অশ্রু, বৃষ্টি ব্যাতিরেকে!
-----------------------------------------------------------------------------------
দূরে, ট্রেন লাইনের ওভারহেড তারে
বসেছিল এক, ঝিম ধরা কালো ফিঙে!
মাথায় দলা পাকাচ্ছিল মেঘ, কৃষ্ণ বর্ণ ;
পাশেই শিরিষ, ভদ্র ভারী নয় সে বন্য!
ধীরে ধীরে মেঘ ভরেছিল বাষ্পাবেগ
তূণীর ছেড়ে তীর বৃষ্টি ঝরা আলেখ!
ঝুলোঝুলি ক'রে, রূপো গোলা জলে ;
বৃষ্টির রেল হয়ে, যাবে হেলে দুলে !
ফিঙে তাই বুঝে উড়ে যায় ডালে
শিরিনের শাখে মেঘ বৃষ্টি খেলে!
আপ ডাউন রেল, চলে তারই মাঝে
ফিঙে বসে বসে জীবনের মানে খোঁজে!
-----------------------------------------------------------------------------------
যখন আমি কবিতা লিখি,
তখন আমি গাধা হই!
পিঠে করে করে বয়ে বেড়াই
এখানে ওখানে; দিনে রাতে, সবখানে!
গাধার কোনো বউনি খরচ নেই।
যখন আমি গান করি
তখন আমি কোকিল হই!
ফ্রি তে বসন্ত আনি!
যখন আমি নাচ করি,
তখন আমি ময়ূর হই!
ফ্রি তে বর্ষা আনি!
যখন আমি ছবি তুলি
তখন আমি লুকিং গ্লাস হই!
ফ্রি তে মুখ দেখাই!
যখন আমি ছবি আঁকি,
তখন আমি প্রকৃতি হই!
ফ্রি তে পাহাড়ের কোলে
লাল টিউলিপ ফোটাই!
যখন আমি গাইয়ে,
লিখিয়ে, নাচিয়ে, আঁকিয়ে
সক্কলকে এক প্লাটফর্মে
নিয়ে এসে জড়ো করি!
কেমন মজা!
দেখার জন্য সাতশো কোটি তো আছেই!
যখন আমি আমার
হিসেবে বুঝে নিতে যাই;
তখন আমি ক্রিয়েটিভ ক্রীতদাস হই!
কি! যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা!
তৃতীয় বিশ্বের লোক কোথাকার!
মনটা কে বড় করতে পারো না?
ছুঁড়ে দেওয়ার জন্য
কয়েকটা আমেরিকান সেন্টই যথেষ্ট!
ভাগ এখান থেকে!
বেশী ফুটানি মারিস না!
-----------------------------------------------------------------------------------
কামিনী, বৈধব্যের রঙে অবাধ উল্লাস যেন; প্রেমে
পড়তে চায় দিব্যি। গন্ধে জাগে অবোধ রোমাঞ্চ, উন্নাসিক হবার নেই সাধ্যি!
পথে, এক ফাঁকে চোখাচোখি হতেই বলি তোমার আমার দেখা হওয়া ছিল পূর্ব নির্ধারিত।
প্রতীক্ষার অবসান হতোই!
-----------------------------------------------------------------------------------
আমি একবার শুধু ছুঁয়ে
দেখেছিলাম, তোমার চোখের পাতায়
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার
অবকাশ খুঁজে যাচ্ছিল অনুক্ষণ!
না জানি সে বৃষ্টি জলে
পুষ্ট হোত কোন মরা নদী প্লাবন!
আমি শুধু মেঘগুলোকে
টেনে নিয়েছিলাম আমার বুকে!
জড়িয়ে রেখেছিলাম
পরম আশ্লেষে, দীর্ঘ চুপ ক্ষণ!
মুখে বলেছিলাম
চুম্বন হোক, সম্পূর্ণ হোক ঘনীভবন!
তুমি বৃষ্টি মেঘের সাদা কুয়াশা হয়ে যাও!
আমি হয়ে যাই চেরাপুঞ্জির বাতায়ন!
----------------------------------------------------------------------------------
উচ্ছে ফুলের মধু!
-----------------------
কুহেলী, তোমাকে নিয়ে আজ নয়;
অন্য কোনোদিন ভাববো!
রহস্যের হলুদ ঠোঁটে চুমু দিয়ে
সেদিন ঠিকই বুঝে নেবো
উচ্ছে ফুলের মধু,
তা তিক্ত নাকি মধুর!
কুহেলী, তোমাকে নিয়ে আজ নয়;
অন্য কোনোদিন লিখবো!
কোমল, সলাজ বুকে হুল ফুটিয়ে
সেদিন সত্যিই জেনে নেবো
এই আকর্ষণ আসলে,
কত দূর নাকি অদূর!
----------------------------------------------------------------------------------
পাতার ছায়ায়, নদী বয়ে যায়;
রোদে উঁকি ঝুঁকি
হাওয়া এলে বুঝি, কাঁপে লজ্জায়!
আলপনা আঁকে সলিল শয্যায়;
যদি আসে ঝাঁকি
মেঘে দেহ ঢাকি
বৃষ্টি সুখে বুকে, ঢেউ নেচে যায়!
ঝরে যদি জল, পাতা নাহি সয়;
টুপ টাপ সেকি
ঝর ঝর নাকি
নদী বুকে কুসুম বৃন্ত ফোটায়!
----------------------------------------------------------------------------------
আপন মনে গেয়েছিলেম যে গান,
সে গান আজ
পেয়েছে তোমার কন্ঠ পরশ।
নীলকন্ঠী তুমি -
কৃতজ্ঞ করেছো,
করেছো আমায় চির বিবশ!
আপন গোপন ধৃষ্টতাকে
ধরে ওষ্ঠাধরে,
করেছো সদা উন্মুক্ত।
দিয়েছো নতুন সূর্য দেখার স্বাদ।
যদিও আগামী অন্তর্মুখী,
তবু তোমার তরে
এগিয়ে যাওয়ার রইল ক্ষীণ সাধ!
থিরথির কম্পমান,
তোমার কন্ঠ মণি!
হরষিত চোখ, মুখে স্মিত হাসি।
কখনো ভাবিনি
এত কাছে করে নেবে!
তোমার কোমল স্পর্শে
আমার এ হঠকারিতা
জীবনের দিশা খুঁজে পাবে!
যুগ থেকে যুগান্তরে,
এমনি কি জন্ম নেবে
তুমি অন্বেষা?
শতাব্দীর দীর্ঘশ্বাস বয়ে,
নতুন দীগন্তে লেখা হবে
মূক নির্বাকের ভাষা!
----------------------------------------------------------------------------------
রোদ্দুর গেলে চড়ে, কি যে বিষম ওরে
শাসক বিরোধী এক যোগ - এক স্বরে,
আর নয় ব’লে - এক সাথে ঘোঁট করে!
মতভেদ সব ভুলে, জলে লেবু গুলে
চুমুকে চুমুকে প্রেম, যেন গলে গলে;
পায়ে পা মেলায়, ঝড় আনার মিছিলে।
ঘামে পাঞ্জাবী সেঁটে, মাথায় চুল ঘেঁটে
কি হবে গরম নিয়ে, রোদে চাঁদি ফাটে।
খাবি খায় যেন, মেঘ হীন শুখা মাঠে !
পাবলিক সব বোঝে, টুপি জোটে মাথে;
মঞ্চে পাখা ঘোরে নারা দেয় এক সাথে,
হৈ চৈ চেঁচামেচি, ঘর্মাক্ত রুমাল হাতে!
রাম রহিম ভেদাভেদ কিংবা তুষ্টি,
দেখে নেবে গরমকে নেয় তার গুষ্টি;
মেঘ শুধু নেই দলে, বেসুরো যে বৃষ্টি!
----------------------------------------------------------------------------------
তবু বকুল তলা;
তবু পাতার ভিলা;
তবু ছায়ার লীলা;
তবু হিয়ার হেলা;
তবু যায় না ভোলা!
তবু একলা বেলা,
গাঁথে বকুল মালা!
তবু বকুল তলা!
----------------------------------------------------------------------------------
হোগলা বনে সর্পিল হিন্দোল হতেই
পাতার ডগায়, নিশ্চিন্ত মনে বসে থাকা জোনাকি গুলো
বিচলিত ওড়াওড়ি শুরু করে দিল!
কুহেলী এইভাবে তার আঙুল গুলো
ছুঁয়ে ছুঁয়ে পা থেকে অঙ্ক দেশ হয়ে সুদূর কপাল বয়ে
বিলি কেটে দিত কুঞ্চিত অলক ঘন অরণ্যে।
তার উষ্ণ নিঃশ্বাসে,
দূরে প্রবাহিত উষ্ণ প্রস্রবণ ধারা
আরোও উষ্ণ হয়ে উঠতো।
হঠাৎ কুহেলীর কথা মনে এলো আজ।
খানিক বাদে,
জোনাকি গুলো আবারো এসে বসলো পাতায়।
ঝিকমিক আলোর
জ্বলা নেভা শুরু হতেই আরোও একবার নড়ে উঠলো
হোগলা বন।
মনে পড়ে গেল
সেই তীব্র দংশনের কথা।
শিহরিত হয়েছিলাম সেদিন ও!
ঘাম খেকো কালাচের মুখর স্পর্শ
অনুভব করলাম আবার।
----------------------------------------------------------------------------------
শ্রাবণে রজস্বলা প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি - সবুজ তরু পত্রের শুভ উত্তোরণ পর্ব। অরণ্যের প্রয়োজন পৃথিবী বুঝেছে নতুন করে। যন্ত্র সভ্যতার বিজয় কেতন উড়ানোর বদলে শুরু হয়েছে
বৃক্ষ রোপণের মহা সমারোহ। এই সপ্তাহ - বৃক্ষ রোপণ সপ্তাহ।
তাই এই পরিসরে প্রকৃতির অবোধ লীলা কান্ডের এক অমোঘ খন্ড চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করলাম নীচের কবিতায়।
মেয়েটির নাম প্রকৃতি!
কলমে -দেবাশিস জানা
ঝিম কালো মেঘের নীচে
গুম হয়ে বসে থাকে, দুষ্টু মেয়েটি।
চোখের কোণে ধুম্র বাষ্পাবেগ
প্লাবন আনতে চায়;
দিগন্ত ছাপিয়ে বৃষ্টি বাণে,
ঝাপসা করতে চায় ব্যাকুল দৃষ্টি।
মেয়েটির রোদেল বুকে জেগে থাকা
তপ্ত বিভাজিকা
কতজনের ক্ষমতার শেষ জলবিন্দু পর্যন্ত
নিংড়ে নিয়েও অস্পৃশ্য থেকেছে!
উড়ে গেছে টো টো করে, নেচে গেছে
বন থেকে বাদাড়ে, পত্রে পাহাড়ে;
মালভূমি থেকে মরু সাগরে,
ঘাম ঝরানো নাসিকাগ্রে, স্ফুরিত বাদল ব্যগ্রে !
কেউ হানে নি শ্লীল চাহনি।!
সকলেই তার সোঁদাল কৌমার্য
চেয়েছে হরন ক'রে, জঠরের নীড়ে
ফেলে দিতে হরিৎ বৃক্ষের ডিমটি।
মেয়েটির শরীর জুড়ে
আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, শত শত
বীজ বপন ক'রে,
পৃথিবী বাঁচাতে চায় আপন সৃষ্টি।
যথার্থই মেয়েটির নাম প্রকৃতি!
----------------------------------------------------------------------------------
এত বিষ সর্বত্র!
কোথায় নীলকণ্ঠ? তৃষ্ণা অবারিত কণ্ঠে
পান করো সবটুকু; মুক্ত করো ধরনী,
শুদ্ধ কর চিত্ত হলাহল পাত্র!
এত ঘৃণা সর্বত্র!
শ্বাসহীনতায় ডুবে যাই আকণ্ঠ।
কোথায় পবন দেব? ভালোবেসে ফুঁ দাও
একবার, আলপথে বয়ে যাক
প্রিয় অবোধ বাতাস;
বাল লীলায় ভরে যাক তরু কিশলয় পত্র!
এত বিদ্বেষ সর্বত্র!
বদ রক্ত ঝরছে, মুখ দিয়ে অহরহ!
কোথায় শরৎচন্দ্র? আমিনারা আজও
চিন্তায় আছে, রাত ফুরোনোর আগেই
হয়তো চলে যেতে হবে অন্যত্র!
এত হুঙ্কার সর্বত্র!
কাঁপছে বাতাস, নিভছে বাতি চিহ্ন!
কোথায় সুভাষ? হাবিবুর রহমানেরা
রেখেছে কথা; তবু শুষ্ক বুকে
আজ বিভাজিত কেন জলসত্র!
এত ডঙ্কা সর্বত্র!
ভাগাও ভাগাও, বিদায়ের ক্ষণ যে আসন্ন!
কোথায় বিবেকানন্দ? ইসলামিক হৃদয়
বঞ্চিত বৈদিক মস্তিষ্কে শুধুই
আমরা সনাতন, ওরা ক্রুর অপবিত্র!
এত আতঙ্ক সর্বত্র!
ভারত মায়ের ঘরে ভিন্ন ভিন্ন তন্ত্র!
