সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ব্যাংককের ধাঁচে কোলকাতায় এবার ফুড-পাথ!

  কোলকাতার street food habit সারা জগৎবিখ্যাত । সকালবেলায়  কচুরি তো বিকেলবেলায় চপ ঝাল মুড়ি;   দুপুরবেলায় আবার জমিয়ে   মুরগীর মাংসের ঝোল দিয়ে ভাত বা রুটি, সঙ্গে প্লেটের এক কোণে সুন্দর করে ফেলে রাখা - আধ   ফালি পেঁয়াজ;   চাইলে জুটে যেতে পারে তরতাজা একখানা কাঁচা লঙ্কাও । মোট কথা,   সস্তায় টাটকা খাবার  পরিবেশনে কোলকাতার ফুটপাথগুলিতে জাঁকিয়ে   বসা এই food-হকারদের  সুনাম বহু দিনের। কালো  ত্রিপলের ছাউনি - তার তলায়   চাকা লাগানো কাঠের ঠেলা থেকে বাঙালি , সাউথ ইণ্ডি য়ান,  চাইনিজ থেকে শুরু করে লাল কাপড়ে মোড়া হাঁড়িতে বিরিয়ানি সবই পাওয়া যায় গরম গরম; সঙ্গে থাকে চলমান ব্যস্ত শহর ও তার ধোঁয়া-ধুলো মাখা প্রবহমান চলচ্ছবি, যেন গরম ভাতের উপর সরস পাতি লেবু, নজর ঘোরানো যায় না। এ তো গেল str eet food এর বৈচিত্র্য  কাহন। আসলে কোলকাতার রাস্তায় প্রচুর Street food পাওয়া গেলেও, সে অর্থে নেই কোনো food street।  যদিও শহরবাসী এবং শহরে বিভিন্ন সময়ে বেড়াতে আসা অতিথিদের কাছে ধর্মতলার Dacres Lane বা পা...

রাত্রির পথে কে এমন বাঁশী বাজায় করুন সুরে?

বারোটা বাজার পর ,  রাত ক্রমশ বিপন্ন হতে শুরু করে। কারণ মধ্যরাতের চূড়া ছুঁয়ে তখন কাউণ্ট ডাউন শুরু হয় তমসা শেষের। টিক টিক করে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে রাত্রির অন্ধকার অগ্রসর হয় ভোরের আলোয় হারিয়ে যেতে। রাতের মতই বিপন্ন হতে শুরু করে রাত্রিজীবী মানুষজনও। এমনই এক বিপন্ন রাতে, একা বসে ছিলাম মহকুমা হাসপাতালের ঠিক সামনে দিয়ে চলে যাওয়া শুনশান রাস্তাটির উপর - একমাত্র খোলা সবেধন নীলমণি চায়ের দোকানের কাঠের বেঞ্চে। আকাশে, শুক্লা নবমীর মরা চাঁদ তখন ডুবু ডুবু করছে। শীতের রাত, তাই বাতি স্তম্ভের কুসুম-হলুদ আলোও কুয়াশার থকথকে সাদায় প্রায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে। চায়ের গেলাসের ঠুং ঠ্যাং, সঙ্গে কখনো কখনো দোকানের চালায়, বটগাছের পাতা চুইয়ে পড়া শিশিরের টুপ টাপ - এই ছিল সেই অদ্ভুত রাতের নিস্তব্ধতা ভঙ্গের প্রিলিউড । যার মুল সুর বেজে ওঠে আরো খানিক বাদে; যখন ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে রাত, অথচ দেখা নেই রাতের যাত্রীদের।  বাতিস্তম্ভের নীচে প্যাডেল রিক্সার উপর কম্বল মুড়ি দিয়ে বসে মোসলেম রাতের শেষ প্রহরে এসে তার বিপন্ন আশার ভার নামায় আড় বাঁশীর সাত ছিদ্রে করুন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ফেলে। বিপন্নতার বিরল হাহাকার যেন ছড়িয়ে পড়ে ম...

উইপোকা থেকে ‘উই’কিপিডিয়ার পথে? ফিকশন কিন্তু ফেক নয় !

  ৯৮৭৬৮৫৭৩৮০ – সেলফোনের কী-প্যাডে, নির্দিষ্ট দশ অংকের নাম্বারটা টিপে ডায়াল করতেই কানে ভেসে এল – বিখ্যাত হিন্দি গানের সুরেলা মুখড়া, “পিয়া তু আব তো আ যা”!  দু এক লাইন বেজে যাওয়ার পর কেউ একজন ফোনটা ধরে ভারী গলায় একবার 'হ্যালো' বলেই চুপ করে গেলেন। কোনো জায়গায় ফোন করলে আমার বরাবরের অভ্যাস হল ঠিক জায়গায় কল করেছি কি না সেটা একবার যাচাই করে নেওয়া। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হল না। জানতে চাইলাম, “আচ্ছা, উইপোকার অফিস তো?” উত্তর এল, “হ্যাঁ, বলুন...”  প্রথমবার ফোন করেছি, তাই বেশ বিনয়ের সঙ্গে, যদিও তিনি তা জানতে চাননি, তবু গড় গড় করে তাকে জানিয়ে দিলাম ফোন নাম্বারটা আমি কোথা থেকে জোগাড় করেছি। গতকাল রাত্রে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎই আমার চোখ চলে যায় রাস্তার ধারে, বিদ্যুতের পোতে সাঁটা পোস্টারটির দিকে। A-4 সাইজের ঘন বাদামী রঙের পোস্টারটির বিশেষত্ব হল অনেক হাবিজাবি কথা ঠুসে ঢুকিয়ে দেওয়া নেই এর মধ্যে। শুধু ইংরেজিতে লেখা দুটি মোবাইল নাম্বার, আর তার মাঝখানে বড় করে ‘’উইপোকা’ কথাটি লেখা, বাংলায়।  কাছে গিয়ে, ভালো করে দেখলে তবে বোঝা যাবে বেশ কয়েকটি আবছা উইপোকার স্কেচও রয়েছে পোস্টারটির এদিক ওদিক করে। উই...

