ছে ফুলের মধু!
-----------------------
কুহেলী, তোমাকে নিয়ে আজ নয়;
অন্য কোনোদিন ভাববো!
রহস্যের হলুদ ঠোঁটে চুমু দিয়ে
সেদিন ঠিকই বুঝে নেবো
উচ্ছে ফুলের মধু,
তা তিক্ত নাকি মধুর!
কুহেলী, তোমাকে নিয়ে আজ নয়;
অন্য কোনোদিন লিখবো!
কোমল, সলাজ বুকে হুল ফুটিয়ে
সেদিন সত্যিই জেনে নেবো
এই আকর্ষণ আসলে,
কত দূর নাকি অদূর!
----------------------------------------------------------------------------------
পাতার ছায়ায়, নদী বয়ে যায়;
রোদে উঁকি ঝুঁকি
নীল কালো আঁখি
হাওয়া এলে বুঝি, কাঁপে লজ্জায়!
আলপনা আঁকে সলিল শয্যায়;
যদি আসে ঝাঁকি
মেঘে দেহ ঢাকি
বৃষ্টি সুখে বুকে, ঢেউ নেচে যায়!
ঝরে যদি জল, পাতা নাহি সয়;
টুপ টাপ সেকি
ঝর ঝর নাকি
নদী বুকে কুসুম বৃন্ত ফোটায়!
----------------------------------------------------------------------------------
আপন মনে গেয়েছিলেম যে গান,
সে গান আজ
পেয়েছে তোমার কন্ঠ পরশ।
নীলকন্ঠী তুমি -
কৃতজ্ঞ করেছো,
করেছো আমায় চির বিবশ!
আপন গোপন ধৃষ্টতাকে
ধরে ওষ্ঠাধরে,
করেছো সদা উন্মুক্ত।
দিয়েছো নতুন সূর্য দেখার স্বাদ।
যদিও আগামী অন্তর্মুখী,
তবু তোমার তরে
এগিয়ে যাওয়ার রইল ক্ষীণ সাধ!
থিরথির কম্পমান,
তোমার কন্ঠ মণি!
হরষিত চোখ, মুখে স্মিত হাসি।
কখনো ভাবিনি
এত কাছে করে নেবে!
তোমার কোমল স্পর্শে
আমার এ হঠকারিতা
জীবনের দিশা খুঁজে পাবে!
যুগ থেকে যুগান্তরে,
এমনি কি জন্ম নেবে
তুমি অন্বেষা?
শতাব্দীর দীর্ঘশ্বাস বয়ে,
নতুন দীগন্তে লেখা হবে
মূক নির্বাকের ভাষা!
----------------------------------------------------------------------------------
বেসুরো বৃষ্টি!
রোদ্দুর গেলে চড়ে, কি যে বিষম ওরে
শাসক বিরোধী এক যোগ - এক স্বরে,
আর নয় ব’লে - এক সাথে ঘোঁট করে!
মতভেদ সব ভুলে, জলে লেবু গুলে
চুমুকে চুমুকে প্রেম, যেন গলে গলে;
পায়ে পা মেলায়, ঝড় আনার মিছিলে।
ঘামে পাঞ্জাবী সেঁটে, মাথায় চুল ঘেঁটে
কি হবে গরম নিয়ে, রোদে চাঁদি ফাটে।
খাবি খায় যেন, মেঘ হীন শুখা মাঠে !
পাবলিক সব বোঝে, টুপি জোটে মাথে;
মঞ্চে পাখা ঘোরে নারা দেয় এক সাথে,
হৈ চৈ চেঁচামেচি, ঘর্মাক্ত রুমাল হাতে!
রাম রহিম ভেদাভেদ কিংবা তুষ্টি,
দেখে নেবে গরমকে নেয় তার গুষ্টি;
মেঘ শুধু নেই দলে, বেসুরো যে বৃষ্টি!
----------------------------------------------------------------------------------
তবু বকুল তলা;
তবু পাতার ভিলা;
তবু রোদের রেলা;
তবু ছায়ার লীলা;
তবু হিয়ার হেলা;
তবু যায় না ভোলা!
তবু একলা বেলা,
গাঁথে বকুল মালা!
তবু বকুল তলা! ----------------------------------------------------------------------------------
হোগলা বনে সর্পিল হিন্দোল হতেই
পাতার ডগায়, নিশ্চিন্ত মনে বসে থাকা জোনাকি গুলো বিচলিত ওড়াওড়ি শুরু করে দিল!
কুহেলী এইভাবে তার আঙুল গুলো
ছুঁয়ে ছুঁয়ে পা থেকে অঙ্ক দেশ হয়ে সুদূর কপাল বয়ে বিলি কেটে দিত কুঞ্চিত অলক ঘন অরণ্যে।
তার উষ্ণ নিঃশ্বাসে,
দূরে প্রবাহিত উষ্ণ প্রস্রবণ ধারা
আরোও উষ্ণ হয়ে উঠতো।
হঠাৎ কুহেলীর কথা মনে এলো আজ।
খানিক বাদে,
জোনাকি গুলো আবারো এসে বসলো পাতায়।
ঝিকমিক আলোর
জ্বলা নেভা শুরু হতেই আরোও একবার নড়ে উঠলো হোগলা বন।
কি হয় কি হয় ভাবছি...!
মনে পড়ে গেল
সেই তীব্র দংশনের কথা।
শিহরিত হয়েছিলাম সেদিন ও!
ঘাম খেকো কালাচের মুখর স্পর্শ
অনুভব করলাম আবার।
----------------------------------------------------------------------------------
শ্রাবণে রজস্বলা প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি - সবুজ তরু পত্রের শুভ উত্তোরণ পর্ব। অরণ্যের প্রয়োজন পৃথিবী বুঝেছে নতুন করে। যন্ত্র সভ্যতার বিজয় কেতন উড়ানোর বদলে শুরু হয়েছে বৃক্ষ রোপণের মহা সমারোহ। এই সপ্তাহ - বৃক্ষ রোপণ সপ্তাহ।
তাই এই পরিসরে প্রকৃতির অবোধ লীলা কান্ডের এক অমোঘ খন্ড চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করলাম নীচের কবিতায়।
মেয়েটির নাম প্রকৃতি!
কলমে -দেবাশিস জানা
ঝিম কালো মেঘের নীচে
গুম হয়ে বসে থাকে, দুষ্টু মেয়েটি।
চোখের কোণে ধুম্র বাষ্পাবেগ
প্লাবন আনতে চায়;
দিগন্ত ছাপিয়ে বৃষ্টি বাণে,
ঝাপসা করতে চায় ব্যাকুল দৃষ্টি।
মেয়েটির রোদেল বুকে জেগে থাকা
তপ্ত বিভাজিকা
কতজনের ক্ষমতার শেষ জলবিন্দু পর্যন্ত
নিংড়ে নিয়েও অস্পৃশ্য থেকেছে!
উড়ে গেছে টো টো করে, নেচে গেছে
বন থেকে বাদাড়ে, পত্রে পাহাড়ে;
মালভূমি থেকে মরু সাগরে,
ঘাম ঝরানো নাসিকাগ্রে, স্ফুরিত বাদল ব্যগ্রে !
কেউ হানে নি শ্লীল চাহনি।!
সকলেই তার সোঁদাল কৌমার্য
চেয়েছে হরন ক'রে, জঠরের নীড়ে
ফেলে দিতে হরিৎ বৃক্ষের ডিমটি।
মেয়েটির শরীর জুড়ে
আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, শত শত
বীজ বপন ক'রে,
পৃথিবী বাঁচাতে চায় আপন সৃষ্টি।
যথার্থই মেয়েটির নাম প্রকৃতি!
----------------------------------------------------------------------------------
এত বিষ সর্বত্র!
কোথায় নীলকণ্ঠ? তৃষ্ণা অবারিত কণ্ঠে
পান করো সবটুকু; মুক্ত করো ধরনী,
শুদ্ধ কর চিত্ত হলাহল পাত্র!
এত ঘৃণা সর্বত্র!
শ্বাসহীনতায় ডুবে যাই আকণ্ঠ।
কোথায় পবন দেব? ভালোবেসে ফুঁ দাও
একবার, আলপথে বয়ে যাক
প্রিয় অবোধ বাতাস;
বাল লীলায় ভরে যাক তরু কিশলয় পত্র!
এত বিদ্বেষ সর্বত্র!
বদ রক্ত ঝরছে, মুখ দিয়ে অহরহ!
কোথায় শরৎচন্দ্র? আমিনারা আজও
চিন্তায় আছে, রাত ফুরোনোর আগেই
হয়তো চলে যেতে হবে অন্যত্র!
এত হুঙ্কার সর্বত্র!
কাঁপছে বাতাস, নিভছে বাতি চিহ্ন!
কোথায় সুভাষ? হাবিবুর রহমানেরা
রেখেছে কথা; তবু শুষ্ক বুকে
আজ বিভাজিত কেন জলসত্র!
এত ডঙ্কা সর্বত্র!
ভাগাও ভাগাও, বিদায়ের ক্ষণ যে আসন্ন!
কোথায় বিবেকানন্দ? ইসলামিক হৃদয়
বঞ্চিত বৈদিক মস্তিষ্কে শুধুই
আমরা সনাতন, ওরা ক্রুর অপবিত্র!
এত আতঙ্ক সর্বত্র!
ভারত মায়ের ঘরে ভিন্ন ভিন্ন তন্ত্র!
কোথায় রবীন্দ্রনাথ? আনন্দ পাঠশালায়
আজ, বালিকা ছাত্রীটি যে বড়ই বিষণ্ণ!
"মাস্টারমশাই, তোমরা হিন্দুরা
আমাদের তাড়িয়ে দেবে তো?"
সামলে উঠতে সময় লেগেছে, চোখের জল চেপে রাখতে পারিনি, ভাবতে পারিনি, ভেতরে ভেতরে আমরা আমাদের সরলমতি শিশুদের মনে, এতটা বিপন্নতা বোধ রোপন করে ফেলেছি ।
কতটা অসহায় বোধ থাকলে একটা ছোট্ট শিশু, তার স্কুলের শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতে পারে, "মাস্টারমশাই, তোমরা হিন্দুরা আমাদের তাড়িয়ে দেবে?"
প্রসঙ্গত এই মাস্টারমশাই, স্বয়ং আজ একটি প্রবন্ধে লিখেছেন সে কথা। প্রবন্ধটি আজকের আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় মাস্টারমশাই - সুজিত মাঝি তাঁর স্কুলের এক মুসলিম ছাত্রীর করা এই প্রশ্নের মুখে পড়ে যারপরনাই হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো, মেয়েটি তাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে কি না জিজ্ঞাসা করছে। কিন্তু না। বিদ্বেষ, বৈরিতা, ঘৃণা, জাতপাতের বৈষম্য, বিভাজন - এ সব নিয়ে নিত্য চলা কুৎসিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার এমন একটা জায়গায় সমাজকে নিয়ে পৌঁছেছে যে বাচ্চা মেয়েটি পর্যন্ত নিজের জন্মভূমি দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে।।
প্রসঙ্গত স্কুলটি বীরভূম জেলার।
প্রবন্ধটি যারা আজ পড়েছেন, নিশ্চিত ভাবে তারাও আমার মতোই এই শিশু ছাত্রীটির মনের মধ্যে জেগে ওঠা বিপন্নতার কথা ভেবে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন।
এই ব্যাকুলতা অস্বাভাবিক নয়। উপরের কবিতাটি সেই ব্যাকুলতা নিবৃত্তির ফসল।
ধন্যবাদ।
কলমে - দেবাশিস জানা
ছবিটি, আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত, 'আমাদের তাড়িয়ে দেবে?' শীর্ষক প্রবন্ধের বিষয় চিত্র।
----------------------------------------------------------------------------------
মেঘের মহাকাব্য!
কলমে -দেবাশিস জানা
(কলম স্বত্ত্ব সংরক্ষিত)
আকাশ সেতো মেঘের অধীন, হারানো কৌমার্য!
লুকিয়ে ভাগে তেপান্তরে, পাহাড় - ডোবায় সূর্য!
মেঘ তন্ত্র, মেঘের সেনা খাটায় মেঘের শামিয়ানা
স্বর মন্দ্র, মেঘের হানা হঠায় - আদিম জ্যোৎস্না!
মেঘের পালক, মেঘের তিলক মেঘের শুভ্র ওড়্না
মেঘের পালে রোদের ঝলক আকাশ জুড়ে ঝর্না!
মেঘের হিয়ায় বাদল বাতাস ওড়ায় মধু - পর্ণা
মাদল তানে ওঠে হিল্লোল নাচে কুঁচ বর্ণ কন্যা।
মেঘের বুকে মিনার খাড়া, রজত মুক্তো বর্ণা
তুলির টানে আকাশ পটে ফেনিল শুভ্র ধর্না।
মেঘের মুখে অশ্নি চমক, বরষা পায়ে আল্পনা
হঠাৎ মেঘের উজাড় কন্ঠে মিয়া মল্হার মূর্ছনা।
মেঘ - হূণ, মেঘ - মোঘোল, মেঘ - পাঠান আর্য
মেঘের হাটে আকাশ সারা - নীল শূন্য শৌর্য।
----------------------------------------------------------------------------------
বৃষ্টি রাতের জ্যোৎস্না!
-----------------------------
ঘন্টা বাজছে গির্জায়!
জলঙ্গীর নীচে, হনিমুনে গেছে
মেঘ আর প্রেরণা!
পাটের ক্ষেতে সবুজ আঁধার;
ঢুলছে ঘুমে, নিঝুম শমে
যাচে না কাব্য করুনা!
বৈঠা হাতে শচীন কর্তা;
মাতন তুলে, গাইছে খুলে
রূপ তেরা মস্তানা!
হাওয়ায় সে সুর যাচ্ছে উড়ে;
হোগলা বনে, নিশির তানে
অন্তঃপুরে বাজছে না!
বারান্দায় জমে ক্ষীরের আঁধার;
চাইছে ঝরুক, জ্বালিয়ে চুরুট
বৃষ্টি রাতের জ্যোৎস্না!