কোথায় রবীন্দ্রনাথ? আনন্দ পাঠশালায়
আজ, বালিকা ছাত্রীটি যে বড়ই বিষণ্ণ!
"মাস্টারমশাই, তোমরা হিন্দুরা
আমাদের তাড়িয়ে দেবে তো?"
সামলে উঠতে সময় লেগেছে, চোখের জল চেপে রাখতে পারিনি, ভাবতে পারিনি, ভেতরে ভেতরে আমরা আমাদের সরলমতি শিশুদের মনে, এতটা বিপন্নতা বোধ রোপন করে ফেলেছি ।
কতটা অসহায় বোধ থাকলে একটা ছোট্ট শিশু, তার স্কুলের শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতে পারে, "মাস্টারমশাই, তোমরা হিন্দুরা আমাদের তাড়িয়ে দেবে?"
প্রসঙ্গত এই মাস্টারমশাই, স্বয়ং আজ একটি প্রবন্ধে লিখেছেন সে কথা। প্রবন্ধটি আজকের আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় মাস্টারমশাই - সুজিত মাঝি তাঁর স্কুলের এক মুসলিম ছাত্রীর করা এই প্রশ্নের মুখে পড়ে যারপরনাই হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো, মেয়েটি তাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে কি না জিজ্ঞাসা করছে। কিন্তু না। বিদ্বেষ, বৈরিতা, ঘৃণা, জাতপাতের বৈষম্য, বিভাজন - এ সব নিয়ে নিত্য চলা কুৎসিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার এমন একটা জায়গায় সমাজকে নিয়ে পৌঁছেছে যে বাচ্চা মেয়েটি পর্যন্ত নিজের জন্মভূমি দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে।।
প্রসঙ্গত স্কুলটি বীরভূম জেলার।
প্রবন্ধটি যারা আজ পড়েছেন, নিশ্চিত ভাবে তারাও আমার মতোই এই শিশু ছাত্রীটির মনের মধ্যে জেগে ওঠা বিপন্নতার কথা ভেবে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন।
এই ব্যাকুলতা অস্বাভাবিক নয়। উপরের কবিতাটি সেই ব্যাকুলতা নিবৃত্তির ফসল।
ধন্যবাদ।
কলমে - দেবাশিস জানা
ছবিটি, আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত, 'আমাদের তাড়িয়ে দেবে?' শীর্ষক প্রবন্ধের বিষয় চিত্র।
----------------------------------------------------------------------------------
মেঘের মহাকাব্য!
কলমে -দেবাশিস জানা
আকাশ সেতো মেঘের অধীন, হারানো কৌমার্য!
লুকিয়ে ভাগে তেপান্তরে, পাহাড় - ডোবায় সূর্য!
মেঘ তন্ত্র, মেঘের সেনা খাটায় মেঘের শামিয়ানা
স্বর মন্দ্র, মেঘের হানা হঠায় - আদিম জ্যোৎস্না!
মেঘের পালক, মেঘের তিলক মেঘের শুভ্র ওড়্না
মেঘের পালে রোদের ঝলক আকাশ জুড়ে ঝর্না!
মেঘের হিয়ায় বাদল বাতাস ওড়ায় মধু - পর্ণা
মাদল তানে ওঠে হিল্লোল নাচে কুঁচ বর্ণ কন্যা।
মেঘের বুকে মিনার খাড়া, রজত মুক্তো বর্ণা
তুলির টানে আকাশ পটে ফেনিল শুভ্র ধর্না।
মেঘের মুখে অশ্নি চমক, বরষা পায়ে আল্পনা
হঠাৎ মেঘের উজাড় কন্ঠে মিয়া মল্হার মূর্ছনা।
মেঘ - হূণ, মেঘ - মোঘোল, মেঘ - পাঠান আর্য
মেঘের হাটে আকাশ সারা - নীল শূন্য শৌর্য।
----------------------------------------------------------------------------------
বৃষ্টি রাতের জ্যোৎস্না!
-----------------------------
জলঙ্গীর নীচে, হনিমুনে গেছে
মেঘ আর প্রেরণা!
পাটের ক্ষেতে সবুজ আঁধার;
ঢুলছে ঘুমে, নিঝুম শমে
যাচে না কাব্য করুনা!
বৈঠা হাতে শচীন কর্তা;
মাতন তুলে, গাইছে খুলে
রূপ তেরা মস্তানা!
হাওয়ায় সে সুর যাচ্ছে উড়ে;
হোগলা বনে, নিশির তানে
অন্তঃপুরে বাজছে না!
বারান্দায় জমে ক্ষীরের আঁধার;
চাইছে ঝরুক, জ্বালিয়ে চুরুট
বৃষ্টি রাতের জ্যোৎস্না!
----------------------------------------------------------------------------------
পাখিরা যখন নীড়ে ফিরছে,
বিমর্ষ শিরীষ পাতা
আঁখি মুদে ভাবছে - জীবনে কি পেলাম!
কবির হৃদয়ে, পাখিদের কিচিরমিচির
অন্তিম শোক বার্তার মত বলে যায়
আরও একটু আগে সন্ধ্যা নামলে, কি ক্ষতি হত?
দাবদাহে শ্রান্ত শাল পত্রে না হয়
খানিক আগেই, দিনাবসানের শান্তি জুটে যেত।
স্ট্রিট লাইটের রূপোলী আলো,
সন্তাপ হীন আহ্লাদে
ধুয়ে দিয়ে যায় কদম্ব বৃক্ষের শিখর পত্র;
বট ঝুরি বেয়ে, চলকে নামে
মৃত্যু শোক হীন প্রীত ঝিলিক,;
যেন বরফ নৃত্যে উপচে পড়া মদির পান পাত্র!
ফুটপাতে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে,
সজাগ থাকে এক অমর ব্যক্তিত্ব!
পাশেই মড়া বাহী খাট গুলি
গাদাগাদি করে পড়ে থাকে;
ভাবে একবার যদি
পিপীলিকার মত তাদেরও ডানা গজিয়ে যেত;
তবে তারাও পাখিদের মত
দিনশেষে উড়ে গিয়ে, নিজ বাসায় ফিরে যেত!
----------------------------------------------------------------------------------
রথযাত্রার চিরন্তন চিত্র যে খুব একটা বদলায়নি তা গ্রাম কিংবা মফস্বলের রথের মেলা গুলোতে গেলে বেশ বোঝা যায়।
আজকের তাই সেরকমই একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করলাম, রথের মেলার
পরিচিত কিছু শব্দ ও অনুষঙ্গ দিয়ে। কবিতার আকারে।
আমার বাড়ির কাছেই রথের মেলা বসে, বহু প্রাচীন। কাঁথিতে এটাই বড় রথের মেলা। দারুয়ার কারবালার ময়দান নামে পরিচিত এক মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। ফি বছর এই রথের মেলায় হাজারো মানুষের সমাগম হয়। এলাকার হিন্দু মুসলমান সবার অংশগ্রহণে রথের মেলা প্রকৃত অর্থেই মিলন মেলায় পরিণত হয়। একই মাঠে মহরমের দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শণীয় সব তাজিয়া এসে সম্মিলিত হয়। বহু ঝড় ঝাপটার পরেও সম্প্রীতির এই চিত্রে এখনোও ফাটল ধরেনি।।
কবিতায় যাওয়ার আগে, এই প্রসঙ্গে আর একটি কথা বলে নেওয়া দরকার, সেটা হোল কবিতার শেষ লাইনে - জগন্নাথ দেব কে সংক্ষেপে জগা বলে লেখার কারণ কিন্তু কেবলমাত্র ছন্দে পটানো নয়। পাশাপাশি, অনেকের মনে হতে পারে ভগবানকে ভগা বলার মতো জগন্নাথ কে জগা বলার মধ্যে হয়তো জগন্নাথ কে কোনোভবে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছি আমি। আসলে জগন্নাথকে আদর করে, বিশেষ করে ওড়িয়া ভাষাভাষী মানুষেরা প্রায়শই তাঁকে জগা বলে ডেকে থাকেন। নিবিড় করে নিজের ভেবে এই ডাকে ভগবান জগন্নাথের প্রতি জগন্নাথ ভক্ত উড়িষ্যা বাসী মানুষের বাৎসল্য ভাব প্রকাশিত হয় বলেই আমার মনে হয়।
যাই হোক, কথা থামিয়ে বরং কবিতাটি লেখা যাক।
রথের মেলায়,
বিকেল বেলায়;
পাঁপড় ভাজি, তেলের কড়ায়!
আম কাঁঠালের,
ডবকা জামের;
শাল পত্রে বেজাই বিকায়!
গোল জিলিপির,
গরম মদির;
বেলুন ফাটে গুলির খোঁচায়!
বাতাবি লেবুর,
চালতা চারার;
দরাদরি, হাঁকায় ডাকায়!
মুড়ি ঘুঘনির,
আলুর দমের;
জমিয়ে খাওয়া বৃষ্টি মাথায়!
দোপাটি ফুলের,
আকন্দ মালার;
জগন্নাথের দোলে গলায়!
মুনিয়া পাখির,
খাঁচার তিতির;
খোকা মজে টিয়ার কথায়!
রথের ওপর,
মালিক সবার;
রশির টানে রথ যে গড়ায়!
ঘন্টা কাঁসর,
হল্লা ঝাঁঝর;
রথের চাকায় ধুলো ওড়ায়!
গরীব আমীর,
হাজার হাজির;
নেতা সবাই মানেন জগায়!
----------------------------------------------------------------------------------
সারা মহাকাশ চষে বেড়ায়
এক উদাসী নক্ষত্র!
অতিথির আমন্ত্রণ!
বলে না, থেকে যাও অনিকেত;
সৃষ্টি করো সঙ্গমের মুহূর্ত!
কোথাও তৈরী হয় না তাকে ঘিরে
বসবাসের একান্ত, অনুগত বৃত্ত!
তিনভাগ জল, একভাগ স্থল
নীল মুক্ত আকাশ, তাতে সাদা মেঘের টহল!
কারো দৃষ্টিতে সেই নক্ষত্র
জাগাতে পারে না তাকে ধরে রাখার
কাতর আকুলতা;
অশান্তির আকাশে উড়ে যায়
শান্তির পারাবতের মতো!
কারো বুকে উগাতে পারে না
সাধের পেস্তা ক্ষেত, দিগন্ত বিস্তৃত;
পাখিদের আনাগোনা, ডানা ঝাপটানোর ব্রত!
চিলেকোঠার ছাদে আজ বড় আতঙ্ক !
ভালোবাসার যুগল সেও
অনু পরমানুতে বিভক্ত!
নক্ষত্র আজ তাই
ক্ষেপনাস্ত্রে চড়ে
আছড়ে পড়তে চায়;
ধংস করতে চায়
যা কিছু সজীব, যা কিছু জীবন্ত!
যদি বাঙ্কারে বেঁচে থাকা
শেষ মানুষটির চোখে
জল হয়েই ঝরে পড়ে নক্ষত্র!
----------------------------------------------------------------------------------
মুখড়ায় -
ঢোল কলমির ফুল ফোটাবো!
বিল ভরানো জল;
তাতে শালুক, পদ্ম
ফুটবে হদ্দ;
চুল ভেজানোর ছল!
গাছ কোমরে ডবকা লতা,
বুকের পরে কদম্ব পাতা;
বৃত্ত পুষ্প ধর!
কাঁধ ঝাঁপিয়ে ঝুমকো লতা
নামবে চোখে কাজল কান্তা;
মেঘ বৃষ্টি ধর!
সঞ্চারিতে -
পাখনা মেলা প্রজাপতির ঢঙ;
ব্যালকনিতে -
মত্ত হাওয়া শার্সিতে ঝনঝন!
শেষে -
ঝরবে শুভ্র কাঠ গোলাপ,
শ্যাওলা ধরা কার্নিশে;
রসে -
ভরবে ভেজা গুপ্ত আলাপ,
সোঁদামাটির নিঃশ্বাসে!
----------------------------------------------------------------------------------
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো শ্যামাপোকার মত
বাতি স্তম্ভের আলোর নীচে ওড়াওড়ি করে;
কখনো বা ক্ষুধার্ত, ক্ষ্যাপা ভিড়ের মত
শৌখিন গাড়ির কাঁচে এসে হামলে পড়ে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো বুঝে গেছে
আগুন ঝরাতে হবে পৃথিবীর বুকে;
আকশকে বিশ্বাস নেই, কখন
সরে যাবে ফুটপাতের মাথা থেকে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো অবাধ্য লালসার মত
গলে পড়ে অবোধ শিশুর কল বেয়ে;
টিনের চালের নীচে উদ্দাম মাতালের মত
ঢলে পড়ে, মুক্ত বিবরের পানে চেয়ে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ভিখারির মত
খোলা বাতায়নে এসে ভিড় করে;
ললাট তলে চুম্বন এঁকে দিতে
হাওয়ায় উচ্ছাসে আসে উড়ে!
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো স্বপ্ন দেখায়
ছেঁড়া কাঁথার দূর্বল ক্যানভাসে;
প্লাবনের আশঙ্কায় শহর পালায়
সোচ্চার বৃষ্টির চাপা সন্ত্রাসে!
----------------------------------------------------------------------------------
উড়ান শেষের বেলায়!
