সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

হঠাৎ, পথে বিষাদ-ফলক!

  কয়েকদিন আগে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে, ঢাকুরিয়া ষ্টেশনের ১ নং প্লাটফর্ম থেকে বাঁ দিকে নেমে বাবুবাগান লেনের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলাম ঢাকুরিয়া ব্রিজের দিকে। দু পাশে বাড়ি ঘর দেখে মনে হয় বেশ অভিজাত পাড়া। দোকানবাজারের কোলাহল সেরকম নেই। যাও বা আছে শিষ্টতার গণ্ডীর মধ্যে। মেরে কেটে দশ থেকে বারো ফুট চওড়া হবে রাস্তা। তাই গাড়ি ঘোড়ার দাপাদাপি একেবারে নেই। পথচারীরাই এই পথের আসল হিরো। যাই হোক, এই ধরনের পথে আমাদের মত লোক যারা দু দিকের সব কিছু জরিপ করতে করতে যায় তাদের হাঁটতে বেশ ভালোই লাগে। কোলকাতা শহরে এখন জীর্ণ পুরনো বাড়ি, রাস্তায় বেরুলে খুব একটা দেখা যায় না। P romoter দের নেক নজর এড়িয়ে যে কটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে, সে গুলি “শহীদ মিনার”। এটি আমার একদম নিজস্ব মত। কেমন যেন আমার মনে হয় বাড়ি গুলি এক প্রকার শ্লাঘা, দ্যাখো আমি এখনও দাঁড়িয়ে আছি -ধরনের বীরত্বপূর্ণ বলিদানের দেমাক কে ছেঁড়া শালের মত গা থেকে ফেলতে দেয় না। তাতে কিছু অসুবিধা নেই। বরং আমার বেশ ভক্তিই হয় ওই বাড়ি গুলো কখনো নজরে এলে।                                 ...

নীরবতার উদযাপন পুকুর ঘাটের পথে!

 কথা নয়। নীরবতার সাথে মূক হৃদয়ের অ-বাক সংলাপ। নীরবতার উদযাপন। আকণ্ঠ নীরবতায় ডুবে পুকুর ঘাটের পথ বুঁদ হয়ে শোনে জলের নগ্নতায় বাতাসের ফুরফুরে সন্তরণে বেজে চলা জলতরঙ্গ। জলকে চারদিক থেকে আগলে রাখা পাড়ের কাছে তা পরকীয়া। তাই পুকুর ঘাটের পথ উৎকর্ণ নীরবতায় অপেক্ষা করে, কখন বাতাসের সে কোমল শৃঙ্গার রাগ পাড়ের বুকে সলজ্জ ছলাৎ হয়ে বাজবে। অনেকটা কামরাঙার ডালে বসা মাছরাঙার মতন। নিষ্কম্প চোখ, নিথর ডানা যেন পটে আঁকা ছবি।  নীরবতা যে এখানে নির্নিমেষ সম্ভোগ! কখন যে মীনপুচ্ছের চটুল খুনসুটিতে নিটোল জলের গালে পড়বে এক টুকরো শরমের টোল। কে জানে! পুকুর ঘাটে আসা পথের বুকে খালি নীরবতার মদিরা ঝরে যায় অবিরাম।  নীরবতার ভোজবাজীতে, ভেজা ডুমুর পাতার গা গড়ানো ফোঁটা ফোঁটা জল পুকুরের ডাগর বুকে ফুটিয়ে তোলে সুডৌল স্তন বৃন্ত, চারিদিকে যার আলুলায়িত বৃত্তাকার ঢেউ; যেন জলের উপর আঁকা নিবিড় স্রোতের আলপনা। এ পথে নীরবতার সূত্রে বাঁধা পড়ে পুকুর, পুকুরের কচি কলাপাতা-রঙা জল, জল ছুঁয়ে থাকা লাল শান বাঁধানো ঘাট, ঘাটের ধাপ, ধাপে ধাপে তার পাড়ে  উঠে যাওয়া  সহ সেই নৈর্ব্যক্তিক পথ, সবুজ ঘাস মাড়িয়ে যেটি  ঘাটে পৌঁছায়।...

"পথের পাঁচালী" র লেখক বিভূতিভূষণের কি এটাই প্রাপ্য ছিল?