----------------------------------------------------------------------------------
পাখিরা যখন নীড়ে ফিরছে,
বিমর্ষ শিরীষ পাতা
আঁখি মুদে ভাবছে - জীবনে কি পেলাম!
কবির হৃদয়ে, পাখিদের কিচিরমিচির
অন্তিম শোক বার্তার মত বলে যায়
আরও একটু আগে সন্ধ্যা নামলে, কি ক্ষতি হত?
দাবদাহে শ্রান্ত শাল পত্রে না হয়
খানিক আগেই, দিনাবসানের শান্তি জুটে যেত।
স্ট্রিট লাইটের রূপোলী আলো,
সন্তাপ হীন আহ্লাদে
ধুয়ে দিয়ে যায় কদম্ব বৃক্ষের শিখর পত্র;
বট ঝুরি বেয়ে, চলকে নামে
মৃত্যু শোক হীন প্রীত ঝিলিক,;
যেন বরফ নৃত্যে উপচে পড়া মদির পান পাত্র!
ফুটপাতে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে,
সজাগ থাকে এক অমর ব্যক্তিত্ব!
পাশেই মড়া বাহী খাট গুলি
গাদাগাদি করে পড়ে থাকে;
ভাবে একবার যদি
পিপীলিকার মত তাদেরও ডানা গজিয়ে যেত;
তবে তারাও পাখিদের মত
দিনশেষে উড়ে গিয়ে, নিজ বাসায় ফিরে যেত!
----------------------------------------------------------------------------------
রথযাত্রার চিরন্তন চিত্র যে খুব একটা বদলায়নি তা গ্রাম কিংবা মফস্বলের রথের মেলা গুলোতে গেলে বেশ বোঝা যায়।
আজকের তাই সেরকমই একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করলাম, রথের মেলার পরিচিত কিছু শব্দ ও অনুষঙ্গ দিয়ে। কবিতার আকারে।
আমার বাড়ির কাছেই রথের মেলা বসে, বহু প্রাচীন। কাঁথিতে এটাই বড় রথের মেলা। দারুয়ার কারবালার ময়দান নামে পরিচিত এক মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। ফি বছর এই রথের মেলায় হাজারো মানুষের সমাগম হয়। এলাকার হিন্দু মুসলমান সবার অংশগ্রহণে রথের মেলা প্রকৃত অর্থেই মিলন মেলায় পরিণত হয়। একই মাঠে মহরমের দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শণীয় সব তাজিয়া এসে সম্মিলিত হয়। বহু ঝড় ঝাপটার পরেও সম্প্রীতির এই চিত্রে এখনোও ফাটল ধরেনি।।
কবিতায় যাওয়ার আগে, এই প্রসঙ্গে আর একটি কথা বলে নেওয়া দরকার, সেটা হোল কবিতার শেষ লাইনে - জগন্নাথ দেব কে সংক্ষেপে জগা বলে লেখার কারণ কিন্তু কেবলমাত্র ছন্দে পটানো নয়। পাশাপাশি, অনেকের মনে হতে পারে ভগবানকে ভগা বলার মতো জগন্নাথ কে জগা বলার মধ্যে হয়তো জগন্নাথ কে কোনোভবে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছি আমি। আসলে জগন্নাথকে আদর করে, বিশেষ করে ওড়িয়া ভাষাভাষী মানুষেরা প্রায়শই তাঁকে জগা বলে ডেকে থাকেন। নিবিড় করে নিজের ভেবে এই ডাকে ভগবান জগন্নাথের প্রতি জগন্নাথ ভক্ত উড়িষ্যা বাসী মানুষের বাৎসল্য ভাব প্রকাশিত হয় বলেই আমার মনে হয়।
যাই হোক, কথা থামিয়ে বরং কবিতাটি লেখা যাক।
কবিতা: রথের মেলা!
রথের মেলায়,
বিকেল বেলায়;
পাঁপড় ভাজি, তেলের কড়ায়!
আম কাঁঠালের,
ডবকা জামের;
শাল পত্রে বেজাই বিকায়!
গোল জিলিপির,
গরম মদির;
বেলুন ফাটে গুলির খোঁচায়!
বাতাবি লেবুর,
চালতা চারার;
দরাদরি, হাঁকায় ডাকায়!
মুড়ি ঘুঘনির,
আলুর দমের;
জমিয়ে খাওয়া বৃষ্টি মাথায়!
দোপাটি ফুলের,
আকন্দ মালার;
জগন্নাথের দোলে গলায়!
মুনিয়া পাখির,
খাঁচার তিতির;
খোকা মজে টিয়ার কথায়!
রথের ওপর,
মালিক সবার;
রশির টানে রথ যে গড়ায়!
ঘন্টা কাঁসর,
হল্লা ঝাঁঝর;
রথের চাকায় ধুলো ওড়ায়!
গরীব আমীর,
হাজার হাজির;
নেতা সবাই মানেন জগায়! ----------------------------------------------------------------------------------
সারা মহাকাশ চষে বেড়ায়
এক উদাসী নক্ষত্র!
কোথাও কেউ তাকে জানায় না
অতিথির আমন্ত্রণ!
বলে না, থেকে যাও অনিকেত;
সৃষ্টি করো সঙ্গমের মুহূর্ত!
কোথাও তৈরী হয় না তাকে ঘিরে
বসবাসের একান্ত, অনুগত বৃত্ত!
তিনভাগ জল, একভাগ স্থল
নীল মুক্ত আকাশ, তাতে সাদা মেঘের টহল!
কারো দৃষ্টিতে সেই নক্ষত্র
জাগাতে পারে না তাকে ধরে রাখার
কাতর আকুলতা;
অশান্তির আকাশে উড়ে যায়
শান্তির পারাবতের মতো!
কারো বুকে উগাতে পারে না
সাধের পেস্তা ক্ষেত, দিগন্ত বিস্তৃত;
পাখিদের আনাগোনা, ডানা ঝাপটানোর ব্রত!
চিলেকোঠার ছাদে আজ বড় আতঙ্ক !
ভালোবাসার যুগল সেও
অনু পরমানুতে বিভক্ত!
নক্ষত্র আজ তাই
ক্ষেপনাস্ত্রে চড়ে
আছড়ে পড়তে চায়;
ধংস করতে চায়
যা কিছু সজীব, যা কিছু জীবন্ত!
যদি বাঙ্কারে বেঁচে থাকা
শেষ মানুষটির চোখে
জল হয়েই ঝরে পড়ে নক্ষত্র!
তখন তাকে চিনতে পারবে তো?
----------------------------------------------------------------------------------
মুখড়ায় -
ঢোল কলমির ফুল ফোটাবো!
অন্তরায় -
বিল ভরানো জল;
তাতে শালুক, পদ্ম
ফুটবে হদ্দ;
চুল ভেজানোর ছল!
গাছ কোমরে ডবকা লতা,
বুকের পরে কদম্ব পাতা;
বৃত্ত পুষ্প ধর!
কাঁধ ঝাঁপিয়ে ঝুমকো লতা
নামবে চোখে কাজল কান্তা;
মেঘ বৃষ্টি ধর!
সঞ্চারিতে -
পাখনা মেলা প্রজাপতির ঢঙ;
ব্যালকনিতে -
মত্ত হাওয়া শার্সিতে ঝনঝন!
শেষে -
ঝরবে শুভ্র কাঠ গোলাপ,
শ্যাওলা ধরা কার্নিশে;
রসে -
ভরবে ভেজা গুপ্ত আলাপ,
সোঁদামাটির নিঃশ্বাসে!
----------------------------------------------------------------------------------
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো শ্যামাপোকার মত
বাতি স্তম্ভের আলোর নীচে ওড়াওড়ি করে;
কখনো বা ক্ষুধার্ত, ক্ষ্যাপা ভিড়ের মত
শৌখিন গাড়ির কাঁচে এসে হামলে পড়ে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো বুঝে গেছে
আগুন ঝরাতে হবে পৃথিবীর বুকে;
আকশকে বিশ্বাস নেই, কখন
সরে যাবে ফুটপাতের মাথা থেকে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো অবাধ্য লালসার মত
গলে পড়ে অবোধ শিশুর কল বেয়ে;
টিনের চালের নীচে উদ্দাম মাতালের মত
ঢলে পড়ে, মুক্ত বিবরের পানে চেয়ে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ভিখারির মত
খোলা বাতায়নে এসে ভিড় করে;
ললাট তলে চুম্বন এঁকে দিতে
হাওয়ায় উচ্ছাসে আসে উড়ে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো স্বপ্ন দেখায়
ছেঁড়া কাঁথার দূর্বল ক্যানভাসে;
প্লাবনের আশঙ্কায় শহর পালায়
সোচ্চার বৃষ্টির চাপা সন্ত্রাসে!
----------------------------------------------------------------------------------
উড়ান শেষের বেলায়!
-----------------------------
একবার মাটি থেকে উদ্ভিন্ন হয়ে
পুনরায় ফিরে আসতে,
অনেকটা সময় লেগে যায়!
বড় হওয়া শাখা, প্রশাখা
ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে
লন্ডন, আমেরিকায়!
মাটির খনিজলবন, জল
তখনো হাত পুড়িয়ে রান্না ক'রে
প্রিয় পদ সেজে দেয়, সবুজ পাতায়!
তবু রোদ্দুরের স্বর্ণ মুকুট
শুধু মহিরুহের মস্তকেই শোভা পায়!
যখন মাটির ঘরে ছায়া বুড়ি
বসে থাকে একা একা;
ভাবে কখন ঢলবে বেলা,
ফিরবে সন্ধ্যা কুলায়!
ন্যুব্জ ডালের আলগা মুঠোয়
নামবে ঝুরি লাঠির মতন;
ঘাসের বুকে মুখটি রেখে
উড়ান শেষের বেলায়,
মাটির গন্ধ পেতে আবার
শেকড় খুঁজবে ক্ষ্যাপায়!
----------------------------------------------------------------------------------
কেউ কথা রাখবে, কেউ রাখবে না!
----------------------------------------------
অনাথ শব্দ গুলো যখন
কথা হয়ে উঠতে চায়-
অজস্র শুক্রাণুর ভিড়ে, ভাবনার
স্বয়ম্বর বসে যায়!
কোন্ সে বলিষ্ঠ পুরুষালি গলে
চড়বে রসের কদম্ব হার?
অবাধ্য মুখবিবরের আজ
পিতৃত্বের স্বীকৃতি নিয়ে
নেই কোনো সংশয়!
তালু, মূর্ধা, দন্ত, ওষ্ঠের
কিনারা ছুঁয়ে
নিষিক্ত শব্দ ডিম ফুটে
বেরোবেই কথা আজ!
ঝরনা কলমের
অপার মাতৃত্বের স্তন্য সুধায়
বড় হওয়া কথাগুলো
আর অনাথ হবে না!
তবু লিখিত ম্যানিফেস্টোর মতো
সে কথা কেউ রাখবে, কেউ রাখবে না!
ভাসিয়ে দেবে
শ্রাদ্ধের পিন্ডির মতো
অকুল গাঙের ঊর্মি মালায়!
----------------------------------------------------------------------------------
শ্রাবণ শাওয়ার!
---------------------
মুক্ত শাওয়ার, ঝমঝমিয়ে
বরষা - পাতার মন জুড়ে;
ঝাপিয়ে পড়া ঝোরার মতো
দিক ভুলে ধূম জল ওড়ে!
পাতার বুকে, পাতার পেটে
জলের চামর যায় সিচে;
তাল ভুলে তীর ঝাপান গানে
শরীর নাচে উপর নীচে!
ফড়িং গুলো নাইতে নেমে
ডাঙায় ফিরতে যায় ভুলে;
ভিজছে ব'সে একলা ফিঙে
বরষা ঝরছে তার খুলে!
পাতায় ছাওয়া ছই বনে
সাগর ভাসে দুকূল চুঁয়ে;
ধূসর শাখে বারির মিছিল
জলের ভারে পড়ছে নুয়ে!
হঠাৎ বাতাস বৈঠা ঠেলে
ভাসায় তরী পাতার ভিড়ে;
জলের পরী শিউরে উঠে
মাটির টানে লুটিয়ে পড়ে! ---------------------------------------------------------------------------------
হর গাল ত্রিরঙ্গা!
---------------------
দেবাশিস জানা
মনিপুর থেকে মহারাষ্ট্র
হর ঘর ত্রিরঙ্গা!
বাউল থেকে ম্যাইস্ত্রো
হর স্বর ত্রিরঙ্গা!
নিরন্ন থেকে নির্বস্ত্র
হর দুখ ত্রিরঙ্গা!
স্লোগান থেকে স্তোত্র
হর মুখ ত্রিরঙ্গা!
পুঁজিবাদ থেকে কাস্ত্রো
হর বাদ ত্রিরঙ্গা!
দ্রোণ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র
হর সাধ ত্রিরঙ্গা!
আক্রমনের মুখে নিরস্ত্র
হর মূক ত্রিরঙ্গা!
ক্ষুধার - সান্ত্বনা এক মাত্র
হর ভুখ ত্রিরঙ্গা!
পবিত্র থেকে অপবিত্র
হর জান ত্রিরঙ্গা!
গোমাংস থেকে গোমূত্র
হর খান ত্রিরঙ্গা!
স্বপ্নের নীলে ষড়যন্ত্র
হর ডরপুক ত্রিরঙ্গা!
চুইয়ে পড়া জল-সত্র
হর বুরবুক ত্রিরঙ্গা!
মূল্যমানে, রকেট তন্ত্র
হর সাল ত্রিরঙ্গা!
শুষ্ক গালে, চুম্বন চিত্র
হর গাল ত্রিরঙ্গা!