-----------------------------
একবার মাটি থেকে উদ্ভিন্ন হয়ে
পুনরায় ফিরে আসতে,
অনেকটা সময় লেগে যায়!
বড় হওয়া শাখা, প্রশাখা
ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে
লন্ডন, আমেরিকায়!
মাটির খনিজলবন, জল
তখনো হাত পুড়িয়ে রান্না ক'রে
প্রিয় পদ সেজে দেয়, সবুজ পাতায়!
তবু রোদ্দুরের স্বর্ণ মুকুট
শুধু মহিরুহের মস্তকেই শোভা পায়!
যখন মাটির ঘরে ছায়া বুড়ি
বসে থাকে একা একা;
ভাবে কখন ঢলবে বেলা,
ফিরবে সন্ধ্যা কুলায়!
ন্যুব্জ ডালের আলগা মুঠোয়
নামবে ঝুরি লাঠির মতন;
ঘাসের বুকে মুখটি রেখে
উড়ান শেষের বেলায়,
মাটির গন্ধ পেতে আবার
শেকড় খুঁজবে ক্ষ্যাপায়!
----------------------------------------------------------------------------------
কেউ কথা রাখবে, কেউ রাখবে না!
----------------------------------------------
কথা হয়ে উঠতে চায়-
অজস্র শুক্রাণুর ভিড়ে, ভাবনার
স্বয়ম্বর বসে যায়!
কোন্ সে বলিষ্ঠ পুরুষালি গলে
চড়বে রসের কদম্ব হার?
অবাধ্য মুখবিবরের আজ
পিতৃত্বের স্বীকৃতি নিয়ে
নেই কোনো সংশয়!
তালু, মূর্ধা, দন্ত, ওষ্ঠের
কিনারা ছুঁয়ে
নিষিক্ত শব্দ ডিম ফুটে
বেরোবেই কথা আজ!
ঝরনা কলমের
অপার মাতৃত্বের স্তন্য সুধায়
বড় হওয়া কথাগুলো
আর অনাথ হবে না!
তবু লিখিত ম্যানিফেস্টোর মতো
সে কথা কেউ রাখবে, কেউ রাখবে না!
ভাসিয়ে দেবে
শ্রাদ্ধের পিন্ডির মতো
অকুল গাঙের ঊর্মি মালায়!
----------------------------------------------------------------------------------
শ্রাবণ শাওয়ার!
---------------------
বরষা - পাতার মন জুড়ে;
ঝাপিয়ে পড়া ঝোরার মতো
দিক ভুলে ধূম জল ওড়ে!
পাতার বুকে, পাতার পেটে
জলের চামর যায় সিচে;
তাল ভুলে তীর ঝাপান গানে
শরীর নাচে উপর নীচে!
ফড়িং গুলো নাইতে নেমে
ডাঙায় ফিরতে যায় ভুলে;
ভিজছে ব'সে একলা ফিঙে
বরষা ঝরছে তার খুলে!
পাতায় ছাওয়া ছই বনে
সাগর ভাসে দুকূল চুঁয়ে;
ধূসর শাখে বারির মিছিল
জলের ভারে পড়ছে নুয়ে!
হঠাৎ বাতাস বৈঠা ঠেলে
ভাসায় তরী পাতার ভিড়ে;
জলের পরী শিউরে উঠে
মাটির টানে লুটিয়ে পড়ে!
---------------------------------------------------------------------------------
হর গাল ত্রিরঙ্গা!
---------------------
মনিপুর থেকে মহারাষ্ট্র
হর ঘর ত্রিরঙ্গা!
বাউল থেকে ম্যাইস্ত্রো
হর স্বর ত্রিরঙ্গা!
নিরন্ন থেকে নির্বস্ত্র
হর দুখ ত্রিরঙ্গা!
স্লোগান থেকে স্তোত্র
হর মুখ ত্রিরঙ্গা!
পুঁজিবাদ থেকে কাস্ত্রো
হর বাদ ত্রিরঙ্গা!
দ্রোণ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র
হর সাধ ত্রিরঙ্গা!
আক্রমনের মুখে নিরস্ত্র
হর মূক ত্রিরঙ্গা!
ক্ষুধার - সান্ত্বনা এক মাত্র
হর ভুখ ত্রিরঙ্গা!
পবিত্র থেকে অপবিত্র
হর জান ত্রিরঙ্গা!
গোমাংস থেকে গোমূত্র
হর খান ত্রিরঙ্গা!
স্বপ্নের নীলে ষড়যন্ত্র
হর ডরপুক ত্রিরঙ্গা!
চুইয়ে পড়া জল-সত্র
হর বুরবুক ত্রিরঙ্গা!
মূল্যমানে, রকেট তন্ত্র
হর সাল ত্রিরঙ্গা!
শুষ্ক গালে, চুম্বন চিত্র
হর গাল ত্রিরঙ্গা!
মূল কবিতার শেষ স্তবকে, দুটি শব্দের পরিবর্তন করেছি। বর্তমান সময়ের সঙ্গে, সামঞ্জস্য আনার জন্যে তা জরুরী ছিল।
মূল কবিতাটি পড়তে চাইলে, নীচে কমেন্ট বক্সে লিঙ্ক দেওয়া রইল, ক্লিক করে পড়তে পারেন।
৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই সকলকে। ধন্যবাদ।
---------------------------------------------------------------------------------
সকল অত্যাচার, লাঞ্ছনা, শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে
দৃঢ় নীরবতা পালনে ব্রতী হবো!
গাঢ় নীল শালীনতায়
তুমি আমায় তখন, তুলে রাখো;
সগর্বে ভরে নাও ভোট বাক্স!
আমি মহাদেবের মতো
বেলপাতাতে না হলেও
এক গ্রাস ভাতেই সন্তুষ্ট!
আমি আসলে শাপগ্রস্থ দেবতা;
পাথরের হৃদয় দিয়ে, সহ্য করে যাই সব!
বা হয়তো অসম্পূর্ণ জগন্নাথ ;
ঠুঁটো অপবাদ নিয়েও থেকে যাই নীরব!
ভুলে যেওনা যেন,
তোমার প্রতি আমার বিশ্বস্ততা
এখনোও কত অন্ধ!
তোমার মুখের দিকে তাকিয়েই
ভুলে যাই হৃৎ ছন্দ!
কবে যে কোন্ ভগীরথ
বয়ে আনবে এক গঙ্গা
থুতুর চিকচিক স্রোত!
কে জানে,
সে সহ্যের বাঁধ হঠে
হয়তো সেদিন জেগে উঠবো;
নিদ্রার ভান গিয়ে টুটে
তপ্ত মুখে রাঙা খই ভাজবো!
বুঝবে সেদিন,
প্রতারিত করার অধিকার
আমার ও আছে। নয় তোমার একছত্র।
এতদিন আসলে আমি কোমায় যাইনি,
কোমায় যাওয়ার অভিনয় করেছিলাম মাত্র!
---------------------------------------------------------------------------------
শ্রাবণ অন্তে শরৎ আসে ভাদ্রের হাত ধরে, আর কে না জানে শরতের অন্যতম এক রোমান্টিক দিক হলো রোদ আর বৃষ্টি - যখন একসাথে এসে
ভিড় করে। তাই নিয়েই আজকের কবিতা-
রোদ বৃষ্টি জাদু জানে!
-----------------------------
হঠাৎ বৃষ্টি উড়ো মেঘে
রোদের জল প্রপাত;
মাঠের মাঝে আলো চরে
প্রান্তে মধু বিন্দু পাত!
ছুটছে যেন মুক্তো বুনে,
এলো কেশে কৃষ্ণ মেয়ে;
পত্র পুঞ্জে নুপূর বেঁধে,
নগ্ন বুকে রৌদ্রে নেয়ে!
সেগুন তলে ঝরঝরে
দূর্বা দলে সিক্ত স্নান;
শাল পত্রে ঠিকরে পড়ে
মেঘ মুক্ত বৃষ্টি বাণ!
ব্যগ্র সুখে মেলতে ডানা
পর্দা ভেজা বাতায়নে;
ছাদের তারে পিয়া কাঁহা
রোদ বৃষ্টি জাদু জানে!
রোদের বুকে বৃষ্টি নাচে,
জ্যোৎস্না বাদল ধুয়ে;
চল্ কুহেলী দেখি দোঁহে,
শেয়াল শেয়ালীর বে!
---------------------------------------------------------------------------------
নজরুল স্মরণে ক্লান্তিহীন হোক কলম।
কবির মৃত্যু বার্ষিকীতে আপ্রাণ চেষ্টা করলাম, কবির বিদ্রোহ যজ্ঞে সামিল হওয়ার!
কবিতা: চুরুলিয়া থেকে ঢাকা!
কলমে -দেবাশিস জানা
আগুনের রং গাঢ় হলুদ নাকি ক্ষীণ হালকা!
"ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?'
কতটা পুড়লে বুকের বদ্বীপ
সাগরের নীল ধারন করে ব্যথার বহ্নি শিখা!
কতটা রুদ্ধ হলে সাম্যের বাণী
হাওয়ার যুদ্ধে মেলে দেয় ' বাঁধনহারা' অগ্নি পাখা!
টুপ টুপ করে ঝরে পড়ে অশ্রু কমল!
কান্ডারী হীন, দিকহারা মেঘ ও বাদল!
বিদ্বেষের ফণার মুখে উঠেছে রব ত্রাহি ত্রাহি;
বিদ্রোহ আজো, কবিকে হতে দিতে চায়না বিদেহী!
---------------------------------------------------------------------------------
ঠিক দোরগোড়ায় না হলেও, আশ্বিনের প্যাচপ্যাচে বৃষ্টি ভেজা রাস্তা ধরেই ক্রমশ নিকটবর্তী হচ্ছে বার্ষিক শারদীয় পূজার
মহালগ্ন। বলা যায়, পুজোর রেখা গণতি শুরু হয়ে গেছে । কাউন্ট ডাউন কথাটার বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে রেখা গণতি কথাটা আমার খুব মানানসই মনে হল। তাই লিখলাম।
ভাদ্র মাস ঢুকে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি যেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই বহু বিখ্যাত কবিতার লাইনের মতো পালা করে বলে চলেছে, যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো।
বেশ, তাই বলে পুজোর প্রস্তুতি তো আর থেমে থাকতে পারে না। কথায় আছে না উৎসব সবার, আর প্রস্তুতি যার যার। কিন্তু সে প্রস্তুতি তো আবার পুঁজি নির্ভর। যার যেমন পুঁজি তার তেমন প্ল্যান।
বৃষ্টি ভেজা প্রান্তিক মানুষের মতো বর্ষায় জল ঝরানো পাতারও হয়তো আছে তেমন কোনো পুজোর প্ল্যান। আর পুঁজি? তারই খোঁজ আজকের কবিতায়!
পাতা, সব বৃষ্টি ঝরায় না!
----------------------------------
কলমে -দেবাশিস জানা
পাতা, সব বৃষ্টি ঝরায় না!
কিঞ্চিৎ বাঁচিয়ে রাখে,
অবতল শীর্ণ কাঁখে;
ঠিক যেন এক রতি সোনা!
পুজোর রোদ এলে,
সাজবে দিল খুলে;
ভুলে গিয়ে দুবেলার কান্না!
ঝলমলে চিকচিক,
হাওয়ার অটো ঠিক;
নিয়ে যাবে টালা থেকে খান্না!
দুই দিকে দলে দলে,
দেহাতি পাতারা দোলে;
চুমকি গালে বিটপী কন্যা!
শ্রাবণে মেঘের দানে,
কোচড়ে ভরে গোপনে;
পাতা, সব বৃষ্টি হারায় না!
পুজোর হাটে যদি,
কিনতে হয় নদী;
টুপিয়ে জল আনবে ঝর্না!
পাতা, সব বৃষ্টি ঝরায় না!
---------------------------------------------------------------------------------
ভঙ্গুর স্বপ্নে ঠাসা!
-----------------------
সেগুন মঞ্জরীর মতো
সোনালী সবুজ বুদবুদ
এক গাদা দাম হাঁকায়!
এক চুমুক তপ্ত তৃষ্ণা
মেটানোই তো ছিল
সুপ্ত ইপ্সা!
দীর্ঘনিশ্বাসের ফুঁয়ে,
জুড়িয়ে যেতে কতক্ষন?
যখন নিস্তরঙ্গ ভাঁড়ে
শুধুই মা ভবানীর বাসা!
ধূসর চায়ের জলে
মিইয়ে যাওয়া তর্কের তুফান,
মুখ বুজে মেনে নেয় সবকিছু!
ঢোঁক গিলে ভাসিয়ে দেয়
উষ্ণ চুমুর নেশা!
বিদ্রোহের উত্তাপে
প্রশান্তির সাদা সর পড়ে থাকে
সাগরের তটে; ইতিহাস মনে রাখে
জোয়ারের জলে ভাসা!
ভিড় ট্রেনে গাদাগাদি,
সেগুন মঞ্জরী ঝরে খাসা!
নিরুত্তাপ প্লাটফর্ম জুড়ে,
শত শত ভগ্ন ভাঁড়;
ভঙ্গুর স্বপ্নে ঠাসা!
