সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মাদাগাস্কার থেকে বাংলাঃ দেদার রংবাজি - গ্রীষ্মের পথে, প্রান্তরে।

  গ্রীষ্মের পথে জলের পীপাসা না মিটলেও, রঙের পীপাসা মিটবেই। সূর্য যখন তার অনুপম কর শৃঙ্গারে আগুন ধরায় ধরিত্রীর হোমকুণ্ডে, সুরের দেবতার অগ্নিবীণা থেকে ফুটন্ত খেজুর রসের রেশমী ধারার মত হাওয়ায় ওড়ে অগ্নিশুদ্ধ মরু মূর্ছনা; রাবাবের তপ্ত তারে ছড় টেনে টেনে আগুনের হলুদ মাখা দীপক রাগে দগ্ধ সুর ওঠে পঞ্চমে, সেই দহন বেলায় স্বর্গ থেকে ঝরে পড়ে আশীর্বাদী ফুল। ফুটে ওঠে – কৃষ্ণচূড়া   ফুরুস  কিংবা সোঁদাল হয়ে।   কৃষ্ণচূড়ার রাজকীয় লালিমা ( Royal Poinciana)  যদি  গ্রীষ্মের শুষ্ক নিরশ্রু দৃষ্টিপথে  বয়ে আনে হৃদয়ের দু কূল ছাপানো শোণিত ধারার উচ্ছল প্লাবন, কপার কান্তি কনকচূড়া ( Copper Pod) তাহলে গ্রীষ্মের নিরস দ্রিশ্যমানতায় সঞ্চারিত করে হরিদ্রাভ পরাগের তীব্র অভিসার স্পৃহা। ঝিরি ঝিরি ফার্ন সদৃশ ঘন সবুজ পাতার ভিত্তি সজ্জায় উন্মোচিত কনকচূড়ার পুষ্পমঞ্জুরি যেন অজস্র হলুদ দীপের স্বর্ণাভ পীলসুজ হয়ে ফুটে থাকে গাছের মাথায় মাথায়। গ্রীষ্মের এমন অপরূপ রং-লীলার নেপথ্যে কিন্তু  রয়েছে প্রকৃতির অভিবাসী সংস্কৃতির অবদান। যেমন - এ দেশের গ্রীষ্মে যার অনবদ্য হলুদ শিখার সৌন্দর্য সকলের নজর কাড়...

পথে নয় বেপথেই ঝরে চাঁদ থেকে মধু!

    জলঙ্গির নিস্তরঙ্গ জলে - সবে অম্বর রাজ্যের চন্দ্র বণিক ভাসিয়েছে তার রজতপঙ্খি নাও। সেতুর উপর দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, গুম মেরে থাকা সন্ধ্যার অন্ধকারটাকে,  ধীরে ধীরে চাঁদের আলোয়  দ্রবীভূত হয়ে যেতে। নদীর বুক, পাড়, বালির চর, কাশবন যেন রূপোলী রশ্মির ঝরনা তলায় শুয়ে থাকা সাপের খোলসের মত   জেগে উঠছিল লুপ্ত আয়নায় হারানো স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস হয়ে। নদীর পশ্চিম পাড়ের কংক্রিটের বেঞ্চ গুলিতে তখন বেশ কয়েকজন যুবক যুবতী চুটিয়ে প্রেম করাতে ব্যস্ত। চাঁদের আলোয়, আদরের আড়াল খুলে পড়লেও, উন্মাদনায় কিছু মাত্র ভাটা পড়েছিল বলে মনে হয় না। জলঙ্গির জলে, সেই সময় নাইতে নামা পূর্ণিমার চাঁদ যেন টলটলে পদ্ম পাতা - স্থির, নিষ্কম্প। অবচেতনের লজ্জায় সেদিনকার সেই চাঁদের অবগাহন ছিল অভিসারিণীর মত। গোপন মধুযাপনের স্বপ্নে বিভোর। সেতুর উপর, আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এক তরুন, একা। বিক্ষিপ্ত খেয়ালে সে বারবার নদীর জলে ইট ফেলে বিস্রস্ত করে দিচ্ছিল স্বপ্নের ঘোর। অহেতুক ঢেউয়ের দোলায় ভেঙ্গে যাচ্ছিল জলে ভেজা চাঁদের শরীর। পাগল করা জ্যোৎস্না ধারায় যদিও তা কোনো দাগ কাটতে পারছিল না। আসলে কিছু মানুষ, ওই ছেলেটির মত একা সেতুর উপর...

পথে পাতানো দাম্পত্যে সঙ্গী বদলের রোমান্টিকতা!