কবিতাটি দু বছর আগে, ২০২৩ এর ১৫ ই আগস্ট তারিখে আমার ব্লগ www.patheprantare.in এ প্রকাশিত হয়েছিল।
মূল কবিতার শেষ স্তবকে, দুটি শব্দের পরিবর্তন করেছি। বর্তমান সময়ের সঙ্গে, সামঞ্জস্য আনার জন্যে তা জরুরী ছিল।
মূল কবিতাটি পড়তে চাইলে, নীচে কমেন্ট বক্সে লিঙ্ক দেওয়া রইল, ক্লিক করে পড়তে পারেন।
৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই সকলকে। ধন্যবাদ।
---------------------------------------------------------------------------------
একবার কোমায় যেতে দাও!
তখন আমি তোমার
সকল অত্যাচার, লাঞ্ছনা, শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে
দৃঢ় নীরবতা পালনে ব্রতী হবো!
গাঢ় নীল শালীনতায়
তুমি আমায় তখন, তুলে রাখো;
সগর্বে ভরে নাও ভোট বাক্স!
আমি মহাদেবের মতো
বেলপাতাতে না হলেও
এক গ্রাস ভাতেই সন্তুষ্ট!
আমি আসলে শাপগ্রস্থ দেবতা;
পাথরের হৃদয় দিয়ে, সহ্য করে যাই সব!
বা হয়তো অসম্পূর্ণ জগন্নাথ ;
ঠুঁটো অপবাদ নিয়েও থেকে যাই নীরব!
ভুলে যেওনা যেন,
তোমার প্রতি আমার বিশ্বস্ততা
এখনোও কত অন্ধ!
তোমার মুখের দিকে তাকিয়েই
ভুলে যাই হৃৎ ছন্দ!
কবে যে কোন্ ভগীরথ
বয়ে আনবে এক গঙ্গা
থুতুর চিকচিক স্রোত!
কে জানে,
সে সহ্যের বাঁধ হঠে
হয়তো সেদিন জেগে উঠবো;
নিদ্রার ভান গিয়ে টুটে
তপ্ত মুখে রাঙা খই ভাজবো!
বুঝবে সেদিন,
প্রতারিত করার অধিকার
আমার ও আছে। নয় তোমার একছত্র।
এতদিন আসলে আমি কোমায় যাইনি,
কোমায় যাওয়ার অভিনয় করেছিলাম মাত্র! ---------------------------------------------------------------------------------
শ্রাবণ অন্তে শরৎ আসে ভাদ্রের হাত ধরে, আর কে না জানে শরতের অন্যতম এক রোমান্টিক দিক হলো রোদ আর বৃষ্টি - যখন একসাথে এসে ভিড় করে। তাই নিয়েই আজকের কবিতা-
রোদ বৃষ্টি জাদু জানে!
-----------------------------
হঠাৎ বৃষ্টি উড়ো মেঘে
রোদের জল প্রপাত;
মাঠের মাঝে আলো চরে
প্রান্তে মধু বিন্দু পাত!
ছুটছে যেন মুক্তো বুনে,
এলো কেশে কৃষ্ণ মেয়ে;
পত্র পুঞ্জে নুপূর বেঁধে,
নগ্ন বুকে রৌদ্রে নেয়ে!
সেগুন তলে ঝরঝরে
দূর্বা দলে সিক্ত স্নান;
শাল পত্রে ঠিকরে পড়ে
মেঘ মুক্ত বৃষ্টি বাণ!
ব্যগ্র সুখে মেলতে ডানা
পর্দা ভেজা বাতায়নে;
ছাদের তারে পিয়া কাঁহা
রোদ বৃষ্টি জাদু জানে!
রোদের বুকে বৃষ্টি নাচে,
জ্যোৎস্না বাদল ধুয়ে;
চল্ কুহেলী দেখি দোঁহে,
শেয়াল শেয়ালীর বে!
---------------------------------------------------------------------------------
নজরুল স্মরণে ক্লান্তিহীন হোক কলম।
কবির মৃত্যু বার্ষিকীতে আপ্রাণ চেষ্টা করলাম, কবির বিদ্রোহ যজ্ঞে সামিল হওয়ার!
কবিতা: চুরুলিয়া থেকে ঢাকা!
কলমে -দেবাশিস জানা
আগুনের রং গাঢ় হলুদ নাকি ক্ষীণ হালকা!
"ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?'
কতটা পুড়লে বুকের বদ্বীপ
সাগরের নীল ধারন করে ব্যথার বহ্নি শিখা!
কতটা রুদ্ধ হলে সাম্যের বাণী
হাওয়ার যুদ্ধে মেলে দেয় ' বাঁধনহারা' অগ্নি পাখা!
চুরুলিয়া থেকে ঢাকা!
টুপ টুপ করে ঝরে পড়ে অশ্রু কমল!
কান্ডারী হীন, দিকহারা মেঘ ও বাদল!
বিদ্বেষের ফণার মুখে উঠেছে রব ত্রাহি ত্রাহি;
বিদ্রোহ আজো, কবিকে হতে দিতে চায়না বিদেহী!
---------------------------------------------------------------------------------
ঠিক দোরগোড়ায় না হলেও, আশ্বিনের প্যাচপ্যাচে বৃষ্টি ভেজা রাস্তা ধরেই ক্রমশ নিকটবর্তী হচ্ছে বার্ষিক শারদীয় পূজার মহালগ্ন। বলা যায়, পুজোর রেখা গণতি শুরু হয়ে গেছে । কাউন্ট ডাউন কথাটার বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে রেখা গণতি কথাটা আমার খুব মানানসই মনে হল। তাই লিখলাম।
ভাদ্র মাস ঢুকে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি যেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই বহু বিখ্যাত কবিতার লাইনের মতো পালা করে বলে চলেছে, যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো।
বেশ, তাই বলে পুজোর প্রস্তুতি তো আর থেমে থাকতে পারে না। কথায় আছে না উৎসব সবার, আর প্রস্তুতি যার যার। কিন্তু সে প্রস্তুতি তো আবার পুঁজি নির্ভর। যার যেমন পুঁজি তার তেমন প্ল্যান।
বৃষ্টি ভেজা প্রান্তিক মানুষের মতো বর্ষায় জল ঝরানো পাতারও হয়তো আছে তেমন কোনো পুজোর প্ল্যান। আর পুঁজি? তারই খোঁজ আজকের কবিতায়!
পাতা, সব বৃষ্টি ঝরায় না!
----------------------------------
কলমে -দেবাশিস জানা
পাতা, সব বৃষ্টি ঝরায় না!
কিঞ্চিৎ বাঁচিয়ে রাখে,
অবতল শীর্ণ কাঁখে;
ঠিক যেন এক রতি সোনা!
পুজোর রোদ এলে,
সাজবে দিল খুলে;
ভুলে গিয়ে দুবেলার কান্না!
ঝলমলে চিকচিক,
হাওয়ার অটো ঠিক;
নিয়ে যাবে টালা থেকে খান্না!
দুই দিকে দলে দলে,
দেহাতি পাতারা দোলে;
চুমকি গালে বিটপী কন্যা!
শ্রাবণে মেঘের দানে,
কোচড়ে ভরে গোপনে;
পাতা, সব বৃষ্টি হারায় না!
পুজোর হাটে যদি,
কিনতে হয় নদী;
টুপিয়ে জল আনবে ঝর্না!
পাতা, সব বৃষ্টি ঝরায় না!
---------------------------------------------------------------------------------
ভঙ্গুর স্বপ্নে ঠাসা!
-----------------------
ঠোঁট ছোঁয়ানোর আগেই,
সেগুন মঞ্জরীর মতো
সোনালী সবুজ বুদবুদ
এক গাদা দাম হাঁকায়!
এক চুমুক তপ্ত তৃষ্ণা
মেটানোই তো ছিল
সুপ্ত ইপ্সা!
দীর্ঘনিশ্বাসের ফুঁয়ে,
জুড়িয়ে যেতে কতক্ষন?
যখন নিস্তরঙ্গ ভাঁড়ে
শুধুই মা ভবানীর বাসা!
ধূসর চায়ের জলে
মিইয়ে যাওয়া তর্কের তুফান,
মুখ বুজে মেনে নেয় সবকিছু!
ঢোঁক গিলে ভাসিয়ে দেয়
উষ্ণ চুমুর নেশা!
বিদ্রোহের উত্তাপে
প্রশান্তির সাদা সর পড়ে থাকে
সাগরের তটে; ইতিহাস মনে রাখে
জোয়ারের জলে ভাসা!
ভিড় ট্রেনে গাদাগাদি,
সেগুন মঞ্জরী ঝরে খাসা!
নিরুত্তাপ প্লাটফর্ম জুড়ে,
শত শত ভগ্ন ভাঁড়;
ভঙ্গুর স্বপ্নে ঠাসা!
---------------------------------------------------------------------------------
আচ্ছা পুজো মানেই তো যুদ্ধ আর যুদ্ধ বিজয়ের গল্প; মায়ের যেমন মহিষাসুরের বিরুদ্ধে, তেমনই রামের যুদ্ধ-বিজয়, লঙ্কেশ্বর রাবণের বিরুদ্ধে।
কিন্তু লড়াই যখন, পুজোর তিথিগুলোর নিজেদের মধ্যেই সংঘটিত হয় - কে বড় বা কে ছোট এই নিয়ে তখন বিষয়টি খানিক চমকপ্রদ হয় বৈকি।
আসল ব্যাপারটা একটু খুলে বলা যাক, কয়েকদিন আগে ভাইঝি দেবাংশী, তাঁর আঁকা সুন্দর একটা ছবির কোলাজ আমাকে দেখায়; তাতে নিপাট সারল্য আর পবিত্রতা মাখা, ভিন্ন ভিন্ন মুডের মা দুর্গার বেশ কয়েকটি মুখের ছবি আঁকা ছিল; একটায় তো- নদীর বুকে, নৌকায় চড়ে মা চলেছেন সপরিবারে, এরকম একটি সুন্দর ছবিও রয়েছে, দেখে সত্যিই খুশি না হয়ে থাকতে পারিনি।
কিন্তু এর মধ্যে লড়াইয়ের আবহ কোথায়?
সেটা অবশ্য এলো, ছেলেকে একটা কবিতা লিখে দিতে বলাতে।
শিশু মনের সহজ বোধে ফুটিয়ে তোলা এই লড়াইয়ের ভাবনা শুধু যে অভিনব তাই নয়; কবিতার শেষে, স্বয়ং মায়ের হস্তক্ষেপে সেই বিবাদের মিমাংসা যেভাবে হলো তা এককথায় অভাবনীয়।
মজার ছলে লেখা এই কবিতাটিকেই আজ মহানবমীর ভোরে তুলে দিলাম। সঙ্গে থাকলো আঁকা ছবিটির কোলাজ ও কবিতার লেখক দেবার্পণ ও আঁকিয়ে দিদি দেবাংশীর ছবি।
পুজোর লড়াই!
--------------------
ষষ্ঠীচরণ বললে, "শোনো
ষষ্ঠী - পুজোর শুরু!
তাই দেখতে আসেন উড়ে,
স্বর্গের তিন গুরু!"
সপ্তদ্বীপ বললে, "ওহে
শোনো ষষ্ঠীচরণ,
সপ্তমীই আসল পুজো
বৃথাই আস্ফালন!"
অষ্টব্রত বললো হেঁসে,
সন্ধি পুজাই বড়!
মিছেই তোমরা দুজন,
ঝগড়া করে মর!
নবরত্ন বললো রেগে,
এবার তোমরা থামো!
নবমীই প্রধান তম
নমস্তে দুর্গা নমঃ!
বিজয়া বললে, "শোনো,
শ্রেষ্ঠ বিদায় ক্ষণ ;
ফিরবেন মা কৈলাসে,
মন্দির হবে নির্জন!"
সব শুনে, বললেন মা,
"শোন্ রে তোরা সবে;
আমার কাছে সবাই সমান,
বিভেদ নাহি হবে!"
এই পর্বে আমর ভূমিকা, শুধুই ভূমিকা টুকু লেখার। যাই হোক, সকলকে শুভ মহানবমীর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে শেখ করছি এখানে।
ধন্যবাদ।
---------------------------------------------------------------------------------
নরেন্দ্রপুর, গ্রীন পার্কের পুজোয়, মায়ের মূর্তি তাঁর চিরাচরিত খড় মাটির বন্ধন ছেড়ে, রক্ত মাংসের সেই আদি ও চিরন্তন চিন্ময়ী রূপে আবির্ভূতা হয়েছেন। হাতে, মঙ্গল শঙ্খ। মাথায় ঘোমটা, কৃষ্ণ পাড়, লাল শাড়ি পরিহিতা ত্রিনয়নী মা যেন এখানে বাংলার চিরায়ত মাতৃস্বরূপা।
আজ মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায়, শারদ প্রকৃতির মাঝে মায়ের রূপের একাত্মতা খোঁজার চেষ্টা করেছি কবিতায়।
পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।
কবিতা: প্রাণ প্রিয়বরেষু..!
------------------------------------
তুলতুলে মেঘগুলো,
পোড়ো বাড়িটার ছাদে;
বৃষ্টির স্নান সেরে,
ভাসে আদরের রোদে!
সোনালী ডাবের বুকে,
জলের ছলাৎ !
শাখা - বেণীবৎ,
প্রাণ- ঘটে প্রিয়ম্বদা;
সুখদা, যশোদা, মোক্ষদা!
"তুই আসছিস তো...?"
অপেক্ষার চুমু আর
হোয়াটসঅ্যাপ ওয়াদা!
ভেসে যায় চন্ডী পাঠের স্তব ও স্তুতি!
আম, বট, পিপুল,
বেল, স্নিগ্ধ বকুল;
সুপর্ণার রোদে আকর্ণ বিস্তৃতি!
পুজোর বারকোশে যেন,
চিকন, তকতকে, শ্যেন;
প্রিয় পঞ্চ পল্লবের সু- নির্মিতি!
ভাঙা কার্নিশ বেয়ে,
পড়ে শিউলি ছেয়ে!
রিং টোনে গুঞ্জরিত -
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু...
"তুই আসছিস তো....?"