---------------------------------------------------------------------------------
আচ্ছা পুজো মানেই তো যুদ্ধ আর যুদ্ধ বিজয়ের গল্প; মায়ের যেমন মহিষাসুরের বিরুদ্ধে, তেমনই রামের যুদ্ধ-বিজয়, লঙ্কেশ্বর
রাবণের বিরুদ্ধে।
কিন্তু লড়াই যখন, পুজোর তিথিগুলোর নিজেদের মধ্যেই সংঘটিত হয় - কে বড় বা কে ছোট এই নিয়ে তখন বিষয়টি খানিক চমকপ্রদ হয় বৈকি।
আসল ব্যাপারটা একটু খুলে বলা যাক, কয়েকদিন আগে ভাইঝি দেবাংশী, তাঁর আঁকা সুন্দর একটা ছবির কোলাজ আমাকে দেখায়; তাতে নিপাট সারল্য আর পবিত্রতা মাখা, ভিন্ন ভিন্ন মুডের মা দুর্গার বেশ কয়েকটি মুখের ছবি আঁকা ছিল; একটায় তো- নদীর বুকে, নৌকায় চড়ে মা চলেছেন সপরিবারে, এরকম একটি সুন্দর ছবিও রয়েছে, দেখে সত্যিই খুশি না হয়ে থাকতে পারিনি।
কিন্তু এর মধ্যে লড়াইয়ের আবহ কোথায়?
সেটা অবশ্য এলো, ছেলেকে একটা কবিতা লিখে দিতে বলাতে।
শিশু মনের সহজ বোধে ফুটিয়ে তোলা এই লড়াইয়ের ভাবনা শুধু যে অভিনব তাই নয়; কবিতার শেষে, স্বয়ং মায়ের হস্তক্ষেপে সেই বিবাদের মিমাংসা যেভাবে হলো তা এককথায় অভাবনীয়।
মজার ছলে লেখা এই কবিতাটিকেই আজ মহানবমীর ভোরে তুলে দিলাম। সঙ্গে থাকলো আঁকা ছবিটির কোলাজ ও কবিতার লেখক দেবার্পণ ও আঁকিয়ে দিদি দেবাংশীর ছবি।
পুজোর লড়াই!
--------------------
ষষ্ঠীচরণ বললে, "শোনো
ষষ্ঠী - পুজোর শুরু!
তাই দেখতে আসেন উড়ে,
স্বর্গের তিন গুরু!"
সপ্তদ্বীপ বললে, "ওহে
শোনো ষষ্ঠীচরণ,
সপ্তমীই আসল পুজো
বৃথাই আস্ফালন!"
অষ্টব্রত বললো হেঁসে,
সন্ধি পুজাই বড়!
মিছেই তোমরা দুজন,
ঝগড়া করে মর!
নবরত্ন বললো রেগে,
এবার তোমরা থামো!
নবমীই প্রধান তম
নমস্তে দুর্গা নমঃ!
বিজয়া বললে, "শোনো,
শ্রেষ্ঠ বিদায় ক্ষণ ;
ফিরবেন মা কৈলাসে,
মন্দির হবে নির্জন!"
সব শুনে, বললেন মা,
"শোন্ রে তোরা সবে;
আমার কাছে সবাই সমান,
বিভেদ নাহি হবে!"
এই পর্বে আমর ভূমিকা, শুধুই ভূমিকা টুকু লেখার। যাই হোক, সকলকে শুভ মহানবমীর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে শেখ করছি এখানে।
ধন্যবাদ।
---------------------------------------------------------------------------------
নরেন্দ্রপুর, গ্রীন পার্কের পুজোয়, মায়ের মূর্তি তাঁর চিরাচরিত খড় মাটির বন্ধন ছেড়ে, রক্ত মাংসের সেই আদি ও চিরন্তন
চিন্ময়ী রূপে আবির্ভূতা হয়েছেন। হাতে, মঙ্গল শঙ্খ। মাথায় ঘোমটা, কৃষ্ণ পাড়, লাল শাড়ি পরিহিতা ত্রিনয়নী মা যেন এখানে বাংলার চিরায়ত মাতৃস্বরূপা।
আজ মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায়, শারদ প্রকৃতির মাঝে মায়ের রূপের একাত্মতা খোঁজার চেষ্টা করেছি কবিতায়।
পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।
কবিতা: প্রাণ প্রিয়বরেষু..!
------------------------------------
তুলতুলে মেঘগুলো,
পোড়ো বাড়িটার ছাদে;
বৃষ্টির স্নান সেরে,
ভাসে আদরের রোদে!
সোনালী ডাবের বুকে,
জলের ছলাৎ !
শাখা - বেণীবৎ,
প্রাণ- ঘটে প্রিয়ম্বদা;
সুখদা, যশোদা, মোক্ষদা!
"তুই আসছিস তো...?"
অপেক্ষার চুমু আর
হোয়াটসঅ্যাপ ওয়াদা!
ভেসে যায় চন্ডী পাঠের স্তব ও স্তুতি!
আম, বট, পিপুল,
বেল, স্নিগ্ধ বকুল;
সুপর্ণার রোদে আকর্ণ বিস্তৃতি!
পুজোর বারকোশে যেন,
চিকন, তকতকে, শ্যেন;
প্রিয় পঞ্চ পল্লবের সু- নির্মিতি!
ভাঙা কার্নিশ বেয়ে,
পড়ে শিউলি ছেয়ে!
রিং টোনে গুঞ্জরিত -
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু...
"তুই আসছিস তো....?"
পত্রাগ্রের জল
এখনোও বিরাজিত;
ঝরে যাওয়ার আগে অন্তত
আয় তুই, প্রাণ প্রিয়বরেষু !
কলমে -দেবাশিস জানা
--------------------------------------------------------------------------------
চেহারায় সদা গুরু গম্ভীর ভাব, কুঞ্চিত কপাল, আপাত বৃহৎ মস্তিষ্কের এই মানুষটিই কিন্তু আবার শিশুদের কাছে বড় কাছের
আত্মীয়, অত্যন্ত নিকটজন, প্রথম গুরু। ২৬শে সেপ্টেম্বর, আজ তাঁর ২০৫ তম জন্মদিনে; তাই তাঁর কথা, তাঁর ভাবনা - এক শিশুর মানসালোকে, ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলাম। বরিষণে বিদ্যাসাগর, স্মরণে বিদ্যাসাগর!
কবিতা: বৃষ্টিতে বিদ্যাসাগর!
---------------------------------------
ঐ যে বৃষ্টি ঝরছে,
আকাশ ঘন কৃষ্ণ;
বলতে না'রে খোকা,
বৃষ্টি যে যুক্ত বর্ণ!
খোকার সারাদিন,
বিচিত্র ধ্বনিময়;
বৃষ্টির ঝমাঝম,
টিপটিপ ধূন লয়!
চোখের কোণা বয়ে,
গড়ায় তার জল;
লিখবে কেমন করে,
বৃষ্টির কলকল!
স্বপ্নে সেদিন রাতে,
দেখলো বড় সমুদ্র;
ধুতি আর চাদরে,
ব'সে ঈশ্বর চন্দ্র!
বললে গম্ভীর হেসে,
নেইকো তোর ভয়;
ধ্বনির ছবি আঁকা,
নে বর্ণপরিচয়!
বেশতো ব'লে খোকা,
ওহে বিদ্যাসাগর;
বৃষ্টি কথাটি কঠিন,
শিখিনি যুক্তাক্ষর!
এবার তিনি উদাস,
বৃষ্টি পড়ে পাতায়;
'জল পড়ে, পাতা নড়ে',
দিব্যি এলো মাথায়!
প্রসঙ্গত এই 'জল পড়ে, পাতা নড়ে' এই লাইন দুটি প্রথম লেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু লেখার কৃতিত্ব দেন 'আদি কবি' বিদ্যাসাগর কে। কিন্তু কেন এই উদার বিভ্রান্তি, তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম একটি প্রবন্ধে।
প্রবন্ধটি পড়তে চাইলে নীচে কমেন্ট বক্সে লিঙ্ক দেওয়া থাকলো, ক্লিক করে পড়তে পারেন।
ধন্যবাদ।
--------------------------------------------------------------------------------
অতিবৃষ্টি আর সাম্প্রতিক জলে ভাসা নগরী কোলকাতা, কারো কারোর কাছে তা ভেনিস কিন্তু আমার কাছে তার রূপ যেন খাঁড়ি ময়
সুন্দরবন। তবে বর্ধিত। পুজোর মুখে, বানভাসি শহরের মন পড়ার চেষ্টা করেছি এই কবিতায়! বাকিটা আপনাদের বিচার!
কবিতা: নগর সুন্দরবন!
--------------------------------
মায়ের মন, ভালো নেই;
রাত্রি ভর র'ন জেগে!
দুঃখ আর বঞ্চনার শহরে
কান্নার বানভাসি আনেন;
মেঘের চাঙড় ভেঙে!
বাস্তুহারা সাপের মতো অশ্রুপাত,
বেয়ে যায় অলি গলি ফুটপাত!
রাজপথের খাঁড়ি বেয়ে,
ভেসে যায় জোগাড়ের জীবিকা;
ভুট্টার খোসা, ফুচকার শালপাতা,
কলমি হিঞ্চের বাখারির ঝাঁকা!
মার্সিডিজ, অডি আছে যত সুখ ভ্রাম্য,
বন্ধ টানা রিক্সাও, ডুবে যাওয়ার সাম্য!
মায়ের চোখে, বড়ই প্লাবন আজ!
বুকে চাপা ব্যথা;
কেনা হয়নিকো ছেলের জামা, মেয়ের ফ্রক
স্বর্ণ চুমকি গাঁথা!
চার্ণকের শহরে আজ,
ঢেউয়ের মনোরম চলাৎ চলাৎ ;
ফলের ঝুঁড়ি, তড়িতাহত লাশ!
ডুবে যায় কাগজের নৌকা,
সওদা করতে এসেছিল, পেটের ভাত!
মায়ের মনে, জাঁক নেই আজ;
ভেনিস, লন্ডন তাই করেছেন খন্ডন;
নিরাশার বদ্বীপ জুড়ে,
ভাসিয়েছেন বেড়ে নগর সুন্দরবন!
-------------------------------------------------------------------------------
দূর্গার অকাল বোধন কি সমাজের আকাল কাটাতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বড় শক্ত। সে উত্তর খোঁজার চেষ্টাও করিনি আমি,
আমার কাছে এই প্রশ্ন রাখাটাই জরুরি, উত্তর যে যার মত খুঁজে নিন!
কবিতা: আকালের এই কালবেলায়!
------------------------------------------------
বড় অসময়ে
এলি তুই কন্যে!
আমার ঘরে এখন, ভাবের বড় অভাব।
ছন্দ ছন্নছাড়া!
আবেগের মশলা বাড়ন্ত বয়ামে,
কল্পনা বন্দী ক্লান্তির খামে;
শব্দ বাক্য হারা!
অগোছালো সময়, নিশ্চেষ্ট মনন;
গভীর নিশীথে শিউলির পতন!
আকালের এই কালবেলায়
নেই প্রয়োজন, অকাল বোধন!
তবু ধীর কন্ঠে,
বলি শোন্ কন্যে;
আসছিস যখন-
সীতা উদ্ধার হয়ে গেছে শ্রীরামচন্দ্রের;
উদ্ধার বাকি আমাদের হৃত গৌরবের!
আমার কলম এখন, বড়ই রুদ্ধ স্বভাব!
অপরাধ নিবি না কন্যে, করে দিস ক্ষমা;
হৃত নীল পদ্মে অশ্রুর জল হচ্ছে জমা!
লাল পেড়ে সাদা, গরদের শাড়ি পরা এই দুর্গা মূর্তিটি, পার্ক স্ট্রিট কোলকাতার শিল্প সদনে রাখা এক হস্তশিল্পীর গড়া চোখ জুড়ানো শিল্প নির্মাণ।
-------------------------------------------------------------------------------
কবিতায় মুগ্ধতা যদি অবিভাজ্য হয় তবে শোক
------------------------------------------------------------
------------------------------------
উপরের লাইনটি, কবিতার শুরুতেও পড়তে পারেন কিংবা শেষে, অথবা শুরু এবং শেষ দুই পারেই, যেমন আপনার ভালো লাগে।
যত দূরের ট্রেন
তত বেশী হাহাকার!
দিগন্তের বুক চিরে
যতক্ষণে সবকিছু অদৃশ্য হয়ে যায়;
ভাটার টানে অলীক
হয়ে যায় জলের দাগ!
সম্পর্কের কোলাহল;
অনিঃশেষিত মরুর ভাগ!
শুভ্র শঙ্খের মুখে
মিষ্টি চুমুর ছাপ
শুধুই গড়ে বালির বাঁধ!
স্মৃতি জল শুধে রোদের কাছে
মরে যায় ভরা নীলগাঙ!
-------------------------------------------------------------------------------
ছন্দের দড়িতে নিরাশার পুঁটলি বাঁধতে গিয়ে, শেষমেশ তা কতটা আশা জাগাতে পারলো নাকি পারলো না সেটাই দেখার!
কবিতা - ঘুগনি বেচার বান্দে!
---------------------------------------
কলমে -দেবাশিস জানা
সকাল বিকেল সন্দে,
আমার ভারত বন্দে!
উড়ছে কেতন উর্ধ্বে,
চর্চা টিভির পর্দে!
শোর উঠেছে শির্ দে,
বউ বলছে থান দে!
