সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শক্তির 'অভিমানী প্রেমিকা'!

কই , আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও .... আমার বিড়ির মুখে। যাকে বলে , পুরো পুলক জাগানো প্যারেডি। রবীন্দ্রনাথ নিজে , অতটাও ভাবেননি ; কালে কালে বিড়িখোররাও যে বিড়ি ধরাতে গিয়ে তাঁর গান গেয়ে আগুন চাইতে পারে , সেটা নিশ্চয়ই তাঁর কল্পনার বাইরে ছিল। এদিকে পল্টুদা , দিব্যি ঠোঁটের কোনায় একটা বিড়ি গুঁজে , দাঁড়িয়ে রয়েছেন বুক চিতিয়ে; ভাবখানা এমন যেন রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন  কোনো দিশা দেখালেন তিনি।   রবীন্দ্রনাথ নিজে কখনো ধূমপান করেননি বলেই প্রচার। তবে ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা একটি চিঠিতে , বেলুড় মঠে যে স্বামীজীর ছবির সামনে প্রতিদিন অম্বুরি তামাকের ভোগ দেওয়া হয় সে কথার উল্লেখ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ, পাঠরত। ধূমপায়ীদের কাছে অগ্নিসংযোগ একটি অতি অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু পল্টুদা নিজে সে দায় নিতে চান না। তিনি বলেন , আমি রজনীকান্ত নই , যে টাকেও দেশলাই কাঠি ঘষে আগুন জ্বালিয়ে নেবো। কেউ সামনে আগুন ধরালে তবে তিনি সুখটান দেবেন নইলে নয়। দোকানের সামনে আগুন দেওয়া নারকেল...

একটি পাখির মৃত্যু!

ভোটাধিকার নেই তো কি হয়েছে , পাখি বলে কি মানুষ নয় ? তাও দেশী চড়ুই , শালিক হতো এক কথা। সেই কোথায় দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন জঙ্গলে এদের বাস ; কত রাস্তা পেরিয়ে, তবে সুদূর ভারতে আসে, পোষ্য হতে!  অতিথি হিসেবেও তো একটা আলাদা গুরুত্ব থাকে নাকি। তারপরে আবার ভিনদেশী অতিথি বলে কথা!  সম্প্রতি, সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে বিপন্ন প্রজাতি হওয়ার তকমাও জুটেছে এদের কপালে। এমনিতেই  এই  নীল হলুদ রঙের  ম্যাকাও পাখি গুলি , তাদের প্রবল সৌন্দর্যের কারণে  পক্ষী  সমাজে বেশ কুলীন বলেই বিবেচিত ; সেখানে যদি কোনো ম্যাকাওর  এমন  বেঘোরে প্রাণ যায়   তো কার শোক হবে না বলুন !  এক্ষেত্রে তো আবার , মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসায় গাফিলতি থাকার অভিযোগ। তাই ধুন্ধুমার ! থানা পুলিশ , এমনকি লোকাল এম পি ' র হস্তক্ষেপ পর্যন্ত ঘটতে দেখা গেল   সম্প্রতি এই আমেরিকান কাকাতুয়ার মৃত্যুকে ঘিরে  ! ঘটনাটি, খোদ কোলকাতা শহরের। গত ৬/১১/২৫ তারিখে,   টাইমস্ অব ইন্ডিয়ার ভেতরের পাতায় এই সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রত...

কৃষ্ণনগর রঁদেভু!

ঘোটক-সিংহ, মালকোষ রাগে সানাই, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঠাকুর দালানের প্রবেশ মুখে- ঝাড়বাতি ঝোলা লম্বা করিডোর, পদ্ম পাঁপড়ি তোলা, সুদৃশ্য সাত খিলান এবং আট স্তম্ভ বিশিষ্ট দক্ষিণ মুখী, নকশা তোলা রাজসিক নাটমন্দির, পেছনে মাটির দুর্গা বেদী, তারও পশ্চাতে - মা রাজ রাজেশ্বরী, কমলা গায়ের- দেবী জগদ্ধাত্রী; গর্ভ গৃহের চারিদিকে- সবকটি স্তম্ভের পেটে লম্বা লম্বা আয়না টাঙানো, তলায় রাজ পরিবারের সদস্যদের বসার সুভব্য আয়োজন। বৈঠকখানার মেজাজ। এখানে মা, ঘোড়ায় চড়া, যুদ্ধাভিসারিনী। ঠাকুর মশাইয়ের কথায় মূর্তিকার পালেরা তখন সিংহ কেমন জানতো না। তাই সিংহ জ্ঞানে ঘোড়াই এখানে মায়ের বাহন। কৃষ্ণনগরের, রায় বাড়ির পুজোতেও, মায়ের বাহন হিসেবে ঘোটক-সিংহ কে দেখা যায়। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর জগদ্ধাত্রী মূর্তি!  মাইকে - মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ, ভেসে বেড়ায় হাওয়ায়; প্রাসাদের বিরাম কক্ষ থেকে রাজ বাড়ির লাল প্রাকার পেরিয়ে, নহবতের দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়; ফটকের বর্শা-ফলা শোভিত লৌহ দ্বার ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে, বাইরের রাস্তার দুপাশে বসা অগুন্তি খাওয়ারের দোকান গুলিতে। রাজবাড়ীর ভেতর থেকে নহবত যেমন! তাতে কোথাও ভাজা হচ্ছে পাটিসাপট...

মৃত্যুর পরে, অভিমানী সুনীল?

পুনর্জন্মে তাঁর বিশ্বাস ছিল না একেবারেই , তবু যদি   আপনি রাজা  হতেন  তবে রাণী কে   হত  গোছের প্রশ্নের মত , তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল - পরের জন্মে তিনি কি তাঁর বর্তমান জীবনকেই পুনরায় ফিরে পেতে চাইবেন ? উত্তর দিতে বেশীক্ষণ সময় লাগাননি , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সটান বলে দিয়েছিলেন – না!   তার মানে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তাঁর জীবনের দ্বিতীয় ভাগ  চান নি!  অদ্বিতীয়, থাকতে চেয়েছেন।  পরক্ষণেই অবশ্য, তাঁর ঠোঁটের কোণায়   ফুটে উঠেছে মুচকি হাঁসি ; বলেছিলেন , সুনীল নয় ; সেরকম সুযোগ পেলে তিনি একজন মেয়ে হয়েই   জন্ম নিতে চান। কারণ , মেয়েদের জীবনটা তাঁর ভালো করে জানা নেই। কিংবদন্তী গায়িকা , লতা মঙ্গেশকরও এক সাক্ষাৎকারে   বলেছিলেন  -  তিনি আর   লতা মঙ্গেশকর হতে চান না । কারণ লতা মঙ্গেশকরের জীবনটা ভীষণ যন্ত্রণার। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য তাঁর মেয়ে হয়ে জন্ম নিতে চাওয়ার  স্বপক্ষে , মহাভারতের সময়ের এক রাজার গল্প শোনান , যিনি মৃগয়ায় গিয়ে এক প...