পত্রাগ্রের জল
এখনোও বিরাজিত;
ঝরে যাওয়ার আগে অন্তত
আয় তুই, প্রাণ প্রিয়বরেষু !
কলমে -দেবাশিস জানা --------------------------------------------------------------------------------
চেহারায় সদা গুরু গম্ভীর ভাব, কুঞ্চিত কপাল, আপাত বৃহৎ মস্তিষ্কের এই মানুষটিই কিন্তু আবার শিশুদের কাছে বড় কাছের আত্মীয়, অত্যন্ত নিকটজন, প্রথম গুরু। ২৬শে সেপ্টেম্বর, আজ তাঁর ২০৫ তম জন্মদিনে; তাই তাঁর কথা, তাঁর ভাবনা - এক শিশুর মানসালোকে, ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলাম। বরিষণে বিদ্যাসাগর, স্মরণে বিদ্যাসাগর!
কবিতা: বৃষ্টিতে বিদ্যাসাগর!
---------------------------------------
ঐ যে বৃষ্টি ঝরছে,
আকাশ ঘন কৃষ্ণ;
বলতে না'রে খোকা,
বৃষ্টি যে যুক্ত বর্ণ!
খোকার সারাদিন,
বিচিত্র ধ্বনিময়;
বৃষ্টির ঝমাঝম,
টিপটিপ ধূন লয়!
চোখের কোণা বয়ে,
গড়ায় তার জল;
লিখবে কেমন করে,
বৃষ্টির কলকল!
স্বপ্নে সেদিন রাতে,
দেখলো বড় সমুদ্র;
ধুতি আর চাদরে,
ব'সে ঈশ্বর চন্দ্র!
বললে গম্ভীর হেসে,
নেইকো তোর ভয়;
ধ্বনির ছবি আঁকা,
নে বর্ণপরিচয়!
বেশতো ব'লে খোকা,
ওহে বিদ্যাসাগর;
বৃষ্টি কথাটি কঠিন,
শিখিনি যুক্তাক্ষর!
এবার তিনি উদাস,
বৃষ্টি পড়ে পাতায়;
'জল পড়ে, পাতা নড়ে',
দিব্যি এলো মাথায়!
কলমে -দেবাশিস জানা
প্রসঙ্গত এই 'জল পড়ে, পাতা নড়ে' এই লাইন দুটি প্রথম লেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু লেখার কৃতিত্ব দেন 'আদি কবি' বিদ্যাসাগর কে। কিন্তু কেন এই উদার বিভ্রান্তি, তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম একটি প্রবন্ধে।
প্রবন্ধটি পড়তে চাইলে নীচে কমেন্ট বক্সে লিঙ্ক দেওয়া থাকলো, ক্লিক করে পড়তে পারেন।
ধন্যবাদ।
--------------------------------------------------------------------------------
অতিবৃষ্টি আর সাম্প্রতিক জলে ভাসা নগরী কোলকাতা, কারো কারোর কাছে তা ভেনিস কিন্তু আমার কাছে তার রূপ যেন খাঁড়ি ময় সুন্দরবন। তবে বর্ধিত। পুজোর মুখে, বানভাসি শহরের মন পড়ার চেষ্টা করেছি এই কবিতায়! বাকিটা আপনাদের বিচার!
কবিতা: নগর সুন্দরবন!
--------------------------------
মায়ের মন, ভালো নেই;
রাত্রি ভর র'ন জেগে!
দুঃখ আর বঞ্চনার শহরে
কান্নার বানভাসি আনেন;
মেঘের চাঙড় ভেঙে!
বাস্তুহারা সাপের মতো অশ্রুপাত,
বেয়ে যায় অলি গলি ফুটপাত!
রাজপথের খাঁড়ি বেয়ে,
ভেসে যায় জোগাড়ের জীবিকা;
ভুট্টার খোসা, ফুচকার শালপাতা,
কলমি হিঞ্চের বাখারির ঝাঁকা!
মার্সিডিজ, অডি আছে যত সুখ ভ্রাম্য,
বন্ধ টানা রিক্সাও, ডুবে যাওয়ার সাম্য!
মায়ের চোখে, বড়ই প্লাবন আজ!
বুকে চাপা ব্যথা;
কেনা হয়নিকো ছেলের জামা, মেয়ের ফ্রক
স্বর্ণ চুমকি গাঁথা!
চার্ণকের শহরে আজ,
ঢেউয়ের মনোরম চলাৎ চলাৎ ;
ফলের ঝুঁড়ি, তড়িতাহত লাশ!
ডুবে যায় কাগজের নৌকা,
সওদা করতে এসেছিল, পেটের ভাত!
মায়ের মনে, জাঁক নেই আজ;
ভেনিস, লন্ডন তাই করেছেন খন্ডন;
নিরাশার বদ্বীপ জুড়ে,
ভাসিয়েছেন বেড়ে নগর সুন্দরবন!
-------------------------------------------------------------------------------
দূর্গার অকাল বোধন কি সমাজের আকাল কাটাতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বড় শক্ত। সে উত্তর খোঁজার চেষ্টাও করিনি আমি, আমার কাছে এই প্রশ্ন রাখাটাই জরুরি, উত্তর যে যার মত খুঁজে নিন!
কবিতা: আকালের এই কালবেলায়!
------------------------------------------------
বড় অসময়ে
এলি তুই কন্যে!
আমার ঘরে এখন, ভাবের বড় অভাব।
ছন্দ ছন্নছাড়া!
আবেগের মশলা বাড়ন্ত বয়ামে,
কল্পনা বন্দী ক্লান্তির খামে;
শব্দ বাক্য হারা!
অগোছালো সময়, নিশ্চেষ্ট মনন;
গভীর নিশীথে শিউলির পতন!
আকালের এই কালবেলায়
নেই প্রয়োজন, অকাল বোধন!
তবু ধীর কন্ঠে,
বলি শোন্ কন্যে;
আসছিস যখন-
সীতা উদ্ধার হয়ে গেছে শ্রীরামচন্দ্রের;
উদ্ধার বাকি আমাদের হৃত গৌরবের!
আমার কলম এখন, বড়ই রুদ্ধ স্বভাব!
অপরাধ নিবি না কন্যে, করে দিস ক্ষমা;
হৃত নীল পদ্মে অশ্রুর জল হচ্ছে জমা!
কলমে -দেবাশিস জানা
লাল পেড়ে সাদা, গরদের শাড়ি পরা এই দুর্গা মূর্তিটি, পার্ক স্ট্রিট কোলকাতার শিল্প সদনে রাখা এক হস্তশিল্পীর গড়া চোখ জুড়ানো শিল্প নির্মাণ।
-------------------------------------------------------------------------------
কবিতায় মুগ্ধতা যদি অবিভাজ্য হয় তবে শোক
------------------------------------------------------------
রেখে যাক অনপনেয় দাগ!
------------------------------------
উপরের লাইনটি, কবিতার শুরুতেও পড়তে পারেন কিংবা শেষে, অথবা শুরু এবং শেষ দুই পারেই, যেমন আপনার ভালো লাগে।
যত দূরের ট্রেন
তত বেশী হাহাকার!
দিগন্তের বুক চিরে
যতক্ষণে সবকিছু অদৃশ্য হয়ে যায়;
ভাটার টানে অলীক
হয়ে যায় জলের দাগ!
সম্পর্কের কোলাহল;
অনিঃশেষিত মরুর ভাগ!
শুভ্র শঙ্খের মুখে
মিষ্টি চুমুর ছাপ
শুধুই গড়ে বালির বাঁধ!
স্মৃতি জল শুধে রোদের কাছে
মরে যায় ভরা নীলগাঙ!
কলমে -দেবাশিস জানা
-------------------------------------------------------------------------------
ছন্দের দড়িতে নিরাশার পুঁটলি বাঁধতে গিয়ে, শেষমেশ তা কতটা আশা জাগাতে পারলো নাকি পারলো না সেটাই দেখার!
কবিতা - ঘুগনি বেচার বান্দে!
---------------------------------------
কলমে -দেবাশিস জানা
সকাল বিকেল সন্দে,
আমার ভারত বন্দে!
উড়ছে কেতন উর্ধ্বে,
চর্চা টিভির পর্দে!
শোর উঠেছে শির্ দে,
বউ বলছে থান দে!
আগুন ফুরোয় রন্ধে,
সন্তান হাঁকে ভাত দে!
কোমরে গামছা পিন্ধে,
কেমনে করবো নিন্দে!
ঘুগনি বেচার বান্দে,
মিছেই ঘাঁটি কাসুন্দে!
বিদ্ধ আওয়াজ মূর্ধে,
জ্বলছি চিতায় জিন্দে!
দেশ বলছে চুপ্ দে,
হয়ে থাক জিন্দা মুর্দে!
হাঁটছি জোয়াল কান্ধে,
আটকে ফানুস ফান্দে!
হেইসা বলে ডাক্ দে,
মেরা ভারত চক্ দে!
কিছু কথা: কিছু শব্দ যেমন পিন্ধে কথাট বিশেষ করে, কোনো কিছু পিধা বা পরা অর্থাৎ পোশাক পরিধান করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া সন্দে শব্দটি, সন্ধ্যে শব্দের কথ্য রূপ হিসেবে।
এছাড়াও পর্দে, মূর্ধে, জিন্দে, বান্দে, কাসুন্দে বা মুর্দে শব্দগুলো যথাক্রমে পর্দা, মূর্ধা, জিন্দা , বান্দা, কাসুন্দি ও মুর্দা শব্দের ছন্দ রূপ।
রন্ধে কথাটি রন্ধন বা রান্না করার ছন্দ রূপ। কান্ধে কথাটি কাঁধে'র।
-------------------------------------------------------------------------------
কবিতায় একটু অন্যরকম চেষ্টা, ভিন্নতার স্বাদ পাওয়া গেলে, সার্থক হবে প্রয়াস!
পশ্চিমের জানালা খোলা!
----------------------------------
কৃষ্ণাঙ্গী রাস্তার বুকে,
বর্ষা সেচা শরতের রোদ!
ওপারে গ্র্যান্ড হোটেল,
পশ্চিমের জানালা খোলা!
বিকেলের পিছু পিছু
জোছনাকে নিয়ে পালাতে চায়,
মফস্বলের ভীড় ট্রেন;
এখন বিকিকিনির হাটে
হাতে সিগারেট, একা মধুবালা!
পায়ের পরে পা;
মুক্ত ডানায়, নীল প্রজাপতি আঁকা!
মাঝে ফুটে থাকে দুএকটা জারুল,
ছাতিম, ফলধরা তেঁতুল;
নীল ছায়া মাখা, প্রিয় বিভাজিকা!
বানভাসি পিঁপড়ের মত
সার বেঁধে, দুদিকে
দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়ি ধর্মতলায়;
এখনিই জ্বলবে সবুজ,
ছুটবে শোণিত শিরায় শিরায়!
কলমে -দেবাশিস জানা
------------------------------------------------------------------------------
চাঁদ ফেলেছে সাঁঝের তাঁবু,
কুয়াশার ভরা হাটে;
চুলের ডগায় শিশির গুঁজে,‌
আসবি নাকি মাঠে?
ডুব সাঁতারে পাড়ি দিবি,
নোঙর বেঁধে ডিঙি;
ঘাসের নীচে চন্দ্রবোড়া,
শ্বাস চুরিয়ে নিবি!
বিল পুকুরের পাড় ছাড়িয়ে,
ঢোল কলমির সারি;
তোর আশাতে বিজন নিশি,
চাঁদের ফাঁকা বাড়ি!
কনক ধানের রাজ্যি তাও,
গোলায় উঠে গেছে;
আকাশ জমি দুকূল ফাঁকা,
কেউ নেইকো মাঝে!
তোর শরীরের ছোঁয়া পেয়ে,
ফুটবে জলছবি;
লাজের মায়া কাটিয়ে তুই,
কৃষ্ণ কলি হবি!
তোর গন্ধে মেঘ কুয়াশা,
দুলবে ভেজা শশী;
পিঠে পায়েস প্রথম প্রেম,
নবান্নের দিলখুশী!
কুয়াশা, জ্যোৎস্না, নবান্ন, হেমন্তের মাঠ আর তাই নিয়ে অন্তমিল আর অনন্ত মিলের ককটেল। শেষমেষ, তার স্বাদ কতটা অনুভূত হলো কবিতায় তা বিচার করার ভার আপনাদের ওপরেই রইলো।
ধন্যবাদ। ------------------------------------------------------------------------------
স্মৃতির রাজ্যে মিরজাফর,
সিরাজকে আজোও বুড়ো হতে দেয়নি!
দু চোখে আজোও কত প্রেম তার,
হাতে নব্য গোলাপ পুষ্প!
কত কাল কেটে গেছে,
কত দৃশ্য হয়েছে অতিক্রান্ত;
যারা মাথায় সূর্য নিয়ে
ফিরে গেছে সাজঘরে;
যুগের গোধূলি পেরিয়েও,
রাত্রির যুগান্তরে -
তারা আজোও উজ্জ্বল, শিশির ধোওয়া
চির রৌদ্রকান্ত!
দু দুটো বিশ্বযুদ্ধ দেখেছে পৃথিবী!
কত পালাবদল, গতিপথ
বদলে ফেলেছে নদী;
জার্মান থেকে জাপান, তাইহোকু,
আজোও তরুণ, 'তরুনের স্বপ্ন'
নেতাজী, ক্ষুদিরাম, কিশোর কবি সুকান্ত!
আজোও ভরা চোখ, দীপ্ত ঠোঁট, কন্ঠ উদাত্ত;
নায়ক উত্তম, গায়ক কিশোর,
বাবরি চুল, নজরুল দিব্য কান্ত!
একবার জ্যৈষ্ঠের জরা এলে,
বর্ষার প্লাবন ভুলে যায় নদী;
মনে রাখে নির্জল বালুচর,
হেঁটে , হেঁটে পার হওয়া অনন্ত!
শীত ঘুমের মতো পলাতক স্মৃতিতে
আজোও সুচিত্রা অনায়িকা হয় নি!
শিয়ালদহ থেকে শিকাগোয়
আজোও তিনি তরুণ, আজোও স্বামীজীর
বয়স ঊনচল্লিশ পেরোয়নি!
আসলে হিরোদের
বুড়ো হতে নেই!