আগুন ফুরোয় রন্ধে,
সন্তান হাঁকে ভাত দে!
কোমরে গামছা পিন্ধে,
কেমনে করবো নিন্দে!
ঘুগনি বেচার বান্দে,
মিছেই ঘাঁটি কাসুন্দে!
বিদ্ধ আওয়াজ মূর্ধে,
জ্বলছি চিতায় জিন্দে!
দেশ বলছে চুপ্ দে,
হয়ে থাক জিন্দা মুর্দে!
হাঁটছি জোয়াল কান্ধে,
আটকে ফানুস ফান্দে!
হেইসা বলে ডাক্ দে,
মেরা ভারত চক্ দে!
কিছু কথা: কিছু শব্দ যেমন পিন্ধে কথাট বিশেষ করে, কোনো কিছু পিধা বা পরা অর্থাৎ পোশাক পরিধান করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া সন্দে শব্দটি, সন্ধ্যে শব্দের কথ্য রূপ হিসেবে।
এছাড়াও পর্দে, মূর্ধে, জিন্দে, বান্দে, কাসুন্দে বা মুর্দে শব্দগুলো যথাক্রমে পর্দা, মূর্ধা, জিন্দা , বান্দা, কাসুন্দি ও মুর্দা শব্দের ছন্দ রূপ।
রন্ধে কথাটি রন্ধন বা রান্না করার ছন্দ রূপ। কান্ধে কথাটি কাঁধে'র।
-------------------------------------------------------------------------------
কবিতায় একটু অন্যরকম চেষ্টা, ভিন্নতার স্বাদ পাওয়া গেলে, সার্থক হবে প্রয়াস!
----------------------------------
কৃষ্ণাঙ্গী রাস্তার বুকে,
বর্ষা সেচা শরতের রোদ!
ওপারে গ্র্যান্ড হোটেল,
পশ্চিমের জানালা খোলা!
বিকেলের পিছু পিছু
জোছনাকে নিয়ে পালাতে চায়,
মফস্বলের ভীড় ট্রেন;
এখন বিকিকিনির হাটে
হাতে সিগারেট, একা মধুবালা!
পায়ের পরে পা;
মুক্ত ডানায়, নীল প্রজাপতি আঁকা!
মাঝে ফুটে থাকে দুএকটা জারুল,
ছাতিম, ফলধরা তেঁতুল;
নীল ছায়া মাখা, প্রিয় বিভাজিকা!
বানভাসি পিঁপড়ের মত
সার বেঁধে, দুদিকে
দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়ি ধর্মতলায়;
এখনিই জ্বলবে সবুজ,
ছুটবে শোণিত শিরায় শিরায়!
------------------------------------------------------------------------------
চাঁদ ফেলেছে সাঁঝের তাঁবু,
কুয়াশার ভরা হাটে;
চুলের ডগায় শিশির গুঁজে,
আসবি নাকি মাঠে?
ডুব সাঁতারে পাড়ি দিবি,
নোঙর বেঁধে ডিঙি;
ঘাসের নীচে চন্দ্রবোড়া,
শ্বাস চুরিয়ে নিবি!
বিল পুকুরের পাড় ছাড়িয়ে,
ঢোল কলমির সারি;
তোর আশাতে বিজন নিশি,
চাঁদের ফাঁকা বাড়ি!
কনক ধানের রাজ্যি তাও,
গোলায় উঠে গেছে;
আকাশ জমি দুকূল ফাঁকা,
কেউ নেইকো মাঝে!
তোর শরীরের ছোঁয়া পেয়ে,
ফুটবে জলছবি;
লাজের মায়া কাটিয়ে তুই,
কৃষ্ণ কলি হবি!
তোর গন্ধে মেঘ কুয়াশা,
দুলবে ভেজা শশী;
পিঠে পায়েস প্রথম প্রেম,
নবান্নের দিলখুশী!
কুয়াশা, জ্যোৎস্না, নবান্ন, হেমন্তের মাঠ আর তাই নিয়ে অন্তমিল আর অনন্ত মিলের ককটেল। শেষমেষ, তার স্বাদ কতটা অনুভূত হলো কবিতায় তা বিচার করার ভার আপনাদের ওপরেই রইলো।
ধন্যবাদ।
------------------------------------------------------------------------------
স্মৃতির রাজ্যে মিরজাফর,
সিরাজকে আজোও বুড়ো হতে দেয়নি!
দু চোখে আজোও কত প্রেম তার,
হাতে নব্য গোলাপ পুষ্প!
কত কাল কেটে গেছে,
কত দৃশ্য হয়েছে অতিক্রান্ত;
যারা মাথায় সূর্য নিয়ে
ফিরে গেছে সাজঘরে;
যুগের গোধূলি পেরিয়েও,
রাত্রির যুগান্তরে -
তারা আজোও উজ্জ্বল, শিশির ধোওয়া
চির রৌদ্রকান্ত!
দু দুটো বিশ্বযুদ্ধ দেখেছে পৃথিবী!
কত পালাবদল, গতিপথ
বদলে ফেলেছে নদী;
জার্মান থেকে জাপান, তাইহোকু,
আজোও তরুণ, 'তরুনের স্বপ্ন'
নেতাজী, ক্ষুদিরাম, কিশোর কবি সুকান্ত!
আজোও ভরা চোখ, দীপ্ত ঠোঁট, কন্ঠ উদাত্ত;
নায়ক উত্তম, গায়ক কিশোর,
বাবরি চুল, নজরুল দিব্য কান্ত!
একবার জ্যৈষ্ঠের জরা এলে,
বর্ষার প্লাবন ভুলে যায় নদী;
মনে রাখে নির্জল বালুচর,
হেঁটে , হেঁটে পার হওয়া অনন্ত!
শীত ঘুমের মতো পলাতক স্মৃতিতে
আজোও সুচিত্রা অনায়িকা হয় নি!
শিয়ালদহ থেকে শিকাগোয়
আজোও তিনি তরুণ, আজোও স্বামীজীর
বয়স ঊনচল্লিশ পেরোয়নি!
আসলে হিরোদের
বুড়ো হতে নেই!
একবার রাত্রি নামলে,
ম্রিয়মাণ হয়, সব দিনের তারকাই;
শুধু থেকে যায়,
ভুবন ডাঙার চোখে
সন্ধ্যার রবি, ডুবন্ত!
হিরোরাও বুড়ো হন, বুড়ো হওয়াই ভবিতব্য। তাই হিরোদের বুড়ো হতে নেই, এটা আসলে কথার কথা। তবে মানুষ চান, হিরোরা সবসময় হিরো হয়েই থাকুন, তাদের চোখে হিরোর ছবি থাকুক চির অম্লান, চির অক্ষত, এটাই হিরোমোদী পাবলিকের একমাত্র দাবী, এটাই আর্জি একান্ত!
------------------------------------------------------------------------------
অবিনাশ কামারের আর্তি!
-----------------------------------
না! শৌখিন পরাধীনতার ঘেরাটোপে,
সুশীল পুচ্ছ আন্দোলনে সায় নেই আমার।
বরং রোজ মরার জীবনে
যেদিন বাঁচি, ভাবি বেঁচে গেলাম!
অন্তত তোমার বদ্ধ ব্যালকনিতে,
সচ্ছল মানি প্ল্যান্টের মতো
পুঁতে ফেলতে পারো নি আমায়।
আমি আসলে দানের দীর্ঘায়ু চাই না;
মর্যাদার মরন চাই!
ওই একবারই তো,
জালে তুলে ফেলবে চড়ক ডাঙ্গায়!
ছাই মাখিয়ে, ছাল ছাড়িয়ে,
ভাজা ভাজা করবে তেল কড়ায়!
অন্তিম শ্বাস
বেরিয়ে যাওয়ার আগে,
এ সবই সহ্য করতে হবে; তবে ওই একবার।
জানোই তো আমার কই মাছের জান!
শুধু তোমার,
স্বাদ করে গ্রাস পোরার দৃশ্যটিই
দেখা হবে না আমার!
ঊর্ধ্বশ্বাস হাপরের আঁচে,
পুড়তে পুড়তে বলে যায়
না দোমড়ানো, অবিনাশ কামার!
কি বলে, আমার আপনার মধ্যে বসত করা অবিনাশ কামার? শেষ দাহের আগে, রোজ রোজ আর নিজেকে পুড়িয়ে নমনীয় করবে না? নাকি অবিনাশ কামারের কন্ঠস্বর আজ নিরুদ্দিষ্ট পৃথিবী থেকে! গলে পড়া মানুষের সমাজ, আপাতত তাকে চুপ করিয়ে রেখেছে! হয়তো কোনোদিন চেতনার যজ্ঞ ভূমিতে তার বোধন হবে! অপেক্ষা থাকুক, পাশাপাশি আহৃত হোক জাগরণের আয়োজন।
------------------------------------------------------------------------------
কবিতা: কালের পরকাল!
----------------------------------
আজ আমি হাল বাইছি;
কাল অন্য কেউ!
কত প্লেন বন্দরে ওঠে..নামে..!
মাটি আর আকাশের মাঝে,
দাগ কাটে - হৃদয়ের ঢেউ!
যারা ভাবে, পৃথিবী
লাটিমের মতো ঘোরে;
কেন্দ্রে তাদের হাঁসি মুখ!
বদ্ধ উজবুক তারা যত,
তারা সব ফেউ!
মওকা বুঝে - 'আমার কাল' বলে
লিখে দেয়, পাঁচ মাথার মোড়ে;
কাল জয়ের ভেউ!
কালেরও পরকাল আছে;
ভুলে যায়!
সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি;
সব নাগরদোলায় সওয়ারি!
আজ যা হর্ষ কলনাদ,
কাল তা বুভুক্ষার ঘেউ!
দুই তীর জুড়ে,
সঙ্গমের আগুন ওড়ে;
সম্ভোগের চূড়া হতে,
গর্ভ গৃহে বসতে পারে
দেবাসনে যে কেউ!
পরিধির দ্রাঘিমারেখায়
বসত করে সবাই;
নিত্য লড়াই, রাম রাবণের;
নাম দেয় শুধু ছৌ!
কালচক্রের গতি কি আনুভূমিক? লাটিমের মতো! নাকি নাগরদোলার মত উল্লম্ব, ওপর নীচে আবর্তিত হয়! নাকি দুভাবেই? কালের স্রোতে ভেসে যেতে যেতে, পৃথিবীর গোলার্ধের মত মানুষের জীবনেও কি রোদ জ্যোৎস্নার খেলা চলে নিত্য ?
কালের ঘুর্ণন আর পৃথিবীর ঘুর্ণনের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল আছে। দুটোর ক্ষেত্রেই কোনোকিছু স্থায়ী নয়। ফিরে ফিরে আসে। কালের উপাদান হিসেবে, শুধু মাত্র পাত্র পাত্রীর বদল হয়। তাই আসন কারোর পাকা নয়।
ধন্যবাদ।
------------------------------------------------------------------------------
কবিতা: গোমুখ হবে কবি!
-----------------------------------
শীর্ষে - শৃঙ্গ ব্যালকনি;
বরফ গলে নদী যে হয়,
জানে তন্বী মন্দাকিনী!
নদীর জলে আরতি হয়,
মন্ত্র পড়ে কবির দল;
জানি তোর ডুবে যেতে ভয়,
কাব্য জলে নিত্য অচল!
রাত্রি যখন গভীর হয়,
ঘোড়ার মতো নিদ্রা যাস্;
আকাশ বাড়ির চন্দ্রোদয়,
চুরায় কবি গুপ্ত রাশ!
পাইন, ওক, অরণ্য ময়,
তুষার খোঁজে রবি;
তোর বুকেতে অলীক ভয়,
গোমুখ হবে কবি!
রূপোয় গোলা জলের ক্ষয়,
গাঙচিলেদের ডাকে;
ডানায় আঁকা স্রোতের লয়,
মণিকর্ণিকার বাঁকে!
রোদের জলে স্বর্ণ নিচয়,
জ্যোৎস্না তীরের ঠেকে;
ভাবের রাজ্যে কবির জয়,
কুলু কুলু স্বর টোকে!
পাহাড়, নদী, প্রকৃতি, এ সবের স্রষ্টা যিনি, সেই ঈশ্বরই পৃথিবীর আসল কবি। আমরা শুধু সেই সৃষ্টির রিভিউ লিখি।
কবিতা আসলে সেই আদি সৃষ্টির নিগূঢ় শব্দ রূপ প্রকাশ। যদিও পাহাড় স্বরূপ দাম্ভিকতা আমাদের সেই সার তত্ব বুঝতে দেয় না।
উপরের কবিতায় সেই তত্বের খানিক সারমর্ম, ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলাম। বাকিটা আপনাদের পাঠের অপেক্ষা।
------------------------------------------------------------------------------
মাঝে মাঝে, একঘেয়েমি কাটাতে, ছন্দের বিন্যাসে খানিক খামখেয়ালীপনা মন্দ লাগে না। এমনকি ছন্দ পতন ও অনেক সময় খোলা হাওয়া আনয়নের ক্ষেত্রে বেশ মজাদার ভূমিকা পালন করে। দেখা
যাক, একটু অন্যরকম প্রয়াস করলাম, যদি ভালো লাগে, তো প্রচেষ্টা সার্থক হবে। ধন্যবাদ।
কবিতা: ডানা মেলা হাতে!