মাদাগাস্কার থেকে বাংলাঃ দেদার রংবাজি - গ্রীষ্মের পথে, প্রান্তরে।

  গ্রীষ্মের পথে জলের পীপাসা না মিটলেও, রঙের পীপাসা মিটবেই। সূর্য যখন তার অনুপম কর শৃঙ্গারে আগুন ধরায় ধরিত্রীর হোমকুণ্ডে, সুরের দেবতার অগ্নিবীণা থেকে ফুটন্ত খেজুর রসের রেশমী ধারার মত হাওয়ায় ওড়ে অগ্নিশুদ্ধ মরু মূর্ছনা; রাবাবের তপ্ত তারে ছড় টেনে টেনে আগুনের হলুদ মাখা দীপক রাগে দগ্ধ সুর ওঠে পঞ্চমে, সেই দহন বেলায় স্বর্গ থেকে ঝরে পড়ে আশীর্বাদী ফুল। ফুটে ওঠে – কৃষ্ণচূড়া   ফুরুস  কিংবা সোঁদাল হয়ে।   কৃষ্ণচূড়ার রাজকীয় লালিমা ( Royal Poinciana)  যদি  গ্রীষ্মের শুষ্ক নিরশ্রু দৃষ্টিপথে  বয়ে আনে হৃদয়ের দু কূল ছাপানো শোণিত ধারার উচ্ছল প্লাবন, কপার কান্তি কনকচূড়া ( Copper Pod) তাহলে গ্রীষ্মের নিরস দ্রিশ্যমানতায় সঞ্চারিত করে হরিদ্রাভ পরাগের তীব্র অভিসার স্পৃহা। ঝিরি ঝিরি ফার্ন সদৃশ ঘন সবুজ পাতার ভিত্তি সজ্জায় উন্মোচিত কনকচূড়ার পুষ্পমঞ্জুরি যেন অজস্র হলুদ দীপের স্বর্ণাভ পীলসুজ হয়ে ফুটে থাকে গাছের মাথায় মাথায়। গ্রীষ্মের এমন অপরূপ রং-লীলার নেপথ্যে কিন্তু  রয়েছে প্রকৃতির অভিবাসী সংস্কৃতির অবদান। যেমন - এ দেশের গ্রীষ্মে যার অনবদ্য হলুদ শিখার সৌন্দর্য সকলের নজর কাড়...

পথে নয় বেপথেই ঝরে চাঁদ থেকে মধু!

    জলঙ্গির নিস্তরঙ্গ জলে - সবে অম্বর রাজ্যের চন্দ্র বণিক ভাসিয়েছে তার রজতপঙ্খি নাও। সেতুর উপর দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, গুম মেরে থাকা সন্ধ্যার অন্ধকারটাকে,  ধীরে ধীরে চাঁদের আলোয়  দ্রবীভূত হয়ে যেতে। নদীর বুক, পাড়, বালির চর, কাশবন যেন রূপোলী রশ্মির ঝরনা তলায় শুয়ে থাকা সাপের খোলসের মত   জেগে উঠছিল লুপ্ত আয়নায় হারানো স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস হয়ে। নদীর পশ্চিম পাড়ের কংক্রিটের বেঞ্চ গুলিতে তখন বেশ কয়েকজন যুবক যুবতী চুটিয়ে প্রেম করাতে ব্যস্ত। চাঁদের আলোয়, আদরের আড়াল খুলে পড়লেও, উন্মাদনায় কিছু মাত্র ভাটা পড়েছিল বলে মনে হয় না। জলঙ্গির জলে, সেই সময় নাইতে নামা পূর্ণিমার চাঁদ যেন টলটলে পদ্ম পাতা - স্থির, নিষ্কম্প। অবচেতনের লজ্জায় সেদিনকার সেই চাঁদের অবগাহন ছিল অভিসারিণীর মত। গোপন মধুযাপনের স্বপ্নে বিভোর। সেতুর উপর, আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এক তরুন, একা। বিক্ষিপ্ত খেয়ালে সে বারবার নদীর জলে ইট ফেলে বিস্রস্ত করে দিচ্ছিল স্বপ্নের ঘোর। অহেতুক ঢেউয়ের দোলায় ভেঙ্গে যাচ্ছিল জলে ভেজা চাঁদের শরীর। পাগল করা জ্যোৎস্না ধারায় যদিও তা কোনো দাগ কাটতে পারছিল না। আসলে কিছু মানুষ, ওই ছেলেটির মত একা সেতুর উপর...