একবার রাত্রি নামলে,
ম্রিয়মাণ হয়, সব দিনের তারকাই;
শুধু থেকে যায়,
ভুবন ডাঙার চোখে
সন্ধ্যার রবি, ডুবন্ত!
হিরোরাও বুড়ো হন, বুড়ো হওয়াই ভবিতব্য। তাই হিরোদের বুড়ো হতে নেই, এটা আসলে কথার কথা। তবে মানুষ চান, হিরোরা সবসময় হিরো হয়েই থাকুন, তাদের চোখে হিরোর ছবি থাকুক চির অম্লান, চির অক্ষত, এটাই হিরোমোদী পাবলিকের একমাত্র দাবী, এটাই আর্জি একান্ত! ------------------------------------------------------------------------------
অবিনাশ কামারের আর্তি!
-----------------------------------
তোমার জালেই বাঁধা,
আমার ধকের পরান!
না! শৌখিন পরাধীনতার ঘেরাটোপে,
সুশীল পুচ্ছ আন্দোলনে সায় নেই আমার।
বরং রোজ মরার জীবনে
যেদিন বাঁচি, ভাবি বেঁচে গেলাম!
অন্তত তোমার বদ্ধ ব্যালকনিতে,
সচ্ছল মানি প্ল্যান্টের মতো
পুঁতে ফেলতে পারো নি আমায়।
আমি আসলে দানের দীর্ঘায়ু চাই না;
মর্যাদার মরন চাই!
ওই একবারই তো,
জালে তুলে ফেলবে চড়ক ডাঙ্গায়!
ছাই মাখিয়ে, ছাল ছাড়িয়ে,
ভাজা ভাজা করবে তেল কড়ায়!
অন্তিম শ্বাস
বেরিয়ে যাওয়ার আগে,
এ সবই সহ্য করতে হবে; তবে ওই একবার।
জানোই তো আমার কই মাছের জান!
শুধু তোমার,
স্বাদ করে গ্রাস পোরার দৃশ্যটিই
দেখা হবে না আমার!
ঊর্ধ্বশ্বাস হাপরের আঁচে,
পুড়তে পুড়তে বলে যায়
না দোমড়ানো, অবিনাশ কামার!
কি বলে, আমার আপনার মধ্যে বসত করা অবিনাশ কামার? শেষ দাহের আগে, রোজ রোজ আর নিজেকে পুড়িয়ে নমনীয় করবে না? নাকি অবিনাশ কামারের কন্ঠস্বর আজ নিরুদ্দিষ্ট পৃথিবী থেকে! গলে পড়া মানুষের সমাজ, আপাতত তাকে চুপ করিয়ে রেখেছে! হয়তো কোনোদিন চেতনার যজ্ঞ ভূমিতে তার বোধন হবে! অপেক্ষা থাকুক, পাশাপাশি আহৃত হোক জাগরণের আয়োজন।
------------------------------------------------------------------------------
কবিতা: কালের পরকাল!
----------------------------------
কালের প্রবাহে,
আজ আমি হাল বাইছি;
কাল অন্য কেউ!
কত প্লেন বন্দরে ওঠে..নামে..!
মাটি আর আকাশের মাঝে,
দাগ কাটে - হৃদয়ের ঢেউ!
যারা ভাবে, পৃথিবী
লাটিমের মতো ঘোরে;
কেন্দ্রে তাদের হাঁসি মুখ!
বদ্ধ উজবুক তারা যত,
তারা সব ফেউ!
মওকা বুঝে - 'আমার কাল' বলে
লিখে দেয়, পাঁচ মাথার মোড়ে;
কাল জয়ের ভেউ!
কালেরও পরকাল আছে;
ভুলে যায়!
সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি;
সব নাগরদোলায় সওয়ারি!
আজ যা হর্ষ কলনাদ,
কাল তা বুভুক্ষার ঘেউ!
দুই তীর জুড়ে,
সঙ্গমের আগুন ওড়ে;
সম্ভোগের চূড়া হতে,
গর্ভ গৃহে বসতে পারে
দেবাসনে যে কেউ!
পরিধির দ্রাঘিমারেখায়
বসত করে সবাই;
নিত্য লড়াই, রাম রাবণের;
নাম দেয় শুধু ছৌ!
কালচক্রের গতি কি আনুভূমিক? লাটিমের মতো! নাকি নাগরদোলার মত উল্লম্ব, ওপর নীচে আবর্তিত হয়! নাকি দুভাবেই? কালের স্রোতে ভেসে যেতে যেতে, পৃথিবীর গোলার্ধের মত মানুষের জীবনেও কি রোদ জ্যোৎস্নার খেলা চলে নিত্য ?
কালের ঘুর্ণন আর পৃথিবীর ঘুর্ণনের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল আছে। দুটোর ক্ষেত্রেই কোনোকিছু স্থায়ী নয়। ফিরে ফিরে আসে। কালের উপাদান হিসেবে, শুধু মাত্র পাত্র পাত্রীর বদল হয়। তাই আসন কারোর পাকা নয়।
ধন্যবাদ।
------------------------------------------------------------------------------
কবিতা: গোমুখ হবে কবি!
-----------------------------------
জানি তোর আছে হিমালয়,
শীর্ষে - শৃঙ্গ ব্যালকনি;
বরফ গলে নদী যে হয়,
জানে তন্বী মন্দাকিনী!
নদীর জলে আরতি হয়,
মন্ত্র পড়ে কবির দল;
জানি তোর ডুবে যেতে ভয়,
কাব্য জলে নিত্য অচল!
রাত্রি যখন গভীর হয়,
ঘোড়ার মতো নিদ্রা যাস্;
আকাশ বাড়ির চন্দ্রোদয়,
চুরায় কবি গুপ্ত রাশ!
পাইন, ওক, অরণ্য ময়,
তুষার খোঁজে রবি;
তোর বুকেতে অলীক ভয়,
গোমুখ হবে কবি!
রূপোয় গোলা জলের ক্ষয়,
গাঙচিলেদের ডাকে;
ডানায় আঁকা স্রোতের লয়,
মণিকর্ণিকার বাঁকে!
রোদের জলে স্বর্ণ নিচয়,
জ্যোৎস্না তীরের ঠেকে;
ভাবের রাজ্যে কবির জয়,
কুলু কুলু স্বর টোকে!
পাহাড়, নদী, প্রকৃতি, এ সবের স্রষ্টা যিনি, সেই ঈশ্বরই পৃথিবীর আসল কবি। আমরা শুধু সেই সৃষ্টির রিভিউ লিখি।
কবিতা আসলে সেই আদি সৃষ্টির নিগূঢ় শব্দ রূপ প্রকাশ। যদিও পাহাড় স্বরূপ দাম্ভিকতা আমাদের সেই সার তত্ব বুঝতে দেয় না।
উপরের কবিতায় সেই তত্বের খানিক সারমর্ম, ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলাম। বাকিটা আপনাদের পাঠের অপেক্ষা। ------------------------------------------------------------------------------
মাঝে মাঝে, একঘেয়েমি কাটাতে, ছন্দের বিন্যাসে খানিক খামখেয়ালীপনা মন্দ লাগে না। এমনকি ছন্দ পতন ও অনেক সময় খোলা হাওয়া আনয়নের ক্ষেত্রে বেশ মজাদার ভূমিকা পালন করে। দেখা যাক, একটু অন্যরকম প্রয়াস করলাম, যদি ভালো লাগে, তো প্রচেষ্টা সার্থক হবে। ধন্যবাদ।
কবিতা: ডানা মেলা হাতে!
-----+---------------------------
ঝড়ের মুখে
আগুন খেতে,
একটাই
দেশলাই
কাঠি ছিল বেঁচে!
টগরীকে মনে পড়ে?
সেদিনের
কৌশিকী রাতে,
দিগম্বরী কৃষ্ণা;
ডানা মেলা হাতে,
এঁকেছিল
অনিবার তৃষ্ণা;
দাঁড়িয়েছিল
তপ্ত বুক চিতে!
কখনো
হাঁটু মুড়ে,
ঘৃতাহুতি দিতে
বসেছিল
যজ্ঞ উপচিতে!
আমি,
ঢেউ
মাপছিলাম
সাগরের;
কখন,
ছুঁয়ে যায়
তুঙ্গ ভদ্রে!
মন্থিত,
ফেনিল
তৃপ্ত সান্দ্রে!
একটাই
ভোগ ছিল বেঁচে!
হেমন্তের হাটে,
টগরীর ঠোঁটে;
সহস্র
বদ্বীপের
রেখাচিত্র ফোটে!
আঁধারের স্রোতে,
মোহনার
হাঁ -মুখ;
জোছনা যায় চেটে!
দুর্বার উচ্ছাসে,
ভাসানের
অ-সুখ
সোঁদাল বালু তটে!
একটাই
শূণ্য,
কোষাকুশি
ছিলে বেঁচে;
টগরীর
কোলে,
নৌকা হতে;
ছলাৎ ছলাৎ
জল যাচে!
------------------------------------------------------------------------------
কবি জয় গোস্বামী একবার লিখেছিলেন, কবিতার লাইন হঠাৎ করেই উদয় হয় কবির মনে। অনেকটা, আচম্বিতে ঝলসে ওঠা বিজলীর চমকের মতো। তিনি তো হঠাৎ আসা কবিতার লাইন মনে রাখতে, পানের দোকান থেকে ফাঁকা সিগারেটের খোল পর্যন্ত চেয়ে তাতে লিখে রেখে দিতেন সযত্নে।
তাই কখন কবিতার কল্ আসে, কেউ জানে না। তবে ধরতে পারাটাই আসল।
আজকের কবিতায় কিছুটা সেই অনুভবের অনুরণন খোঁজার চেষ্টা; তবে শেষপর্যন্ত তা কতটা সঞ্চারিত হতে পারলো, সেটা অবশ্যই বিচার্য বিষয়।
ধন্যবাদ।
কবিতা: কবিতা "হ্যালো' বলছে!
-------------------------------------------
কবিতার কল্ আসছে,
বন্ধু ব্যস্ত ক্ষণ!
ভিড়ের জলে ভাসছে,
কাব্যের দ্রবণ!
কবিতা অবুঝ এমনই,
বেলা অবেলায়;
বুকের মাঝে ফিনকি,
বর্ষা হতে চায়!
কবিতার কল্ এলেই,
কুঞ্জ তলে মন;
ফুটপাতেই বসে খাই,
বনের ভোজন!
কবিতা 'হ্যালো' বলছে,
অনঙ্গ আপন!
সিগন্যাল লাল ভাঙছে,
ধরো, মরো পণ!
কবিতার কল্ বাজছেই,
শুদ্ধ ক্ল্যারিয়ণ!
একবার ধরতে নারলেই,
অরণ্যে রোদন!
------------------------------------------------------------------------------
স্মৃতির সহমরণ!
---------------------
ফিরে যাওয়ার আগে,
চেনা ঘাটের স্মৃতি -
সাপের খোলসের মতো
নিঃশরীর হতে হতে,
ভেসে যাবে অনন্ত শয্যায়!
জল কাদা, গুলে মাছ,
গরান গাছের ছায়া;
হরি পালের দোকানে
নিত্য দই চিড়ে খাওয়া !
লক্ষ কোটি জলকুচি মেখে,
লোনা পাড়, রোদ চিকচিকে;
ছায়াপথে নেবে আশ্রয় !
মাঝি মল্লারের নিত্য কোলাহল,
হেইসা ধ্বনি, জোয়ারের কল্লোল ;
শেষ ট্রেনের ভো'য়ের মতন
নিস্তব্ধ হবে একসময় !
ফিরে যাওয়ার আগে,
বন্ধ হবে ফেরার পথ;
একা হবে রোদ আর
শিশিরের আচমণ !
অদৃশ্য হতে হতে,
বিলীন হবে আকাশ রেখা;
সাঙ্গ হবে,
স্মৃতির সহমরণ!
কলমে -দেবাশিস জানা
ঘাটে ঘাটে নৌকা ভেড়ে, আবার চলেও যায় ফেরৎ সাগরে। এর মাঝে, কয়েকদিনের জন্যে - পাড়ের সাথে গড়ে ওঠে নতুন সম্পর্কের সীমান্ত। তৈরি হয় স্মৃতির ভালো মন্দ। কিন্তু সে সব ছেড়ে, ফিরতে তো হয়ই একদিন। ‌ সেই ফেরার সাথে কি, সেই সব স্মৃতিরও বিলুপ্তি হয়ে যায় চিরকালের মতো? এই প্রশ্ন থাকলোই।
ছবিটি, কাঁথির পেটুয়াঘাট সমুদ্র মৎস্য বন্দরের! ------------------------------------------------------------------------------
নিখোঁজ তিস্তা;
কেউ জানে না -
গভীর সে রাতে, ডেকেছিল
ভয়ঙ্কর প্লাবনের নাদ!
দুর্দম মেঘের ভিড়ে,
দাঁড়াতে পারেনি;
টলোমলো পায়ে, ভেসে গেছে
দূর্যোগের সর্বহারা চাঁদ! সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গে, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও তার ফলে ভয়ঙ্কর নদী-প্লাবন ও প্রবল ভূমি ধসের কারণে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা এককথায় অচিন্তনীয়।। প্রাণহানি সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজন এমনকি তাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, ভয়ানক এই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করার সাথে সাথে, সকল দূর্গত মানুষের দ্রুত বিপদমুক্তির প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে। ------------------------------------------------------------------------------
আগুনের নেই হৃদয়!
?!?!?!?!?!?!?!?!?!?!
আগুনের মুখে
কোনোকিছুই আজ বিস্বাদ নয়!
বিষাক্ত সাপের মতো, ছুটে বেড়ায়
শিরায় উপশিরায় ; খুঁজে বেড়ায় নিষ্পাপ শিকার!
ইঁট, কাঠ, পাথর ...অনেক হয়েছে;
অনেক পুড়িয়েছে নিষ্প্রাণ!
আগুনেরও চোখ আছে,
কান, নাক.......!