-----+---------------------------
ঝড়ের মুখে
আগুন খেতে,
একটাই
দেশলাই
কাঠি ছিল বেঁচে!
সেদিনের
কৌশিকী রাতে,
দিগম্বরী কৃষ্ণা;
ডানা মেলা হাতে,
এঁকেছিল
অনিবার তৃষ্ণা;
দাঁড়িয়েছিল
তপ্ত বুক চিতে!
কখনো
হাঁটু মুড়ে,
ঘৃতাহুতি দিতে
বসেছিল
যজ্ঞ উপচিতে!
আমি,
ঢেউ
মাপছিলাম
সাগরের;
কখন,
ছুঁয়ে যায়
তুঙ্গ ভদ্রে!
মন্থিত,
ফেনিল
তৃপ্ত সান্দ্রে!
হেমন্তের হাটে,
টগরীর ঠোঁটে;
সহস্র
বদ্বীপের
রেখাচিত্র ফোটে!
আঁধারের স্রোতে,
মোহনার
হাঁ -মুখ;
জোছনা যায় চেটে!
দুর্বার উচ্ছাসে,
ভাসানের
অ-সুখ
সোঁদাল বালু তটে!
একটাই
শূণ্য,
কোষাকুশি
ছিলে বেঁচে;
টগরীর
কোলে,
নৌকা হতে;
ছলাৎ ছলাৎ
জল যাচে!
------------------------------------------------------------------------------
কবি জয় গোস্বামী একবার লিখেছিলেন, কবিতার লাইন হঠাৎ করেই উদয় হয় কবির মনে। অনেকটা, আচম্বিতে ঝলসে ওঠা বিজলীর চমকের মতো। তিনি তো হঠাৎ আসা কবিতার লাইন মনে রাখতে, পানের
দোকান থেকে ফাঁকা সিগারেটের খোল পর্যন্ত চেয়ে তাতে লিখে রেখে দিতেন সযত্নে।
তাই কখন কবিতার কল্ আসে, কেউ জানে না। তবে ধরতে পারাটাই আসল।
আজকের কবিতায় কিছুটা সেই অনুভবের অনুরণন খোঁজার চেষ্টা; তবে শেষপর্যন্ত তা কতটা সঞ্চারিত হতে পারলো, সেটা অবশ্যই বিচার্য বিষয়।
ধন্যবাদ।
কবিতা: কবিতা "হ্যালো' বলছে!
-------------------------------------------
কবিতার কল্ আসছে,
বন্ধু ব্যস্ত ক্ষণ!
ভিড়ের জলে ভাসছে,
কাব্যের দ্রবণ!
কবিতা অবুঝ এমনই,
বেলা অবেলায়;
বুকের মাঝে ফিনকি,
বর্ষা হতে চায়!
কবিতার কল্ এলেই,
কুঞ্জ তলে মন;
ফুটপাতেই বসে খাই,
বনের ভোজন!
কবিতা 'হ্যালো' বলছে,
অনঙ্গ আপন!
সিগন্যাল লাল ভাঙছে,
ধরো, মরো পণ!
কবিতার কল্ বাজছেই,
শুদ্ধ ক্ল্যারিয়ণ!
একবার ধরতে নারলেই,
অরণ্যে রোদন!
------------------------------------------------------------------------------
স্মৃতির সহমরণ!
---------------------
চেনা ঘাটের স্মৃতি -
সাপের খোলসের মতো
নিঃশরীর হতে হতে,
ভেসে যাবে অনন্ত শয্যায়!
জল কাদা, গুলে মাছ,
গরান গাছের ছায়া;
হরি পালের দোকানে
নিত্য দই চিড়ে খাওয়া !
লক্ষ কোটি জলকুচি মেখে,
লোনা পাড়, রোদ চিকচিকে;
ছায়াপথে নেবে আশ্রয় !
মাঝি মল্লারের নিত্য কোলাহল,
হেইসা ধ্বনি, জোয়ারের কল্লোল ;
শেষ ট্রেনের ভো'য়ের মতন
নিস্তব্ধ হবে একসময় !
ফিরে যাওয়ার আগে,
বন্ধ হবে ফেরার পথ;
একা হবে রোদ আর
শিশিরের আচমণ !
অদৃশ্য হতে হতে,
বিলীন হবে আকাশ রেখা;
সাঙ্গ হবে,
স্মৃতির সহমরণ!
ঘাটে ঘাটে নৌকা ভেড়ে, আবার চলেও যায় ফেরৎ সাগরে। এর মাঝে, কয়েকদিনের জন্যে - পাড়ের সাথে গড়ে ওঠে নতুন সম্পর্কের সীমান্ত। তৈরি হয় স্মৃতির ভালো মন্দ। কিন্তু সে সব ছেড়ে, ফিরতে তো হয়ই একদিন। সেই ফেরার সাথে কি, সেই সব স্মৃতিরও বিলুপ্তি হয়ে যায় চিরকালের মতো? এই প্রশ্ন থাকলোই।
ছবিটি, কাঁথির পেটুয়াঘাট সমুদ্র মৎস্য বন্দরের!
------------------------------------------------------------------------------
নিখোঁজ তিস্তা;
কেউ জানে না -
গভীর সে রাতে, ডেকেছিল
ভয়ঙ্কর প্লাবনের নাদ!
দাঁড়াতে পারেনি;
টলোমলো পায়ে, ভেসে গেছে
দূর্যোগের সর্বহারা চাঁদ!
সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গে, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও তার ফলে ভয়ঙ্কর নদী-প্লাবন ও প্রবল ভূমি ধসের কারণে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা এককথায় অচিন্তনীয়।। প্রাণহানি সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজন এমনকি তাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, ভয়ানক এই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করার সাথে সাথে, সকল দূর্গত মানুষের দ্রুত বিপদমুক্তির প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে।
------------------------------------------------------------------------------
আগুনের নেই হৃদয়!
?!?!?!?!?!?!?!?!?!?!
কোনোকিছুই আজ বিস্বাদ নয়!
বিষাক্ত সাপের মতো, ছুটে বেড়ায়
শিরায় উপশিরায় ; খুঁজে বেড়ায় নিষ্পাপ শিকার!
ইঁট, কাঠ, পাথর ...অনেক হয়েছে;
অনেক পুড়িয়েছে নিষ্প্রাণ!
আগুনেরও চোখ আছে,
কান, নাক.......!
শুঁকে দেখে ছাইয়ের স্তুপে..;
হ্যাঁ, ওই তো পোড়া মানুষের ঘ্রাণ;
ওই তো চাপা, অবদমিত আর্তনাদ -
"আব্বু আমাকে নাও!"
আগুনের হৃদয় হয় না;
হৃদয় হতে নেই!
কারণ হৃদয়ে সাগর থাকে;
দিন থাকে, রাত্রি থাকে!
পুড়ে যাওয়া
কালো নিউজ প্রিন্ট গুলো তাই
ব্যথা নিয়ে
ফিরে আসে 'প্রথম আলো'য়!
সাত বছরের আয়েষার কথা,
দগ্ধ হওয়ার সে তীব্র যন্ত্রণার ব্যথা
হৃদয় দিয়েই অনুভব করতে হয়।
আগুনের হৃদয় নেই!
আগুন নিজেই নিজেকে খায়!
নিজে পুড়ে, অপরকে পোড়ায়!
অগ্নিসংযোগকারী হাতগুলো
শিক কাবাবের মতো পোড়ে
অলিগলি, রাজপথ, শহরের মোড়ে !
কত দূর বাকি তবে পুড়তে হৃদয়?
------------------------------------------------------------------------------
বাসা বদলে নিয়েছে চড়ুই!
∆\∆|∆\∆|∆\∆∆|∆\∆|∆
কড়িকাঠের ছই তুলে,
চকমিলানের গাড়ি বারান্দায়;
ভিড়ত তরী ভেজা চুলে,
রোদ পেতে শেষ বিকেলবেলায়!
কখনো নীল নত আসমান ছিল!
মায়ের মতন মুক্ত হয়ে,
রোদ দিত ফুলবড়ির থালায়!
পাতার ফাঁকে শিশির গলে,
পড়তো সিধা ঘাসের ডগায়!
কখনো জাফরি কাটা আরসা ছিল!
ক্ষ্যাপা বাতাস ছড়িয়ে দিত,
গন্ধরাজের গন্ধ হাওয়ায়!
খিলান তোলা জানলা দিয়ে,
ঢুকতো শশী রাতের বেলায়!
কখনো ঘরের মাঝে হাট ছিল!
হাঁকডাক আর কাঁকন বাজা,
ভরতো উঠোন খুশির তাসায়!
দিন দুপুরে ডাহুক ডাকা,
নাচতো শালিক সজনে শাখায়!
একদিন সব বদলে গেল!
আকাশ ফুঁড়ে উঠলো পাহাড়,
দিগন্ত যে পড়লো ঢাকা!
গুহার খোপে ফিরলো মানুষ,
পায়রারা নয় যে একা!
তোরণের মাধবীলতায়,
শালিক জোটায় নতুন সই;
বহুতলে নেই কড়িকাঠ,
বাসা বদলে নিয়েছো চড়ুই !
------------------------------------------------------------------------------
রাজপথ, ঝড়খালি, ছাতিম কুঞ্জ ..!
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
নতুন প্রেম বুঝি!
মৌচাকে ধুনো দেয় কেউ
মধুই রুটি রুজি!
না! ছন্দ ভালো লাগে না আর!
মন ভালো নে.ই ঠাকুমার!
ফুটপাত ধরে হেঁটে যায়
একগাদা মোবাইল-কর্ণ কিচিরমিচির!
রোদ্দুর যতটুকু গলে পড়ে পথে,
তাতে শীত কাটে না বাবাজির!
ছাতিমের মাথায়,
দুপুর রোদের শিরোপা;
পায়ে বিগলিত ঝরা চূর্ণ!
ফাটা ঠোঁটে অবলোকন করে সাধু,
মলিন লাল শোয়েটার;
ছেঁড়া জামার নীচে তাকে,
ঢাকতে পারে না একখানা বোতাম!
এক ভোটে নাকি সরকার যায় না!
অপেক্ষা শুধু;
খালি পায়ে চরে শালিক, চড়ুই নিরবধি;
চায়ের ঠেকের অতিথি!
ভালো হত,
রাজ বাণী শুনে খালি পেটে ওড়া যেত যদি!
মধু চাই....! চাই আরোও ঘাম রক্ত!
রাজপথ, ব্যালকনি, ঝড়খালি, ছাতিম বৃক্ষ ;
ফকিরের চোখে শূণ্যতা, গলায় হার রুদ্রাক্ষ!
------------------------------------------------------------------------------
ভিড়ের পা দানবের!
---------------------------
সে গাছেদের হোক কি মানুষের;
পিল পিল করে
প্লাবনের জলের মতো
ঢুকে পড়ে বিতনুর মাঠে!
ঘুরে দাঁড়ালেই, পিষ্ট হওয়ার ভয়!
ভিড়ের পা দানবের,
ভিড়ের মাথা কলের পুতুলের।
কনিষ্কের শহরে আবার মাথার দাম কি!
শাল, সেগুন, পিয়াল
ভিড়ে কেউই আলাদা নয়!
খাওয়ার টেবিলের রোজকার বিতর্ক টুকু
আপাতত মিশে যায় বৃন্দ গানের হ্রেষায়!
সমুদ্রের মুখে অগ্নিসংযোগ করে লাভ কি।
ভিড়ের সভ্যতায় একটাই মাইক্রোফোন;
বাকি সবই বোবা প্রশ্ন, অরণ্যে রোদন!
------------------------------------------------------------------------------
স্তাবক শাবক!
""""""""""""""""""""
হাতীশালে হাতী, ঘোড়াশালে ঘোড়া,
ডগ স্কোয়াডে উন্নত ল্যাব্রাডর;
সৈন্য - সামন্ত, দ্রোণ- দ্রোণাচার্য,
মন্ত্রী সান্ত্রী, আদর সমাদর
কোনো কিছুর অভাব নেই!
দিব্যি উপচে পড়ছে রাজ কোষ;
বিলাস ব্যাসন, হুকুম - হাজির,
সীমায় নেই আক্রমণের নির্ঘোষ!
রাত্রির বোবা নীরবতায়,
রাজার ভাবনায় কূল নেই!
রাজ্য তো শুধু সীমান্তে
ঘেরা ভৌগলিক ক্ষেত্র মাত্র নয়!
নিষ্প্রাণ, ভঙ্গুর পাহাড় কিংবা
কর্তনযোগ্য নিশ্চুপ অরণ্যময়!
তাতে শ্বাপদ, মকর, হরিণ, বানর
আছে কীট পতঙ্গ; খেচর, নকুল
প্রজাপতি, কত না ক্ষীপ্র ভুজঙ্গ!
আছে মানুষও!
কুকুরের শাবক কুকুর হবে;
কেউটের বাচ্চা কেউটে!
মানুষের পোলা মানুষ হবে,
তবে স্তাবক হবে কে সে?
এক রাজ্য, এক রাজা;
ভিন্ন তবে কেন প্রজা?
পরিচয়টা এক হলেই
গাইবে সবাই রাজার সুরেই!
রাজার স্তাবক শাবক চাই!