 "প্রেম নেই, কেচ্ছা কেলেঙ্কারি নেই,  এমনকী খুন জখমও নেই, শুধু গ্রামের বর্ণনা - ওসব চলবে না।" জনৈক প্রকাশক "পথের পাঁচালী" কে বই হিসেবে ছাপার প্রশ্নে এই ভাষাতেই তার বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। আর একজন তো, "না মশাই কোন পাঁচালী ছাপানো সম্ভব নয় আমার পক্ষে" বলে এড়িয়েছিলেন। এখন এত দিন পরে, সেদিনকার কতিপয় প্রকাশকের "পথের পাঁচালী"র সঠিক মূল্যায়ন না করতে পারার অক্ষমতা নিশ্চিত ভাবেই আজকের সমগ্র প্রকাশক সমাজকে পীড়িত করে।  লেখক জীবনের একেবারে বেড়ে ওঠার বেলাতেই এমন প্রত্যাখ্যান আর দ্বিরুক্তি বিভূতিভূষণের মনে যে দুরপনেয় ক্ষত তৈরি করেছিল, হয়তো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা উপন্যাসের স্রষ্টা হিসেবে এটা তাঁর  প্রাপ্য ছিল না। বিভূতিভূষণ যিনি তিন-বছর ধরে অনেক কষ্ট করে "পথের পাঁচালী" লিখেছিলেন এবং শেষমেশ উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত 'বিচিত্রা'র পাতায় তারও বেশ কিছু দিন পরে পনেরোটা কিস্তিতে ছাপাতে সমর্থ হয়েছিলেন - সে কথা আমি আমার পুরনো একটা লেখায় লিখেছিলাম "পথের পাঁচালী" এবং তার তিন বছরের প্রকাশ-যন্ত্রণা" এই শিরোনামে।   এ কথা ঠিক, ...

ভোররাতে শিশির ভেজা পথে!

 শিশির ছড়ানো পথ বড় কোমল এক রূপোলী চিত্রপট, অপাপবিদ্ধ তৃণ দল পরম যতনে ধরে রাখে সে রূপোর উষ্ণীষ। রাতের অন্ধকারে শ্বাপদ জন্তু দের থেকে বাঁচিয়ে রাখে তাদের অক্ষত কৌমার্য। কেউ আসবে ভোররাতে, বড় আকাঙ্খিত। তখনো অপাদবিদ্ধ শিশির ভেজা সেই পথে রেখে যাবে তার প্রথম পায়ের চিহ্ন।    হৃদয়ের হাওয়ায় ছড়িয়ে থাকা আর্দ্রতা শীতের রাতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হতে চায় সম্পৃক্ত। সে সম্পৃক্ততা এক সময় সকল সহন সীমা ছাড়িয়ে স্খলনের অভিলাষে হয়ে পড়ে উন্মুখ। এবং অবশেষে সে  নিদারুন পতন ঘটে ঘনীভূত আবেগের; ভোররাতের পথে, পথে পাতানো তৃণ শয্যায় ছড়িয়ে পড়ে রজত শুভ্র শিশিরের কণা।    ভোররাতের শিশির ধোয়া পথ রাতের ক্লেদ মুক্ত ঝরঝরে, নবারুনের নরম আলোয় শুচিশুদ্ধ। পথের পাশে শিউলি গাছ সে পথে অবলীলায় ঝরিয়ে দেয় কমলা বৃন্তের সাদা ফুল। এমন সিক্ত পথের বুকে মধুর পেলবতা মাড়িয়ে যেতে যে বড় বাধে।  অনেক কাল আগে, মুনিঋষিরা আদুল পায়ে ভোররাতের শিশির ঝরা পথে  হেঁটে যেতেন নদীর ঘাটের দিকে। দূর্বা ঘাসের শিশির শুদ্ধ গালিচায় সেই সকল পরম পুরুষদের দৃপ্ত পদচারনা আজ রূপকথা।  বর্তমান যারা এ পথের পথিক, তারা কেউ ক...

তালবাগান ও তালবাগানের পথ এবং আমি!

তালবাগানের যে কুহকী ছবি তার টুকরো টুকরো অস্তিত্ব নিয়ে কোন এক দুরূহ কারণে পুনরায় মনের বায়স্কোপে ফুটে উঠতে চায় তা বেশ রোমাঞ্চের। তালবাগানের সেই মন কেমন করা ক্যানভাসে তাল পাতার খড় খড়,  ভাদ্র মাসে পাকা তালের  ভূপতিত হওয়ার ঢপ্পা-নিনাদ - নির্মাণ করে অদ্ভুত এক স্মৃতি মথলে উঠে আসা পরমান্নের মত আবহ প্রেক্ষিত, যেন মায়াবী ঝাঁপতালে সন্তুর-ফনকারী।      যেখানে, প্রকাণ্ড এক দীঘির পাড়ে গুটিকয় ঢ্যাঙা তালগাছ, প্রখর ভাবে ঋজুরেখ হয়েও ঢলে ঢলে পড়ে কারনে-অকারনে, শুকনো তালপাতার হাওয়ায় শালিখেরা খানিক আমোদ-উড়ানে গা ভাসায়, আর গাছগুলির গোড়ায় দড়ির মত কালো কালো শক্ত শেকড় বেয়ে ওঠা রাবণ লতার ঝোপ আর তাদের মাঝে মুথা ঘাসের মখমলি জমি যেন এক একটি সবুজ উপত্যকা সঙ্গে ইতি উতি ফুটে থাকা উড়ে এসে জুড়ে বসা হলুদাভ বেগুনি ফুল, সেখানে ব্যস্ত মন কোন বাদ-বিচার ছাড়াই এক পলকের জন্য হলেও বিফল অতীতে হারিয়ে যাওয়া মিষ্টি উদাসীনতায় হয়ে যায় বিকল-বিবশ, তাই সে তালবাগান এবং তালবাগানের পথ বড়ই জাদুময়।                              ...