শুঁকে দেখে ছাইয়ের স্তুপে..;
হ্যাঁ, ওই তো পোড়া মানুষের ঘ্রাণ;
ওই তো চাপা, অবদমিত আর্তনাদ -
"আব্বু আমাকে নাও!"
আগুনের হৃদয় হয় না;
হৃদয় হতে নেই!
কারণ হৃদয়ে সাগর থাকে;
দিন থাকে, রাত্রি থাকে!
পুড়ে যাওয়া
কালো নিউজ প্রিন্ট গুলো তাই
ব্যথা নিয়ে
ফিরে আসে 'প্রথম আলো'য়!
সাত বছরের আয়েষার কথা,
দগ্ধ হওয়ার সে তীব্র যন্ত্রণার ব্যথা
হৃদয় দিয়েই অনুভব করতে হয়।
আগুনের হৃদয় নেই!
আগুন নিজেই নিজেকে খায়!
নিজে পুড়ে, অপরকে পোড়ায়!
অগ্নিসংযোগকারী হাতগুলো
শিক কাবাবের মতো পোড়ে
অলিগলি, রাজপথ, শহরের মোড়ে ! কত দূর বাকি তবে পুড়তে হৃদয়?
------------------------------------------------------------------------------
বাসা বদলে নিয়েছে চড়ুই!
∆\∆|∆\∆|∆\∆∆|∆\∆|∆
কখনো নোঙর করা বাড়ি ছিল!
কড়িকাঠের ছই তুলে,
চকমিলানের গাড়ি বারান্দায়;
ভিড়ত তরী ভেজা চুলে,
রোদ পেতে শেষ বিকেলবেলায়!
কখনো নীল নত আসমান ছিল!
মায়ের মতন মুক্ত হয়ে,
রোদ দিত ফুলবড়ির থালায়!
পাতার ফাঁকে শিশির গলে,
পড়তো সিধা ঘাসের ডগায়!
কখনো জাফরি কাটা আরসা ছিল!
ক্ষ্যাপা বাতাস ছড়িয়ে দিত,
গন্ধরাজের গন্ধ হাওয়ায়!
খিলান তোলা জানলা দিয়ে,
ঢুকতো শশী রাতের বেলায়!
কখনো ঘরের মাঝে হাট ছিল!
হাঁকডাক আর কাঁকন বাজা,
ভরতো উঠোন খুশির তাসায়!
দিন দুপুরে ডাহুক ডাকা,
নাচতো শালিক সজনে শাখায়!
একদিন সব বদলে গেল!
আকাশ ফুঁড়ে উঠলো পাহাড়,
দিগন্ত যে পড়লো ঢাকা!
গুহার খোপে ফিরলো মানুষ,
পায়রারা নয় যে একা!
তোরণের মাধবীলতায়,
শালিক জোটায় নতুন সই;
বহুতলে নেই কড়িকাঠ,
বাসা বদলে নিয়েছো চড়ুই ! ------------------------------------------------------------------------------
রাজপথ, ঝড়খালি, ছাতিম কুঞ্জ ..!
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
ব্যালকনিতে ঝরে ছাতিম;
নতুন প্রেম বুঝি!
মৌচাকে ধুনো দেয় কেউ
মধুই রুটি রুজি!
না! ছন্দ ভালো লাগে না আর!
মন ভালো নে.ই ঠাকুমার!
ফুটপাত ধরে হেঁটে যায়
একগাদা মোবাইল-কর্ণ কিচিরমিচির!
রোদ্দুর যতটুকু গলে পড়ে পথে,
তাতে শীত কাটে না বাবাজির!
ছাতিমের মাথায়,
দুপুর রোদের শিরোপা;
পায়ে বিগলিত ঝরা চূর্ণ!
ফাটা ঠোঁটে অবলোকন করে সাধু,
মলিন লাল শোয়েটার;
ছেঁড়া জামার নীচে তাকে,
ঢাকতে পারে না একখানা বোতাম!
এক ভোটে নাকি সরকার যায় না!
অপেক্ষা শুধু;
খালি পায়ে চরে শালিক, চড়ুই নিরবধি;
চায়ের ঠেকের অতিথি!
ভালো হত,
রাজ বাণী শুনে খালি পেটে ওড়া যেত যদি!
মধু চাই....! চাই আরোও ঘাম রক্ত!
রাজপথ, ব্যালকনি, ঝড়খালি, ছাতিম বৃক্ষ ;
ফকিরের চোখে শূণ্যতা, গলায় হার রুদ্রাক্ষ!
------------------------------------------------------------------------------
ভিড়ের পা দানবের!
---------------------------
অরণ্য জানে ভিড়ের শক্তি!
সে গাছেদের হোক কি মানুষের;
পিল পিল করে
প্লাবনের জলের মতো
ঢুকে পড়ে বিতনুর মাঠে!
ঘুরে দাঁড়ালেই, পিষ্ট হওয়ার ভয়!
ভিড়ের পা দানবের,
ভিড়ের মাথা কলের পুতুলের।
কনিষ্কের শহরে আবার মাথার দাম কি!
শাল, সেগুন, পিয়াল
ভিড়ে কেউই আলাদা নয়!
খাওয়ার টেবিলের রোজকার বিতর্ক টুকু
আপাতত মিশে যায় বৃন্দ গানের হ্রেষায়!
সমুদ্রের মুখে অগ্নিসংযোগ করে লাভ কি।
ভিড়ের সভ্যতায় একটাই মাইক্রোফোন;
বাকি সবই বোবা প্রশ্ন, অরণ্যে রোদন! ------------------------------------------------------------------------------
স্তাবক শাবক!
""""""""""""""""""""
রাজার মনে সুখ নেই!
হাতীশালে হাতী, ঘোড়াশালে ঘোড়া,
ডগ স্কোয়াডে উন্নত ল্যাব্রাডর;
সৈন্য - সামন্ত, দ্রোণ- দ্রোণাচার্য,
মন্ত্রী সান্ত্রী, আদর সমাদর
কোনো কিছুর অভাব নেই!
দিব্যি উপচে পড়ছে রাজ কোষ;
বিলাস ব্যাসন, হুকুম - হাজির,
সীমায় নেই আক্রমণের নির্ঘোষ!
তবু রাজার চোখে ঘুম নেই!
রাত্রির বোবা নীরবতায়,
রাজার ভাবনায় কূল নেই!
রাজ্য তো শুধু সীমান্তে
ঘেরা ভৌগলিক ক্ষেত্র মাত্র নয়!
নিষ্প্রাণ, ভঙ্গুর পাহাড় কিংবা
কর্তনযোগ্য নিশ্চুপ অরণ্যময়!
তাতে শ্বাপদ, মকর, হরিণ, বানর
আছে কীট পতঙ্গ; খেচর, নকুল
প্রজাপতি, কত না ক্ষীপ্র ভুজঙ্গ!
আছে মানুষও!
রাজার শঙ্কা এদের নিয়েই!
কুকুরের শাবক কুকুর হবে;
কেউটের বাচ্চা কেউটে!
মানুষের পোলা মানুষ হবে,
তবে স্তাবক হবে কে সে?
রাজার চিন্তার শেষ নেই!
এক রাজ্য, এক রাজা;
ভিন্ন তবে কেন প্রজা?
পরিচয়টা এক হলেই
গাইবে সবাই রাজার সুরেই!
রাজার স্তাবক শাবক চাই! ------------------------------------------------------------------------------
প্রথম লাইনটিকে কবিতার শিরোনাম ধরা যেতে পারে !
ঝড়ের আগের
নীরবতাকে ভেঙে দেখো!
অরণ্যের বুকে, দীর্ঘশ্বাস বেঁচে যাবে!
স্ফুরিত হবে, আড়ষ্ট ওষ্ঠ;
দীর্ঘ চুমুর স্পর্শ, বেঁচে যাবে!
বিচ্ছেদের আগের
বেদনাকে জাগিয়ে দেখো!
বিদায়ের পরে, আফশোস বেঁচে যাবে!
ভরা জৌলুসেও, একাকী হবে;
তবু সে একাকীত্ব বেঁচে যাবে !
অমিলের আগের
কিছু শব্দকে ভেঙে দেখো!
ভাবনার চরে, নয়া স্রোত বেঁচে যাবে!
কবিতার দেহ, উদ্ভিন্ন হবে;
নব কল্প দৃশ্য বেঁচে যাবে!
কয়েকদিন আগে, এক ফেসবুক বন্ধু (নাম প্রকাশ সমীচীন নয়, তাই করলাম না) তার পোস্টে লিখেছিলেন, আমার বুকে এখন ঝড়ের আগের নীরবতা। কথাটা ভীষণ কাব্যিক কিন্তু একই সঙ্গে তার মনের অবস্থার কথা চিন্তা করে কিছু বলার প্রয়োজনও অনুভব করেছিলাম। তাই কমেন্ট বক্স খুলে কিছু লেখা যায় কিনা ভাবতে লাগলাম। দেখি, যে লাইনটি মনে আসলো সেটি বেশ পুলকিত করার মতো। ঝড়ের আগের নীরবতাকে ভেঙে দেখো..... !
তারপরে, যা হয়; মনে হলো, একটা কবিতাই লেখা যাক না হয় এটা নিয়ে। তাই লিখলাম।
বাকিটা আপনাদের বিচার!
------------------------------------------------------------------------------
সুখে, অ-সুখে শীত!
^°^°^°^°^°^°^°^°^°^
পাতার পরে ধুলোর স্তর
শিশির যাচে আঁখি;
রোদের পিঠে সুখের ঘর
বাঁধে শীতের পাখি!
জলের চোখে ছায়ার চর
পাড়ের বুকে ঝাঁকি,
স্নানের শেষে মরুর থর,
স্রোতের আঁকা আঁকি!
পিঠের মাঝে পুরের গড়,
বসত করে সুখী;
খেজুর রসে উথলে ঝড়,
কুয়াশা চন্দ্রমুখী!
গোলায় ভরা সোনার খড়,
ঝরছে পাতা পাকি;
গাঁদার শাখায় পুষ্প বর,
দেবীর পুজা বাকি!
রোদের মেলায় স্বয়ংবর
প্রভাত সূর্যমুখী;
রাত্রি হলে মায়ের আদর
খুঁজবে খোকাখুকি!
আকাশ খোলা চাঁদ নগর,
আগুন মুখোমুখি;
দানের কাঁথা হ'লে সাগর
জাহাজ খোঁজে সখী!
------------------------------------------------------------------------------
বিকেলের
শেষ রোদটা যখন
উঠে যায় - দোতলার বারান্দায়,
সমুদ্র হয়ে যায় ফুটপাত!
চরের মায়ায় যারা বসেছিল ঠায়,
তারা সব ডানাহীন!
পলকা পালকের তলায়,
জীবনের শেষ উষ্ণতাটুকুও
যখন ফেরার হতে চায়;
পরম আশ্লেষে তাকে,
আত্মজের মতো টেনে রাখে
আপন বুকের খাঁচায়!
ছাতিম তলে,
ছেঁড়া ফাটা ত্রিপলের নীচে;
হিম শৃঙ্গের তলদেশ বাঁচে!
আরক্ত লাল ঠোঁটে, সুফী সোহাগ মেখে;
অতলান্তিক ভেদী,
হিম শৃঙ্গের চূড়ায় - রাত্রি গভীর হলে,
টাইটানিকে হলুদ - আগুন ওঠে জ্বলে !
------------------------------------------------------------------------------
ছায়া হীন উড়ান!
----------------------
ছায়া আসলে কোনো নাম নয়,
নামের মায়া মাত্র!
নির্দিক নীলে ওড়া নীলকন্ঠ হোক
কি বালির গর্ভে গুপ্ত বারিধারা;
ছায়া হীন ডানা কিংবা
শব্দ হীন স্রোতের মতো
মোহ হীন, অলীক;
দ্রোহ হীন, অনীক!
মাঝে মাটির বুকে,
মায়ার ডিম ফুটে বড় হয়
আগামী দিনের মৃত্যু শাবক!
ঝঞ্ঝা -ঝটিকা
রৌদ্র- রাত্রি;
জ্যোৎস্না- জানাজা
চুম্বন- ছুরিকা
আর অশেষ সৃষ্টি ও লয়ের
মাঝে দিনগত কুরুক্ষেত্র লড়ে
নামের সুখীরাম, নামের দুখিরাম;
হেঁটে যায়,
টেসে যায়!
ফলবতী কাঠ বাদামের ছায়া
লম্বা হয়, উদয় থেকে অস্ত!
ছিন্ন বট পত্র, একবার
জলে খসে পড়লে
তা জলের হয়ে যায়!
শুধুই ছায়া যুদ্ধ;
সেই উচ্চতা কিংবা গভীরতার মাঝে
সহ্যসীমা থাকে সদা অনতিক্রান্ত!
মায়ার টানে
সকলেই পাগল;
সকলেরই প্রেম পবিত্র!
------------------------------------------------------------------------------
নিউটনের প্রেমের টান!
------------------------------
শোন্ বেশি দেখাসনে তুই কাব্যি!
আমার ঠোঁটে শিশির জমছে;
ভোরের রোদ হয়ে, কবে নাইবি?
দূরের মাঠে নামছে আকাশ,
মাটির বুকে আলগা বাতাস;
গোষ্পদ হয়ে কবে
তৃণ দলবি?
রোদের বসন খুলছে পড়ে,
বনের মাথায় আগুন ওড়ে;
দহন সয়ে কবে
অথৈ ডুববি?
বইছে সুবাস বকুল ফুলে,
বাঁশের পাতা জমছে কোলে;
ঝড়ের মুখে মুক্ত
কবে উড়বি?
আপেল ক্ষেতে মিছেই ব'সে,
গোলাপ ঝরছে খসে খসে;
নিউটন হয়ে কবে
বুকে ধরবি?
------------------------------------------------------------------------------
নিয়তি!
••••••••
জানালায় নিঝুম ম্যানগ্রোভ ছায়া;
শ্বাসমূলের ক্লান্ত চলাচল!
অন্দরে শায়িত দুকূল ভরা নদী,
বসত ভাঙা তীব্র ঝড়জল!
একবার হাট ভেঙে গেলে,
ফেরার পথ মিশে যায়
মোহনার নীল অখিলে!
তারপরে জানালায়-
আঁধারের পীতবাস ওড়ায়
অন্তরীক্ষের পরম দয়াল!
মাঝে শূন্য ব্যবধান গ'ড়ে
নিঃশরীর হয় মাটি;
সলিলে ছিন্ন শিকড় ধুয়ে যায়!
কখনো, পথ ভুলে গাঙচিলে
উড়ে যদি আসে বাতায়নে;
একদা যে হৃদয় সাগর ছিল,
বুঝি ভুলে গেছে ব্যস্ত জনে!
------------------------------------------------------------------------------