------------------------------------------------------------------------------
প্রথম লাইনটিকে কবিতার শিরোনাম ধরা যেতে পারে !
অরণ্যের বুকে, দীর্ঘশ্বাস বেঁচে যাবে!
স্ফুরিত হবে, আড়ষ্ট ওষ্ঠ;
দীর্ঘ চুমুর স্পর্শ, বেঁচে যাবে!
বিচ্ছেদের আগের
বেদনাকে জাগিয়ে দেখো!
বিদায়ের পরে, আফশোস বেঁচে যাবে!
ভরা জৌলুসেও, একাকী হবে;
তবু সে একাকীত্ব বেঁচে যাবে !
অমিলের আগের
কিছু শব্দকে ভেঙে দেখো!
ভাবনার চরে, নয়া স্রোত বেঁচে যাবে!
কবিতার দেহ, উদ্ভিন্ন হবে;
নব কল্প দৃশ্য বেঁচে যাবে!
কয়েকদিন আগে, এক ফেসবুক বন্ধু (নাম প্রকাশ সমীচীন নয়, তাই করলাম না) তার পোস্টে লিখেছিলেন, আমার বুকে এখন ঝড়ের আগের নীরবতা। কথাটা ভীষণ কাব্যিক কিন্তু একই সঙ্গে তার মনের অবস্থার কথা চিন্তা করে কিছু বলার প্রয়োজনও অনুভব করেছিলাম। তাই কমেন্ট বক্স খুলে কিছু লেখা যায় কিনা ভাবতে লাগলাম। দেখি, যে লাইনটি মনে আসলো সেটি বেশ পুলকিত করার মতো। ঝড়ের আগের নীরবতাকে ভেঙে দেখো..... !
তারপরে, যা হয়; মনে হলো, একটা কবিতাই লেখা যাক না হয় এটা নিয়ে। তাই লিখলাম।
বাকিটা আপনাদের বিচার!
------------------------------------------------------------------------------
সুখে, অ-সুখে শীত!
^°^°^°^°^°^°^°^°^°^
শিশির যাচে আঁখি;
রোদের পিঠে সুখের ঘর
বাঁধে শীতের পাখি!
জলের চোখে ছায়ার চর
পাড়ের বুকে ঝাঁকি,
স্নানের শেষে মরুর থর,
স্রোতের আঁকা আঁকি!
পিঠের মাঝে পুরের গড়,
বসত করে সুখী;
খেজুর রসে উথলে ঝড়,
কুয়াশা চন্দ্রমুখী!
গোলায় ভরা সোনার খড়,
ঝরছে পাতা পাকি;
গাঁদার শাখায় পুষ্প বর,
দেবীর পুজা বাকি!
রোদের মেলায় স্বয়ংবর
প্রভাত সূর্যমুখী;
রাত্রি হলে মায়ের আদর
খুঁজবে খোকাখুকি!
আকাশ খোলা চাঁদ নগর,
আগুন মুখোমুখি;
দানের কাঁথা হ'লে সাগর
জাহাজ খোঁজে সখী!
------------------------------------------------------------------------------
বিকেলের
শেষ রোদটা যখন
উঠে যায় - দোতলার বারান্দায়,
সমুদ্র হয়ে যায় ফুটপাত!
চরের মায়ায় যারা বসেছিল ঠায়,
তারা সব ডানাহীন!
পলকা পালকের তলায়,
জীবনের শেষ উষ্ণতাটুকুও
যখন ফেরার হতে চায়;
পরম আশ্লেষে তাকে,
আত্মজের মতো টেনে রাখে
আপন বুকের খাঁচায়!
ছাতিম তলে,
ছেঁড়া ফাটা ত্রিপলের নীচে;
হিম শৃঙ্গের তলদেশ বাঁচে!
আরক্ত লাল ঠোঁটে, সুফী সোহাগ মেখে;
অতলান্তিক ভেদী,
হিম শৃঙ্গের চূড়ায় - রাত্রি গভীর হলে,
টাইটানিকে হলুদ - আগুন ওঠে জ্বলে !
------------------------------------------------------------------------------
ছায়া হীন উড়ান!
----------------------
ছায়া আসলে কোনো নাম নয়,
নামের মায়া মাত্র!
নির্দিক নীলে ওড়া নীলকন্ঠ হোক
কি বালির গর্ভে গুপ্ত বারিধারা;
ছায়া হীন ডানা কিংবা
শব্দ হীন স্রোতের মতো
মোহ হীন, অলীক;
দ্রোহ হীন, অনীক!
মাঝে মাটির বুকে,
মায়ার ডিম ফুটে বড় হয়
আগামী দিনের মৃত্যু শাবক!
ঝঞ্ঝা -ঝটিকা
রৌদ্র- রাত্রি;
জ্যোৎস্না- জানাজা
চুম্বন- ছুরিকা
আর অশেষ সৃষ্টি ও লয়ের
মাঝে দিনগত কুরুক্ষেত্র লড়ে
নামের সুখীরাম, নামের দুখিরাম;
হেঁটে যায়,
টেসে যায়!
ফলবতী কাঠ বাদামের ছায়া
লম্বা হয়, উদয় থেকে অস্ত!
ছিন্ন বট পত্র, একবার
জলে খসে পড়লে
তা জলের হয়ে যায়!
শুধুই ছায়া যুদ্ধ;
সেই উচ্চতা কিংবা গভীরতার মাঝে
সহ্যসীমা থাকে সদা অনতিক্রান্ত!
মায়ার টানে
সকলেই পাগল;
সকলেরই প্রেম পবিত্র!
------------------------------------------------------------------------------
নিউটনের প্রেমের টান!
------------------------------
শোন্ বেশি দেখাসনে তুই কাব্যি!
আমার ঠোঁটে শিশির জমছে;
ভোরের রোদ হয়ে, কবে নাইবি?
দূরের মাঠে নামছে আকাশ,
মাটির বুকে আলগা বাতাস;
গোষ্পদ হয়ে কবে
তৃণ দলবি?
রোদের বসন খুলছে পড়ে,
বনের মাথায় আগুন ওড়ে;
দহন সয়ে কবে
অথৈ ডুববি?
বইছে সুবাস বকুল ফুলে,
বাঁশের পাতা জমছে কোলে;
ঝড়ের মুখে মুক্ত
কবে উড়বি?
আপেল ক্ষেতে মিছেই ব'সে,
গোলাপ ঝরছে খসে খসে;
নিউটন হয়ে কবে
বুকে ধরবি?
------------------------------------------------------------------------------
জানালায় নিঝুম ম্যানগ্রোভ ছায়া;
শ্বাসমূলের ক্লান্ত চলাচল!
অন্দরে শায়িত দুকূল ভরা নদী,
বসত ভাঙা তীব্র ঝড়জল!
একবার হাট ভেঙে গেলে,
ফেরার পথ মিশে যায়
মোহনার নীল অখিলে!
তারপরে জানালায়-
আঁধারের পীতবাস ওড়ায়
অন্তরীক্ষের পরম দয়াল!
মাঝে শূন্য ব্যবধান গ'ড়ে
নিঃশরীর হয় মাটি;
সলিলে ছিন্ন শিকড় ধুয়ে যায়!
কখনো, পথ ভুলে গাঙচিলে
উড়ে যদি আসে বাতায়নে;
একদা যে হৃদয় সাগর ছিল,
বুঝি ভুলে গেছে ব্যস্ত জনে!
------------------------------------------------------------------------------
কবিতার নামঃ চাঁদজল!
দেবাশিস জানা
চাঁদজল নিয়ে চান ঘরে যাস;
মুকুল ফোটার মরসুমে!
ভেজা চুল থেকে
কুয়াশা টপকায়,
পর্ণমোচীর অরণ্যভূমে!
পাহাড়ের বুকে হাত রেখে বল,
বয় কিনা রেত বাঁধ ভাঙা জল!
উচ্ছ্বল লয়, উপত্যকায়
বালির চরে ঢেউ চুমে!
উঠোনে আজ শীত নেমেছে,
মুক্ত তনু তাই ভিজে যাস!
আগুন জ্বেলে যারা ঘরে
বনভোজনে মাঠে যায়;
নদীর ঘাটে বাঁধা তরী,
এখন জ্যোৎস্নার ঋতু মাস!
------------------------------------------------------------------------------
পাতালবাসে প্রেম!
===========
বোমারু বিমানের বারান্দায়
জ্যোৎস্না নামে; চোখ থেকে
কুন্ঠিত কুন্তল সরিয়ে
ধরিত্রীর আয়নায়
নির্জন হয়, প্রেমহীন পরাভব!
নিশ্চল, নিরুত্তাপ - ঊর্মি সাগরবেলায়
অভ্র কুচি ছড়ানো আড়ষ্ট
আঁচল জুড়ে শুধুই ধুলোর ঝড়!
কেউ কি আছো চন্দ্রাতপ তলে,
বিছাবে শয্যা শুদ্ধ শিশির জলে!
জ্যোৎস্নার অপেক্ষা দীর্ঘ হয়!
প্রিয় নীড় শূণ্য
প্রবাসী প্রেম
পাতালবাসে বিলীন!
নগর, রাজপথ অলিগলি;
প্রাসাদ কুটির
উজির ফকির,
চঞ্চল চিৎ কাঠবিড়ালি;
জীবাশ্মের রাতদিন!
তবু অবলোকনের মায়ায়
জ্যোৎস্না নিভৃতে,
শূন্য তরণী পানে চায়;
ধ্বংসস্তূপের বুকে
সে রূপোলী তরী হতে
শুধু বিভূতি চূর্ণ গড়ায়!
------------------------------------------------------------------------------
হাওয়ায় ফতুয়া ওড়ে
কাকতাড়ুয়ার!
পতাকার পতপত শব্দেরও
জাদু আছে বটে!
দমতোড় যুদ্ধ খিঁচে যায়!
কাল পেঁচারা রাত্রির মেহমান!
মাটির ওপর আকাশ টোপর
অর্ধবৃত্তাকার।
তাতে ফুল থাকতো সাজির মতো
আজ মৃত্যুর মহা শয়ান!
পেঁচার চোখে নীল নক্সা
জ্যোৎস্নাকে গিলে খায়!
ফসলের ভেতর গ্রাম, শহর
মরু, বন্দর;
আনন্দে বাঁচতে চায়!
------------------------------------------------------------------------------
কবিতা দিবসে - চলো, কবিতা শুনি!
-----------------------------------------------
চলো, কবিতা শুনি!
ছোট এই পথ;
নির্জন, তুমি আমি!
বাকিরা সব গল্পে ব্যস্ত;
নিজেদের, সুখ দুঃখের ....!
কেউ কেউ সমুদ্র পাড়ে বসে
জীবনের ক্যানভাস বড় করে নিচ্ছে
উপন্যাসের মতো!
আমরা ছিটকে পড়া নক্ষত্র;
নয়া উপনিবেশ গড়ার ব্রত!
জানো তো,
ভূতে পাওয়ার মতো, কবিতায় পায়!
দূরে দূরে হেঁটো না!
কাছে এসো;
কাছে, আরোও...কাছে!
আরোও..., নিবিড় করে
এক দেহে - একাত্ম হয়ে যাই!
তারপরে, কেয়া ফুলের মতো
চারিদিকে - সুগন্ধ বিলাই!
------------------------------------------------------------------------------
বৃষ্টি ঝরা ঈদের ভোরে কিছু খুশির মুহুর্ত ও একটি পুরো কবিতা!
কবিতা - খুশির চাঁদ
--------------------------
ব্রহ্মগ্রাসী অগ্নিশিখায় পুড়ছে আকাশ আজ;
ধোঁয়ার দেশে হারিয়ে গেছে, তারার চুমকি সাজ!
বাজছে বাঁশি আর্তনাদে ভাঙছে তুমুল বাজ;
শান্ত হলে শুনবে খোদা, ঈদের পাক নামাজ!
ছুটবে শিশু দম খুলে, চিত্ত সরফরাজ;
সুরমা চোখে ঝলমলে, মাথায় জরির তাজ!
জ্বলবে বাতি মসজিদে, আতর ঢালা সাজ;
বারুদ পুড়ে ছাই হলে, হারবে যুদ্ধবাজ!
কাতার নেমে পথ জুড়ে দলবে ধ্বংসরাজ;
দুহাত তুলে প্রেম চেয়ে, গড়বে মেহতাজ!
যেমন জলে মেঘ ধুয়ে, আকাশ নীলি ছাদ;
নিভলে অগ্নি, কাস্তে সম উঠবে প্রিয় চাঁদ !
------------------------------------------------------------------------------
আমার হৃদয় কেড়ে নাও তুমি
ওগো আমার প্রিয়!
শূন্য হাতে ফেরাও আমায়,
শূন্য হতে দিও!
আমার হৃদয় জিতে নিও!
------------------------------------------------------------------------------
অন্য কোথাও, অন্য কারও!
""""""""""""""""""""""""""'"""""""""""'"""
অন্য কোথাও বৃষ্টি হয়েছে বোধহয়,
বৃষ্টি ভেজা ঠান্ডা হাওয়া আসছে
আমার শোবার ঘরে।
মাথার কাছে জানালার ধারে
আম গাছটির ভারী আনন্দ;
স্ট্রিট লাইটের আলোয়
পাতাগুলো বেশ নাচছে বিজয়ীর মতো!