  ঢাকুরিয়া ষ্টেশনের ১ নং প্লাটফর্মের উপরে দেখেছিলাম, তাদের! উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত প্লাটফর্মটির মাথা যদি শিয়ালদার দিকে হয়, তবে তার একেবারে লেজের দিকটায়, প্রথম যে সিঁড়িটা ষ্টেশন থেকে বেরিয়ে বাঁ দিকে নেমে গেছে ধাপে ধাপে, দেখতে যেটাকে অনেকটা পুরনো দিনের পুকুর ঘাটের মত লাগে, তার ঠিক মাথায়। দেখেছিলাম, দুজনে দাঁড়িয়ে আছে, একসাথে। একই বেদিমূলে। ত্রিভঙ্গ ঢঙ্গে, মুখোমুখি। ইট- সিমেন্টের উপর লাল রঙ লেপা একটা গোলাকার অনুচ্চ ঘেরাটোপের মধ্যে পাশাপাশি, যেন নৈকট্যের নৈশব্দ ভেঙ্গে আলিঙ্গনের আগ্রহে উন্মুখ, বিমূর্ত কোনো ভাস্কর্য জুটি! একজনের পরনে ধুলোবালিতে ভরা সরু পাড়ের, মলিন একখানা সাদা ধুতি। আর একজনের, লাল ছাপা শাড়ী। সিঁদুর-চন্দন চর্চিত দেহ কাণ্ডের মাথায় ঘন পল্লবে ঢাকা নিবিড় যৌথ যাপন, তাদের। মৃদু বাতাসেও মনোরম গা ঘেঁষাঘেঁষি সঙ্গে কখনো রিমঝিম কখনো ফুরফুরে খুনসুটি। গেরস্থালীর উপকরণ বলতে ঝুলে থাকা দুচারটি মাটির কলসী। পায়ের কাছে ছড়ানো গাঁদা, মালতী, বেল, তুলসী। আর পুড়ে যাওয়া ধূপের ছাই। ট্রেন লাইনের যাত্রী থেকে পথচলতি মানুষজন সবাই এদের সামনে একবার অন্তত কপালে হাত ঠেকিয়ে ঠুকে যান প্রনাম-সেলাম। আমি একদিন, প...

বৈশাখের গনগনে দুপুরঃ পথে চম্বলের দস্যুরা!

  ছোটবেলায় মেলায় দেখা একটা দৃশ্য এখনো ভুলতে পারিনি। একটা মানুষ অনেক উপর থেকে, গায়ে আগুন ধরিয়ে ঝাঁপ দিচ্ছে; নীচে অস্থায়ী ভাবে খোঁড়া ছোট্ট, চারকোনা মত একটা জলাশয় আছে - তার মধ্যে। ভীষণ ঝুঁকি পূর্ণ খেলা। যত দূর মনে পড়ে, লোকটির সারা গা মুড়ে ফেলা হয়েছিল মোটা কাপড়ের নিটোল বেষ্টনে, শুধু চোখ দুটি বাইরে বের করানো ছিল, দেখতে অনেকটা ছবিতে হেলমেট হীন মহাকাশচারীদের মত লাগছিল। আসলে জ্বলন্ত আগুন যাতে ত্বক কে না স্পর্শ করতে পারে তাই এত আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা। অনেক দিন আগের কথা। তখন ফায়ার জ্যাকেটের কথা সে ভাবে জানা ছিল না বলেই মনে হয়।  এখন যুগ অনেক এগিয়েছে। আর, সে এগোনোর মাসুল দিতে – পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে বৈশাখী দিনের স্বাভাবিক তাপমাত্রাও। সেটা কখনো ৪০ ডিগ্রি বা তাকে ছাড়িয়ে আরও উপরে। অবস্থা বুঝে স্কুল ছুটির ঘোষণা করতে হচ্ছে সরকার কে। দুপুর ১২ টার পর থেকে অসহ্য তাপদাহ থেকে বাঁচতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বাড়ি থেকে না বেরনোর। সূর্যের প্রবল রোষানলে   ভূ-পৃষ্ট যেন সম্পূর্ণ এক অগ্নি বলয়ে রূপান্তরিত হচ্ছে। বাইরে পা রাখা মানেই, আমার লেখা শুরুর সেই লোকটির মত মরন ঝাঁপ দেওয়া-গায়ে আগুন লাগিয়ে। মনে হচ্ছে যেন ...

রাজপথে ধোনি ও গেইলের যৌথ ব্যাটিং!

রাজপথে ক্রিকেট? রেড রোডে ঈদের নামাজ আর ধর্মঘটের দিন  রাজপথে , জমিয়ে ব্যাট-বলের ঠোকাঠুকি - দৃশ্যগুলি প্রায় মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডী পাঠ শোনার মত  স্বাভাবিক  এবং রুটিন ঘটনা। কিন্তু ছবিটা গত এক দশকে খানিকটা পাল্টেছে। ২০২২ থেকে রেড রোডেই শুরু হয়েছে দুর্গাপূজা কার্নিভ্যাল। পাশাপাশি উৎসবে-আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো মিছিল, শোভাযাত্রা আগেও ছিল এখনো আছে। কিন্তু ধর্মঘটের দিন, রাজপথে ব্যাট এবং বলের লড়াই আর দেখা যায় না গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। সেই সময়ে দেখেছি ধর্মঘটের দিন, ভর দুপুরেও বিবাদী বাগের অফিস পাড়ায় বিরাজ করতো মধ্যরাতের নীরবতা! যানবাহন এবং মানুষের কোলাহলমুক্ত স্টিফেন  হাউসের সামনের রাজপথটায় দিব্যি চলতো ব্যাট হাতে বল পেটানোর ধুম। রাজপথের কালো পিচে লেখা হতো ক্রিকেট বলের উত্থান এবং পতনের রোমাঞ্চকর সব গল্প ।   আমরা জানি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। সম্প্রতি ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক এম এস ধোনি এবং ক্রিস গেইলকে একই সাথে  রাজপথের বিজ্ঞাপনী পর্দায় দেখা যাওয়ার মধ্যে   কি   তেমনি কিছুর  ইঙ্গিত আছে?  রাজপথের মাথায় ম...