কবিতার নামঃ চাঁদজল!
দেবাশিস জানা

চাঁদজল নিয়ে চান ঘরে যাস;
মুকুল ফোটার মরসুমে!
ভেজা চুল থেকে
কুয়াশা টপকায়,
পর্ণমোচীর অরণ্যভূমে!
পাহাড়ের বুকে হাত
রেখে বল,

বয় কিনা রেত বাঁধ ভাঙা জল!
উচ্ছ্বল লয়, উপত্যকায়
বালির চরে ঢেউ চুমে!

উঠোনে আজ শীত নেমেছে,
মুক্ত তনু তাই ভিজে যাস!
আগুন জ্বেলে যারা ঘরে
বনভোজনে মাঠে যায়;
নদীর ঘাটে বাঁধা তরী,
এখন জ্যোৎস্নার ঋতু মাস!

------------------------------------------------------------------------------
পাতালবাসে প্রেম!
===========
বোমারু বিমানের বারান্দায়
জ্যোৎস্না নামে; চোখ থেকে
কুন্ঠিত কুন্তল সরিয়ে
ধরিত্রীর আয়নায়
নির্জন হয়, প্রেমহীন পরাভব!
নিশ্চল, নিরুত্তাপ - ঊর্মি সাগরবেলায়
অভ্র কুচি ছড়ানো আড়ষ্ট
আঁচল জুড়ে শুধুই ধুলোর ঝড়!
কেউ কি আছো চন্দ্রাতপ তলে,
বিছাবে শয্যা শুদ্ধ শিশির জলে!
জ্যোৎস্নার অপেক্ষা দীর্ঘ হয়!
প্রিয় নীড় শূণ্য
প্রবাসী প্রেম
পাতালবাসে বিলীন!
নগর, রাজপথ অলিগলি;
প্রাসাদ কুটির
উজির ফকির,
চঞ্চল চিৎ কাঠবিড়ালি;
জীবাশ্মের রাতদিন!
তবু অবলোকনের মায়ায়
জ্যোৎস্না নিভৃতে,
শূন্য তরণী পানে চায়;
ধ্বংসস্তূপের বুকে
সে রূপোলী তরী হতে
শুধু বিভূতি চূর্ণ গড়ায়!
------------------------------------------------------------------------------
পেঁচার চোখ!
^°^°^°^°^°^°°
হাওয়ায় ফতুয়া ওড়ে
কাকতাড়ুয়ার!
পতাকার পতপত শব্দেরও
জাদু আছে বটে!
দমতোড় যুদ্ধ খিঁচে যায়!
কাল পেঁচারা রাত্রির মেহমান!
মাটির ওপর আকাশ টোপর
অর্ধবৃত্তাকার।
তাতে ফুল থাকতো সাজির মতো
আজ মৃত্যুর মহা শয়ান!
পেঁচার চোখে নীল নক্সা
জ্যোৎস্নাকে গিলে খায়!
ফসলের ভেতর গ্রাম, শহর
মরু, বন্দর;
আনন্দে বাঁচতে চায়! ------------------------------------------------------------------------------
কবিতা দিবসে - চলো, কবিতা শুনি!
-----------------------------------------------
চলো, কবিতা শুনি!
ছোট এই পথ;
নির্জন, তুমি আমি!
বাকিরা সব গল্পে ব্যস্ত;
নিজেদের, সুখ দুঃখের ....!
কেউ কেউ সমুদ্র পাড়ে বসে
জীবনের ক্যানভাস বড় করে নিচ্ছে
উপন্যাসের মতো!
আমরা ছিটকে পড়া নক্ষত্র;
নয়া উপনিবেশ গড়ার ব্রত!
জানো তো,
ভূতে পাওয়ার মতো, কবিতায় পায়!
দূরে দূরে হেঁটো না!
কাছে এসো;
কাছে, আরোও...কাছে!
আরোও..., নিবিড় করে
এক দেহে - একাত্ম হয়ে যাই!
চলো, কবিতা হয়ে যাই!
তারপরে, কেয়া ফুলের মতো
চারিদিকে - সুগন্ধ বিলাই! ------------------------------------------------------------------------------
বৃষ্টি ঝরা ঈদের ভোরে কিছু খুশির মুহুর্ত ও একটি পুরো কবিতা!
কবিতা - খুশির চাঁদ 🌙
--------------------------
ব্রহ্মগ্রাসী অগ্নিশিখায় পুড়ছে আকাশ আজ;
ধোঁয়ার দেশে হারিয়ে গেছে, তারার চুমকি সাজ!
বাজছে বাঁশি আর্তনাদে ভাঙছে তুমুল বাজ;
শান্ত হলে শুনবে খোদা, ঈদের পাক নামাজ!
ছুটবে শিশু দম খুলে, চিত্ত সরফরাজ;
সুরমা চোখে ঝলমলে, মাথায় জরির তাজ!
জ্বলবে বাতি মসজিদে, আতর ঢালা সাজ;
বারুদ পুড়ে ছাই হলে, হারবে যুদ্ধবাজ!
কাতার নেমে পথ জুড়ে দলবে ধ্বংসরাজ;
দুহাত তুলে প্রেম চেয়ে, গড়বে মেহতাজ!
যেমন জলে মেঘ ধুয়ে, আকাশ নীলি ছাদ;
নিভলে অগ্নি, কাস্তে সম উঠবে প্রিয় চাঁদ ! ------------------------------------------------------------------------------
আমার হৃদয় কেড়ে নাও তুমি
ওগো আমার প্রিয়!
শূন্য হাতে ফেরাও আমায়,
শূন্য হতে দিও!
আমার হৃদয় জিতে নিও! ------------------------------------------------------------------------------
অন্য কোথাও, অন্য কারও!
""""""""""""""""""""""""""'"""""""""""'"""
অন্য কোথাও বৃষ্টি হয়েছে বোধহয়,
বৃষ্টি ভেজা ঠান্ডা হাওয়া আসছে
আমার শোবার ঘরে।
মাথার কাছে জানালার ধারে
আম গাছটির ভারী আনন্দ;
স্ট্রিট লাইটের আলোয়
পাতাগুলো বেশ নাচছে বিজয়ীর মতো!
আম গুলোও হাওয়ায়
সুন্দর দোলদোল খেলছে!
পাশের বাড়ির টিভিতে
জোর শোর চলছে খবরের চ্যানেল!
কালবৈশাখীর ঝড়ে
প্রবল ক্ষয়ক্ষতি; গাছপালা ভেঙে,
চালা উড়িয়ে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে
একেবারে সব তছনছ!
বিশেষ করে,
আম প্রচুর নষ্ট হয়েছে, নির্বিচারে পড়ে গেছে ঝড়ে!
ঠান্ডা হাওয়ায় চোখ জড়িয়ে আসে।
পাশ ফিরে শুতে গিয়ে
মনে মনে বলি,
এ যাত্রায় অন্তত
আমার গাছের আম গুলো গেল বেঁচে!
ঝড় বৃষ্টি ...অন্য কোথাও হয়েছে! ------------------------------------------------------------------------------
বেনাগরিক ঢেউ!
-_-_-_-_-_-_-_-_-_
ব্ল্যাকবোর্ডের জনপদে
বিমূর্ত হচ্ছে কিছু মানুষ!
হীরের মতো ধারালো খড়ির আঁচড়ে
ইতিহাস আজ কাঁচের ঘর;
ডাস্টারের হাতে উধাও তত্ত্ব,
দিচ্ছে মুছে তাজা ঘাম রক্ত;
মাটির মধ্যে মরণের ঘর!
ব্ল্যাকবোর্ডের আকাশে
নির্জন হচ্ছে মানচিত্র;
মান্ডির পথ, কালীর নগর,
শ্যাওলা পড়া দিঘির পাড়ে
শাল শিরীষ, বাউলের ঘর!
ব্ল্যাকবোর্ডের বাতাসে
নিস্তেজ হচ্ছে কোলাহল;
শিবের গাজন, টুসু ভাদু
কবির গান, আজানের স্বর!
ব্ল্যাকবোর্ডের মাটি কৃষ্ণ শোণিত,
নির্জীব হচ্ছে দ্রোহের সময়!
রুদ্ধ দীপের অগ্নিশিখা;
কাঠ গোলাপের সুরভী শুধু
ঘোরে পীরের কবরময়!
ব্ল্যাকবোর্ডের আজব ধারা,
মুছিয়ে দিতে সময়টুকুই!
আজ যাকে সাগর বলি,
কাল তাই বেনাগরিক ঢেউ! ------------------------------------------------------------------------------
যাচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি ;
ঘুমের ঘোরে আচমকাতে
উঠেছে শিশু ডরি!
মায়ের বুকে কেমনতর
চাঁদের মুখে মেঘের গেরো,
জানলা খুলে হেরি!
দিচ্ছে পাড়ি বুক মাড়িয়ে
মাটির পথে হুড়মুড়িয়ে,
ধুলোয় দৃশ্য ভরি!
লৌহ চাকার তপ্ত খাঁজে
শিমুল তলে ভরা সাঁঝে,
ছিন্ন ফুলের কাঁড়ি!
যুদ্ধ বুঝি লাগলো ভবে
কাঁপছে গৃহ রুদ্ধ রবে,
বুকটি শূণ্য করি!
এমন ক্ষণে শঙ্খ হাতে
জানেন মা জাগিয়ে দিতে
বর্গী এলে বাড়ি!
যাচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি!
------------------------------------------------------------------------------
অগ্নি ব্যূহ!
_-_-_--_-_-_-_
দহন কুশলী গ্রীষ্মের কাছে
নতমস্তক - তরু পল্লব,
গুল্ম শাখী মহিরূহ;
পত্র শুষ্ক জর্জর,
বৃন্ত দগ্ধ নির্জল;
নির্দয় আকাশ তবু,
অগ্নি ঝরায় অহরহ!
ম্রিয়মাণ শাল, কৃষ্ণচূড়া
জারুল, সেগুন নির্মোহ;
পদ্ম পত্রে ঝরে অনাসক্ত
ছিন্ন দলের সমারোহ!
দহন জ্বালা অনিঃশেষে
অবাক পাতার দাহ;
তেঁতুল পাতায় উচ্ছেদ
আজ, বেঁচে থাকা দুঃসহ !
বকুল, শিরিষ মেহগনি
কান্ড তলে মধুমেহ;
সইবে তবু, বৃষ্টি কভু
চাইবেনা ভুলে কেহ!
ঋজু সরল চিরহরিৎ
অরণ্যে তৃণ সহ,
অগ্নিস্রোতে ডুবছে সবে
নৌকার নেই মোহ!
দহন কুশলী গ্রীষ্মের চোখে
নীরবতা - শূণ্য দ্রোহ;
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নির্বিচারে,
চারিদিকে অগ্নি ব্যূহ!
------------------------------------------------------------------------------ সম্প্রীতির ভাঙা হাটে, ফিরেছে যে যার বাটে! একাকী দাঁড়িয়ে তিনি, ফেরাতে সাগর তটে! ------------------------------------------------------------------------------
তিমিরাবাস!
"""""""""""""'""'"
তিমিরের স্বভাব
তিমিরে থাকার;
আলোর স্বভাব আলোতে!
মাঝখানে জমা আবছায়া
বদলে যায় গোধূলিতে!
This is actually the grey area!
Can you identify it?
ভালোবেসে তুই গালি দিলেও সই;
আসলে কতটা চিনি আছে অমৃতে,
ভাবি আর ভাজি ব'সে খই
ভরসা নেই সে প্রিয় চামচেই!
ডবল ডিমের ওমলেট তাও
ডবল কুসুম সংখ্যাতে;
চোখের নীচে জমলে চর্বি
পারবি কী আর আগুন খেতে? ------------------------------------------------------------------------------
ভক্ত ভিড়ে জনগণ!
------------------------
জল তুলছি আঁজলা ভ'রে ,
আগুন তো নয় খেলে মরে!
কন্ঠতলে তৃষ্ণা এমন,
তপ্ত গিরির চূড়া যেমন;
অবাক চক্ষু দ্বয়!
বুক নিঙড়ে বড় করা,
রক্তজলে নদী গড়া ;
মুঠোর নীচে বয়!
যজ্ঞ স্থলে দক্ষ রাজা
দর্পে মাটির ক্ষয়;
বিষ্ণু ভৃগু সবাই থাকেন
যজ্ঞেশ্বর দূরে রয়!
আত্মাহুতি দিলে সতী
জানিস তো কী হবে ক্ষতি?
উঠবে জেগে শিবের মতি
গড়বে মহা আলোড়ন!
সতীর দেহ ছিন্ন করে,
গড়বি দেউল ব্রতীর নামে?
শোন রে পাষাণ মন;
মূর্খরাও স্বর্গে থাকে
স্বর্গে করে বিচরণ!
মর্ত্য ধামে শক্তি পীঠে
ভক্ত ভিড়ে জনগণ!
--------------------------------
ঝিলমিল ঝিলমিল! তারে ঝুলে থাকা আড়ষ্ট জলবিন্দুর মতো
তোমার সম্মতি, শুধু এক শালিকের
উড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়
আলোর সাথে কপট লুকোচুরি খেলে!
ঝিলমিল, ঝিলমিল!
আমি মাটি;
শ্রাবণের গহন তৃষ্ণা আমার বুকে!
হাওয়ার সাথে একবার সাথ দিয়ে
এসো দেখি সে তরী ঠেলে!
রুদ্ধ ইস্তেহারের
উদ্ভিন্ন হওয়ার শেষ শর্ত আজ তোমাকে ঘিরে!
অসুরের মতো নিভৃতে
তোমার সকল অমৃত শুষে
আমি তোমাকেই অমর করে যেতে চাই
কুসুমে বৃন্তে ফুলে ফলে!
নির্ঝরে ছল ছল প্লাবনে সমুদ্দুর;
রোদ্দুরে থর থর শাসনে সুমধুর !
শৈশবে, যৌবনে কিংবা বেলা শেষের বেলায়
অলঙ্ঘ্য আলিঙ্গনে জড়িয়ে রেখো
তৃষিত এ বুকে ছায়া ফেলে!
হে প্রিয় বিটপী
ঝিলমিল ঝিলমিল!
--------------------------------

প্রিয় আঁখি উত্তম!
দেবাশিস জানা

তোমার নজরে
একটা সুররিয়াল সিঁড়ি আছে!
ধাপে ধাপে অপেক্ষা আর
ব্যাকুলতার অধিত্যকা পেরিয়ে
কাজল কালো ছায়ায় -
নীলমণি দিঘির জল ছলছল;
ডানা মেলে’ পারিজাত পল্লব,
আদরের নীল গাই খোঁজে;
অন্দরে আকাশ ঘুমায়
নিশীথ রবির ঘুমন্ত চলাচল!  
তুমি পলকের তীরে
মৃত্যুকে টেনে আনো
পৌলমী নদীর কিনারে;
হরিণীর মত পিপাসার শেষ ইচ্ছা নিয়ে
জেগে ওঠো আকুল গহন নিরুপম;
তুমি চির, সকলের প্রিয় আঁখি উত্তম!  
--------------------------------

হাইওয়ের চাঁদ
এখন ধাবায় ডিউটি করে!
সমুদ্রের ঢেউয়ের মত তীরে ফেরা কিংবা তীর ছেড়ে চলে যাওয়া স্রোতের মাঝে চাঁদ একাই নিষ্কাম, শোকহীন।   ঠাণ্ডা ভাতের মত জ্যোৎস্না ঢেলে দেয় কুয়াশাভেজা শীতল কলাপাতায়।     হাইওয়ের চাঁদ এলোকেশী সুগন্ধিবসনার খোলা বুকে থেকে থেকে চিকচিকে বালি ওড়ায়। চোখাচোখি হতেই, খয়ের গাছের ফাঁক দিয়ে হোগলা বনের মাঝে –থমকে দাঁড়ায় আনত পিলসুজে!    যেন কত আলোকবর্ষ অতিক্রম করতে বাকি!   মাত্র দশ মিনিটের বিরতি, পান্থশালা ছেড়ে চলে যাওয়া পথে জানালায় জানালায় চাঁদের বেহদ উঁকিঝুঁকি, আবার কবে ফিরবে তুমি? রাত্রির মুখে উগান্ডার প্রাংশু ছায়া; নিরুত্তর প্রাসাদে নিরন্তর কড়া নাড়া! হাইওয়ের চাঁদ তবু অদম্য; দৌড়ায় যেন অনাথ হতভাগা শিশু।   ছিন্ন ভিন্ন দেহে, বিভাজিকার করবী, টগর, বটলব্রাশের ঝোপঝাড় ডিঙিয়ে ছুটে চলে নদী, খাল কারখানার চিমনি ছাড়িয়ে দিগন্তরেখার উঁচু নিচু; এ যাত্রায় তার হারাবার নেই কোনো কিছু।

-------------------------------
কদম্ব গ্রন্থন!
()()()(()))()
কবরীর প্রান্তটুকু আজ
বৃষ্টিতে ভিজে হোক ক্ষান্ত;
জনান্তিকে সে মগ্ন সুবাস
হৃত চিত্তে হোক জাগ্রত!
প্রিয় জলঙ্গি আজ অনেক দূরে!
পাকা ব্রিজ, কাশ বন, পাটের ক্ষেত,
রূপালি জল, বাঁকা ঝিকমিক রেত;
দুপুরে সূর্য রোজ চুমে যেত তারে!
সে চুম্বনে পরিণয় নেই,
আকাশে চঞ্চল মেঘের ঘুড়ি ওড়ে!
যেমন আদরের ঘূর্ণি
জলঙ্গি হয়ে ভাগীরথীতে পড়ে;
জলবিভাজিকার নাচে
ফুলে ফুলে ওঠে রোমাঞ্চ গ'ড়ে!
কবরীর প্রান্তে আজ ঘন সংবেদন,
বৃষ্টিপাতে সফল হবে কদম্ব গ্রন্থন!

-------------------------------  কলাবউয়ের কুপন!

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
মেঘের কার্নিশে আজ
লেগেছে আলগা হলুদ,
সূর্য ডুবছে বুঝি?
ক্রীত ভাবনায় টানা
অঝোরে ভিজছে বারুদ,
নষ্ট কাব্যের পুঁজি!
করবী ঝরেছে পথে
পাখিরা উড়ছে শতেক,
মেট্রোর মুখে বাতি!
সান্ধ্য চায়ের কাপে
তুফান হারিয়ে পেরেক,
বিজ্ঞাপনের বিরতি!
শারদ প্রাতে শশীর
শরীর হয়েছে শালিক,
পাকা পেঁপের প্রীতি!
শিউলি গন্ধে নকুল
খুঁজছে নতুন তারিখ,
অহি নিধন তিথি!
বটের তলে মেদিনী
কুমোর ঘরের শিশির,
দিব্যি গড়ায় মূর্তি!
হাত কচলে পাহাড়
খুঁজছে কেবল ফিকির,
বন্ধ ঝোরার মুক্তি!
কাশের বনে চাকর
দোলায় আকাশ ভুবন,
নদীর ঘাটে ঢাকি!
ঢালাই পথের ধারে
কলাবউয়ের কুপন
অসুর মুক্তি বাকি!
-------------------------------


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জনগণমনঃ জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার ইতিহাস ও কিছু প্রশ্নের উত্তর!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ব্রহ্ম সঙ্গীত ‘ জনগণমন অধিনায়ক’ কে দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মান্যতা দেওয়ার সর্ব সম্মীলিত সিদ্ধান্ত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ শে জানুয়ারি । কিন্তু কেন এত দেরী? দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও কেন তিন বছর সময় লেগেছিল জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন করতে? ‘ভারত বিধাতা’ শিরোনামে লেখা, স্বদেশ পর্যায় ভুক্ত (গীতবিতান অনুসারে) এই রবীন্দ্রগীতিটি কিভাবে -  দেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পথে একটু একটু করে এগিয়ে গেল! ‘জনগনমন’র জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনীই আজ আমরা ফিরে দেখবো এই প্রবন্ধে।  ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট - দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে পরাধীনতার কৃষ্ণ কাল অতিক্রম করার পরে অবশেষে দেশবাসীর ভাগ্যাকাশে এসে উপস্থিত হোল বহু আকাঙ্খিত সেই দিনটি। উদিত হোল স্বাধীনতার নতুন সূর্যের।   স্বাধীন হোল দেশ। কিন্তু সদ্য ব্রিটিশ অধীনতা মুক্ত দুটি দেশ ভারত এবং পাকিস্থান তখনও পায় নি স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা। ১৯৪৭ এর ১৮ই জুলাই তারিখে লাগু হওয়া ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুসারে নিজ নিজ সংবিধান প্রণয়নের আগে পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্থান এই দুটি ভূখণ্ড কমনওয়েলথ দেশের অধীনস্থ দুটি অধিরাজ্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারা...

'জল পড়ে, পাতা নড়ে' ঃ রবীন্দ্রনাথ না বিদ্যাসাগরের লেখা?

জল পড়ে, পাতা নড়ে - সহজ অথচ অমোঘ এমন দুটি লাইন মনে হয় কোনো উপনিষদীয় ঋষির স্বর্গীয় কাব্য সিদ্ধির অনুপম ফসল ছাড়া কিছু হতে পারে না।  বৃষ্টিপাতের সঙ্গে অনিবার্য ভাবে উচ্চারিত হওয়া এই শ্লোক কেবল সৃষ্টির আপন খেয়ালেই রচিত হতে পারে। সেই কবে থেকে এর অনন্য স্বাদ মস্তিস্কের কোষে কোষে এক অদ্ভুত ভালোলাগার মোহ তৈরি করা শুরু করেছিল তা আজও অটুট এবং সমানভাবে সক্রিয় , মোহ ভঙ্গের নামই নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এর জাদুময় মোহপাশ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। যদিও রবীন্দ্রনাথই প্রথম এই দুটি লাইন লেখেন ‘জীবন স্মৃতি’ র পাতায়। মনে হয় স্রষ্টা যেন নিজেই তাঁর সৃষ্টির মহিমায় হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখানে একটা টুইস্ট আছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ এই দুটি লাইন লিখলেও লেখার শ্রেয় কিন্তু তিনি দিয়েছেন বিদ্যাসাগরকে। এখন প্রশ্ন, কেন! উত্তর - ভ্রান্তি সুখে। কিন্তু সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। ‘জীবন স্মৃতি’ তে তাই দেখা গেল যতবার তিনি ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ লিখেছেন ততবারই তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছেন। অন্য কারোর লেখা লিখলে তাকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখাই দস্তুর। কিন্তু তাতে কি! শিশুবেলার মুগ্ধতা যেন কিছুতেই প্রশমিত হতে পারে...

১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট, কোথায় ছিলেন গান্ধীজী?

১৫০/বি বেলেঘাটা মেন রোড; শিয়ালদহ স্টেশন ও ই-এম বাইপাস এর মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী অন্যতম মূল রাস্তা - বেলেঘাটা মেন রোড তথা সুরেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রোডের ওপর পড়া এই বিশেষ ঠিকানাটি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবময় স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করে চলেছে । বিশেষ করে, প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় আসন্ন হলে, এই ঠিকানার কথা স্মরণ না করে থাকা যা য় না। কারণ ১৯৪৭ এ গোটা দেশ যখন স্বাধীনতার আনন্দ উদযাপনে ব্যস্ত, বিশেষ করে রাজধানী দিল্লিতে স্বাধীনতা লাভের (১৫ ই আগস্ট) দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে আয়োজিত হয়েছে অভূতপূর্ব রাজকীয় সমারোহের - যার শুভ সূচনা হয়েছে ১৪ ই আগস্টের মধ্যরাতে, রাত বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে - ১৫ তারিখ পদার্পণের শুভক্ষণ কে স্মরনীয় করে রাখতে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর ঐতিহাসিক বক্তৃতা দিয়ে শুভারম্ভ হয়েছে স্বাধীনতা দিবস পালনের মহা নির্ঘণ্ট। এই উচ্ছ্বাস যদিও কাঙ্ক্ষিতই ছিল। কারণ দীর্ঘ ২০০ বছরের পরাধীনতার কৃষ্ণ কাল অতিক্রম করার পরেই দেশবাসীর কাছে এসে পৌঁছেছিল সে বিরল মাহেন্দ্রক্ষণ। সমাগত হয়েছিল সেই মহা মুহূর্ত যখন প্রায় শতবর্ষ ধরে চলা স্বাধীনতাকামী মহাযজ্ঞে মু...