আম গুলোও হাওয়ায়
সুন্দর দোলদোল খেলছে!
পাশের বাড়ির টিভিতে
জোর শোর চলছে খবরের চ্যানেল!
কালবৈশাখীর ঝড়ে
প্রবল ক্ষয়ক্ষতি; গাছপালা ভেঙে,
চালা উড়িয়ে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে
একেবারে সব তছনছ!
বিশেষ করে,
আম প্রচুর নষ্ট হয়েছে, নির্বিচারে পড়ে গেছে ঝড়ে!
ঠান্ডা হাওয়ায় চোখ জড়িয়ে আসে।
পাশ ফিরে শুতে গিয়ে
মনে মনে বলি,
এ যাত্রায় অন্তত
আমার গাছের আম গুলো গেল বেঁচে!
ঝড় বৃষ্টি ...অন্য কোথাও হয়েছে!
------------------------------------------------------------------------------
বেনাগরিক ঢেউ!
-_-_-_-_-_-_-_-_-_
ব্ল্যাকবোর্ডের জনপদে
বিমূর্ত হচ্ছে কিছু মানুষ!
হীরের মতো ধারালো খড়ির আঁচড়ে
ইতিহাস আজ কাঁচের ঘর;
ডাস্টারের হাতে উধাও তত্ত্ব,
দিচ্ছে মুছে তাজা ঘাম রক্ত;
মাটির মধ্যে মরণের ঘর!
ব্ল্যাকবোর্ডের আকাশে
নির্জন হচ্ছে মানচিত্র;
মান্ডির পথ, কালীর নগর,
শ্যাওলা পড়া দিঘির পাড়ে
শাল শিরীষ, বাউলের ঘর!
ব্ল্যাকবোর্ডের বাতাসে
নিস্তেজ হচ্ছে কোলাহল;
শিবের গাজন, টুসু ভাদু
কবির গান, আজানের স্বর!
ব্ল্যাকবোর্ডের মাটি কৃষ্ণ শোণিত,
নির্জীব হচ্ছে দ্রোহের সময়!
রুদ্ধ দীপের অগ্নিশিখা;
কাঠ গোলাপের সুরভী শুধু
ঘোরে পীরের কবরময়!
ব্ল্যাকবোর্ডের আজব ধারা,
মুছিয়ে দিতে সময়টুকুই!
আজ যাকে সাগর বলি,
কাল তাই বেনাগরিক ঢেউ!
------------------------------------------------------------------------------
যাচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি ;
ঘুমের ঘোরে আচমকাতে
উঠেছে শিশু ডরি!
মায়ের বুকে কেমনতর
চাঁদের মুখে মেঘের গেরো,
জানলা খুলে হেরি!
দিচ্ছে পাড়ি বুক মাড়িয়ে
মাটির পথে হুড়মুড়িয়ে,
ধুলোয় দৃশ্য ভরি!
লৌহ চাকার তপ্ত খাঁজে
শিমুল তলে ভরা সাঁঝে,
ছিন্ন ফুলের কাঁড়ি!
যুদ্ধ বুঝি লাগলো ভবে
কাঁপছে গৃহ রুদ্ধ রবে,
বুকটি শূণ্য করি!
এমন ক্ষণে শঙ্খ হাতে
জানেন মা জাগিয়ে দিতে
বর্গী এলে বাড়ি!
------------------------------------------------------------------------------
অগ্নি ব্যূহ!
_-_-_--_-_-_-_
দহন কুশলী গ্রীষ্মের কাছে
নতমস্তক - তরু পল্লব,
গুল্ম শাখী মহিরূহ;
পত্র শুষ্ক জর্জর,
বৃন্ত দগ্ধ নির্জল;
নির্দয় আকাশ তবু,
অগ্নি ঝরায় অহরহ!
ম্রিয়মাণ শাল, কৃষ্ণচূড়া
জারুল, সেগুন নির্মোহ;
পদ্ম পত্রে ঝরে অনাসক্ত
ছিন্ন দলের সমারোহ!
দহন জ্বালা অনিঃশেষে
অবাক পাতার দাহ;
তেঁতুল পাতায় উচ্ছেদ
আজ, বেঁচে থাকা দুঃসহ !
বকুল, শিরিষ মেহগনি
কান্ড তলে মধুমেহ;
সইবে তবু, বৃষ্টি কভু
চাইবেনা ভুলে কেহ!
ঋজু সরল চিরহরিৎ
অরণ্যে তৃণ সহ,
অগ্নিস্রোতে ডুবছে সবে
নৌকার নেই মোহ!
দহন কুশলী গ্রীষ্মের চোখে
নীরবতা - শূণ্য দ্রোহ;
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নির্বিচারে,
চারিদিকে অগ্নি ব্যূহ!
------------------------------------------------------------------------------
সম্প্রীতির ভাঙা হাটে,
ফিরেছে যে যার বাটে!
একাকী দাঁড়িয়ে তিনি,
ফেরাতে সাগর তটে!
------------------------------------------------------------------------------
তিমিরাবাস!
"""""""""""""'""'"
তিমিরের স্বভাব
তিমিরে থাকার;
আলোর স্বভাব আলোতে!
মাঝখানে জমা আবছায়া
বদলে যায় গোধূলিতে!
This is actually the grey area!
Can you identify it?
ভালোবেসে তুই গালি দিলেও সই;
আসলে কতটা চিনি আছে অমৃতে,
ভাবি আর ভাজি ব'সে খই
ভরসা নেই সে প্রিয় চামচেই!
ডবল ডিমের ওমলেট তাও
ডবল কুসুম সংখ্যাতে;
চোখের নীচে জমলে চর্বি
পারবি কী আর আগুন খেতে?
------------------------------------------------------------------------------
ভক্ত ভিড়ে জনগণ!
------------------------
জল তুলছি আঁজলা ভ'রে ,
আগুন তো নয় খেলে মরে!
কন্ঠতলে তৃষ্ণা এমন,
তপ্ত গিরির চূড়া যেমন;
অবাক চক্ষু দ্বয়!
বুক নিঙড়ে বড় করা,
রক্তজলে নদী গড়া ;
মুঠোর নীচে বয়!
যজ্ঞ স্থলে দক্ষ রাজা
দর্পে মাটির ক্ষয়;
বিষ্ণু ভৃগু সবাই থাকেন
যজ্ঞেশ্বর দূরে রয়!
আত্মাহুতি দিলে সতী
জানিস তো কী হবে ক্ষতি?
উঠবে জেগে শিবের মতি
গড়বে মহা আলোড়ন!
সতীর দেহ ছিন্ন করে,
গড়বি দেউল ব্রতীর নামে?
শোন রে পাষাণ মন;
মূর্খরাও স্বর্গে থাকে
স্বর্গে করে বিচরণ!
মর্ত্য ধামে শক্তি পীঠে
ভক্ত ভিড়ে জনগণ!
--------------------------------
ঝিলমিল ঝিলমিল!
তারে ঝুলে থাকা আড়ষ্ট জলবিন্দুর মতো
তোমার সম্মতি, শুধু এক শালিকের
উড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়
আলোর সাথে কপট লুকোচুরি খেলে!
ঝিলমিল, ঝিলমিল!
আমি মাটি;
শ্রাবণের গহন তৃষ্ণা আমার বুকে!
হাওয়ার সাথে একবার সাথ দিয়ে
এসো দেখি সে তরী ঠেলে!
রুদ্ধ ইস্তেহারের
উদ্ভিন্ন হওয়ার শেষ শর্ত আজ তোমাকে ঘিরে!
অসুরের মতো নিভৃতে
তোমার সকল অমৃত শুষে
আমি তোমাকেই অমর করে যেতে চাই
কুসুমে বৃন্তে ফুলে ফলে!
নির্ঝরে ছল ছল প্লাবনে সমুদ্দুর;
রোদ্দুরে থর থর শাসনে সুমধুর !
শৈশবে, যৌবনে কিংবা বেলা শেষের বেলায়
অলঙ্ঘ্য আলিঙ্গনে জড়িয়ে রেখো
তৃষিত এ বুকে ছায়া ফেলে!
হে প্রিয় বিটপী
ঝিলমিল ঝিলমিল!
--------------------------------
প্রিয় আঁখি
উত্তম!
দেবাশিস জানা
তোমার নজরে
একটা সুররিয়াল সিঁড়ি আছে!
ধাপে ধাপে অপেক্ষা আর
ব্যাকুলতার অধিত্যকা পেরিয়ে
কাজল কালো ছায়ায় -
নীলমণি দিঘির জল ছলছল;
ডানা মেলে’ পারিজাত পল্লব,
আদরের নীল গাই খোঁজে;
অন্দরে আকাশ ঘুমায়
নিশীথ রবির ঘুমন্ত চলাচল!
তুমি পলকের তীরে
মৃত্যুকে টেনে আনো
পৌলমী নদীর কিনারে;
হরিণীর মত পিপাসার শেষ ইচ্ছা নিয়ে
জেগে ওঠো আকুল গহন নিরুপম;
তুমি চির, সকলের প্রিয় আঁখি উত্তম!
--------------------------------
হাইওয়ের চাঁদ
এখন ধাবায় ডিউটি করে!
সমুদ্রের ঢেউয়ের মত
তীরে ফেরা কিংবা তীর ছেড়ে চলে যাওয়া
স্রোতের মাঝে চাঁদ একাই নিষ্কাম, শোকহীন।
ঠাণ্ডা ভাতের মত জ্যোৎস্না ঢেলে দেয়
কুয়াশাভেজা শীতল কলাপাতায়।
হাইওয়ের চাঁদ
এলোকেশী সুগন্ধিবসনার খোলা বুকে
থেকে থেকে চিকচিকে বালি ওড়ায়।
চোখাচোখি হতেই, খয়ের গাছের ফাঁক দিয়ে
হোগলা বনের মাঝে –থমকে দাঁড়ায় আনত পিলসুজে!
যেন কত আলোকবর্ষ অতিক্রম করতে বাকি!
মাত্র দশ মিনিটের বিরতি,
পান্থশালা ছেড়ে চলে যাওয়া পথে
জানালায় জানালায় চাঁদের বেহদ উঁকিঝুঁকি,
আবার কবে ফিরবে তুমি?
রাত্রির মুখে উগান্ডার প্রাংশু ছায়া;
নিরুত্তর প্রাসাদে নিরন্তর কড়া নাড়া!
হাইওয়ের চাঁদ তবু অদম্য;
দৌড়ায় যেন অনাথ হতভাগা শিশু।
ছিন্ন ভিন্ন দেহে, বিভাজিকার
করবী, টগর, বটলব্রাশের ঝোপঝাড় ডিঙিয়ে
ছুটে চলে নদী, খাল কারখানার চিমনি ছাড়িয়ে
দিগন্তরেখার উঁচু নিচু;
এ যাত্রায় তার হারাবার নেই কোনো কিছু।
-------------------------------
কদম্ব গ্রন্থন!
()()()(()))()
কবরীর প্রান্তটুকু আজ
বৃষ্টিতে ভিজে হোক ক্ষান্ত;
জনান্তিকে সে মগ্ন সুবাস
হৃত চিত্তে হোক জাগ্রত!
প্রিয় জলঙ্গি আজ অনেক দূরে!
পাকা ব্রিজ, কাশ বন, পাটের ক্ষেত,
রূপালি জল, বাঁকা ঝিকমিক রেত;
দুপুরে সূর্য রোজ চুমে যেত তারে!
সে চুম্বনে পরিণয় নেই,
আকাশে চঞ্চল মেঘের ঘুড়ি ওড়ে!
যেমন আদরের ঘূর্ণি
জলঙ্গি হয়ে ভাগীরথীতে পড়ে;
জলবিভাজিকার নাচে
ফুলে ফুলে ওঠে রোমাঞ্চ গ'ড়ে!
কবরীর প্রান্তে আজ ঘন সংবেদন,
বৃষ্টিপাতে সফল হবে কদম্ব গ্রন্থন!
-------------------------------
কলাবউয়ের কুপন!
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
মেঘের কার্নিশে আজ
লেগেছে আলগা হলুদ,
সূর্য ডুবছে বুঝি?
ক্রীত ভাবনায় টানা
অঝোরে ভিজছে বারুদ,
নষ্ট কাব্যের পুঁজি!
করবী ঝরেছে পথে
পাখিরা উড়ছে শতেক,
মেট্রোর মুখে বাতি!
সান্ধ্য চায়ের কাপে
তুফান হারিয়ে পেরেক,
বিজ্ঞাপনের বিরতি!
শারদ প্রাতে শশীর
শরীর হয়েছে শালিক,
পাকা পেঁপের প্রীতি!
শিউলি গন্ধে নকুল
খুঁজছে নতুন তারিখ,
অহি নিধন তিথি!
বটের তলে মেদিনী
কুমোর ঘরের শিশির,
দিব্যি গড়ায় মূর্তি!
হাত কচলে পাহাড়
খুঁজছে কেবল ফিকির,
বন্ধ ঝোরার মুক্তি!
কাশের বনে চাকর
দোলায় আকাশ ভুবন,
নদীর ঘাটে ঢাকি!
ঢালাই পথের ধারে
কলাবউয়ের কুপন
অসুর মুক্তি বাকি!
-------------------------------
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন